আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো চমৎকার একটি বিষয়কে কতখানি নিকৃষ্ট, অপাঠ্য এবং জটিল করে লেখা যায় তা কেউ শিখতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল হালিমের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পুরো বই শেষ করতে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। গুগল ট্রান্সলেটরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষকের কাছে লজ্জা পাবে। গুরুতর প্রয়োজন না থাকলে কারুর বাবার সাধ্যি নেই কোনো টপিক পড়ে বুঝতে পারে। অথচ ভালো বাংলা বইয়ের অভাবে এই নিকৃষ্টতর পুস্তকটি বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীরা গলাধঃকরণ করছে। আমি ভুল করে ধরেছিলাম। যথার্থ শিক্ষা হয়েছে।
মোঃ আবদুল হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৮৬ সালে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি বই লিখেন — “আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: অর্ধশতাব্দীর ইতিহাস, ১৯১৯-১৯৬৯”। শিরোনাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে বইটির বিষয়বস্তু প্রথম বিশ্ব যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাশক্তি হিসেবে উত্থান ও তাদের মধ্য গড়ে উঠা অদ্ভুত সম্পর্ক যা পরিণত হয় ঠান্ডা লড়াইয়ে। কিন্তু ঠান্ডা লড়াই ১৯৬৯ সালে শেষ হয়ে যায়নি। ঠান্ডা লড়াই শেষ হতে হতে আরো দুই দশক পার হয়ে যায়৷ তাই বইটির পরবর্তী সংস্করণে ধাপে ধাপে ঠান্ডা লড়াইয়ের সমাপ্তি এবং ঠান্ডা লড়াই উত্তর পৃথিবীতে যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট্রনীতি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিণতি সংযোজন করা হয়। এখানে একটি কথা বলতে হয়— বইটি কেবল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও স্নায়ুযুদ্ধ (ঠান্ডা লড়াই) নিয়েই রচিত হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল সংঘাত, সকল আন্দোলন, সকল ষড়যন্ত্র, সকল আলোচনা, সকল সন্ধি, সকল সনদ — সব কিছুই আছে এই বইটিতে। সকল দেশ, সকল জাতি। কিন্তু লাইম লাইট সবসময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর।
অর্থাৎ, গত শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ হাইলাইটস এই বইটি৷
বইটতে অনেক বানান ভুল (টাইপিং মিস্টেক) আছে। যে কারণে বইটিকে একটি টেক্সট বই ছাড়া কিছু মনে হয়নি। বারবর মাও সেতুং এর পর ব্র্যাকেটের মধ্যে লিখে রেখেছে Mao Zedong. দুইজন তো আলাদা মানুষ, আলাদা সময়ের। বইটি আসলেই একটি টেক্সট বই।
দুয়েক জায়গায় ইংরেজি উক্তির বাংলা অনুবাদ কিছুটা দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। তখন মূল/ইংরেজি অংশ সাহায্য করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা গত শতকের বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে যদি “অধিক” জানার আগ্রহ থাকে তাহলে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে। তবে, তার আগে তারেক শামসুর রেহমান অথবা মোহাম্মদ মিরাজ মিয়ার লিখা বই পড়া আসলে একটু “সুবিধা” হবে। আর, “অধিক” জানার আগ্রহ বা প্রয়োজনীয়তা যদি না থাকে, বইটি না পড়াই উচিৎ।