রৌদ্রময়ী একটা দেয়াল, যেখানে এসে রৌদ্রময়ীরা নিজেদের কথাগুলো খোদাই করে দিয়ে যায়- আবেগে, আবদারে, অভিযোগে, শাসনে। মমতাময়ী মা, প্রিয়তমা স্ত্রী কিংবা আমাদের মতই এই সমাজের একজন হিসেবে তাঁরা যেন সাহিত্যের এক নকশীকাঁথা বুনেছে। দাম্পত্য খুঁটিনাটি, পরিবার, সমাজ থেকে শুরু করে আমাদের এই যান্ত্রিক আটপৌরে জীবনের নানা অসঙ্গতি, মিথ্যে মোহ আর নাটুকেপনা আবেগের উল্টো পিঠে তাঁরা আমাদের শুনিয়েছে অদ্ভুত কিছু জীবনের গল্প। অযত্নে আর অবহেলায় যে গল্পগুলো পড়েই ছিলো, সেগুলোকে তাঁরা তুলে এনেছে পরম যত্নে, মমতায়। হৃদয়ছোঁয়া সেসব জীবনের গল্প নিয়েই এই বই_‘রৌদ্রময়ী’।
রৌদ্রময়ী কারা? রৌদ্রময়ী হচ্ছেন সেই নারীরা, যারা তাদের লেখার মাধ্যমে ইতিবাচক মানসিকতার আলো ছড়িয়ে দেন। যেখানে থাকে না স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারী জীবনের দিকে আহ্বান; বরং তাদের লেখায় আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার বিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বকসামগ্রিক জীবনযাত্রা ও সামাজিক সম্পর্কগুলোর প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রকাশ পায় ।
রৌদ্রময়ী বইটি পথভোলা বোনদের দাওয়াহ দেয়ার জন্য উপযুক্ত একটি দিকনির্দেশনা হতে পারে ইনশাআল্লাহ।
'আসলে, আল্লাহ সবসময়ই মানুষকে পথ দেখায়। সে তা মানবে নাকি মানবে না সেটা তার নিজের ডিসিশন। '
'বোরকা পরতেই হবে, তাই পরি। বোরকা পরা আমাদের চয়েস না। যদি চয়েস হত, কবেই পাল্টে নিতাম। '
'লজ্জাকে এ সমাজে নিচু চোখে দেখতে শেখানো হয়। তাই লজ্জা পাওয়া মানেই ভীরুতা। আর নির্লজ্জ হওয়ার নতুন সংজ্ঞা হলো সাহসী। সেকুলারিজম বলে বোরকা পরা মানে ঘরবন্দী, বর্বর। ওড়না না পরা আধুনিকতার প্রতীক। ছেলেমেয়ের অবাধ বন্ধুত্বে কোনো বাঁধা নেই। দুই পক্ষের সম্মতিতে বিছানায় যেতে সমস্যা নেই। পরকীয়া করার স্বাধীনতা আছে। অভিনয় করার জন্য, সুপারস্টার হওয়ার জন্য টুকটাক দেহ বিলানোতে বাধা কি? ঠিক আছে। কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা, ধর্ষণ, যৌন নিপিড়ন, ভ্রূণহত্যা, ডিভোর্স, আত্মহত্যা - এগুলোর সমাধান কে দেবে? এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনার দায়দায়িত্ব সেকুলারগণ নেয় না। তারা শুধু নষ্টামি উস্কে দিতে আগ্রহী। '
একক লেখকের বইয়ের স্বাদ একরকম, আর সংকলন বইয়ের স্বাদ তার চেয়ে ভিন্ন, বেশ বৈচিত্র্যময় বলতে হবে। রৌদ্রময়ী এমনই স্বাদে ভরপুর, আছে সাহিত্যের স্বাদ, চিন্তার স্বাদ। তার উপর ইসলামি আদর্শের মাসালা। বেশ লোভনীয় বইকি। আমাদের বোনেরাও যে এত সুন্দর চিন্তা করতে পারেন, তা দিয়ে শব্দের মালা গাথতে পারেন, বাক্যের দেয়াল তৈরি করতে পারেন তা আমার জানা ছিলো না। হিজাব অনুভূতি, দাম্পত্যের নানা দিক, ভালোবাসার ভুলভুলাইয়া, বিয়ে নিয়ে রাঙা কথা, কি নেই এতে!
আল্লাহ আমাদের সকল বোনদের এমনই আলোকোজ্জ্বল রৌদ্রময়ী হওয়ার সুযোগ দিন, আর আমাদেএ রৌদ্রময় হওয়ার সৌভাগ্য দান করুন। না পড়লে মিস করবেন বলে রাখলাম।
রৌদ্রময়ী দেয়ালে,রৌদ্রময়ীরা তাদের আবেগ,অনুভূতি মিশিয়ে গল্প লেখেন।এত্তো এত্তো সুন্দর কিভাবে লিখতে পারে? ইসস,যদি রৌদ্রময়ীদের একজন হতে পারতাম। একেকটা গল্প থেকে একেকটা শিক্ষা।ইসলাম মেনেও সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করা যায়,সাহিত্য চর্চা করা যায়।
পাঠ প্রতিক্রিয়া- এক বসাতেই শেষ করেছিলাম বইটা।এত্তো ইন্টারেস্টিং যে এক পেইজ পড়লে অন্য পেইজ না পড়ে রাখা যায় না।এই বই পড়েই অনেক কিছু জানতে পারি।কাউকে বই সাজেস্ট করলে,রৌদ্রময়ী সিরিজটা সাজেস্ট করি।বইটা পড়তে পারেন,কাউকে উপহার দিতে পারেন।একটু হলেও কেউ পরিবর্তন হবে💫 আমার পড়া প্রথম ইসলামিক বই!
রৌদ্রময়ীর দেয়ালে প্রায় প্রতিটি গল্পই পড়া আমার। তথাপি বাধাই করা গল্প পড়ার লোভ তো সামলানো যায় না! প্রতিটা গল্পই জীবন্ত। বারবার পড়লেও এর সজীবতা এতটুকু কমবে না ইনশা আল্লাহ। রৌদ্রময়ীদের চিন্তা, চেতনা নতুন করে ভাবায়; উজ্জীবিত করে। :)
রৌদ্রময়ী'দের গল্পতো ঘোর মেঘে ঢাকা অন্ধকার আকাশে এক ছটা রৌদ্রের মতোই মনে হলো। ঐ যে ওই আলোটা, যেটা মেঘ ফুড়ে তীক্ষ্ন রেখার মতো পৃথিবীর বুকে নেমে আসে। একটা রেখা, দুইটা রেখা। শত শত আলোর রেখা। এক সময় মেঘ কেটে পুরো দুনিয়াটাই আলোকিত হয়ে যায়। রৌদ্র প্লাবনে কেটে যাক অন্ধকার।
অনেক গুলো লেখিকার অনেকগুলো ছোট গল্পের সমাহার। কিছু গল্পের প্লট, ভাবনা, লিখার হাত খুব ভালো ছিলো। আর কিছু গল্প একদম সরল সোজা। ভালো লাগে নি। কয়েকটা গল্পের জন্য বইটা পড়া উচিত। সব মিলিয়ে পুরো বইটা একটা এভারেজ ভালো লাগার বই বলা চলা🙂