সিন্ধুর টিপ থেকে উত্তরে নিঃসীম সমুদ্রের বুকে ভেসে আছে একটি ড্রিলশিপ। দারূণ ঝড় মাথায় নিয়ে সেখানে পৌঁছয় দীপন। কোন রহস্য লুকিয়ে আছে এই বিন্দুতে? জানতে হলে পাতা ওল্টান, আর পৌঁছে যান পয়েন্ট ব্রাভোয়...
"পাখিরে দিয়েছ গান, গায় সেই গান, তার বেশি করে না সে দান।"
ঋজু গাঙ্গুলীর 'পয়েন্ট ব্রাভো' বাংলা সাহিত্যে থ্রিলার ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। 'পকেট থ্রিলার' সিরিজের এই প্রথম বইটি আকারে ছোট হলেও এর বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা পাঠককে মুগ্ধ করে। অরণ্যমন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটি রহস্যপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে।
"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার।"
'পয়েন্ট ব্রাভো' কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দীপন, যিনি তুতিকোরিন ডক থেকে লাক্ষাদ্বীপ সি-এর কমোরিন বেসিনে ভাসমান একটি ড্রিলশিপের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টারে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি রক্তপাত ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে প্রাচীন রহস্যের সম্মুখীন হন। রামায়ণের কাহিনী অনুযায়ী হনুমানের সাগর পেরোনোর ঘটনাও এই রহস্যের সঙ্গে যুক্ত। জায়গাটির নাম 'পয়েন্ট ব্রাভো' কেন, তা জানতে হলে পাঠককে এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় শামিল হতে হবে।
"দুঃখ এড়াবার আশা নাই এ জীবনে।"
লেখক ঋজু গাঙ্গুলী এই অ্যাকশন থ্রিলারটি অত্যন্ত গতিময় ও তথ্যবহুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রাচীন মহাকাব্যের রহস্যের সঙ্গে আধুনিক ঘটনার সুচারু যোগসূত্র স্থাপন ও টানটান উত্তেজনা বজায় রাখা এই বইয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে মূল রহস্যময় জিনিসটির প্রকৃতি বা ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কিছু ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন লেখক, যা পাঠকের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়।
সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে॥ নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলি করি অপমান, আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে। সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে॥
বইটির বাঁধাই, ছাপা ও প্রুফরিডিং অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সৌরভ নন্দীর করা প্রচ্ছদও নজরকাড়া ও যথাযথ। এই পেপারব্যাক বইটি আকারে ছোট হলেও এর ধার ও ভার পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়। ট্রেন, বাস বা মেট্রো যাত্রায় এটি সহজেই পকেট থেকে বের করে পড়া যায়, যা বইটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
"প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ, প্রেমের বেদনা থাকে সমস্ত জীবন।"
'পয়েন্ট ব্রাভো' বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন, যা পাঠকদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
Pocket Dictionary তো অনেক দেখলেন.. এবার দেখুন Pocket Thriller। বুঝলেন না তো ?? দাঁড়ান বুঝিয়ে বলছি..এই বইটির সাইজ ৭/১১ সেমি। হ্যাঁ, আমি ও প্রথমে অবাক হয়েছিলাম যে এটা কীভাবে হয়? আদৌ কি পড়তে পারব? হাতে নিয়ে পড়ার পর বুঝলাম.. অরণ্যমন প্রকাশনীর পক্ষে সবই সম্ভব। যাই হোক... এবার গল্পে আসি...
দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত দীপনের কাজ হলো সারাদিন আসা অসংখ্য ই-মেইল এর মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ মেইল গুলিকে সতর্কভাবে ডিল করা এবং বাদবাকিদের ডায়েরি নম্বর চড়িয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ফরোয়ার্ড করে দেওয়া। এরকমই এক আপাতনিরীহ অথচ কৌতূহল উদ্রেককর মেইল দীপন কে নিয়ে আসে... পয়েন্ট ব্রাভো তে। এবার যে প্রশ্ন গুলো স্বাভাবিক ভাবেই আসার কথা তা হলো- মেইল টা তে কী লেখা ছিল? পয়েন্ট ব্রাভো টাই বা কোথায়? সেখানে পৌঁছানোর পর কী কী হলো? এইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গল্পের স্বাদ ঘেঁটে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই... তাই আমি বরং কী কী কারণে বইটা আমার ভালো লেগেছে সেইটা বলি- ১. পুরাণের গন্ধ মেশানো অ্যাকশন থ্রিলার বাংলায় খুব বেশি লেখা হয় না। তাই সেটার জন্য লেখক কে স্যালুট... ২. সুযোগ থাকলেও গল্পটিতে অবাস্তব এর ডানা জুড়ে তাকে উড়তে দেননি লেখক। বরং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দ্বারা তিনি সর্বদাই পায়ের নীচের মাটিকে শক্ত রাখতে চেয়েছেন। ৩. ঘড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে গল্প এগিয়ে চলা- এই ফর্ম্যাট টা আমার ভীষণ পছন্দের। এটাকে লেখক দারুণ ভাবে প্রজেক্ট করায়.. গল্পটি পড়বার সময় অ্যাড্রিনালিন ক্ষরিত .. নাসারন্ধ্র স্ফুরিত ব্যাপারটা ও নিজস্ব ভঙ্গিতে হয়ে চলেছিল। ৪. "পয়েন্ট ব্রাভো" তে Bravery বা সাহসের একটা বিরাট ভূমিকা আছে..যা ১০৭ নং পৃষ্ঠায় এসে .. নাহ্ আর কিছু না বলে বরং পয়েন্ট টা শেষ করছি মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতাটা দিয়ে .. " সাহসের সাথে কিছু স্বপ্ন জড়াও তারপর পথ চল নির্ভয় আঁধারের ভাঁজ কেটে আসবে বিজয় সূর্যের লগ্ন সে নিশ্চয়।" পাঠ শুভ হোক।
#পয়েন্ট_ব্রাভো(পকেট থ্রিলার) #ঋজু_গাঙ্গুলী অরণ্যমন প্রকাশনী মূল্য-৭৫ টাকা "পকেট থ্রিলার"!বাংলা বইয়ের জগতে আলোড়ন তুলে ফেলা শব্দবন্ধ বইকি!হ্যাঁ, রহস্যকাহিনী বা রহস্যোপন্যাস যুগযুগ ধরে তাদের জায়গা ধরে রেখেছে,একথা অনস্বীকার্য হলেও 'থ্রিলার' নামাঙ্কিত মোড়কে বিজ্ঞাপিত এবং পরিবেশিত বাংলা বই এখনও খুব সুলভ নয়।আগ্রাসী পাঠক-সমালোচক ও 'খুব কম মাত্রায় লেখক' ঋজু গাঙ্গুলীর প্রথম বই হিসেবে পাঠকমনে উত্তেজনার রেশ একটা রয়েছেই।তাই,একটিমাত্র নভেলা সম্বল করে, ৭সেমি/১১সেমির এই আপাতক্ষুদ্র পেপারব্যাক আদৌ রহস্যপ্রেমীদের বুকপকেট থেকে হৃদয়ে উঁকি দিতে সক্ষম হল কিনা তা নিয়েই বর্তমান আলোচনা। ভোরবেলায় তুতিকোরিন ডক থেকে লাক্ষাদ্বীপ সি এর কমোরিন বেসিনে ভাসমান একটি ড্রিলশিপের উদ্দেশ্যে উড়ে চলল দীপনের হেলিকপ্টার।রক্তপাত ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কোন প্রাচীন রহস্যের উদঘাটন হল সেখানে?রামায়নে বর্ণিত কাহিনী অনুযায়ী হনুমান কি সত্যিই একলাফে সাগর পেরিয়েছিলেন?জায়গাটার নাম পয়েন্ট ব্রাভোই বা কেন? রক্তগরম করা এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে পকেট থেকে বের করে ফেলতেই হবে ভারে কম হলেও ধারে ইস্পাতের ফলারূপী বইটি।এই অ্যাকশন থ্রিলার একইসঙ্গে অত্যন্ত গতিময়,তথ্যবাহুল্যবর্জিত এবং শ্বাসরোধকারী।প্রাচীন মহাকাব্যের রহস্যের সাথে সুচারু যোগসূত্র স্থাপনই হোক বা মারাত্মক ট্যুইস্ট জমানো,সমালোচনার জন্য একচুল জায়গা ছাড়েননি কোথাও।শুধু,মূল রহস্যময় জিনিসটির প্রকৃতি বা ক্ষতিকর প্রভাব(যদি থাকে)বিষয়ে কিছু তথ্য থাকলে ভালো লাগত।একটু ধোঁয়াশা বোধহয় ইচ্ছে করেই ছড়িয়ে রেখেছেন লেখক,শান্তি বজায় রাখতে সব জিনিসের পর্দা হয়তো না ওঠানোই ভালো। ট্রেনে বসে আসতে আসতে লক্ষ করলাম হাতের তালুতে এঁটে যাওয়া বইয়ের দিকে সহযাত্রীর আড়চোখের দৃষ্টি।সাড়া পড়েছে এবং পরবর্তী বইগুলিতে আরো বেশি পড়বে এই প্রত্যাশা অরণ্যমনের কাছে রাখি।বাঁধাই,ছাপাই,প্রুফরিডিং এরও প্রভূত প্রশংসা করতেই হয়।সৌরভ নন্দীর করা প্রচ্ছদও নজরকাড়া এবং যথাযথ।অতএব,বাস,ট্রেন হোক বা মেট্রো,আর আপনি ভারতের যে পয়েন্টেই থাকুন না কেন,অরণ্যমনের কল্যাণে পকেট থেকে টুক করে বেরিয়ে আসতেই পারে পয়েন্ট ব্রাভো।
যে বই দুহাতের মুঠোর মধ্যেই প্রায় লুকিয়ে ফেলা যায় (আমার ক্ষেত্রে। বড়সড় হাতের পাঞ্জার অধিকারী এক হাতেই পারবেন হয়তো), সেই বইয়ের ছোট্ট পরিসরে খুব বেশি কী-ই বা ভরে দেওয়া যেতে পারে বলুন?
একটা আস্ত বজ্রগর্ভ মেঘকুন্ডলী? এক সমুদ্রের মত গভীর রহস্য? বুক কাঁপানো এক ঝড়ের বিস্ফোরণ?
অরণ্যমনের পকেট থ্রিলার "পয়েন্ট ব্রাভো"য় Riju Ganguly তাঁর অনন্য লেখনীতে এঁকে দিয়েছেন এগুলো সব। স-অ-ব। সেই সঙ্গে প্রাচীন মিথের অলৌকিকতা, মানবচরিত্রের চমকপ্রদ বৈচিত্র্য আর ঘাত-প্রতিঘাতের রোমাঞ্চ মিলেমিশে যে দুর্দান্ত ককটেলটি তৈরী হয়েছে তার একটাই বিশেষণ খুঁজে পাচ্ছি - অতীব উপাদেয়।
টানটান লেখা বললে কম বলা হয়। এ লেখা ঘুমে ঢুলে আসা চোখের পাতা টেনে ধরে রেখে পুরোটা পড়ে ফেলতে বাধ্য করেছে আমার মত নিদ্রাকাতর পাঠককে। পড়া শেষ করামাত্র ঘুমে তলিয়ে যেতে যেতেও একটাই আফসোস হচ্ছিল, যাঃ ফুরিয়ে গেল!
প্রচ্ছদের ছবিটা দিব্যি। ফন্ট অবশ্য আমার একটু ছোট লাগল, মানে পকেট-থ্রিলার তো, বাসে বা মেট্রোয় বসে পড়তে গেলে হয়তো আরেকটু সুখপাঠ্য সাইজের ফন্ট হলে সুবিধে হবে। সিরিজের পরেরগুলোয় চিরঞ্জীৎ দাস এটা একটু ভেবে দেখবেন।
তবে, অভিনব সাইজ, পার্ফেক্ট সাবজেক্ট, নিপুণ লেখনী - সব মিলিয়ে খুব ভালো হয়েছে। পরের বইটার সাগ্রহ অপেক্ষায় রইলুম।
বই : পয়েন্ট ব্রাভো লেখক : ঋজু গাঙ্গুলী প্রকাশনা : অরণ্যমন মূল্য : ৭৫/-
একটা পুচকে বই টুক করে পড়ে ফেলেছি। গল্পটাও বেশ পুচকে। দিল্লিতে বসে এক মন্ত্রীর দাপ্তরিক দীপন জানতে পারে একটি বেসরকারি তৈল সন্ধানকারী সংস্থা ভারতের দক্ষিণে সমুদ্র উপকূলের এমন জায়গায় উত্তোলনের কাজটি করছে যেখানে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্য। তাই দীপন ব্যাপারটা সরজমিনে তদন্ত করতে হাজির হয় সেই জাহাজে। ঘটনা চক্রে দীপন বুঝতে পারে নামে তৈল উত্তোলনকারী সংস্থা হলেও ভারতীয় সেনার একটি অবসরপ্রাপ্ত দল আসলে অন্য কিছুর সন্ধান করে চলেছে খুব গোপনে। কিন্তু 'গোপন কথাটি রবে না গোপনে'। অতঃপর একটি গোপন দস্যু দল আক্রমণ করে সেই গোপন জিনিসটি লুট করতে চায়। কী সেই গোপন জিনিস? সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রামায়ণের একটি বিশেষ অংশ উঠে আসে। পৌরাণিক একটি কাল্পনিক ঘটনা প্রবাহকে ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেতে চাইছেন এক বিকল্প শক্তি উৎস আর দস্যুরা সেটাই লুট করে নিতে চাইছে। আর এই দুই দলের ক্রস-ফায়ারের মধ্যেই ভাগ্যচক্রে জড়িয়ে পড়ে দীপন। বাকিটা আর বলা যাবে না। মোটের উপর খুব দ্রুত লয়ের গল্প। কোথাও বিন্দুমাত্র শ্লথতা নেই। তবে ক্লাইম্যাক্সের ক্রস-ফায়ারের দৃশ্যটা ও সংলাপগুলো গড়পড়তা অ্যাকশন সিনেমার মতো প্রেডিক্টেবল লেগেছে। একজন মেঘনাদ ছিলেন। তিনি দেশের ভিতরে বসে থাকা কালসাপদের ধরতে একটি আন্ডারকভার অপারেশন পরিকল্পনা করেছিলেন, তার থেকে রহস্যের পর্দা উঠতেই বেশ চমকেছিলাম । লেখার গুণেই পুচকে গল্পটা বেশ চমকে দেওয়ার মতোই বলা চলে।
এর আগে কখনো ডিকশনারি বাদ দিয়ে পকেট বই স্বচক্ষে দেখি নি। তবে শুনেছি বিদেশে নাকি এধরণের বই বাসে ট্রামে বিদেশিরা আকছার পড়ে থাকেন। বাংলায় এধরনের বই উপহার দেওয়ার জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে হয় প্রকাশক অরণ্যমন প্রকাশনী কে। ১১৭পাতার ছোট বই,কিন্তু কাহিনী মোটেই ছোট বিষয় নিয়ে নয়। ভারত সরকারের একটি গোপন প্রজেক্ট নিয়ে গবেষণারত একটি জাহাজের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ করে কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী। অন্যদিকে ভারতের একজন সচিব সেখানে গিয়ে সম্মুখীন হয় সেই বিপদের। কিভাবে সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার লড়াই করা হবে এবং আসল রহস্য কী সেটা জানতে পারা যায় গল্পের শেষে। খুবই সুন্দর স্টোরিলাইন। তবে ফন্টগুলো আরেকটু বড় হলে ভালো হত,বইটা পড়তে পড়তে কখনো কখনো চোখের উপর চাপ পড়ছিল।
Gripping read..Good story line..Its an action packed thriller..Binds you well..Amazing size of book...😍😘 Only complaint i have is,it finished too quickly and do not really dig into mythological roots.. I think Dipan will come back in future.
#পয়েন্ট_ব্রাভো লেখক ~ ঋজু গাঙ্গুলি প্রকাশক ~ অরণ্যমন
বইয়ের ইউ এস পি হচ্ছে সাইজ। আমাদের সময়কার অডিও ক্যাসেটের বক্সের মতো সাইজ একদম। পকেট থ্রিলার নামটা উপযুক্ত। বইটা প্রথমবার দেখেই আমার মেয়ে মিঠি ওটাকে আপন করে নিয়েছিল। ওর বদ্ধমূল ধারনা ছিল যে ওটা বাচ্চাদের বই। তাই ওর থেকে নিয়ে বইটা পড়া বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার কাছে। ছোটবেলায় মাঝে মাঝে যীশুখৃষ্টের জীবন আর বাণী নিয়ে এমন আকারের বই হাতে পেতাম। এই কনসেপ্ট বাজারে প্রথমবার নিয়ে আসার জন্য অরণ্যমন প্রকাশনীকে সাধুবাদ জানাই। তবে বইয়ের দাম একটু বেশি লাগল। ৭৫ টাকা দাম না হয়ে ৫০ এর মধ্যে থাকলে হয়তো চোখে লাগত না। বেশ কিছু রিভিউয়ে দেখলাম দাম দেখেই এত ছোট বইতে অনেকে হাত দেননি।
এবার আসি কন্টেন্টের কথায়। থ্রিলার মেটেরিয়াল কিন্তু সেইভাবে মন কাড়তে পারল না। জমপেশ প্লট থাকা সত্ত্বেও লেখকের লেখনী পাঠককে টেনে নিয়ে যেতে পারল না গল্পের ভেতরে। পয়েন্ট ব্রাভো তে একটু তাড়াহুড়োর ছাপ রয়ে গেল। ভারত মহাসাগরের বুকে "পয়েন্ট ব্রাভো" নামক জায়গাতে একটা জাহাজ বা ড্রিলশিপ, আর তাকে ঘিরে মিশনে দীপনের কীর্তি এবং সাথে পৌরাণিক কিছু ঘটনার সংমিশ্রণ - এই নিয়েই গল্পের প্লট। একটা ফাটাফাটি থ্রিলারের সবরকম উপাদান পুরো মাত্রায় ছিল, শুধু রান্নায় নুন চিনির পরিমাণে গোলমাল রয়ে গেল। ঋজু বাবুকে চিনি একজন খুব স্পষ্টবক্তা বুক রিভিউয়ার হিসাবে। ওনার বিশ্লেষণ দেখেই বেশ কিছু বই কিনে উপকৃত হয়েছি। তাই ওনার প্রতি বিশ্বাস রইল যে এর পরের বইতে উনি কাঁপিয়ে দেবেন। আর সেটাও যেন পকেট থ্রিলার হয় এই ইচ্ছা জানিয়ে রাখলাম।