জোড়াসাঁকোর ধারে অবন ঠাকুরের স্মৃতিচারন মূলক বই। অবন ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথের ভাই গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র ও গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি ছিলেন চিত্রশিল্পী ও লেখক। রবি ঠাকুরের পরে লেখক হিসেবে ঠাকুর পরিবারে তিনিই সবচেয়ে বেশি খ্যাতিমান যদিও মূলত তিনি ছিলেন একজন শিল্পী।
Abanindranath Tagore (bn: অবণীন্দ্রনাথ ঠাকুর), was the principal artist of the Bengal school and the first major exponent of swadeshi values in Indian art. He was also a noted writer. He was popularly known as 'Aban Thakur'. Abanindranath Tagore was born in Jorasanko, Calcutta, to Gunendranath Tagore. His grandfather was Girindranath Tagore, the second son of Prince Dwarkanath Tagore. He is a member of the distinguished Tagore family, and a nephew of the poet Rabindranath Tagore. His grandfather and his elder brother Gaganendranath Tagore were also artists.
দারুন, সুখপাঠ্য। রাণী চন্দ আমার একজন প্রিয় অথোর আর তারই গুরু অবন ঠাকুর। এসব বই কেন যেন ছোট হয়। যখন পড়ি তখন তো টাইম ট্রাভেলে চলে যাই তাই সময় যে কীভাবে শেষ হয়ে যায় বুঝতে পারি না।
দারুণ একটি বই, অসাধারণ এক স্মৃতিচারন। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর আরেকটি বই পড়েছিলাম নাম সম্ভবত আপন কথা। সে বই পড়ে মন ভরে নি, মন ভরেনি হাওয়াবদল ও অন্যান্য রচনা পড়েও। বড় সংক্ষিপ্ত আর কঠিন করে লেখা বলেই মনে হয়েছিলো। এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। মন যেন চলে গেল জোড়াসাঁকোর ধারে ঠাকুরবাড়িতে। সবসময় সেখানে কিছু না কিছু ঘটছে। দুটো আলাদা বাড়ি এক ফটকের ভেতরে, দুই শরিকের, এ বাড়ি ও বাড়ি, সব মিলিয়ে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি। সেই বাড়িতে বড় হয়ে ওঠার কথা তুলে ধরেছেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সাথে অবশ্য কোন্নগড়ের বাগান বাড়ির গল্পও ছিলো, ছিলো বড় হয়ে ওঠা আরও অন্য অনেক স্মৃতিচারন ও । কত নাম জানা আর না জানা মানুষ এলো গেলো সাথে সাথে। রবি ঠাকুরের মতো অবন ঠাকুরও স্কুল পালানো ছেলে। তার বাবামশাই ঠিক করেছিলেন বাকি দুই ছেলে কে বিদেশে পাঠাবেন, এই ছেলে দেশ ঘুরে দেখবে তার সাথে সাথে বড় বেড়াবার শখ ছিলো যে বাবামশাইয়ের। কিন্তু ছোট্ট অবনকে ফেলে বাবা মশাই তো গেলেন পরপারে, অালসে অবনের আর দেশ দেখা হলো কই? অবশ্য হয়নি এ স্রেফ মুখের কথা, ঘুরেছেন প্রচুর. গঙ্গাযাত্রী ক্লাব বানিয়েছিলেন তার কাজই ছিলো গঙ্গায় স্টীমারে চড়ে বেড়ানো। মুসৌরী পাহাড়, পুরী, কোনারক দেখেছেন তো অনেকই, তবে যাই দেখেছেন শিল্পীর দৃষ্টি দিয়ে দেখেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোন শিক্ষা না থাকলেও পরবর্তীতে হয়েছেন বিখ্যাত শিল্পী, শিক্ষক হয়েছেন নন্দনাল বসুর মতো শিল্পীর। লিখেছেন ছোটদের জন্য গল্পগ্রন্থ। তিনি বেঁচে থাকতেই জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি মাড়োয়ারী ধনীর কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিলো, যে বাড়িতে এককালে গিজগিজ করতো চাকর বাকর, আসতো যেতো কত রাজা, মহারাজা, জমিদার, লাট, বেলাট, শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীতের সব দিকপালেরা, গানের আসর বসতো, আড্ডা দিতে আসতো কতো মানুষ। বিলেত থেকে আনানো আসবাব দিয়ে সাজানো হতো জোড়াসাঁকোর বাড়ি কিংবা কোন্নগড়ের বাগান বাড়ি। দেশ বিদেশ থেকে আনা হতো ফুলের গাছ। পার্টি বসতো আসতো নানা মানুষ। রবি ঠাকুরের গল্পের নয়নজোড়ের বাবুদের মতোই যেন বিলাস ব্যসনের চুড়ান্তর ফলে জোড়াসাকোঁর ঠাকুর বাড়িরও সেইসব জৌলুস সব শেষ হয়ে গেল। অবন ঠাকুরদের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে জোড়াসাঁকোর বাড়ি, তাদের সেই রমরমা, সব।