Russian writer Aleksei Maksimovich Peshkov (Russian: Алексей Максимович Пешков) supported the Bolshevik revolution of 1917 and helped to develop socialist realism as the officially accepted literary aesthetic; his works include The Life of Klim Samgin (1927-1936), an unfinished cycle of novels.
This Soviet author founded the socialist realism literary method and a political activist. People also nominated him five times for the Nobel Prize in literature. From 1906 to 1913 and from 1921 to 1929, he lived abroad, mostly in Capri, Italy; after his return to the Soviet Union, he accepted the cultural policies of the time.
বিশ্বসাহিত্যে রাশান লেখকদের জনপ্রিয়তা অন্যান্য ভাষার সাহিত্যিকদের থেকে তুলনামূলক বেশি। তলস্তয়, দস্তয়েভস্কি, চেখভ, গোগল, গোর্কি, পাস্তেরনাকসহ আরো অনেক গুণী সাহিত্যেকের জন্ম বিপ্লবের তীর্থস্থানে। তাঁদের লেখার মধ্যে বিপ্লব ও শ্রেণি বৈষম্য বারবার ফিরে এসেছে। গোর্কিও তার ব্যতিক্রম নন। ম্যাক্সিম গোর্কির লেখালেখির প্রথম দিকের ৯ টি গল্প দিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। গল্পগুলো কয়েকজন ব্যক্তির অনুবাদে সংকলিত।
মাকার চুদ্রা
গল্প কথক পৃথিবী ঘুরতে বেরিয়েছেন। ঘুরতে ঘুরতে স্তেপের প্রান্তরে দেখা হয় বৃদ্ধ বেদে মাকার চুদ্রার সাথে। মাকার চুদ্রা তার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বিভিন্ন গল্প শোনান গল্প কথককে। যাযাবর কন্যা রাদ্দা ও লোইকো জোবারের প্রেমের গল্পও বলেন তিনি। মানুষের আসলে কোন জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ? ভালোবাসা নাকি স্বাধীনতা? একজন মানুষ যখন ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ায় তখন কি স্বাধীনতার অন্তরায় চলে আসে? রাদ্দা ও জোবারের গল্পের মাধ্যমেই তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বৃদ্ধ বেদে।
মানুষের জন্ম
১৮৯২ সালে সুহুম ও ওচেমচিরির মাঝামাঝি কোদর নদীর ধারে একটি টিলায় বসে গল্পকথক মানুষ হয়ে জন্মানোর সুবিধা সম্পর্কে চিন্তা করছিলেন। তখন তিনি দেখতে পান কিছু মানুষ কাজের খোঁজে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, যাদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী ছিল। গল্পকথকও যখন সেই রাস্তা দিয়ে যেতে থাকেন তখন তিনি ঝোপের পাশে মহিলাটিকে একা বসে থাকতে দেখেন। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছিল। তার সঙ্গীরাও তাকে রেখে গেছে। তাই দাইয়ের কাজটা বাধ্য হয়ে গল্পকথকই করেন। একজন মানুষের জন্ম কত সুন্দর একটা ব্যাপার তা খুব নিকট হতে অবলোকন করেন তিনি।
আমরা ছাব্বিশজন ও একটি মেয়ে
গল্পকথক একজন বিস্কুট প্রস্তুতকারী। যে কিনা আরো পঁচিশজন মানুষের সাথে মালিকের বাড়ির মাটির তলায় একটি অন্ধকার কুঠুরিতে বিস্কুট তৈরি করে। ঘন্টার পর ঘন্টা এত কাছাকাছি থাকার কারণে একে অপরের নাড়িনক্ষত্র জানা। বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ বলতে এমব্রয়ডারির কারখানায় ফাইফরমাশ খাটা ষোড়শী তানিয়া। এই তানিয়াকে তারা ভালোবাসে এবং নিয়ম করে প্রতিদিন বিস্কুট দেয়। এই বাড়িতেই আরেকটি বান রুটির কারখানা আছে। যেখানে শ্রমিকরা তুলনামূলক উন্নত জীবনযাপন করে। সেখানের নতুন ম্যানেজার যে কিনা বহু নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে; এবার সে তানিয়াকে চায়। অথচ বিস্কুট শ্রমিকরা চায় না তানিয়া ঐ লম্পটের অধীনে যাক। কে জিতবে অবশেষে? বিস্কুট কারখানার ছাব্বিশ জন শ্রমিকের বিশ্বাস নাকি ঐ সৈনিকের অহংবোধ?
ভাংকা মাজিন
একজন মানুষের বাহ্যিক গঠন তার জীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভিয়াতকার ছুতোর মিস্ত্রি ভাংকা মাজিন সেই নেতিবাচক প্রভাবের দলে। তার চেহারা দেখে সবাই যেন আনন্দ নেওয়ার চেষ্টা করে। মজা করে 'শয়তানের কামরা' বলে ডাকে সবাই। তবে মানুষের বাহ্যিক গঠনই কী সব? অবশ্যই না। ভাংকা মাজিনের চিন্তাভাবনা উচু পর্যায়ের। মানুষের ক্ষতি করার চাইতে উপকারের প্রতিই ঝোঁক বেশি। কিন্তু যখন উপকারের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব পায় তখন তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নিজের আদর্শকে জানান দেয়।
চেলকাশ
চেলকাশ একজন নামকরা চোর। সকলেই তাকে দূরে দূরে রাখে কারণ কখন কী হাতিয়ে নিবে বলা ত যায়না। বন্দর অঞ্চলে হাতসাফাই করতে সঙ্গী মিশকাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সে। কিন্তু মিশকা হাসপাতালে ভর্তি হওয়াতে একাই এই কাজে নামার চিন্তা করে। তখনই পরিচয় হয় কৃষক পরিবারের সন্তান গ্যাব্রিয়েলের সাথে। কথায় কথায় চেলকাশ গ্যাব্রিয়েলকে তার কাজের সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং টাকার লোভে সে রাজি হয়ে যায়। টাকার অভাব ও লোভ মানুষকে কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন করে দেয় তারই প্রতিফলন দেখা যায় গল্পটিতে।
বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি। লেখকের এই গল্পগুলোর মাধ্যমেই পরিচিত হলাম। তবে অনুবাদ বেশি সুবিধার লাগেনি। তাছাড়া গল্পগুলো বিভিন্নজনের অনুবাদ হওয়ায় ঠিক জমাতে পারেন নি। তবে গল্পগুলোর কাহিনি বেশ সুন্দর। হ্যাপি রিডিং।
অজান্তেই গোর্কির বই হাতে তুলে নিয়ে ছিলাম ক্লাস নাইন বা টেনে থাকতে । স্কুলের শেষের ধাপে উঠে পড়ায় একটু বাড়তি স্বাধীনতা ভোগের সুযোগ ততদিনে চলে এসেছিল । প্রায়ই চলে যেতাম পল্টন-নীলক্ষেত্র পুরনো বইয়ের দোকানগুলোতে । মূল লক্ষ্যই থাকত প্রগতি বা রাদুগার কিছু বই হাসিল করা । এমনি একদিন হাতে পেলাম দুখানা বই । কাপড়ের মলাটে সুন্দর বাঁধাইয়ের "আমার ছেলেবেলা" আর "পৃথিবীর পথে" । সেই প্রথম আলিয়শার (ম্যাক্সিম গোর্কি) সাথে প্রথম পরিচয় । সমাজের নিচু তলার মানুষ বলতে যা বোঝায়, যাদের জীবন কাঠিন্যের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, তাদের জীবন জুড়ে আছে কত গল্প-কথা-ঘটনা আর আলিয়শার জীবনটাই যে এক বিশেষ অভিযান বলে মনে হয়েছিল ।
গোর্কির গল্পের এটি একটি ছোট্ট সংকলন । নয়টি গল্পের মধ্যে শেষের দুটি গল্প (চেলকাশ আর কবি) বাদে সবগুলোতেই লেখক গল্পকথক রূপে নিজে উপস্থিত এবং লেখক এমনভাবে গল্প বলে গেছেন অনেকটা রিপোর্টারের আদলে । তাতে ভালই লেগেছে । সমাজের যে স্তরের মানুষকে তথাকথিত বাবু সমাজ এড়িয়ে চলে যায়, অচ্ছুৎ বলে যারা আখ্যা দেয়, তাদের জীবনে যে কত ট্র্যাজেডি-ড্রামা-ডার্ক কেমেডি-বিরহ থাকে, আর সেসব কে কত ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে মানবিক দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব তা-দেখিয়ে গেলেন গোর্কি । তার মানে এই নয় যে গল্পগুলো নিছক জীবন ঘনিষ্ঠতার মোড়কে মুড়ি ভাজা গোছের কিছু । উল্টো গল্পের মজা আছে ষোল আনা । আর সবগুলোই পাকা হাতের অনুবাদ ।
** উনবিংশ শতাব্দীর রাশিয়ায় নারীর অবস্থান আর সহিংসতার যে খন্ডচিত্র পাওয়া যায় তাতে মনে হয় প্রজাতি হিসেবে আমাদের আরও বহু পথ পারি দেয়া বাকি ।
মাকার চুন্দ্রা এক যাযাবর বেদে। জীবনের অর্থ বলতে সে বুঝে সবকিছু ঘুরে দেখা। জীবন সম্পর্কে যার আছে গভীর মতাদর্শ। জীবন নিয়ে জ্ঞান দেয়ার এক পর্যায়ে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসে জোবার আর রাদ্দা নামক দুজন প্রেমিক প্রেমিকার করুণ কাহিনি। এই নিয়েই গল্পটি।
মানুষের জন্ম
১৮৯২ সালে রাশিয়ার কোনো এক অঞ্চলের দুর্ভিক্ষের সময়ে জন্ম নেয়া এক শিশুর কাহিনি নিয়ে লেখা হলেও গল্পটিতে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা। দুর্ভিক্ষের সময়ে এক অঞ্চল ছেড়ে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার সময় এক গর্ভবতী নারী তার দল থেকে পিছিয়ে পড়ে স্থান নেন একটি গাছের নিচে। সেখানে গল্প কথক পুরুষটিই সাহায্য করে মহিলার প্রসবের সময়। সমুদ্র, ঝর্না, শরৎকালের পরিবেশ সব কিছুরই সুন্দর বর্ণনা দেয়া হয়েছে ছোট গল্পটিতে।
আমরা ছাব্বিশজন ও এ���টি মেয়ে
অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ পেয়ে আমরা যেমন বলি সব মেয়েই এক। গল্পটি অনেকটা এমনই। ছাব্বিশজন বিস্কুট বানানোর কারিগর তানিয়া নামের একটি মেয়ে নিয়ে বাজি ধরে তাদের পাশের রুটি কারখানার এক শ্রমিকের সাথে। যে শ্রমিকের জন্য সব মেয়েরাই পাগলপ্রায়। তাদের উপরেই ছিলো মহিলা শ্রমিকদের কারখানার যেখানের সব মেয়েকেই তার ফাদে ফেলেছিলো অই রুটি শ্রমিক। কিন্তু তানিয়া নামক ১৬ বছর বয়সের মেয়েটিকে নিয়ে গর্ব ছিলো ২৬জন বিস্কুট শ্রমিকের৷ তারা ভেবেছিলো ভেঙ্গে দিবে রুটির শ্রমিকের গর্ব। সব মেয়েকেই যে সে বশে আনতে পারে না সেটাই দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলো ওরা।
বুড়ি ইজেরগিল
৩ ভাগের এই গল্পে প্রথম ভাগে মিথ নিয়ে গল্প, দ্বিতীয় ভাগে ইজেরগিল নামক পতিতা বুড়ির জীবন কাহিনি ও শেষ ভাগে স্তেপ নামক এলাকার একদল মানুষের রাজ্য হারানোর গল্প। তিনটি গল্প বুড়ি ইজেরগিলেত মুখে বর্ণনা করা হয়েছে। সাথে চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা।
কোনও এক শরৎ সন্ধ্যায়
পেটের ধায়ে খাবার খুজতে বের হওয়া এক ছেলের সাথে দেখা হয়ে যায় তারই সমবয়সী এক মেয়ের। মেয়েটিও এসেছিলো খাবার খুজতে। মেয়েটির সাথে কাটানো সেই সন্ধ্যার বর্ণনা নিয়েই গল্পটি।
ভাংকা মাজিন
মাজিন নামের এক লোক তার শারীরিক গঠনগত ও স্বভাবগত কারনে তার কর্মস্থলে একজন হাসির পাত্র। ভাংকা নামটিও দেয়া হয়েছে ভেঙ্গ করে৷ সেই অকেজো ভাংকা মাজিনই করে বসলো এক দুঃসাহসিক মানবিক কাজ। যা নিয়ে রচিত ছোট এই গল্পটি।
জীর্ণ বিকেল
এক পতিতা ও তার সন্তানের কাহিনি। তাদের জীবনের অবস্থা, তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম এগুলাই প্রাধান্য পেয়েছে।
চেলকাশ
চেলকাশ নামক এক শ্রমিক যে কিনা চুরি করে থাকে তার একদিনের চুরির কাহিনি নিয়েই গল্পটি। সাথে থাকে এক কৃষক বালক। গল্পটি তখনকার সময়কার শ্রমিকদের অবস্থা সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কবি
সুরা নামের এক মেয়ে কবিতা পড়েই পছন্দ করে ফেলেন এক কবিকে যে কিনা তাদের পারিবারিক বন্ধু। বুঝের বয়স হওয়ার পর আজই প্রথম দেখতে যাচ্ছেন নিজের প্রিয় কবিকে। কিন্তু কল্পনার সেই কবির সাথে বাস্তবের কবির এত অমিল দেখে ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটি। বইটিতে ৩ টা বিষয় অভাক ছিল ১. মেয়েটির বর্ণনা হুমায়ূন আহমেদের গল্পের নায়িকাদের মত ২. বর্তমানের লেখকদের নেগেটিভ মার্কেটিং বিষয়টি এসেছে যা কিনা অনেক কাল আগেই বাজারেই ছিলো ৩. এই প্রজন্মের কিছু হবে না কথাটিও সেই আদিকালের। 😐
সবগুলো অনুবাদ ভালো ছিলো না। রাশিয়ান গল্পগুলো ভালো অনুবাদ ছাড়া বুঝতে কষ্ট হয়।
এই বইয়ের রিভিউ হতে পারে খুব ছোট্ট— এক লাইনেঃ প্রত্যেকের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
নিখুঁত বর্ণনা, দুর্দান্ত সব গল্পের প্লট, উন্নত জীবনদর্শন— সব মিলিয়ে মাস্টারপিস একটা বই। ভালোলাগা থেকে প্রত্যেকটা গল্প দু'বার করে পড়েছি। অনুবাদ বেশ ভালো ছিলো।
ম্যাক্সিম গোর্কি নামটা শুনলেই প্রথমেই আমাদের মাথায় যে বইটার কথা আসে তা হলো তাঁর কালজয়ী বই ‘মা'। সমাজের তথাকথিত নিচুতলার মানুষের জীবন, বিশ্বাস আর চিন্তাধারাকে যারা সাহিত্যের পাতায় অমর করেছেন গোর্কি তাদের মধ্যে অন্যতম। খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি সমাজের এসব মানুষের জীবনযাত্রা কেননা তিনি নিজেও তো সেই সম্প্রদায়ের মানুষ। নয় বছর বয়সে জুতোর দোকানে কাজ করা থেকে শুরু করে সারাটা জীবনই তিনি এসব মানুষকে দেখেছেন গভীরভাবে। তাইতো ভবঘুরে, যাযাবর, দুর্ভিক্ষপীড়িত, চোর এসব ‘নিচুস্তরের' মানুষই তাঁর গল্পের বিষয়বস্তু হয়েছে বারবার।
To be very frank আশাহত হয়েছি বইটা পড়ে। অন্তত শ্রেষ্ঠ গল্প হওয়ার মতো মনে হয়নি। হাতেগোনা ২/৩ টা গল্প পড়ে ভালো লেগেছে বা মনে হয়েছে এ থেকে শেখার কিছু আছে। ছোট গল্প আমার পছন্দের সারিতে খানিকটা নিচেই ছিলো। মাত্রাটা আরেকটু বাড়লো, এই আরকি। অনেকের টেস্ট অনেক রকম, আমার কাছে এমনটাই মনে হয়েছে। তবে আমার রিভিউ পড়ে বইটা পড়া থেকে দূরে না থাকার আহ্বান।