মুসলিম হয়েও কতো হাজার হাজার মুসলিম যুবক-যুবতী আজ নিজেদের পথ ভুলে গেছে। হারানো সেই পথ থেকে কেউ ফিরে আসে, কেউ হারিয়ে যায়। যারা ফিরে আসে, কেমন হয় তাদের গল্পগুলো? জাহিলিয়্যাত থেকে দ্বীনে ফিরে আসা সেই ভাই-বোনদের গল্পগুলো নিয়েই সংকলন হয়েছে- “প্রত্যাবর্তন”।
আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা - লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ।
১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।
প্রত্যাবর্তন মানেই ফিরে আসা। অতি আধুনিকতা বর্জন করে ইসলামের পথে ফিরে আসার গল্প নিয়ে 'প্রত্যাবর্তন', অনেক তরুণ লেখকই তাদের জীবনের সেই বিশেষ দিনগুলির কথা ভাগাভাগি করেছেন; তাদের বেশিরভাগই নামকরা সব মেডিকেল কলেজ আর ভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। ভালো লেগেছে; কিছু মানুষ তাদের অন্তরের স্বস্তির কথা বলছেন, কিভাবে সঠিক পথে ফিরে এসেছেন- এইসব কথা ভালো লাগারই কথা।
আলোর পথে যাত্রা ও স্রষ্টার সন্ধানে শীর্ষক দুটি অধ্যায়ে মোট ২৬ জন মানুষের প্রত্যাবর্তনের গল্প আছে। আর ২য় অধ্যায়ের ৪টি গল্প আমি একেবারেই আশা করি নি!
শুরুর দিকের ৪০/৪৫ পৃষ্ঠা লেখার ধরনের জন্য ভালো লাগে নি।
এখনের সময়ের অনেক মুসলিমরা ভুল পথে চলি, পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ি। আবার অনেকে ইসলামের পথে চলার চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেও শয়তানের পাল্লাতে পড়ে মনস্তাত্ত্বিক অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়। অর্থাৎ, এই পথে চলা বেশ কঠিন এবং দুরূহ!!
এখানে ২৬-জন মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা ইসলামের সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছেন, যারা আধারে থাকার পরে আলোর দেখা পেয়েছেন, ইসলামের ছায়াতলে এসে পৌঁছেছেন..... এখানে এই ছাব্বিশ জন তাদের ইসলামের পথে, আল্লাহর ছায়ার নিচে ফেরার গল্প বলেছেন। এদের অনেকেই ছিলেন নাস্তিক, আবার অনেকেই ঠিকভাবে ইসলামের বিষয়গুলো practice করতো না। এক-একজনের পথ ছিলো একেকরকম, কিন্তু সকলে ঐ একই লক্ষ্যে এসে পৌঁছেছেন, অর্থাৎ আল্লাহর ছায়াতলে এসে পৌঁছেছেন। অর্থাৎ একজন হয়েছে জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনে ইসলামের পথে আসছে, আরেকজন হলো নিজের মনে প্রশ্ন জাগাতে নিজে লেখাপড়া করছে, আরেকজন তাবলীগে গিয়ে চর্চা শুরু করল,, ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা কি ছিলো, কোন পথ অবলম্বন করে আলোর পথে ফিরেছে এসব আমরা তাদের মুখে শুনব এই বই থেকে....
সবচেয়ে পছন্দের হলো শেষের চারটি পর্ব। এই চারজন ভিন্ন ধর্ম অবলম্বন করতো এবং ইসলাম নিয়ে জেনে, লেখাপড়া করে ইসলামের পথে এসেছেন। বুঝতেই পারছেন, অন্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসলে পরিবার-সমাজ সবকিছু মিলিয়ে কত-কত বাঁধার সামনে পড়তে হয়
তাছাড়া তাদের পড়াশোনা, গবেষণা থেকে অনেককিছু জানা গিয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দেখে যা যা বলেছেন তা থেকে অনেককিছু উপলব্ধি করা হয়েছে। দেখা যাবে আপনি-আমি ইসলাম নিয়ে কত কম জানি, কত ভুল ধারণা রাখি। তাদের নিজস্ব গল্প থেকে জানবেন যে ইসলাম কতটা স্মার্ট এবং সমৃদ্ধ ধর্ম 🌻
সুতরাং এই বইটি ইসলামের বিষয়গুলো চর্চা করতে, ইসলাম নিয়ে জানতে, আরো লেখাপড়া করতে আপনাকে উৎসাহিত করতে পারে,,যদি এই বইয়ের storytellerদের গল্পগুলো সেভাবে উপলব্ধি করেন এবং মেনে চলেন......
বই সম্পর্কে নতুন করে কিছুই বলার নেই, বইটি কয়েকটি অসাধারণ 'প্রত্যাবর্তন' এর সাক্ষী। বইটি পড়ার পর ড. জাকির নায়েক সম্পর্কে নতুন করে উপলব্ধি করলাম এবং একটি প্রজন্মের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে অবগত হলাম।
রিভার্টেড গল্প হোক বা নীড়ে ফেরার, বরাবরই পছন্দের উর্ধ্বে থাকে। বইয়ের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এক পাশে রেখে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো 'ইট রিয়েলি হিট হার্ড।' পাঁচ তারকা এজন্যই। বাস্তবিক এই গল্পগুলোর কিছু গুজবাম্পস দিচ্ছিলো খুব, যেন কোথাও পাচ্ছি নিজেকে খুঁজে, আবার কোথাও ফেলছি হারিয়ে। বাদবাকি এভারেজ, আবার অসাধারণ।
এস ট্রানস (আমিনা) এর 'প্রত্যাবর্তন'র গল্প শুনতে শুনতে হঠাৎ করে মাথায় খেলে গেলো, কেন পশ্চিম ইসলামকে এতোটা ভয় পায়? এই প্রশ্নের উত্তর তার গল্পেই আছে। ইসলামের এমন এক প্রচন্ড আকর্ষনী ক্ষমতা আছে, যে তার স্পর্শে আসবে সেই পরিবর্তিত হতে বাধ্য। আর যে মুসলিম ইসলামের এই সৌন্দর্য্য ধারণ করবে সে তার চারপাশটাও পাল্টে দেবে। রাসূল (সা:) তো বলেছেনই, 'প্রত্যেক আদম সন্তান তার ফিতরাতের উপর (মুসলিম হিসেবে) জন্ম নেয়।' যারা 'প্রত্যাবর্তন' করেছেন তারাও মনে প্রাণে চান যেন অন্যরাও তার মূলে ফিরে আসুক।
বইতে কিছু ভাইয়ের মূলে ফিরে আসার জন্য সংগ্রামের, প্রতিকূলতাকে মোকাবেলার বর্ণনা আছে। তাদের ঘটনা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। রাব্বুল আলা'মীন তাদের জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত এ অনুগ্রহের উপর অটল থাকার সুযোগ দান করুন। আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র মুসলিম হয়ে জন্মানোর অপরাধে যারা জাতিগতভাবে নিধন, গণহত্যা, জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদের মতো ঘটনার শিকার হচ্ছে তাদের গল্প আরো বেশি হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক। পৃথিবীর নানা প্রান্তে শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ের কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত জুলম, বৈষ্যম্যের মুখোমুখি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে অসাধারন একটি বই। এক বন্ধুর সুবাধে পড়ার সুযোগ হয়েছিলো বইটি । বইয়ের কয়েকটা গল্প (ফিড়ে আসার গল্প) এতো ভালো লেগেছে - যেগুলোর মানদণ্ড কখনো রেটিং দিয়ে করা যাবে না ।
দ্বীন থেকে দূরে দূরে থাকতে থাকতে আমাদের হৃদয় যেন সত্য থেকেও দূরে সরে যায়। তথাকথিত আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা ভুলে যাই আমাদের পরম দয়ালু স্রষ্টা আল্লাহকে, ভুলে যাই এ পৃথিবীতে আমাদের আগমনের উদ্দেশ্য। জাহেলিয়াতে নিমজ্জিত সবহারা আমাদের অন্তর হয়ত কোন একসময় অনুভব করে একটি তাড়নার , একটি আকুতির, আকুতি নতুনভাবে বাঁচতে চাওয়ার, নতুনভাবে জীবনটার উদ্দেশ্য বোঝার।
প্রত্যাবর্তন ভুল এবং বাতিলের পথ থেকে কিছু উঠতি যুবক-যুবতিদের হেদায়াত প্রাপ্তির গল্প, সত্যধর্ম ইসলামে প্রত্যাবর্তনের গল্প। যারা দ্বীন থেকে দূরে আছে, তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, ইন শা আল্লাহ্।
This book was like a small but bright spark of light, among all the darkness dwelling in all our hearts that began from all the ways we allowed the child in us to die, the child that sought the truth, courage, simple happiness, peace, and a good life in face of everything despairing and evil. All the stories portrayed here were personal journeys towards a better way to live for the storytellers, towards the same path of lost innocence our young selves once were on, by fitrah. And that's why reading this book was such a heart-warming experience.
স্রোতের বিপরীতে পথচলা একদল যুবকের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ��িয়ে সাজানো হয়েছে "প্রত্যাবর্তন"।একুশটি গল্পের প্রত্যেকটি খুব আয়োজন করে আমি পড়েছি। মুসলিম প্রধান বাংলাদেশেও যে একটা ছেলেকে আলোর পথে ফিরে আসতে এত কষ্ট করতে হয় আমার জানা ছিল না। ইউনিভার্সিটিতে একটা ছেলে চাইলেও ধর্মীয় লেবাসে চলতে পারে না। নানারকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রচন্ড কষ্ট সহ্য করতে হয়। যারা সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসতে পেরেছে তারাই সফলকাম। এরকম সফল কিছু যুবকের ‘আলোর পথে ফিরে আসার’ গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রত্যাবর্তন। ১) প্রচন্ড মন খারাপ। আমার মন সাধারণত এমনি এমনি খারাপ হয় খুব কম সময়ই। যখন কোনো কারণবশত মন খারাপ হয়, তখন মন ভালো হতে হতে ক'দিন সময় লাগে। মন তগুলোতে আমি আমার পছন্দের কাজগুলো করতে একটু বেশি পছন্দ করি। ঠিক ঐ মুহূর্তে প্রত্যাবর্তন বইটি হাতে আসে। বইটি খুলে মাঝখান থেকে একটি 'ফিরে আসার গল্প' পড়া শুরু করলাম। আশ্চর্য হলাম, যে বিষয়টা নিয়ে মন খারাপ, যে বিষয়টা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি সেই বিষয়টাই এই বইয়ে আমার পড়া প্রথম গল্পে দেওয়া! 'গল্পটা হাসি-কান্নার' 😅 ২) বইটার বিষয়বস্তু পড়ে মনে মনে ঠিক করেছিলাম বইটার গল্পগুলো এভাবে পড়বো যেমনটা ওষুধ খাবার ক্ষেত্রে করা হয়, '১টা করে রোজ একবেলা' 😛। এতে লাগুক প্রায় মাসখানেক সময়, তবুও আস্তে আস্তে বইটা পড়বো, প্রতিদিন একেকজন দ্বীনি ভাইয়ের দ্বীনে ফিরে আসার কাহিনী পড়ে উজ্জীবিত হয়ে একটা 'লাইফ লেসন' নেবো। ৩) নিশাত তামমিম আপু যে অসাধ্য (!) সাধন করেছেন সেটা পড়ে তো আমি আরো চমকে গেছি। আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য সবচেয়ে প্রিয় বস্তুর প্রতি মায়া,ভালোবাসা ত্যাগ করার কথাটা আমাকে সাহস যুগিয়েছে। উক্তিটা ছিলো এরকম, "সবশেষে ফোল্ডারে আর ১০/১২ টি গান ছিলো যেগুলো না থাকলেই নয়। কোনো এক ইমোশনাল মোমেন্টে 'বিসমিল্লাহ' বলে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে পুরোটা ফোল্ডার একেবারে শিফট ডিলিট দিয়েছিলাম।" সেই মুহূর্তে আমি চিন্তা করলাম, আমি যখন দোটানায় থাকি, তখন কী আমি নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকে 'শিফট ডিলিট' বাটনে চাপ দিয়ে ডিলিট করতে পারবো?
This will be a treat for anyone who likes revert stories.
I mean, I had always liked stories like these but I never knew I would love it this much! If I were to name a story that I liked the most in this book then I guess I could just go on and on and on.. But I would like to mention the one that literarily gave me goosebumps, made me cry and made me feel a tons of other emotions. It's on the second chapter, called 'How I was, How I am'. Loved it, loved it, loved it!!
Still there are a dozens of more stories that I wish to mention. But let's keep it as a teaser ;)
ভালো লাগলো খুব। অনেকজনের সাথেই অনলাইনে পরিচয় আছে বলে যেন আরো বেশি ভালো লাগলো। সবার মাঝে কয়েকটা বিষয় কমন পাওয়া যাবে। তার মধ্যে একটা হলো সত্যকে মেনে নেয়ার ইচ্ছা এবং সৎ সাহস। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই তাবলীগ জামাতের ভাইয়েরা খুব ভালো প্রভাব ফেলেছেন, সবাই তাদের ছোটখাট ভুলগুলো ধরতেও পেরেছেন, ফলে গোঁড়ামি গড়ে উঠেনি। আর ডা জাকির নায়েক তো আছেনই। আমাদের জেনারেশনকে এই লোকটা মাথা উঁচু করে ইসলাম পালন করতে শিখিয়েছেন। পরিশেষে দীন হারানো ভাইবোনদের দেয়ার জন্য বইটি ভালো ম্যাটেরিয়াল হিসেবে রিকমেন্ডেড থাকলো।
এক কথায় বলতে গেলে প্রতিটা গল্পই চমৎকার লাগসে। তবে দুই-একটা গল্প মনে হয় অনুবাদ করা হইসে আর ওইগুলার লেখনী যাচ্ছেতাই ছিলো বিশেষ করে শেষেরটা। নাহলে পাঁচ তারকাই দিয়ে দিতাম।
রব্বের পথে ফিরে আসার গল্পগুলো আসলেই অনেক সুন্দর হয়।"প্রত্যাবর্তন" বইটিতে দ্বীনের পথে ফিরে আসা কিছু ভাই-বোনদের গল্পগুলো তুলে ধরা হয়েছে। যাদের মধ্যে অনেকে ছিলো নাস্তিক, আবার অনেকে গতানুগতিক মুসলিম পরিবারের হলেও দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলো।কিছু ভাই-বোন আছে যারা অন্য ধর্ম থেকে ফিরে এসেছে🤎
আমরা পৃথিবীতে মুসলিম হয়ে জন্মগ্রহণ করি। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের সৌভাগ্য! কিন্তু আমরা দুনিয়াবি মোহে পড়ে ভুলে যাই,আমাদের শেষ গন্তব্যস্থল।হঠাৎ নিজের শিকড়ের সন্ধান পাওয়া,সিরাতুল মুসতাকীমের সন্ধান পাওয়ার গল্পগুলো কেমন হয়?
"প্রত্যাবর্তন" বইটিতে এক নওমুসলিম বলছেন- 'নওমুসলিমরা ইসলাম গ্রহনের পর যে অনুভূতি পায়,জন্মগতভাবে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা কোনো মুসলিমের পক্ষে বোধহয় সেই অনুভূতি পাওয়া সম্ভব নয়।এত কষ্টের মধ্যে এই অনুভূতিই আল্লাহ'র পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার।'
মোহ আর মিথ্যার মধ্যে চলতে চলতে, আমরা কখন যে অন্ধকার কূপের বাসিন্দা হয়ে যাই নিজেও জানি না।সেখান থেকে ফিরে এসেছে অনেকে, আলোর সন্ধান পেয়ে।আর অনেকে সেই অন্ধকার কূপকেই আপন করে নিয়েছে। তা আপনি রব্বের পথে প্রত্যাবর্তন করছেন তো...?নাকি অন্ধকার কূপকে আলিঙ্গন করে বেঁচে থাকবেন?
যখনই কেউ আমাকে বলে,কিছু ইসলামিক বই বলো যেগুলো পড়লে উপকার হবে। আমি সবার আগে 'প্রত্যাবর্তন' বইটার নাম এই বলি।আরিফ আজাদ স্যারের সবগুলো বই এই দারুন।বইটার একেকটা গল্প পড়ছিলাম,আর ভাবছিলাম, এমন ও হয়?' গল্প হলেও সত্যি' ব্যাপারটা এমন!
আল্লাহর নিকট ফিরে আসার গল্প গুলো আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বরাবরই এই ধরনের গল্প গুলো আমার খুব ভালো লাগে। এই বইয়ে ২৬ জন মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা হেদায়েতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। যারা ইসলামকে এক নতুন ভাবে চিনতে পেরেছে। আলহামদুলিল্লাহ। প্রত্যেকটা গল্প সুন্দর কিন্তু বিশেষ করে শেষ চারটি গল্প আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এই গল্পগুলোতে এমন কয়েকজন মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা এক সময় অন্য ধর্মের ছিল এবং আল্লাহর রহমতে জীবনের এক পর্যায়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় পেয়েছে। আল্লাহ এই মানুষগুলোকে সবসময় হেদায়েতের পথে অটল রাখুক। প্রত্যাবর্তন হোক সকলের,তার রবের সমীপে। প্রত্যাবর্তন হোক সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুক।
প্রত্যেক আত্মাই চায় রবের ইবাদতের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে। মানুষ যখন শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নিজের রবকে ভুলে বিপথগামী হয় তখন সর্বদাই অশান্তির মধ্যে থাকে। কিছু আত্মা নিজের সাথে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়ে আল্লাহ্র পথে ফিরে যায় আর কিছু আত্মা অন্ধকারেই ���িমজ্জিত থাকে।
বইটিতে তেমনি কিছু বিজয়ী ভাই-বোনদের গল্প আছে যারা নিজেদেরকে অন্ধকার থেকে আল্লাহ্র ইচ্ছায় আলোতে নিয়ে এসেছে। প্রতিটা গল্পই আপনাকে অনুপ্রেরণা দিবে আল্লাহ্র পথে ফিরে আসতে। মাঝে মাঝে গল্প পরে হেসেছি কখনওবা কেঁদেছি। বইটা এতটাই ভাল লেখেছে যে শেষ দিকে এসে চাচ্ছিলাম যেন বইটা যদি কখন শেষই না হত তাহলে হয়ত ভাল হত।
প্রত্যাবর্তনঃ বুক মিভিউ হিমু পরিবহণের একজন সদস্য হিসেবে বইয়ের রিভিউ টা কি রকম শুনতে চানঃ যে এটি অত্যন্ত ফালতু বই, আজগুবি গল্প কাহিনী দিয়ে ভরপুর। ---আসলেই কি তাই। আরিফ আজাদ এই হুমায়ুন আহমেদের হিমু নিয়ে এমন সব গল্প পাতেন যে- মনে হয় হিমু রা হচ্ছে সাজিদ এর বিপরীত। মানে নাস্তিক, দুনিয়া থেকে দূরে, খালি পায়ে বেড়ায় এরকম লোক। আবার উদাহরন ও টানেন এমনি যে হিমুরা আজ গল্পের বই ছেড়ে সাজিদ পড়ছে, তা হবার চেষ্টা করছে। আসলেই কি হিমু পরিবহণ তাই শেখায়? বরঞ্চ হিমু পরিহবহণ স্বপ্ন দেখে একটা ক্যান্সার হাসপাতালের। সেই স্বপ্নে ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা করে যাচ্ছে। কোথাও ত এমন কোন লেখা পাইনি হিমু হলে হিমু পরিবহন করলে ধর্মীয় বই পড়া যাবেনা। বরঞ্চ সামনের দিনে আমাদের প্ল্যান আছে আমরা মাদ্রাসা বিশেষ করে মহিলা মাদ্রাসাতে ক্যান্সার সচেতনতা নিয়ে কাজ করব। তাদের মধ্যেই এই বিষয়ে সচেতনতা কম। হিমুরা ধর্মকর্ম করে রে বাপ। এবারে বইয়ের একটু সারাংশ দাড় করাই। যেহেতু এর সাহিত্যমান বা সত্য মিথ্যা নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই। তাই নিজের আর যারা পড়ছেন তাদের উপকারার্থে মোদ্দা কথা। যারা এই বইটা কিনেন বা পড়েন তারা দুইটা মনস্তাত্বিক দিক থেকে বইটা পড়েন, এক আপনি মুসলিম, কিন্তু ঠিক তেমন ভাবে পালন করছেন না, আপনার মোটিভেশন দরকার, দিক দরকার। মনের শান্তি দরকার। দুই নিতান্ত কৌতুহল। যে বইটা এত বিক্রি হচ্ছে, মুসলিম ত একটু পড়েই দেখিনা-কি আছে এতে। আর একান্ত যারা সমালোচক, প্রতিটা যুক্তিকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে চান। আমি কৌতুহলী টাইপ এর পাঠক। বিশেষত যখন আমার আশেপাশে এমন পাঠক থাকে যারা বলে উঠতে পারে-ভাই আপনি এসব বই পড়েন!!!! ভুমিকা থেকেই বলি কেন এই বই। যা আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তার প্রতি আমাদের এমন তীব্র আকর্ষন, আর যা আমাদের করতে বলা হয়েছে, তার প্রতি আমাদের দুর্বার অনীহা। আমরা তাতে ঢুকে পড়ি অন্ধকার রাজ্যে। সেই পথ থেকে ফিরে আসার গল্প গুলি প্রত্যাবর্তন। সেই পথ ফিরে পাওয়া, নীড়ে ফিরে আসার গল্প প্রত্যাবর্তন। অনেকে গল্পে অনেকে নানা ভাবে ফিরে এসেছেন। তাদের একটা টাচ মুহুর্ত ছিল-যা তাদের কে বদলে যেতে পথ দেখিয়েছে। সেই পথ গুলি যেমনঃ ১. পিস টিভিঃ কোট টাই পড়া এক ডাক্তার। নাম তার জাকির নায়েক। তার লেকচার গুলোঃ বিশেষ করে The quran and modern science লেকচারের কথা বেশি এসেছে। উনার কথাই বারবার এসেছে বইতে। যে পিস টিভিতে উনার লেকচার দেখে অনেকেই ইসলামের দিকে ধাবিত হয়েছেন। https://www.quraneralo.com/zakir-naik/
২. ডাঃ আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস এর ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি সেখান থেকে নিম্নলিখিত লেকচারের বা কোর্সের কথা বলেছেনঃ https://iou.edu.gm/ বুনিয়াদি কোর্স Moral foundation of Islamic culture দাওয়াহ ট্রেনিং “যারা আমার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে (ইসলাম) পরিচালিত করব। আল্লাহ তো মুহসিনুনদের (সতকর্মশীলদের) সাথেই আছেন”। ৩. হারুন ইয়াহিয়া। মিরাকল অব কুরয়ান ৪. ডাঃ তৌফিক চৌধুরী-ভিডিও লেকচার। জার্নি টু দ্যা হেয়ার আফটার। ৫. ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগীর এর লেকচার। মোটামুটি দাগে এগুলোই। এখানে একটা প্রসংগ বলে নেই-যে যে লাইনের তাকেই শ্রেষ্ঠ মনে করার প্রবনতা আছে। তাবলীগরা তাদের শুরার ভাষন ঠিক মনে করে-বাকি সব বাতিল। আবার যে যুবক রাত যেগে গ্রামে ওয়াজ শুনে বুকে জোর পায় -তার কাছে সেই হুজুর বা আলিম সঠিক। আর এখানে জাকির নায়েক দিয়ে শুরু। মোটামুটি সব গল্পেই ধারাটা এরকম ই গেছে। তবে জীবনের উদ্দেশ্য খালি জীবিকা নয়, জীবনের উদ্দেশ্য খালি ধর্ম কর্ম করাও নয়। সব কিছু করেই আপনাকে হতে হবে প্রোডাক্টিভ মুসলিম। “জীবন মানে আসলে কী? ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটতে ছুটতে অর্ধেক জীবন শেষ করে দেওয়া, স্ত্রী আর ছেলে মেয়েদের পিছনে বাকিটুকু শেষ করে দেওয়া, তারপর বৃদ্ধ বয়সে হুইল চেয়ারে বসে না মেলা জীবনের হিসাব মেলাতে মেলাতে কবরে চলে যাওয়া। এটার মানেই কী জীবন? এর জন্যেই কি আমরা পৃথিবীতে এসেছি? শুধু বেচে থাকার জন্য, নিজের জীবনটাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেবার জন্য যে জীবন , সে জীবন তো কুকুর ও বাচে, শেয়াল ও বাচে? প্রশ্ন গুলো পড়ে মনে মনে উত্তর আসে-ওহ তাহলে বলতে চাচ্ছ যে-সব কাজ ছেড়ে দিয়ে হুজুরদের মত মসজিদে বসে থাকব। আর দিনরাত কুরআন শরীফ পড়ব? তাতেই জান্নাত। আমাদের মনে ছোট থেকেই এই ভুল ধারনাটাই বসিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি আপনার অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
২৬ জন ব্যাক্তির দ্বীনে প্রত্যাবর্তনের ঘটনা নিয়ে বইটি রচিত। ২২ জন মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলেও খুব বেশি প্র্যাকটিসিং মুসলিম ছিলেন না। আর ৪ জন অন্য ধর্মের ছিলেন। তো এই ২৬ জন ব্যাক্তি বর্তমানে সবাই দ্বীনের উপর আছেন বা থাকার চেষ্টা করছেন। বইটি পড়ে আমি যতটুকু বুঝেছি যে কয়েকটি বিষয় উনাদেরকে দ্বীনে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলে। ইসলামকে নতুন করে ভাবতে শেখাতে কয়েকটি বিষয় খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। যেমনঃ
১. ডা. জাকির নায়েকের বিভিন্ন লেকচার। 'সম্মুখ সমরে', 'সত্যের উন্মোচন', 'The Quran and Modern Science : Compatible or incompatible', 'প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থসমূহে স্রষ্টার ধারণা', 'উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের সাথে বিজ্ঞান কুরআন এবং বাইবেল নিয়ে বিতর্ক' অন্যতম।
২. 'জার্নি টু দ্য হেয়ার আফটার' লেকচার by ড. তৌফিক এলাহী
৩. ড. মরিস বুকাইলির বেশ কিছু বই। 'বাইবেল, কোরান ও বিজ্ঞান', 'মানুষের আদি উৎস' অন্যতম।
৪. ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) এর বিভিন্ন বই। 'হাদিসের নামে জালিয়াতি', 'এহইয়াউস সুনান', 'ইসলামি আকিদা', 'আল ফিকহুল আকবার (অনুবাদ)' অন্যতম।
৫. তাবলিগ জামাতে জড়িয়ে যাওয়া কিংবা তাবলীগ জামাতের ভাইদের মেহনত।
৬. হারূণ ইয়াহিয়ার কিছু বই এবং লেকচার।
৭. দাড়ি রাখা এবং সুন্নাতি পোশাক পড়া। উল্লেখ্য এখানে যাদের কথা আছে তাদের সম্ভবত সবাই(পুরুষরা) দাড়ি রাখে। আর দাড়ি রাখার বিষয়টাকে বেশিরভাগ লেখকই অনেক গুরুত্ব দিয়ে লিখেছেন।
৮. 'ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি' থেকে কিছু কোর্স করা।
৯. মিউজিক থেকে দূরে থাকা
১০. কোনো দ্বীনি ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসা।
১১. কুরআনের অনুবাদ পড়া। 'কুরআন একাডেমি লন্ডন' এর অনুবাদটি বেশ ভালো। পিডিএফ ভার্সন পাওয়া যায়। চাইলে যেকেউ নিজের কাছে রেখে দিতে পারে।
"যারা আমার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ তো মুহসিনুনদের (সৎকর্মশীল) সঙ্গেই আছেন।" - ২৯ঃ৬৯
বইয়ের গল্পগুলোতে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি আর আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাকে সঠিক সময়ে হেদায়েত দান করার জন্য।প্রতিটি ভুলোমনকে পথ দেখাবে,আর যারা হেদায়েত প্রাপ্ত হয়ে পড়বে তারা স্বস্তির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে আলহামদুলিল্লাহ বলে।
কুরআন ও হাদিস জানার জন্য এবং কিছু মুসলিম ও নওমুসলিম মানুষের জীবনে ইসলাম এর প্রভাব সম্পর্কিত অনুপ্রেরণামূলক বই। বইয়ের শেষ দিকের অধ্যায় গুলোর লেখার ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে কিছুটা কষ্টসাধ্য ছিল। ভাল একটি বই অবশ্যই।
কিছু তরুণের গল্প।অধিংকাশ জেনারেল লাইনের স্টুডেন্ট, তাদের জীবনের অল্প-গল্প, কেমন ছিল তাদের দ্বীনে ফেরা, কেমন ছিল তাদের দ্বীনে ফেরার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়। জানতে হলে পড়তে হবে।
বইটার লেখকদের সবাইকে অনলাইনে ফলো করে থাকি।আশা করি বইটা পড়ে সকলের বেশ ভাল্লাগবে
সব প্রত্যাবর্তন এক হয়না। কিছু প্রত্যাবর্তন পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আসে। তারা প্রত্যাবর্তন করেছিল মহাবিশ্বের মালিকের পথে। ছোট ছোট গল্পে বর্ণিত হয়েছে উঠে আসার সে গল্প।
প্রত্যেকটা বৃত্তের একটা কেন্দ্র থাকে। পৃথিবীতে জীবনাচরণের সেই কেন্দ্রের নাম হচ্ছে ইসলাম। আমরা যারা জন্মগতভাবে মুসলিম পরিবারে জন্মেছি, বলা চলে আমরা কেন্দ্রের অধিবাসী হয়েই জন্মেছি। তবুও, বেড়ে উঠতে উঠতে, সমাজের নানান সঙ্গতি-অসঙ্গতির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে একসময় আমরা পথ হারিয়ে বসি। হয়ে পড়ি কেন্দ্রচ্যুত। আমরা কেবল 'নামে মুসলিম' হয়ে জীবন-যাপন করি। তখন আমাদের জীবন পদ্ধতি আর একজন একজন অ'মু'সলিমের জীবন পদ্ধতিতে কোনো পার্থক্য থাকে না। আমাদের ধার্মিক জীবন তখন আবদ্ধ হয়ে যায় জুমুআর সালাত আর দুই ঈদের সালাতের মধ্যে । যা আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তার প্রতি আমাদের তখন তীব্র আকর্ষণ। আর যা আমাদেরকে করতে বলা হয়েছে ,তার প্রতি দুর্বার অনীহা। আমরা ঢুকে পড়ি এক নিকষ কালো অন্ধকার রাজ্যে। সেই অন্ধকার রাজ্যের ছায়াপথ থেকে কেউ কি বেরিয়ে আসে? কারও কি হুশ ফিরে? কেউ কি পুনরায় তার কেন্দ্রে ফিরে আসে? হ্যাঁ, আসে। কেউ কেউ আসে।যারা আসে ,তারা খুব দুর্দান্তভাবেই ফিরে আসে। সেই পথ ফিরে পাওয়া, নীড়ে ফিরে আসা একঝাঁক তরুণ প্রজন্মের মানুষের সত্য গল্প নিয়েই লেখা হয়েছে "প্রত্যাবর্তন" বইটি। বইটিতে মোট দুইটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম 'আলোর পথে যাত্রা' আর দ্বিতীয় অধ্যায়টির শিরোনাম দেয়া হয়েছে 'স্রষ্টার সন্ধানে' । আমাদের এই দেশেই জন্ম নেয়া তরুণ প্রজন্মের খুব পরিচিত কিছু মুখ যাদের জন্ম মুসলিম পরিবারে হলেও পরবর্তীতে ইসলামের সাথে যাদের সম্পর্কটা শুধু জুমুআর নামায আর দুই ঈদের নামাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল সেই সব মানুষদের দ্বীনে ফেরার কথাগুলোই গল্পাকারে ওঠে এসেছে এই বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে। আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী চারজন ব্যক্তির ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গল্প রয়েছে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:-
বইটির গল্পগুলো কোনো রূপকথার মতো নয়, নেই কোনো ঝকঝকে সাজানো প্লট—তবু পুরোটা একটানে পড়ে শেষ করেছি। এই গল্পগুলো আমাকে যেন টেনে রেখেছিল। দ্বীন মেনে চলার পথে লেখকেরা যেসব বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন, আর কীভাবে সেই সব দেয়াল ডিঙিয়ে তাঁরা দ্বীনকে আঁকড়ে ধরেছেন—তা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, আমার ভেতরেও যেন একটা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
যারা দ্বীনের পথে ফিরেছেন, কিন্তু এখনো পুরোপুরি তা মেনে চলতে পারছেন না, কিংবা যারা দ্বীনের দিকে এগিয়ে আসতে চান, কিন্তু জানেন না কোথা থেকে শুরু করবেন—তাদের জন্য এই বই দিকনির্দেশনার মতো। দ্বীনের পথে বাধাগুলো কীভাবে মানসিকভাবে সামাল দিতে হয়, সেই ধারণাও পাওয়া যায় বইটি থেকে। একইসঙ্গে এটি অসাধারণ অনুপ্রেরণাও জোগায়। সবাইকে পড়ার জন্য সুপারিশ করবো—একটি মাস্ট রিড বই। ———————— বই: প্রত্যাবর্তন সম্পাদক : আরিফ আজাদ প্রকাশনী: সমকালীন প্রকাশন । বিষয়: ইসলামি আদর্শ ও মতবাদ। মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা। পৃষ্ঠা: ২২২ রেটিং: ⭐⭐⭐⭐⭐/৫
পড়তে পড়তে ইসলাম নিয়ে আরও ব্যাপক পরিসরে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, ইমান বুস্ট হয়েছে; এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন বলবো।
বই থেকে দুইটা পছন্দের উক্তি— “আমরা যা শিখছি তা যদি আমাদের বিশ্বাসের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যেতে না পারে, আমাদের বিশ্বাস আরও মজবুত করতে না পারে তাহলে এর অর্থ হচ্ছে—আমাদের উদ্দেশ্যে, নিয়্যতে ভুল আছে।” (ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস)
“আল্লাহর পথ সুদীর্ঘ। আমরা সেখানে কচ্ছপের ন্যায় পরিভ্রমণ করছি। পথের শেষ সীমায় পৌঁছতে হবে এটা মূল লক্ষ্য নয়; বরং মৃত্যু অবধি পথের ওপর টিকে থাকাই আমাদের লক্ষ্য।” (শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানি রহ.)
অন্যান্য: ১. প্রত্যেকটা পর্বের শেষে যে বই/রেফারেন্স থেকে ভাইয়েরা উপকৃত হয়েছেন তার একটা লিস্ট দিলে খুব ভাল হতো। ২.শেষের দিকের অনুবাদ অংশটায় (স্রষ্টার সন্ধানে) আরেকটু পরিমার্জনা প্রয়োজন।
প্রত্যাবর্তন - ধর্মীয় অনুভূতির বই সংকলক - আরিফ আজাদ
বইটিতে অনেক মানুষের ধর্মের পথে আসার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। কিভাবে তারা নিজেদের জীবনে আলোর দিশা পেল, কিভাবে তাদের জীবন নতুনভাবে শুরু হল সেটাই সবাই নিজেদের ভাষায় নিজের গল্পটা বলেছে। ধর্মকে বুঝে ফিরে আসা, সেই পথের কঠিনতা, আল্লাহর রহমত, আল্লাহর পথ দেখানো সবকিছু এত সুন্দরভাবে এখানে সবাই নিজেদের জীবনের কাহিনী বলতে বলতে ফুটিয়ে তুলেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি মুগ্ধ বাংলাদেশের এত মানুষ ইসলামের পথে এত সুন্দরভাবে আছে যেটা শুনে আমি আমার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আসলেই সব গল্পগুলোই সুন্দর। শুধু যে ছেলেদের কাহিনী তাই নয় বরং অনেক বোনের কাহিনীও বলা হয়েছে যারা সমাজের সাধারনদের মতো জীবনে না গিয়ে আলোর পথের পথিক হয়েছেন। সবার জন্য শুভকামনা এবং সত্যি অন্যরকম একটি বই প্রকাশ করার প্রচেষ্টা সফল হয়েছে আমার মতে। পড়ে দেখতে পারেন সবাই।
প্রত্যাবর্তন হলো মুসলিমকে আবারও মুসলিম হিসাবে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার গল্প, হৃদয়ে শান্তি সংগ্রহ করার গল্প। আধুনিকতার স্পর্শে মানুষ নিজেদের সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়ে পৃথিবীর মায়াতে আটকে গিয়ে দ্বীন থেকে দূরে হারিয়ে যাচ্ছে, বহু দূরে! তবে যারা ফিরে আসে কেমন হয় তাদের গ���্পগুলো? সেই গল্প গুলোর নামই দেওয়া হয়েছে প্রত্যাবর্তন।
যাদের সামনে রাস্তা করাই থাকে আর যারা রাস্তা নিজেরা তৈরি করে এগিয়ে যায়, দুই এর পরিশ্রম সমান হয় না। মানুষ শুধু মানুষ হওয়ার গুণের কারণে ই যে নিজ চেষ্টায় তার শ্রষ্টার সন্ধান পেতে পারে এই বই তাঁরও একটি প্রমাণ। কিছু মানুষের ইসলামে প্রবেশের গল্প। গল্প গুলো ভালো লাগার মতো কারণ আমাদের চারপাশে এমন ঘটনার ভুক্তভোগী, সাক্ষী আমরা নিজেরাই। সর্বশেষ গল্প টা ছিল সবচেয়ে সুন্দর।