তাহাজ্জুদের ব্যাপারে উম্মাহর অধিকাংশের ধারণা এমন যে,এটি কেবল রমাদানেরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। অথচ তা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত যার মাধ্যমে একজন মুসলিম বুঝতে পারে--সে সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসে কি না, অথবা আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন কি না।
.
অনেক সময় ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে গড়ে তুললেও তারা নষ্ট হয়ে যায়।আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
"তুমি যাকে পছন্দ করো, ইচ্ছে করলেই তাকে সুপথে আনতে পারো না; বরং আল্লাহই যাকে যাকে চান সুপথে আনেন।"
[ সূরা- আল কাসাস, ২৮ ~ ৫৬ আয়াত ]
এই আয়াতটি বারবার মনে পড়ে,আমার কিছু কাছের মানুষের ক্ষেত্রে। যারা হেদায়েত পেয়েও পায় নি, শুধু মুখেই বললে হয় না আমি হেদায়েত পেয়েছি।তার উপর অটুট থাকতে হয়।নিজের নফসের সাথে যুদ্ধ করতে হয় প্রতিনিয়ত, কখনো জিতি তো কখনো হারি।এই আয়াতটি আমার জন্যও।আমি কী আগে জানতাম না, দ্বীনের ব্যাপারে? গাফেল বান্দা ছিলাম তবুও!
.
কিয়াম হলো আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া। এটা কীভাবে সম্ভব, আল্লাহ তা'য়ালা আপনাকে ডাকছেন অথচ আপনি তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না?কারও স্ত্রী,সন্তান কিংবা প্রিয় মানুষটি যদি তাকে মাঝরাতে ডেকে জিজ্ঞেস করে--তুমি ঠিক আছো তো, তোমার কিছু লাগবে? সে তখন বলবে --আমি ঠিক আছি। সবকিছু ঠিক আছে।আমি ঠিক আছি প্রিয়। আমি ঠিক আছি বন্ধু, ঠিক আছি ভাই ইত্যাদি। এসব বলে সে আকর্ষণ অনুভব করবে।আপনার সহকর্মী, অফিসের বস কিংবা কেউ যদি আপনাকে ফোনকল অথবা মেসেজ দিতো, আপনি এর উত্তর দিতেন। তারা যে আপনার খোঁজ নিচ্ছে এটা অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতেন। তা হলে এটা কিভাবে সম্ভব যে, আল্লাহ তা'য়ালা আপনাকে ডাকছেন, আপনার প্রয়োজনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন কিন্তু আপনি তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না? নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিদর্শনই সর্বোত্তম নিদর্শন!
বইমেলা থেকে নিয়েছিলাম বইটা,আফসোস এতদিন পড়ি নি। ইবাদাত গুজার বান্দা কী এমনি এমনি হওয়া যায়? নবীরা, সালাফরা কেমন ইবাদতগুজার বান্দা ছিলেন তা ভাবলেই অবাক লাগে।হায়,আমরা তো তার ধারেকাছেও না।তারা এমনভাবে ইবাদাত করতেন যাতে অন্যকেউ বুঝতে না পারে,এবং কী নিজের স্ত্রী/স্বামীও না।
বইটা একদম ছোট,কিন্তু কথাগুলোর ভার অনেক💫