বইটা শেষ করে এক ধরনের স্তব্ধতা কাজ করেছিলো। বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছিলো যে আসলেই এমন হয়েছিলো কিনা,কিন্তু স্থান কাল সব ই সত্য অবিশ্বাস করার উপায় মাত্র নেই। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে বইটার ঝরঝরে অনুবাদ পড়ে একবারের জন্যও মনে হয়নি এটা অনুবাদ বই।
৯/১১ এর পর হঠাৎ করে ইসলাম আর মুসলিমদের সম্পর্কে ইন জেনারেল যে দৃষ্টিভঙির পরিবর্তন ঘটে তা মোটামুটি সবাই জানি আমরা।
টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর প্রতিশোধ গ্রহণের যে ক্ষিপ্রতা সেটাও আমরা দেখেছি। তার ধারাবাহিকতায় আমেরিকা আফগান, পাকিস্তান, আরবসহ সারা বিশ্ব থেকে অসংখ্য মুসলিমকে শুধু সন্দেহের উপর ভিত্তি করে গ্রেফতার করে আনে এই গুয়ান্তানামো কারাগারে। জবানবন্দি আদায়ের নামে তাদের ওপর চালানো হয় অকথ্য ভয়াবহ নির্যাতন। কোন আইন কানুন এর তোয়াক্কা না করেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী করে রাখা হয় তাদের দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। এমনই এক ভিক্টিম “হোসাইন আব্দুল কাদির”। বিনাদোষে কারা যাপনের সেই ভয়ংকর কালো অধ্যায়ের আর্তচিৎকারের নাম এই “গুয়ান্তানামোর ডায়েরি”। তার নিজের জবানিতে, তার উপর করা শত নির্যাতনের বর্ননা গুলো সত্যিই গায়ে কাটা দিয়েছিল আমার!
সবাই হোসাইন আব্দুল কাদিরের মত ভাগ্যবান নয় যে সেই বন্দীত্ব থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম ছিলো! তিনি মুক্তির পর সেই অমানবিক নির্যাতনের কথা তুলে আনলেন বইটিতে। বইটি কেবল বিশাল এক কুৎসিত ছবির একটি মাত্র খন্ড। না জানি আরো কত এমন খন্ডচিত্র অজানা থেকে যাবে বা আছে আমাদের।
বইটি প্রকাশের পর আলোচনা এবং সমালোচনা দুটোরি কোন কমতি ছিলো না৷ স্বাভাবিক ভাবেই এই ধরনের বইগুলোর সত্যতা, রেফারেন্স, অথেন্টিসিটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠে এবং অনেক প্রশ্ন থেকে যায় গোপনে!! ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য লেগেছে আর সেই সাথে অনেক ইমোশনাল হয়ে পড়ি অনেক অনেক জায়গায়। কিন্তু অনুবাদ নিয়ে যা না বললেই নয় কিছু কিছু পয়েন্টে একটু খাপছাড়া আর লেখার ছন্দপতন ঘটেছে মনে হয়েছিলো আমার। কিন্তু সব মিলিয়ে বোর লাগে নি পড়তে। .....................................
বইটির অনুবাদ সাবলীল। মার্কিন কারাগারে বন্দীকালিন সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। লেখকের মতে অসংখ্যা নিরাপরাধ মানুষ বিনা কারণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন এসকল কারাগারে। এগুলো থেকে কেউ জীবিত বের হয়েছে, কেউ মৃত।
বইটি পড়ার পর মনে হয়েছে বইটির ইংরেজি অনুবাদ করে মার্কিন ও পশ্চিমাদের পড়তে দেওয়া উচিত। ইংরেজি অনুবাদ আছে কি? আমি জানিনা। মার্কিনীরা জানুক কি হতো এসব কারাগারে। তাদের সরকার পৃথিবীর কোথায় কোথায় কিভাবে গণতন্ত্র কায়েম করেছে তা জানার অধিকার তাদের আছে।