আমি দুর্যোধন , ধৃতরাষ্ট্র পুত্র, জ্যেষ্ঠ কৌরব।
আমার জন্মগ্রহণ করা ছিল পিতা ধৃতরাষ্ট্রের কাছে পরম আকাঙ্ক্ষার,কারণ পাণ্ডু বিহীন হস্তিনাপুরের নামমাত্র শাসক ছিলেন জন্মান্ধ তিনি। আমাকে মাতা গান্ধারী একটি মাংসের পিন্ড আকারে জন্ম দেন, সেদিন আবহাওয়াও ছিল বৈরি ও একসাথে ডেকে উঠেছিল কাক-শকুন। ধূর্ত বিদুর পিতাকে বোঝালেন আমাকে তৎক্ষণাৎ পরিত্যাগ করার জন্য।স্নেহান্ধ পিতার হস্তক্ষেপে সেই যাত্রায় বেঁচে যাই।
হঠাৎ পিতার আশায় জল ঢেলে দিয়ে কোত্থেকে যেন হাজির হলো কুন্তী ও পঞ্চপাণ্ডব। যুধিষ্ঠিরকে দাবি করলো জ্যেষ্ঠ উত্তরাধিকারী হিসেবে। তাদের জন্ম বৃত্তান্ত ঢাকা পড়ে গেল বিদুর ও পিতামহের হস্তক্ষেপে।
সময়ের সাথে পঞ্চপাণ্ডব ও আমরা শত ভাইরা একসাথে অস্ত্রশিক্ষা নিতে লাগলাম।
গুরুগৃহে অকারণে ভীমের শক্তি প্রদর্শন আমাকে রাগান্বিত করে ফেলে।তাইতো তাকে হত্যার পরিকল্পনা করি কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না।
কুন্তীর তার সন্তানদের প্রতি অপত্য স্নেহ আমাকে প্রায় ব্যথিত করে,কই মাতা গান্ধারী তো কখনো আমাকে বা অন্য ভাইদের স্নেহ কিংবা খোঁজখবর নেয় না।সেই যে চোখে পট্টি বাঁধলেন, নিজের সন্তানকে দেখার জন্য পর্যন্ত পট্টি খুললেন না।ছেড়ে দিলেন আমাদের দাইমার হাতে।তাই মাতার চেয়ে দাইমা ,মামা শকুনি আমাদের কাছের মানুষ।
অস্ত্রশিক্ষা শেষে শক্তি প্রদর্শনের দিনও যখন সবার কাছ থেকে আমরা লাঞ্চিত হচ্ছিলাম তখন কর্ণ এসে আমাদের সম্মান বাঁচায়।তাইতো কর্ণকে পরম মিত্র হিসেবে অঙ্গরাজ্য প্রদান করি। এই কর্ণের কাছেই ছিলাম আমি সুযোধন।অথচ লোভী ,স্বার্থপর হিসেবে সবাই আমাকে দুর্যোধন বলতো,যদিও দুর্যোধন অর্থ যাকে যুদ্ধে জয় করা কঠিন।
সত্যিই আমি অজেয়। জ্যেষ্ঠপুত্রের জ্যেষ্ঠ সন্তান হয়েও যখন সিংহাসনের অধিকারী হতে পারেনি তখন তো নিজ স্বার্থের জন্য আমাকে অধর্মের পথ নিতেই হলো।
লেখিকা অন্য সবার মত দুর্যোধনের চরিত্র বিশ্লেষণ না করে বরং দুর্যোধন চরিত্রের মানবিক দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।