গল্প বলা খুবই কঠিন একটা কাজ। খুব কম মানুষই এটা পারেন।
আমরা সাধারণ মানুষ যখন একটা গাছ, পাথর কিংবা লতাপাতা দেখি, সেটা আমাদের কাছে গাছ, পাথর কিংবা লতা-পাতাই। কিন্তু বিভূতিভূষণ যখন ঠিক সেই একই গাছপাতা দেখেন, তখন সেটা হয়ে যায় স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝামাঝি এক অসাধারণ গল্প।
আমরা একটা বেকার, ভবঘুরে ছেলেকে প্রতিদিনই দেখি চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে, একা একা রাস্তায় হেটে বেড়াতে। সেই ছেলেটিকেই যখন হুমায়ূন আহমেদ দেখেন, সেটা হয়ে যায় সমাজ বাস্তবতার এক রুদ্ধশ্বাস গল্প।
হোমার কিংবা হুমায়ূন আহমেদরাই যে কেবল গল্প বলেন-তা নয়। প্রতিটি সফল মানুষই আমাদের গল্প বলে চলেছেন। ধর্ম বলেন, রাজনীতি কিংবা ব্যবসা-সকল ক্ষেত্রেই সফল মানুষেরা একজন বড় গল্পকার। আমাদের বেচে থাকার অক্সিজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন কোন গ্যাস নয়, আমাদের বেচে থাকার অক্সিজেন এই গল্পগুলোই।
বইটা পৃথিবী কাঁপানো বই "স্যাপিয়েন্সের" বাংলা ভার্সন। স্যাপিয়েন্স এমন একটা বই, যেটা যে কোন চিন্তাশীল, খোলামনের মানুষের চিন্তার জগতকে এলোমেলো করে দিতে পারে। তেমন একটা বইয়ের বাংলা অনুবাদ (অনুবাদ না বলে রুপান্তর বা ভাবানুবাদ বলাটা বোধহয় শ্রেয়) করাটা যথেষ্ট হ্যাপার কাজ।
কিন্তু সেই কাজকেই অসাধারণভাবে করেছেন লেখক। অন্য কয়েকটি অনুবাদ হাতে এসেছে, সেগুলো বড্ড একঘেয়ে, বড্ড বেশী আক্ষরিক অনুবাদ। সেসবের তুলনায় “মানুষের গল্প”-এর লেখা অসম্ভব প্রাণবন্ত, ঝরঝরে, মেদহীন। পড়তে শুরু করলে তুলে রাখা কষ্টের। লেখাকে আরো অতুলনীয় করেছে যে ব্যাপারটা তা হল, বইয়ের মূলভাব ঠিক রেখে উদাহরণের সময় লেখক প্রায়ই নিয়ে এসেছেন বাংলায় প্রচলিত বিভিন্ন শব্দ, চরিত্র বা গল্পের কথা। উদাহরণ দিয়েছেন দেশেই ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা দিয়ে। সেসব করতে গিয়েই এসেছে মোস্তাকিমের চাপের কথা, ফুটপাথে গাড়ি তুলে মানুষ চাপা দেয়া বিচারপতি বা আইজির বেপরোয়া ছেলের কথা, মেজর জিয়া, মধুসূদন কিংবা চৌধুরী সাহেবের কথা!
এতটা সহজপাঠ্য অবশ্য সবার পছন্দ না-ও হতে পারে। বিশেষ করে "ইংরেজি স্যাপিয়েন্স" পড়ে যদি কেউ এর খুঁটিনাটি ধরতে শুরু করেন সেক্ষেত্রে, কিংবা কেউ যদি একে সকল ধর্মগ্রন্থের বিরুদ্ধে একটা চ্যালেঞ্জ মনে করে বসেন (অরিজিনাল স্যাপিয়েন্সকে অনেকেই সেটা মনে করেন শুনেছি!) সেক্ষেত্রে এই "মানুষের গল্প" তার ভালো লাগার কথা না। কিন্তু সেসবের বাইরে, সামান্য পড়ুয়া আর খোলামনের যে কেউ গোগ্রাসে গিলতে পারবেন এই বই।
২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার শুরু করেও আমি নোয়া হারারির স্যাপিয়েন্স শেষ করতে পারিনি, হোক তা আমার ধৈর্য্যের অভাব কিংবা আমার ইংরেজি ভাষা পড়তে পারার অক্ষমতার কারণেই, ৩০-৪০% এর পর কেন যেন আর আগাতে পারিনি একাধিকবার চেষ্টা করেও। সেই আমিও মোটামুটি সপ্তাহখানেকের মধ্যে শেষ করে ফেলেছি এই বই। বলাই বাহুল্য আমি অসম্ভবরকমের পছন্দ করেছি এই "মানুষের গল্প"। লেখক আশফাক আহমেদের আর কোন লেখা এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি, ব্যক্তিগতভাবে আমি তুমুল আগ্রহভরে অপেক্ষা করব তার পরবর্তী লেখার খোঁজ পেতে!!
বইটা নাকি Yuval Noah Harari এর লেখা Sapiens এর অনুবাদ। মানে এইরকম একটা ধারণা নিয়েই বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম আরকি। Sapiens আমার খুব পছন্দের একটা বই। তাই এমনিতেই মনের কোণায় উশখুশ নিয়েই পড়তে হয়েছে বইটা। "মানুষের গল্প" বইটা আসলে কোনও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুবাদ না, Sapiens বই টা লেখক সহজ বাংলায় একদম নিজের মত করে লিখেছে। লিখতে লিখতে বইয়ের গণ্ডি Sapiens পেরিয়েও চলে গেছে। এই বই পড়তে পড়তে আমার বার বার মনে হচ্ছিল, বই না ঠিক, যেনো ফেসবুকের status পড়ছি। সুন্দর সাবলীল ভাষা হলেও চিরচারিত বইয়ের ভাষার থেকে অনেক অনেক আলাদা।
আমার মনে হয়েছে বইটা আসলে সহজ সাধারণ জ্ঞানের বই। জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে সূক্ষ আগ্রহ তৈরি করার জন্যে ছোটদের পড়তে দেওয়া উচিত। ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, অর্থনীতি সবকিছু মিলিয়ে ঘটপাকানো একটা বই। টুপ করে পড়ে ফেলা যায়। তাই হয়তো ছোটদের জন্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, বড়রা কেউ পড়লে মজা না-ও লাগতে পারে।
একটা বইয়ের মূলভাবকে নিজের মত করে কতটা আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশ করা যায়,তার নমুনা দেখিয়েছেন লেখক।মূল বই আমি এখনো পড়িনি,সময় নিয়ে পড়ব।কিন্তু লেখক নিজের চমৎকার রসবোধ দিয়ে যেভাবে সবকিছুর সাবলীল ব্যাখ্যা করেছেন,সেটা আমাকে আয়োজন করে পড়তে হয়নি।একবার শুরু করার পর প্রবল আগ্রহের এক টানে শেষ না করে থাকতে পারিনি।
ইয়ুভাল নোয়া হারারির স্যাপিয়েন্সের অনুবাদ। একে ঠিক অনুবাদ বলা উচিত হবে কিনা জানি না। লেখার প্রতিটা লাইনে আক্ষরিক অনুবাদের চেয়ে লেখকের নিজস্ব লেখনি স্টাইল প্রাধান্য পেয়েছে যা এই বইটিকে আর দশটা অনুবাদ বই থেকে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। লেখকের সেন্স অফ হিউমার আপনাকে যারপর নাই অবিভূত করবে, এতটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি। HAPPY READING!
চমৎকার বই। নিজের মতো করে লেখা। তবে ব্লগের লেখা একদম সরাসরি কপি-পেস্ট করে বই বানিয়ে ফেলা হয়েছে! প্রকাশকের কাজটা কী সেটাই প্রশ্ন জাগে! ফেসবুকীয় ভাষার ব্যবহার দৃষ্টিকটু।
এত সুন্দর বাংলা অনুবাদ কখনও পড়েছি বলে মনে হয়না। বইটি পড়ার আগের আমির সাথে পড়ার পরের আমির মাঝে অনেক পার্থক্য হয়ে গেছে। মানুষ কি করে আসলো, তার বিচরণ, টিকে থাকা, তার ইতিহাস, অর্থনীতি, মনস্তত্ত্ব কি নেই এতে। এটা আসলেই সেপিয়েন্স দের নিয়ে লেখা ছোট ক্যাপসুল বই, আমার মত কমবোঝা মানুষদের জন্য যা অতি কার্যকর।