জাপানা কাহিনী বইয়ের লেখক স্যার আশির আহমেদ বহু বছর আগে ১৯৮৮ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট করার জন্য পাড়ি জমান জাপানে। বর্তমানে তিনি কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। তার দীর্ঘ জাপান জীবনে বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে মূলত বইটি লিখেছেন। কলেজ জীবনের প্রথম দিন থেকে এখন অব্দি যাবতীয় ঘটনা তিনি মলাটমন্দী করছেন। উঠে এসেছে জাপানি ভাষা, শিক্ষা, সমস্যা, জাপানি কালচার, কুসংস্কার, উন্নয়ন সহ যাবতীয় দিকগুলো।
লেখক বইয়ে ছোট ছোট গল্প আকারে জাপানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। গল্পের ভিতর দিয়ে একটা দেশ সম্পর্কে সামগ্রিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
আপনি জানলে অবাক হবেন জাপানে প্রতি বছর প্রায় ৩৩হাজার মানুষ আত্নহত্যা করেন। তথ্যটা হয়তো অনেক আগের তাই গুগল করলাম, ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ২১৮৮১জন। এভারেজ প্রতিদিন ৯০ জন। বিষয়টি আমাকে অনেক ভাবিয়েছে। জাপানে আত্নহত্যার ট্রেনিং করানো হয়। আরো জানলে অবাক হবেন জাপানে একজন মানুষ মারা গেলে তার ফিউনারেল সোজা বাংলায় দাফন কার্য সম্পন্ন করতে খরচ হয় ২৫ হাজার ডলার, যা প্রায় বাংলাদেশী টাকায় ২৫ লাখের বেশি ।
জাপানি ঘটকালি ,জাপানি প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে অধ্যায় বেশ ইন্টারেষ্টিং লেগেছে (এস এ সিঙ্গেল:p)। কিছু গল্প পড়ে যেমন হেসেছি তেমনি কিছু অধ্যায় পড়ে মন খারাপ হয়েছে , বিশেষ করে 'ভাইয়ের আদরের ছোটবোন' অধ্যায় পরে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছি। প্ৰতিটি অধ্যায়েই কিছু টুইস্ট রয়েছে। বইয়ের প্ৰতিটি অধ্যায় পড়ে এরকম অজানা কিছু জানতে পারবেন।
লেখকের লেখার ভাষা একদম ঝরঝরে আর সহজবোধ্য । বইটি ছোট থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ পড়তে পারবেন।
ছোটবেলা থেকে শুধু সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন থেকে জেনে এসেছি সূর্যোদয়ের দেশ জাপান , এছাড়া জাপান সম্পর্কে কিছু জানতাম না কিন্তু সবসময় একটা কিউরিসিটি কাজ করতো জাপান দেশ নিয়ে। জাপান কাহিনী পড়ে মনে হচ্ছে জাপানের সবকিছু খুব কাছ থেকে দেশে আসলাম।
জাপান কাহিনী বইটির সাথে পরিচিত বেশ কয়েক বছর আগে, ২০১৮ সালের দিকে। পড়ার খুব ইচ্ছে ছিল। এবার লাইব্রেরি তে গিয়ে দেখতে পেয়েই দুই খন্ড নিয়ে আসলাম। এপর্যন্ত নয়টি খন্ড বেরিয়েছে। বাকিগুলো খুব তাড়াতাড়ি সংগ্রহ করবো।
জাপান কাহিনি পড়ুন , জাপান থেকে ঘুরে আসুন।
জাপান দেশটির নাম শুনলে সর্বপ্রথম কোন কথাটি আপনার মাথায় আসে ??
হ্যাপি রিডিং 📖🇯🇵🌸