গুপ্তযুগে সম্পাদিত পাঠ ছাড়াও ‘মহাভারত'-এর অজস্র পাঠ রয়েছে ভারতের নানা ভাষায়, নানা জনগোষ্ঠীর মধ্যে। প্রতিটি রচনাতেই সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে মূল রচনাকে স্থানিক এবং সমকালীন করে নেওয়ার প্রবণতা আছে। সেই ধারাস্রোতে নতুনতম সংযোজন এই 'মহাভারত'। কিন্তু কোনো অলৌকিকত্বের বিভায় এ লেখা উদ্ভাসিত নয়, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লিখিত এই ‘মহাভারত’ সামগ্রিকভাবেই কুরু-পাণ্ডবের কাহিনিকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছে গণভারতের মহাদর্পণ। দীর্ঘ ও বিপুল গবেষণার মধ্যে দিয়ে এ গ্রন্থে উঠে এসেছে এক দীর্ঘকালের ইতিহাস কাহিনিচ্ছলে। ভারত ইতিহাসের এক নতুন পাঠ এই মহাভারত।
Born in 70's of the last century, Suddhasatya Ghosh grew up initially in mufussil area. Later he came to Kolkata along with his family. He was into theatre and film from his very student life. Paralelly he ventured into nurturing his literary skills. Higher Education was in Drama and Mass communication. Journalism career started in Doordarshan. Later he had worked in Etv and Akash Bangla. Along with literary art, he is into theatre and film. He is also into part-time teaching in various institutions on theatre, film, photography. He has also been a theatre director, actor in numerous places.
He is a regular literary contributor to little magazines, web-magazines along with daily and periodical mainstream magazines. He has numerous novel, drama, essay, story, poem in his contribution. his published works are Mahabharata (seven parts published yet), Bhishon Gopone Benche Achi (compilation of poems), Gangahridi (first par), Rangamancha, Ghrinar Sheemante, Pirate Pirate (novel)
কুন্তী ও পান্ডবদের যতুগৃহ ঘটনার পর বন জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে দিন কাটানো ও দ্বারকায় কৃষ্ণ ও বলরামের নেতৃত্বে যাদবদের জন্য নতুন নগরী বা রাজধানী নির্মাণ কাজ। আবার পাঞ্চাল রাজ্যে দ্রৌপদীর স্বয়ংবর নিয়ে দ্রুপদের উদ্যোগ এই ঘটনাবলী নিয়ে তৃতীয় খন্ড শুরু হয়।
এই ঘটনাক্রমগুলি মোটের উপর জানা থাকলেও রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক দিক থেকে বেশ কিছু ঘটনার ব্যাখা এই খন্ডে পেলাম। যেমন ভীম ও হিড়িম্বার মধ্যে সম্পর্ক ও পরে বিবাহ এই অংশটি আগে জানা থাকলেও এতোটা ডিটেলে পড়িনি।এই বিবাহের মাধ্যমে একটি রাজপরিবার ও রাক্ষস সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের একটি রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল সেটার যুক্তিপূর্ণ বিবরণ লেখক দিয়েছেন। কৃষ্ণের সকল বহুবিবাহ (রুক্মিনী বাদে) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনীতির অংশ সেটাও বোঝা গেল। ব্যাস ও বিদুরের মধ্যে কুরু পান্ডবদের নিয়ে কথোপকোথন অধ্যায়টি পড়তে ভালো লেগেছে। তৎকালীন সময়ের বানিজ্য ,অর্থনীতি,গুপ্তচরবৃত্তি সম্পর্কেও জানা গেল।দেব,অসুর,রাক্ষস এবং মানব এদের আলাদা আলাদা সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যেকার সংঘাতের যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত বর্ননা পড়লাম।
সাধুসম্মেলনে বেদ বিভাজন, ব্রক্ষ্মবাদ, অবতার কে কেন্দ্র করে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন এর সাথে অন্যান্য সাধুদের তর্ক বিতর্ক ও আলোচনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে।এছাড়া তৎকালীন নাট্য সংস্কৃতি সম্পর্কেও ধারনা দিয়েছেন লেখক ।এই অংশের লেখাগুলি যতটা সম্ভব সহজ ভাবেই চলিত ভাষায় লেখা হয়েছে। তবে এই বিষয়গুলি কিছুটা জটিল ,আগে এই বিষয় নিয়ে সেভাবে কিছু পড়িনি তাই পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি তবুও মনে হয়েছে এই বিশেষ অংশগুলি মহাভারতের এই অলৌকিক বর্জিত ইতিহাস আশ্রিত বিনির্মাণকে সমৃদ্ধ করছে। যদিও এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হতেই পারে। তবুও একজন পাঠক হিসেবে আমি বলবো এই ধরনের কাজ চালিয়ে যাওয়া দরকার মূল বিষয় টাকে অক্ষুন্ন রেখে।দেখা যাক পরবর্তী খন্ড পড়তে কেমন লাগে।