বাংলায় মহাভারতের অনুবাদ আছে, ভাবানুবাদ আছে, টীকা-টিপ্পনি আছে, মহাভারত নির্ভর নানা উপন্যাস ও কাব্যমালা রয়েছে, তৎসত্ত্বেও এই নবীন ‘মহাভারত’-এর আয়োজন কেন? অদ্যাবধি প্রকাশিত তিনটি খণ্ডের পাঠকেরা জানেন তার উত্তর। শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ রচিত এই ‘মহাভারত’ অলৌকিকের হাতছানি এড়িয়ে বিগত ভারতবর্ষের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক এক লোকায়ত চলচ্ছবি রচনা করে চলেছে যা অনেকাংশেই নবীন। কবি সঞ্জয়, কবীন্দ্র পরমেশ্বর, কাশীরাম দাসাদির পরম্পরায় ‘মহাভারত’-এর এ এক যুগোপযোগী পুনঃনির্মাণ। এ ‘মহাভারত’ পূর্বতন যাবতীয় ‘মহাভারত’-এর সীমানা ছাড়িয়ে কাহিনি, চরিত্র, দর্শন, বিজ্ঞান এবং ইতিহাসগত অনুপুঙ্খতায় এগিয়ে চলেছে অভাবনীয়র দিকে। বিপুল বিস্তৃত এ কাজের সমাপ্তিও ঘটবে অভূতপূর্বতায়।
Born in 70's of the last century, Suddhasatya Ghosh grew up initially in mufussil area. Later he came to Kolkata along with his family. He was into theatre and film from his very student life. Paralelly he ventured into nurturing his literary skills. Higher Education was in Drama and Mass communication. Journalism career started in Doordarshan. Later he had worked in Etv and Akash Bangla. Along with literary art, he is into theatre and film. He is also into part-time teaching in various institutions on theatre, film, photography. He has also been a theatre director, actor in numerous places.
He is a regular literary contributor to little magazines, web-magazines along with daily and periodical mainstream magazines. He has numerous novel, drama, essay, story, poem in his contribution. his published works are Mahabharata (seven parts published yet), Bhishon Gopone Benche Achi (compilation of poems), Gangahridi (first par), Rangamancha, Ghrinar Sheemante, Pirate Pirate (novel)
"যা নেই ভারতে, তা নেই ভারতে, বলে গেছে ভারতে।" ছোটোবেলায় শোনা এই ধাঁধায় তিন 'ভারত' দিয়ে যথাক্রমে মহাভারত, ভারতবর্ষ, এবং ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর-কে বোঝানো হত। কথাটার সত্যাসত্য নিরূপণের ভার পণ্ডিতদের হাতেই থাক। আদতে আমাদের মতো পাঠক মহাভারত থেকে কী খোঁজে? মহাভারতের অজস্র পাঠ, অজস্রতর ব্যাখ্যা, অগণন চরিত্র, নীতি, ঘটনা, এসবের মধ্যে সে কী পায়?
দেশের ইতিহাস? বর্ণাশ্রমপ্রথার নিগড়ে বন্দি হতে থাকা কৌম জীবনের সঙ্গে ক্ষমতা ও আনুগত্যের মোহে আচ্ছন্ন ব্যক্তিসত্তার সংঘাত? কীভাবে ষড়রিপুর বীজ জন্ম দেয় রক্ত ও অশ্রুর ফলবাহী বিষবৃক্ষ? না। অন্তত আমি তা খুঁজি না। আমি খুঁজি কাহিনি। সেই কাহিনির আকাশেই কখনও আসে নীল চাদরে সাদা তুলোটে নকশা, কখনও ঈশানী রক্তিমাভা, আবার কখনও দিগন্তবিস্তারী বিদ্যুদ্বাহী জীমূত। প্রসিদ্ধ গল্পকার শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ সম্পূর্ণ তাঁর মতো করে যে 'মহাভারত' লিখেছেন, তাতে আজন্মলালিত সেই গল্পের কাঠামোটির বিনির্মাণ ঘটেছে সযত্নে। তার যাবতীয় অলৌকিক ও অতিলৌকিক ঘটনা লুপ্ত হয়েছে। লুপ্ত হয়েছে সাদা ও কালোর সহজ, 'শাস্ত্রানুমোদিত' বিভাজনটিও। পরিবর্তে এই রচনায় চালকের ভূমিকা নিয়েছে মাত্র একটিই জিনিস। ক্ষমতা! মানুষের ওপর ক্ষমতা। জাতির ওপর ক্ষমতা। সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, এমনকি শুভাশুভ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। কিন্তু অভিপ্রায় যাই হোক না কেন, ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে ভিত্তি করে মহাকাব্য রচনার চক্রব্যূহে প্রবিষ্ট লেখক কি শেষ অবধি তার থেকে বেরিয়ে এসে আসল কাজটা করতে পেরেছেন? তিনি কি গল্পটা, নিজের মতো করেই, বলতে পেরেছেন?
নাহ্! আমার মতে, তিনি পারেননি। অত্যধিক ব্যাখ্যা, নিস্তরঙ্গ সংলাপ, এবং একমাত্রিক চরিত্রের ভারে ন্যুব্জ এই রচনা আমাকে গল্পের টানে শেষ অবধি ছোটাতে পারেনি। যা পেরেছে সৌরভ মুখোপাধ্যায়-এর "প্রথম প্রবাহ"। থ্রিলারের নির্মেদ ন্যারেটিভে, অসামান্য চরিত্রচিত্রণে, ঘাত-প্রতিঘাতের স্ফুলিঙ্গদীপ্ত সংলাপে ওই লেখাটি আমাকে যেভাবে স্তব্ধবাক করে দিয়েছিল, যেভাবে সম্পূর্ণ নতুন করে আদিপর্বকে ভাবিয়েছিল, তা আমি এখানে পাইনি।
তাই এত কথা, এত ব্যাখ্যার পর এই খণ্ডের শেষে কৃষ্ণ যখন বাসুদেব হলেন, তখন আমিও ভাবিত হলাম। পরের খণ্ডগুলো কি পড়ব? পড়ব, কারণ গল্প ছাড়াও, সহজ গদ্যে লেখা নানা মহাভারতের মালায় গাঁথা এই নব মহাকাব্যের একটা আলাদা তাৎপর্য আছে। সেটা বোঝার জন্যই আমি এর 'শেষ দেখে ছাড়ব'!
মহাভারত নিয়ে লেখালেখি প্রচুর হয়েছে এবং হচ্ছে। মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে লেখা গল্প, উপন্যাস কিছু পড়েছি।পড়ে ভালোই লেগেছে। পুরাণ নিয়ে এই ধরনের বিনির্মাণ প্রয়োজন আছে বলেই মনে হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনা ও চরিত্র সম্পর্কে মূল্যায়ন করা যায়।
শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষের এই মহাভারতে অলৌকিক বিষয় বলতে গেলে নেই। চলিত ভাষায় লেখা এই মহাভারতে মূল বিষয় ছাড়াও প্রাধান্য পেয়েছে আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক প্রেক্ষাপট। তৎকালীন সময়ের সাধারণ মানুষ,সাধু ,ঋষি ও রাজপরিবারের জীবন যাপনের কথা,পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও ইতিহাস, বিভিন্ন রাজ্য ও প্রদেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যর বিস্তার কিভাবে এই সমস্ত বিষয়গুলি একে অপরের সাথে জুড়ে ছিল সেই সব সহজ গল্পের মতো করে লেখক লিখেছেন।।এছাড়াও দেব ,অসুর ,বেদের ইতিহাস ও বেশ কিছু ঘটনার বাস্তবসম্মত ব্যাখা করেছেন মূল বিষয়বস্তু কম বেশী জানা থাকলেও এই লেখাগুলি পড়তে ভালোই লেগেছে। নিঃসন্দেহে সাবলীল ও সরল লেখনী। একেবারেই একঘেয়ে নয় বরং পড়ে নতুন ভাবে ভাবতে পারছি।যৌনতা নিয়ে এতো খোলামেলা সোজাসাপ্টা লেখা পড়ে প্রথমে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও পরে ভেবে দেখলাম যে এই ধরনের ঘটনাগুলির উপরেও দেবত্ব ,অলৌকিকত্ব , প্রদান ও অভিশাপ দিয়ে চাপানো ছিল।তবে এই বিষয় গুলি নিয়ে তর্ক আলোচনা হতেই পারে। তার ফলে আমরা আরোও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত হতে পারবো বলেই মনে হয়।
যদিও এটা প্রথম খন্ডের পাঠ অভিজ্ঞতা।এখনও আমার অনেক পথ চলা বাকি। পরের ঘটনাবলী আরও জটিল হতে থাকবে।আশা করছি পরবর্তী খন্ড গুলি পড়তে ভালোই লাগবে।
বই এর প্রচ্ছদ প্রোডাকশন ভালোই। ফন্ট সাইজ সামান্য একটু বড় হলে ভালো হতো। বানান ভুল চোখে পড়েনি তবে ১০১ পাতায় বৃহস্পতি কে অসুর গুরু বলা হয়েছে। আমার মনে হয় বৃহস্পতি দেব গুরু ছিলেন। যদিও আমার কাছে পুরোনো সংস্করণ রয়েছে। নতুন সংস্করণে আশা করবো এটা ঠিক করে নেওয়া হয়েছে।