আফসার আমেদ (১৯৫৯) পনের-যােল বছর ধরে গল্প-উপন্যাসে তাঁর পাঠকদের নিয়ে চলেছেন নিত্যনতুন কাহিনীর অন্দরে। তাঁর কথা বলার স্বর প্রত্যেক লেখাতেই বদলে বদলে যায়। চেনাজানা ঘরসংসার তার স্বরে রূপকথায় অচেনা হয়ে ওঠে আর রূপকথা। হয়ে ওঠে ধরা-ছোঁয়ার এক আটপৌরে সংসার। তাঁর এই নতুনতম উপন্যাস ‘অলৌকিক দিনরাত’-এ গাঁয়ের এক হারানাে মানুষ ফিরে আসে অত সব প্রশ্ন নিয়ে। শবনমের স্বামীবিরহের দুঃখ ঘােচাতে সারাটা গাঁয়ের মানুষ আর আকাশবাতাস যেন ছটফট করে। ফলে, পরে যা ঘটবে, এই গাঁয়ে আগেই সে ঘটনা লােকের মুখের কথায় কথায় গল্প। হয়ে যায়। ফিরে আসার পরও তালিব আর শবনম বুঝে উঠতে পারে না, তারা দুজন দুজনকে ফিরে পেয়েছে কী পায়নি। সেটা বুঝে ওঠার আগেই তালিবকে আরাে একটা মুক্ত খুঁজতে বেরতে হয়।
আফসার আমেদের জন্ম হাওড়া জেলার কড়িয়া গ্রামে। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রথমদিকে আফসার মূলত কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করলেও পরবর্তীকালে গদ্যরচনা শুরু করেন। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘ঘর গেরস্তি’। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ‘প্রতিক্ষণ’ শিরোনামের একটি সাহিত্য সাময়িকীতে কয়েক বছর কাজ করেছেন। এছাড়া কাজ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে।
আফসার আমেদ রচিত বই ‘বিবির মিথ্যা তালাক ও তালাকের বিবি এবং হলুদ পাখির কিসসা’ আসামের বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। মৃণাল সেন পরিচালিত ‘আমার ভুবন’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল তাঁর ‘ধানজ্যোৎস্না’ উপন্যাস অবলম্বনে। ‘রাত কটা হলো?’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল তাঁর ‘হত্যার প্রমোদ জানি’ শিরোনামের উপন্যাস অবলম্বনে।
আফসার আমেদ অন্যান্য ভাষার বইও বাংলায় অনুবাদ করেছেন। উর্দু উপন্যাস ‘দো গজ জমিন’ বাংলায় ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ শিরোনামে অনুবাদ করেন। এছাড়া হরি মোতোয়ানি রচিত সিন্ধি ভাষার একটি গ্রন্থ ‘আশ্রয়’ শিরোনামে বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
১৯৯৮ সালে আফসার আমেদ সোমেন চন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। ‘দো গজ জমিন’ অনুবাদের জন্য বঙ্গানুবাদ শাখায় ২০০০ সালে পান সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন বঙ্কিম পুরস্কার। আর ২০১৭ সালে ‘সেই নিখোঁজ মানুষটা’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
গল্পের কেন্দ্রে আছে স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, একজনের স্বপ্নে সেখানে অবাধে ঢুকে পড়ে আরেকজন,গণস্বপ্ন বা গণবিভ্রম অলৌকিক এক পরিমণ্ডলের সৃষ্টি করে গ্রামে।গল্পের মতো বইয়ের ভাষাও তৈরি করে কুহক, আবেশ ও বিভ্রান্তি। গল্পের ভেতর গল্প, স্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন ঢুকে যায় অগোচরে। শেষ অংশ নিয়ে একটু আক্ষেপ থেকে যাবে কিন্তু বইয়ের শিরোনামের মতো গল্পটাও অলৌকিক; আক্ষরিক ও রূপক দু'ভাবেই। আফসার আমেদ সহজ ও ছোট ছোট বাক্যে অনায়াসে ঘোর লাগিয়ে দিতে পারেন।
আফসার আমেদের লেখা আগে পড়া হয়নি। রিভিউ না থাকায় এই বইটা নিয়ে এতটাও আশা করিনি। কিন্তু পড়তে গিয়ে তব্দা খেয়ে গেলাম। কি দারুণ লেখা, অদ্ভুত সব ঘটনা। মোহগ্রস্ত হয়ে গোগ্রাসে গিলেছি। সময় নিয়ে পরে বিস্তারিত লিখব।
ভুলে যাও শবনম, দাগগুলো মুছে ফেলো সংকট স্বীকার করে নাও। দেখো, নেই বলে কিছু নেই, একবার চেয়ে দেখো সবকিছু এখানেই ভুলে যাও শবনম।
সহজিয়া ব্যান্ডের গাওয়া বাংলা এই গানটার মতন করে শবনম এর মন খারাপ দিয়ে শুরু আফসার আমেদের লেখা বই অলৌকিক দিনরাত। শবনম যার মন খারাপ বলে সে চোখে কাজল দেয়না। যাকে হাসাতে নুপুর গ্রামের মানুষ বদ্ধপরিকর। কিন্তু হাসতে তো শবনমের বাধা নেই। অন্যের সদ্যজাত শিশু কোলে নিয়ে শবনম হেসে ফেলে, হেসে ফেলে ঝড়ো বর্ষায় কুড়ানো সাদা শিলা দেখে। তার তো হাসতে মানা নেই। মন খারাপ থাকলেও হাসা যায় কিন্তু চোখে কাজল দেয়া যায়না৷ শবনমের চোখের কাজল হারিয়ে গেছে তার নিরুদ্দেশ স্বামী তালিবের সাথে। কোনো এক দুপুরে কাজলহারা শবনম আবার ফিরে পায় তার স্বামী কে। তালিব ফিরে আসে ঝোলা ভর্তি আঠাশ টা অলৌকিক ধাঁধাময় জাদু নিয়ে। যেই জাদুর তোড়ে দুয়ার বন্ধ হয় শিক্ষিত মানুষের আর তালিব বনে যায় নুপুর গ্রামের অলৌকিক নায়ক। সামান্য কেলাশ থ্রি পাশ তালিবের কাছে পর্যুদস্ত হয় নুপুর গ্রামের ডাবল মাস্টার্স করা হেডমাস্টার, বিএসসি স্যার ও পঞ্চায়েত প্রধান। লজ্জা, ভয় ও সংশয় তাদের দ্বারে খিল এটে দেয়। মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে শিক্ষিত মানুষের অধিকল্প। সমাজের উচ্চ আসনে আসীন হয় স্বপ্নকর্তা খালেদ । যার ঝুলিতে থাকে স্বপ্নের ব্যখ্যা। স্বপ্নের কথন ও গীতিমালার বুনন জালে ধরা পড়তে থাকে নুপুর গ্রামের সবাই। স্বপ্ন বাসর নেমে আসে রোজ সন্ধ্যেয়, ছড়ানো সাদা ভাতের মতন নক্ষত্রখচিত আকাশের নিচে। মানুষ স্বপ্নে বাঁচতে শুরু করে। তাদের স্বপ্ন ও অলৌকিকতার নায়ক তালিব কে ঘিরে শুরু হয় স্বপ্নের এই মহামারি। যার ভালোবাসা গোগ্রাসে গিলে ফেলে গোটা গ্রাম টাকে। যে স্বপ্নে তালিব দাঁড়িয়ে থাকে খরায় প্লাবিত নুপুর গ্রামের কোনো এক ডোবার পাশে। তার সাথে কথা বলতে আসে দুগ্ধবতী গাই ও তার বাছুর। মানুষের ভাষায় কথা বলে তারা। হঠাৎ তালিবের গায়ের পশম বদলে যায়। সেখানে সবুজ পাতা গজায়। গাছ হয়ে যায় তালিব। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। পানিতে ফসল ডুবে গেলে, খাল-বিলের সকল পানি উড়িয়ে ফের মেঘ করে দেয় তালিব। তাই বলে কি নুপুর গ্রামে কোনো সমস্যা নেই? আছে বৈকি। জয়গুন বুড়ির স্বপ্নে পরপুরুষ লোকমান ঢুকে যায় যখন তখন। এ যে অনাচ্ছিষ্টি কান্ড! গ্রামে শালিস বসে নালিশ বসে কিন্তু কিছুতেই জয়গুনের স্বপ্নে ঢোকা থেকে বিরত রাখা যায়না লোকমান ঘরামি কে।
আবার জয়েদ বুড়োর সদ্য গরম বেড়ে দেয়া ভাত কুলোর বাতাসে উড়ে গিয়ে অন্নাভাবগ্রস্ত তালিবের প্লেটে গিয়ে পড়ে। যে ভাত তুলোর মত নরম আবার অল্পে পেট ও ভরে। প্লেটের পাশে পড়ে থাকা তিনটা ভাত তুলে নেয় শবনম, ভাগ দেয় কোকিল কে। তালিবের ঘাম থেকে মুক্তা কুড়ানো সেই কোকিল। আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসা। সেদিন নরম আকাশের সন্ধ্যের নিচে নবাগত পৌষের শীতের মতন সবাইকে জাপটে ধরে ভালোবাসা। বুড়ো জয়েদের বুকে মুখ গুজে লুকায় বুড়ি জয়গুন। খোলা জানালা দিয়ে তারা দেখতে দেখতে বিয়ের এতবছর পর প্রথমবার ভালোবাসা পাবার আবদার করে বসে জয়গুন। কারণ বাতাসে যে সেদিন ভাতের গন্ধ।
ঠিক ঠাহর করা যায়না ভালোবাসা থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হয় নুপুর গ্রামে নাকি সমস্যার থেকে ভালোবাসার! ঠাহর করা যায়না গ্রামের সবথেকে উচ্চশিক্ষিত ও জ্ঞানী লোকেরা কেন কেলাশ থ্রি পাশ তালিবের ধাঁধার উত্তর জানেনা! ঠিক কেনই বা পেটের চাঁদ লুকানো যায়না কিন্তু মনের গোপনে লুকানো চাঁদের কথা কেউ জানেনা। ঠাহর করা যায়না - বুড়ি জয়গুনের স্বপ্নে কেন লোকমান ঘরামির আনাগোনা !!!
ম্যাজিক রিয়েলিজম দারুণ ভাবে ছুঁয়েছে লেখকের কল্পনার এই নুপুর গ্রামকে । স্বপ্নপ্রিয় মানুষের জন্য প্রিয় এক খোরাকি ।
আফসার আমেদ শব্দ দিয়ে, ঘটনা দিয়ে ঘোর লাগাতে চেয়েছেন এই বইয়ের পাঠকদের মাঝে। সমাপ্তিটা নিয়ে একটু আশাহত। তবে সর্বোপরি উপভোগ্য বৈচিত্র্যময় এই উপন্যাসিকা।
২০২৫ রিভিউ বিষয়: বই রিভিউ: ৪৫ বই: অলৌকিক দিনরাত লেখক: আফসার আমেদ প্রকাশনী: দে'জ পাবলিশিং প্রচ্ছদ: শ্যামল জানা জনরা: জাদুবাস্তবতা/পরাবাস্তবতা
আচ্ছা আপনি স্বপ্ন দেখেন? স্বপ্ন সত্যি হয়? সে স্বপ্নের ব্যখ্যা পান? আমি পাই, আমার অনেক স্বপ্ন অনেকাংশে মিলে গেছে।
“No person has the right to rain on your dreams.” ― Martin Luther King Jr.
কারো স্বপ্নে আপনার ঢোকার অধিকার আছে? অজ্ঞানে? বা সজ্ঞানে? কিংবা কেউ যখন স্বপ্নে বিভোর তখন,তার ঘরের চাল ছাইতে ছাইতে তার স্বপ্নে টুপ করে ঢুকে, সে স্বপ্ন দেখে ফেলেছেন? দেখেছিল একজন। লোকমান ঘরামি। জয়গুন বুড়ির স্বপ্নে ঢুকে দেখেছিল, তার স্বামী, বৃদ্ধ জয়েদ। সে শিশু হয়ে কুলোয় পড়ে হাত পা ছুঁড়ে কাঁদল।
ঘর ছাইতে ছাইতে লোকমান জেনে যায় সবার ঘরের কথা, পরের কথা। মুখ বন্ধ রাখতে তাই দু এক পয়সা বখশিশ বাগিয়ে নেয়। কিন্তু নিজের ঘরের খবর? নিজের স্ত্রীর স্বপ্নে সে ঘরের চাল ফুড়ে তাল গাছ- সুপারি গাছ পেরিয়ে চলে যায় জয়গুনের স্বপ্নে। এদিকে নিজের স্ত্রী তাকে খুঁজে মরে।
শবনব, গ্রামের এমন এক বউ, যার জন্য সারা পাড়া শোকাতুর। তার স্বামী আজ বছর দুয়েক নিরুদ্দেশ। কেউ বলে কলকাতা, কিন্তু নুপুর গাঁয়ের এত লোক কলকাতায় আসে যায় কেউ তো তাকে দেখে নি।দেখেছিল একজন,খালেদ। সে স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখায়, ব্যখ্যাও দেয়। সে জানায় আজ তালিব কোথায় আছে, ভালো না মন্দ। শবনমের তাতেই বোধ করি শান্তি মেলে, তবু সে চোখে কাজল আঁকে না, নতুন শাড়ি জড়ায় না। গাঁয়ের লোকেদের তার মুখের হাসি দেখবার জন্য কত চেষ্টা। গাঁয়ের বঁধুরা সন্ধ্যাতারা দেখবার জন্য হাতের কাজ সারে যত দ্রুত, তত ব্যাকুল কী করলে শবনম হাসবে। শবনম খুব পয়মন্ত, শবনম কে স্বপ্নে দেখলেও যেন ঘরে কল্যাণ হয়।
একদিন তালিব ফিরে আসে, অদ্ভুত আঠাশ খানা প্রশ্ন নিয়ে ফিরে আসে, সে প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নাই, তাই তো হেড মাস্টার বলেন আর পঞ্চায়েত বলেন, খিল এটে লুডো খেলায় মেতেছে। এত বড় জ্ঞানী মানুষ তাও এ আঠাশ খানা প্রশ্নের উত্তর জানে না। তালিব ফিরে এলে, গাঁয়ের মেয়েরা পান সেজে দেয়, কাজল এঁকে দেয় শবনমের চোখে। তালিব এসেছে, মেঘ এসে তাকে ছায়া দেয়, দুধেল গাঁই তার সাথে কথা বলে, শবনমের চোখের জল ইংবা তালিবের ঘামের ফোঁটা যেন মুক্তো হয়ে ঝরে, আর সেই মুক্তো বেঁধে দেয় সে শালিকের গলায়। কুলো দিয়ে বাতাস করে জয়গুন, জায়েদের ভাতের থালার সে ভাত গিয়ে পড়ে তালিবের থালায়, ৩ টে দানা পড়ে থাকে। সে তিন দানাতে পেট পুরে শবনম আর এক শালিকের।
গ্রামের সবাই তালিব না হয় লোকমান কিংবা জয়গুনের উঠোনে বসে স্বপ্ন পাহারা দেয়। যেন লোকমান এসে জয়গুনের স্বপ্নে হানা না দেয়, যেন নিশ্চিন্তে জয়গুন স্বপ্ন দেখে।
এ গ্রামে শুধুই স্বপ্ন? না? এই সেদিন অভাবে কেউ নিজেকে শেষ করল, এই সেদিন কে গাঁ ছেড়ে গেল। প্রত্যেক নারীর অভিযোগ তাদের স্বামীর সাথে তাদের দূরত্ব বেড়েছে। ভালোবাসার তৃষ্ণা নিয়ে বেঁচে আছে, পুরুষের অভিযোগ ও বাড়ির ওড়া ছাই এসে তার সুন্দর স্ত্রীর গায়ের রং দিন কে দিন কালচে করে দিয়েছে। তবুও কোন নিশুতি রাতে ফিরে আসে তাদের ভালোবাসা, বাস্তব স্বপ্ন মিলিয়ে বাঁচে তারা। কিন্তু সবার মুখের গল্প গিয়ে শেষ হয় তালিবের কাছে। আকাশে চাঁদ ওঠে, স্বপ্ন গল্প হয়, গল্প আবার স্বপ্ন হয়ে ধরা দেয়। গল্প করতে করতে নুপুর গ্রামের লোকে স্বপ্নের দেশে ভাসে আবার সেই স্বপ্নের গল্প করতে থাকে।
কী অদ্ভুত এক গল্প, পুরো গল্প যেন একদম স্বপ্ন আবার একদম বাস্তব। নারী চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েন, প্রেম, কামনা -বাসনাকে লেখক গভীরভাবে কিংবা সুক্ষ্ণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। লেখকের ভাষা সহজ, মনে হচ্ছিল, আমাদের অঞ্চলের আঞ্চলিকতার টান। কিন্তুপ্রতিটি বাক্যে, প্রতিটি বর্ণনায় রয়েছে এক গভীরতা ও আবেশে ছেয়ে রেখেছেন পাঠককে। স্বপ্নে না গল্পের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে। বইটা নিয়ে আসলে বিস্তারিত অনেক লেখার যেমন আছে, আবার নেই ও। এখন ও ঘোরে আছি, সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে। বইটার সার কথা আদতে কী জানিনা, তবে বাস্তবতার মাঝেও স্বপ্ন গল্প মিশে থাকে। স্বপ্ন দেখি, গল্প হয়, বাস্তব রূঢ় জীবনকে আবডালে রেখে ভালো থাকার প্রয়াস করে চলি।