Jump to ratings and reviews
Rate this book

ফোর্থ সেঞ্চুরি #২

এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি

Rate this book
প্রায় ষোলশ বছর পূর্বে, স্পার্টায় বাস করত মিসরীয় বংশোদ্ভূত অনিন্দ্য সুন্দরী তরুণী অ্যালেক্সান্দ্রা, যে বয়ে বেড়াচ্ছিল দেবতা প্রমিথিউসের অভিশাপ। অ্যালেক্সান্দ্রা যখন মায়ের গর্ভে তখন এক পুরোহিত তার মাকে সতর্ক করে বলেছিল, পূর্ণিমা রাত তার অনাগত সন্তানের জন্য অশুভ। এ রাতে যেন তাকে দুগ্ধস্নান করানো হয় এবং বাইরে বেরুতে না দেয়া হয়। ষোল বছর অন্যথা হয়নি এ নিয়মের। যদিও একটা সময় ভাগ্য অ্যালেক্সান্দ্রাকে নিয়ে যায় এক নির্জন দ্বীপে। যে দ্বীপে সে একা নয়, আটকা পড়েছিল আরও পনের – ষোল জন স্পার্টান। যাদের মধ্যে রয়েছে এক ভাগ্যবিড়ম্বিত যুবক ফিদেল। মেয়েজামাতা রূপে তাকে পছন্দ করেছিল অ্যালেক্সান্দ্রার বাবা।

গ্রীস হতে রোমে ফেরার পথে এক রাজজাহাজ তাদের দেখে উদ্ধারে এগিয়ে আসে, যে জাহাজে ছিল স্বয়ং রোমান যুবরাজ। যার বাগদত্তাকে রোমের হিতার্থে বিসর্জন দিতে চায় প্যাগান পুরোহিতরা। বাধা হয়ে দাঁড়ায় যুবরাজ। পুরো রোম জনতা চলে যায় তার বিপক্ষে। বিপক্ষে চলে যায় সিনেট, এমনকি সর্বদা ছায়াতুল্য পিতাও। বাধ্য হয়ে নিজ সৈন্যদের বিরুদ্ধে তরবারি ওঠাতে হয় তাকে। অথচ যারা কিনা সর্বদা তার নেতৃত্বে যুদ্ধে নেমেছিল। শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্য, সিংহাসন সব ত্যাগ করে বাগদত্তাকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় যুবরাজ। চিহ্নিত হয় সাম্রাজ্যদ্রোহী রূপে। চিরকালের জন্য রুদ্ধ হয়ে যায় রোমে ফেরার পথ। কিন্তু যাকে বাঁচাতে রোম ত্যাগ করতে হয়েছিল আবার তাকে বাঁচাতেই রোমে ফিরে আসতে হয় যুবরাজকে। তারপর...!!!

যুদ্ধ, মিথ, বীরত্ব, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং আত্মত্যাগের এক শ্বাসরুদ্ধকর উপাখ্যান – “এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি”

330 pages, Hardcover

First published February 4, 2018

5 people are currently reading
84 people want to read

About the author

Jimee

6 books136 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
65 (67%)
4 stars
19 (19%)
3 stars
9 (9%)
2 stars
2 (2%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 14 of 14 reviews
Profile Image for আফসানা ইয়াসমিন.
2 reviews3 followers
May 5, 2018
বাংলা সাহিত্যে রোমান প্রেক্ষাপট নিয়ে এরকম কাজ আর হয়েছে কিনা জানা নেই। আমার প্রকাশভঙ্গি ও ভাষার সীমাবদ্ধতার কারণে বোঝাতে পারবোনা বইটা কত ভাল লেগেছে। শুধু এতটুকু বলতে পারি, বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা প্রবর্তনের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই উপন্যাস।
Profile Image for Thanvir R Rahman.
35 reviews4 followers
March 20, 2018
★ ইতিহাস কি সত্যিই বারবার ফিরে ফিরে আসে? এ তবে ফিরে আসা এক ইতিহাসের গল্প। অথবা সাধারণ থেকে অনেক ঊর্ধ্বের, ভালো ও মন্দের মাঝামাঝি এক মানবের দৈবপীড়িত বা নিয়তিলাঞ্ছিত হয়ে ক্রমশ হেরে যাওয়ার গল্প। এবং গল্পটা এক অভিশপ্ত নারীর...। কিন্তু কোনভাবেই নিজেকে বোঝাতে না পেরে বারবার শুধু নিজেকেই প্রশ্ন করছি- এ গল্প কি তবে অন্য এক জাতিস্মরের ?!!!

★ আলেকজান্দ্রা, মায়ের অভাব বুঝতে না দেয়া বাবাই ছিলো তার সব। বাবাও মেয়ের কাছে কাছে থাকতেই গুটিয়ে এনেছিলেন সবকিছু। কিন্তু জীবন গুটিয়ে থাকে না, সেজন্য আবার তাকে বাইরে বের হতে হয়। কিন্তু তাই বলে তিনি মেয়েকে চোখের আড়াল করবেন?! মোটেই না, মেয়েও থাকে তার সংগেই। কিন্তু নিখাদ ভালোবাসাগুলো হয়তো খুব অল্প সময় নিয়ে আসে পৃথিবীতে। তাই আলেকজান্দ্রার কপালে তার বাবার স্নেহ বেশীদিন সয়নি। আর এ সময়েই তার জীবনে প্রকট হয়ে আবির্ভূত হয় প্রচ্ছন্ন হয়ে থাকা ফিদেল, আরেক ভাগ্যবিপর্যস্ত যুবক। কিন্তু তাতেই কি তার জীবন বদলে যায়? না, সে যে বয়ে বেড়াচ্ছে দেবরাজ জিউসের অভিশাপ!
ভাগ্য তাকে নিয়ে যায় রোমান রাজপ্রাসাদে, যেখানে তার সামনে সবটুকু প্রগাঢ় ভালবাসা নিয়ে হাজির হন যুবরাজ ইথান... ইথান অরিটাস। ভালবাসার জন্য তিনি বিসর্জন দেন ক্ষমতা, সম্রাজ্য, মাতৃভূমি! কিন্তু ইথানের এই এক আকাশ ভালবাসা কেনো হঠাৎ ঢেকে যায় ঘৃণার মেঘে?!!! আসলেই?

★ এবারের প্রচ্ছদটা আরো দারুণ লেগেছে, আরো বেশী রাজকীয় একটা অনুভূতি ছিলো। বইটা শেষ করার পর প্রচ্ছদটা আরো বেশী অর্থবহ লেগেছে, যে আগুনে পুড়েছে রোম, পুড়েছে ভালবাসা... প্রচ্ছদে যে সে আগুনটাই আঁকা ছিলো ।।।


♣ বইটা শেষ করে মনে হচ্ছিলো আমি যেন রোমান কলোসিয়ামের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া এক দর্শক। ইথান-আলেকজান্দ্রা ভীষণ ই নিষ্ঠুর ভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছেন গ্যালারি। সেই নিস্তব্ধতার হুংকার ছুটছে চারপাশ বিদীর্ণ করে। আমার নিস্তব্ধতায় সেই নিস্তব্ধতা যেনো ফেটে পড়ছে বুনো উল্লাসে!!!

♣ ফোর্থ সেঞ্চুরি ট্রিলজির ২য় বই এটা। প্রতিটা খন্ডই স্ট্যান্ড অ্যালোন হলেও বইটা নিখুঁতভাবে প্রথম খন্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং পাঠকের মনে যে অসম্পূর্ণতা ছিলো, যে প্রশ্নগুলো মনে নিয়ে পাঠক প্রথম খন্ড শেষ করেছিলেন, সবগুলোই সমাপ্তি পেয়েছে এই খন্ডে।

♣ বইটাতে লেখিকার সবচে বড় মুন্সিয়ানা হচ্ছে সুন্দর ও সাবলীল বর্ণনা আর আপনার সবচে ভাল লাগবে এতো বড় একটা বই আপনি নিমেষেই শেষ করে ফেলবেন। এই বই পড়তে যেয়ে বোরিং নামক শব্দ আপনার মাথায়ই আসবে না।

♣ আমরা প্রায়শই আমাদের প্রিয় জনরার বই পড়তে পছন্দ করি, কিন্তু এই বইটার সবচে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটা হলো একে আপনি কোন সার্বক্ষণিক জনরায় ফেলতে পারবেন না। নিখুঁত একটা ঐতিহাসিক আদলে শুরু হওয়া বইটা ৬৯ পৃষ্ঠায় এসে হঠাৎ ই ভোল পাল্টে হয়ে যায় এক নিটোল শুভ্র প্রেমের গল্প! এভাবে চলতে চলতেই ভোজবাজির মত এটি হয়ে যায় দুর্দান্ত গতিময় এক থ্রিলার!! কিন্তু বইটা শেষ করে আমার ঐ জনরাগুলোর কোনটিতেই তাকে আবদ্ধ করতে ইচ্ছে হলো না। ' এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি'র ' জনরা তাই আমার কাছে এক মিস্ট্রি হয়েই থাকলো।

♣ সত্যিকারের ভালবাসা বলতে আমি যা বুঝি, প্রিন্সেস ভেনাসের ভালবাসাটা আমার কাছে ঠিক তাই মনে হয়েছে। ভেনাস যখন অশ্রু সংবরণ করে বলছিল-
" পার্থিব অপার্থিব সুখ বলতে আপনাকেই বুঝেছি। যেকোন উপায়েই পেতে চেয়েছি আপনায়। তবে ভেতরে পরাজয়ের গ্লানি মেখে বিজয় গৌরব শোভা পায় না। "
আমার মনে হচ্ছিলো- এটাই ভালবাসা। কখনো ফুটবেনা যে অচিন বৃক্ষের ফুল- তাতে জল ঢালাই তো ভালোবাসা। কক্ষনো ফিরে আসবে না জেনেও ফাঁদে আটকা পাখি কে খাঁচা খুলে মুক্ত করে দেয় যে ব্যাধ-- সে-ই তো প্রেমিক, সে-ই তো প্রেমিকা!
প্রিন্সেস ভেনাস, আসলে কাউকে পেতে হলে সত্যিকারের ভালবাসার পাশাপাশি সত্যিকারের ভাগ্যও প্রয়োজন। আপনার ভালবাসার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থাকবে। আপনি আমার ভালবাসা জানবেন প্রিন্সেস...

♦ লেখিকা তার প্রত্যেকটি বইয়ে বইয়ের সম্পূর্ণ গল্পটা একটা আট লাইনের নকশায় একে দেন। দুটো বইয়ের নকশাই কাব্যগুণে, সৌন্দর্যে, বানানে-ব্যাকরণে ছিলো অসাধারণ। তবে আমার কাছে প্রথম বইটারটা অনবদ্য ও অতুলনীয় লেগেছিলো।

♦ এই বইয়ের বাইন্ডিংটা আগের বইয়ের বাইন্ডিয়ের চেয়ে নিম্নমানের লেগেছে। বইটা সম্পূর্ণ খুলে পড়তে সমস্যা হয়েছে, নিচের দিকটা ছিলো বেশী চাপা ও জোড়া লাগেনো।

♦ যদি তুলনা করতে যাই, তবে এলেক্সের যে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলো সেখানে কিছুটা ফিকে লেগেছে আলেকজান্দ্রাকে, লিও এর ভালবাসার তুলনায় ম্রিয়মাণ ছিলো ফিদেল, ইথান মিরিউলাসের অসাধারণ সংলাপগুলোকে মিস করেছি খুব।।।

শেষে শুধু একটা কথাই বলতে চাই-- আপনি রোমান্টিক, মিথলোজি, থ্রিলার কিংবা হিস্টোরিক্যাল ফ্যান্টাসি যাই পছন্দ করেন না কেনো, এই বই আপনার জন্যে মাস্টরিড👍
Profile Image for Mosabbira Alam.
2 reviews1 follower
July 6, 2018
Marvelous!!! A new writing style with a great plot on ancient timeline, a superb way of describing every details. Great Novel!! a great contribution to Bengali literature.
Profile Image for Reaz Uddin Rashed.
43 reviews5 followers
February 26, 2018
এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি -র সিক্যুয়েল। ১৬০০ বছর আগে প্রাচীন রোমান উপনিবেশে গল্পের প্লট বিস্তার লাভ করেছে। রোমান্টিক উপন্যাস আমার কম পড়া হয়, কিন্তু জিমি হাইসনের দুইটি বই-ই ভালো লেগেছে। ছোট ছোট অধ্যায়ে কাহিনী এগিয়েছে, সাথে সমসাময়িক রোমান রাজনীতি, যুদ্ধ এবং রোমান্স সব একই সাথে লেখিকা উপস্থাপন করেছেন। বই এবং লেখিকার নাম শুনে বিদেশী মনে হতে পারে, তবে মজার ব্যপার হল বই দুইটি মৌলিক বাংলা বই এবং লেখিকাও বাঙালি।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
368 reviews37 followers
April 12, 2023
মূলত লেখিকা "এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি" এর কাহিনী যেখানে শেষ করেছেন, তার কয়েক বছর পরের সময় থেকেই শুরু করেছেন "এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি" এর কাহিনী।

বইটা পড়া শুরু করলে প্রথমে মনে হতে পারে এটি আগের বইয়ের কাহিনীর সাথে অনেকটা না পুরাপুরি মিল, কিন্তু দুই পাতা পড়ার পরেই বোঝা যাবে এটি পরিবেশ এবং ভূখন্ডের মিল থাকলেও কাহিনী বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে কোন মিল নাই।

দেবতা পমিথিউসের অভিশাপ বয়ে বেড়ানো রুপে গুনে অতুলনীয় অনিন্দ্যসুন্দরী তরুনী আলেক্সান্দ্রা। তিনি মিশরীয় বংশোদ্ভুত হলেও বাসকরতেন স্পার্টায়। যা ঘটে ১৬০০ বছর পূর্বে। ভাগ্যের বিড়ম্বনায় যিনি জড়িয়ে পড়েন ফিদেল নামের এক দায়িত্বজ্ঞানহীন যুবকের সাথে। যাকে আলেক্সান্দ্রার বাবা জনাব আরিসাম মেয়েজামাতা হিসেবে পছন্দ করেন।

অন্যদিকে গ্রীস থেকে নিজ দেশ রোমে ফেরার পথে যুবরাজ ইথান অরিটাস, সম্রাট বোহেমের যিনি এক মাত্র পুত্র, উদ্ধার করেন আলেক্সান্দ্রা, ফিদেল সহ আরও অনেক কে একটা নির্জন দ্বীপ থেকে। এর পর থেকে আলেক্সান্দ্রার ভাগ্য জড়িয়ে পরে যুবরাজ ইথানের সাথে এবং এর পরিনতি হয় ভয়াবহ।

কাহিনীর পরতে পরতে যুদ্ধ, মিথ ও বীরত্বের প্রকাশ দেখা যায়। আরও আছে প্রেমের কারনে সাম্রাজ্য সিংহাসন আত্মীয় পরিজনকে ত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হওয়া। আছে বিশ্বাসঘাতকা, আছে সন্ধেহের কারনে প্রিয়জন হারিয়ে যাওয়া। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এর কাহিনী। যা নিখুঁত ভাবে লেখিকা কলমের আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আলেক্সান্দ্রা, যুবরাজ ইথান অরিটাস, সম্রাট বোহেম, সম্রাজ্ঞী হেরা, প্রিন্সেস ইসাবেল, জেপিডের যুবরাজ মাহিনাস, মন্ত্রী সেনেক, প্রিন্সেস রোজালিন, ফিরোডাস, সেনাপতি বারমাইজ, আরিসাম, ফিদেল, সানভির। এছাড়াও অনেক ছোট ছোট চরিত্র লেখিকা জীবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, উপন্যাসের কাহিনীকে যারা নানা ভাবে গন্ডোগোল পাকিয়ে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
Profile Image for MD Mijanor Rahman Medul  Medul .
178 reviews44 followers
April 4, 2019
সত্যি অসাধারণ ছিল। এই ঘোর হয়ত এতো সহজে কাটবে না 😍😍
Profile Image for Syeda Banu.
99 reviews53 followers
August 27, 2019
প্রতি পূর্নিমায় দুধ দিয়ে স্নান করতে হয় সুন্দরী অ্যালেক্সান্দ্রার।

এক প্যাগান পুরোহিত ওর মা'কে বলেছিল, অ্যালেক্সান্দ্রার উপর দেবতা প্রমিথিউসের অভিশাপ আছে। পূর্নিমার রাত তার জন্য অশুভ। শাপ কাটাতে এই সমাধান, অন্যথায় অ্যালির জীবনে নেমে আসবে চরম দূর্ভোগ।

যিশুর মৃত্যুর প্রায় চারশো বছর কেটে গেছে তখন। রোম আর স্পার্টায় ছড়িয়ে পড়েছে খ্রিষ্টধর্মের বাণী, কিন্তু ধর্মান্তরিত অনেকেই তাদের পূর্বপুরুষের প্যাগান ধ্যানধারণা এখনো ছাড়তে পারেনি। অ্যালেক্সান্দ্রাও শান্তি খুঁজে পেয়েছে সবসময় বাবার খ্রিষ্টধর্মেই। মা'র প্যাগান রীতিনীতিও মেনে চলেছে।

তাও দুর্ভোগ পিছু ছাড়লো না অ্যালির। ষোলোতে পা দিতেই মা মারা গেলেন। অ্যালির বাবা স্পার্টার ধনবান ব্যবসায়ী সিনর আরিসাম রোমে যাবেন ব্যবসার কাজে, একমাত্র মেয়েকেও সাথে নিলেন। মাতৃহীনা মেয়েকে একা তো রেখে যাওয়া যায় না। রোমগামী জাহাজে ওঠার সময় আরিসামের পকেট থেকে স্বর্ণমুদ্রার থলেটা পড়ে গেল। খেয়ালই করতেন না, যদি না এক অল্পবয়সী যুবক থলেটি ফিরিয়ে দিত। মুহূর্তেই ছেলেটির দিকে মনোযোগী হলেন আরিসাম, নাম তার ফিদেল। এতিম, দরিদ্র কিন্তু অন্তরে লোভ নেই - ছেলেটিকে দেখেই অ্যালির জন্য মনে ধরলো তার।

দেরি করলেন না আরিসাম। প্রস্তাব দিয়ে বসলেন ফিদেলকে। ঘরজামাই থাকার প্রস্তাবে কিছুটা দোনোমোনো করলেও, অনিন্দ্য সুন্দরী অ্যালেক্সান্দ্রাকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্খা ফিরিয়ে দিতে পারলো না ফিদেল। অ্যালিও বাবার মুখ চেয়ে মেনে নিল অপছন্দের এই সম্পর্ক।

কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। রোমে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনায় জাহাজডুবী হলো। আরিসামকে বাঁচাতে পারলো না ফিদেল, অ্যালিকে সঙ্গে নিয়ে অল্প আরো ক'জনের সাথে এক দ্বীপে এসে উঠলো। তাদের উদ্ধার করলো রাজকীয় রোমান জাহাজ। রাজমন্ত্রীর পুত্র সানভীরের অনুগ্রহে ফিদেল অ্যালিকে রেখে গেল রোমান রাজপ্রাসাদে।

রোমের সম্রাট বোহেম অনেকদিন থেকেই চাইছেন বিলগ্রেডের রাজকন্যা ভেনাসের সাথে একমাত্র পুত্র ইথান অরিটাসের বিয়ে দিতে। সুদর্শন ইথানের শৌর্যবীর্য নিয়ে গর্ব করে রোমানরা, যদিও বৃদ্ধরা তার মধ্যে দেখতে পান মৃত রাজা অত্যাচারী ইথান মিরিলাউসের ছায়া। কিন্তু আপন খেয়ালে চলা ইথানকে বিয়ের জন্য রাজি করায় কে! চিরসঙ্গী ও চাচাতো ভাই সানভীরকে তো সে বলেই রেখেছে, প্রায়ই স্বপ্নে হানা দেওয়া মেয়েটিকেই কেবল নিজের করে গ্রহন করবে ইথান।

ইথান তার সেই স্বপ্নের রাজকন্যাকে খুঁজে পেল অ্যালির মধ্যে। অ্যালিও তদ্দিনে ফিরিয়ে দিয়েছে ফিদেলকে, ইথানের তীব্র সর্বগ্রাসী ভালোবাসায় সাড়া দিলো সে-ও। কিন্তু এই প্রেম কি অ্যালির জীবনে প্রমিথিউসেরই অভিশাপ? একদিকে রাজপুত্রের খামখেয়ালের সাথে মিলে না অ্যালির ভালোবাসার সংজ্ঞা, অন্যদিকে অসম এই সম্পর্কের বিরুদ্ধে স্বয়ং সম্রাটও।

রোমের অদূরের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলো সহসা। প্যাগান পুরোহিতরা রায় দিলেন, বলি চাই অগ্নিদেবতা ভালকানের। যুবরাজ যদি তার প্রিয়তমাকে আসছে পূর্নিমার রাতে আগ্নেয়গিরিতে নিক্ষেপ করেন, তবে রক্ষা পাবে রোম! বলির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠলো ভীত রোমবাসী। সম্রাট পক্ষ নিলেন এই নৃশংস দাবির - রোমও বাঁচবে, আপদও বিদেয় হবে!

বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো ইথান! পালালো অ্যালেক্সান্দ্রাকে নিয়ে, সাথে যোগ দিলো সানভীর ও ফিদেল। বিশাল রোম রাজ্যের হবু শাসক প্রেমের জন্য সব ছেড়ে পাড়ি জমালো স্পার্টায়।

কি হবে এই ভালোবাসার পরিণতি? দুর্ভাগ্য কি পিছু ছাড়বে অ্যালেক্সান্দ্রার? রাজ্য ফিরে পাবে নির্বাসিত ইথান? নাকি অসম প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি আর অপরাধ বোধের ভার কুরে কুরে খাবে কতগুলো জীবন?

সমসাময়িক উদীয়মান লেখিকা জিমি হাইসনের উপন্যাস 'এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি'র পটভূমি ছিল ৪৫৩ খ্রিস্টাব্দের প্রাচীন রোম। রোমান সাম্রাজ্যের আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা সুনিপুণতার সাথে। যুদ্ধ, রাজনীতি, মিথ, খ্রিষ্ট আর প্যাগান ধর্মের প্রেক্ষাপট পড়তে ভালো লাগছিল বইটিতে।

তবে রোমান আবহটুকু যদি সরিয়ে নিই, তবে গল্পটির মধ্যে ভালো লাগার মতো খুব বেশি কিছু পাইনি আমি। একজন অত্যাচারী একগুঁয়ে যুবকের সাথে এক হরিণশাবকের মত দূর্বল নারীর সম্পর্ক, ত্রিভুজ প্রেমের উত্থান-পতন, আর একই ভুল বোঝাবুঝির দীর্ঘ পুনরাবৃত্তির মধ্যে নতুন কিছুই ছিল না।

গল্পের মূল চরিত্র তিনজন - ইথান, অ্যালেক্সান্দ্রা ও ফিদেল। ইথান পাগলের মতো ভালোবাসে অ্যালিকে, কিন্তু প্রতিনিয়ত তাকে শারীরিক ও মানসিক আঘাত করে যায়। তৃতীয় পক্ষের কাছে শোনা তথ্যের ভিত্তিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে দিনের পর দিন দুর্ব্যবহার করে যায় প্রিয়তমার সাথে, কোনোরকম যাচাই ছাড়াই। অ্যালিও সীমাহীন অত্যাচার সহ্য করে যায়, কেবল চিৎকার করে কাঁদা আর বারবার ইথানের কাছে ফিরে যাওয়াই তার কর্তব্য। ফিদেলের চরিত্রটিও এক মেরুদণ্ডহীন, ভাগ্যবিড়ম্বিত যুবকের। চরিত্রগুলোর গতানুগতিকতা এবং তাদের মধ্যে কোনো ধরণের মোড় না থাকা হতাশ করেছে।

কিছু কিছু বিষয় লেখিকা অবতারণা করে পরে ভুলে গিয়েছেন কি না জানি না। কোথায় লুকিয়েছিল - বোকার মতো দাসী থাইসার সামনে বলে ফেলে অ্যালি, কিন্তু পরবর্তীতে তার কোনো ফলাফল গল্পে ছিল না। তবে এর উল্লেখ কেন করা? ফিদেলের স্পার্টায় ইথানদের আনা এবং লুকিয়ে স্পার্টান প্রাসাদে খবর দিতে যাওয়ার ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন পরে আর তার চরিত্রে ছিল না। এদিকে স্পার্টান সৈনিকদের হত্যা করার পরও দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে স্পার্টায় কাটালো ইথান। সানভীরকে স্পার্টান সৈন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনার উল্লেখ করলেন লেখিকা, পরে সেটাও গুরুত্ব পেল না।

সবমিলিয়ে ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যতীত উপন্যাসটির ঘটনাপ্রবাহে কোনোরকম টুইস্ট না থাকায় নিদারুণ একঘেয়েমি পেয়ে বসেছিল একসময়। ভালোবাসা, অবিশ্বাস, আত্মত্যাগের একটি সরল প্রেমকাহিনী হিসেবেই দেখা যায় উপন্যাসটিকে।

ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে ছাপা হও��়া বইগুলো মানের দিক থেকে ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে। 'রক্ততৃষ্ণা'র মত এই বইটিও আকারে অন্যরকম। উন্নত প্রচ্ছদ, বাঁধাই আর ভারী পাতার পাশাপাশি ছাপার ভুল না থাকাটা ছিল পরম পাওয়া।

বইঃ এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি
লেখকঃ জিমি হাইসন
প্রকাশনায়ঃ ঐতিহ্য প্রকাশনী
প্রকাশনায়ঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
প্রচ্ছদঃ রেড কোলস
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩২৭
মূল্যঃ ৫৫০ টাকা
Profile Image for Shrabonti Debnath.
31 reviews
May 1, 2023
বইঃ এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি
লেখকঃজিমি হাইসন
প্রচ্ছদঃ রেড কোলস
ঘরানাঃ হিস্টোরিকাল ফিকশন
প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য
প্রকাশকালঃ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৮
পৃষ্ঠাঃ৩২৭
মুদ্রিত মূল্যঃ ৫৫০টাকা

এই বইটি এ মিষ্ট্রি অফ ফোর্থ সেঞ্চুরি বইয়ের দ্বিতীয় পর্ব। তাই কাহীনীর প্রথম দিক বোঝার জন্য পাঠকের এ মিষ্ট্রি অফ ফোর্থ সেঞ্চুরি বইটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

কাহীনী সংক্ষেপ:
প্রায় ষোলশ বছর পূর্বের ঘটনা।রোমের শাসন তখন ইথান মিরিউলাস থেকে ইথান অরিটাসের হাতে।অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।ইথান মিরিউলাস আর বেঁচে নেই।তার ভ্রাতৃসম প্যারিস মৃত্যু শয্যায়।ইথান অরিটাস ও সানভীর তারই নাতী।শেষ সময়ে পিতামহের আবদার রাখতে দুই ভাই লিও আর অ্যালেক্সের খুঁজে ছদ্ধবেশে রওনা দেয় গ্রিস নগরীতে।কিন্তু হায়! ঘটনার পরিক্রমাতে জানতে পারে লিও আর তার প্রিয়তমা অ্যালেক্স আর বেঁচে নেই।সেখানে ইথান খুঁজে পায় লিও এর স্মৃতিসংরক্ষণ একটি দিনলিপি।

স্পার্টায় বাস করতো মিশরীয় বংশোদ্ভূত অনিন্দ্য সুন্দরী তরুনী অ্যালেক্সন্দ্রা।নিজের মায়ের করা ভুলের জন্য যে বয়ে বেড়াচ্ছিলো দেবতা প্রমিথিউসের অভিশাপ।
কি সেই অভিশাপ?
যার জন্য প্রতি পূর্নিমা রাতে তাকে দুগ্ধসান করানো হতো আর পুরোহিতের সর্তকবানী অনুসারে তাকে কোন পূর্নিমারাতেই বাইরে বের হতে দেওয়া হতো না।
মায়ের মৃত্যুর পর কন্যা অ্যালেক্সান্দ্রা কে নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকতেন বাবা আরিসাম।একদিন বানিজ্যে জাহাজে রোমের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে প্রিয় কন্যাকে সাথে নেন আরিসাম।
সেই জাহাজেই তিনি দেখা পান দরিদ্র ফিদেলের।ভ্রাতা হেন্সেলকে হারিয়ে কাজের খুঁজে সেই জাহাজে করেই রোমে যাচ্ছিলো সেও।সেখানে ফিদেলের সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে নিজের প্রিয়তম মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করেন তিনি ফিদেলের।তবে দিয়ে দেন একটি শর্ত।
কি সেই শর্ত?
ফিদেল কি সেই শর্ত মেনে রুপবতী অ্যালেক্সান্দ্রা কে বিয়ে করতে রাজি হয়?
এর মাঝেই ভয়াবহ দূর্যোগে সেই জাহাজডুবি হয়।সেখান থেকে অ্যালেক্সান্দ্রাকে উদ্ধার করে ফিদেল।দশ পনেরজন স্পার্টানের সাথে একটি নির্জন দ্বীপে আটকা পড়ে অ্যালেক্সান্দ্রা।
ভাগ্যদেবতার সহায়ে কয়েকদিন পরে সেই দ্বীপের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলো ইথানের রাজজাহাজ।সেই জাহাজে ঠাঁই মিলে অ্যালেক্সান্দ্রা সহ সকলের।কিন্তু পিতাকে হারিয়ে কান্না আর বিলাপে অবুঝ অ্যালেক্সান্দ্রা শোকাহত।
জাহাজে সানভীরের কাছে ফিদেল প্রার্থনা করে বছরখানেকের জন্য অ্যালেক্সান্দ্রাকে রোমের রাজ প্রাসাদে কাজ দিতে।কারন তার সাথে অ্যালেক্সান্দ্রাকে নিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই তার।
দয়ালু সানভীর তখন অ্যালেক্সান্দ্রা কে রাজপ্রাসাদে থাকার ব্যাবস্থা করে দেয়।ফিদেল অ্যালেক্সান্দ্রাকে আশ্বাস দেয় কিছুদিন পর পর এসে সে তাকে দেখে যাবে এবং টাকা জমিয়েই তাকে নিয়ে আবার স্পার্টায় ফিরে যাবে।ফিদেলের এমন আচড়নে রুষ্ট হয় অ্যালেক্সান্দ্রা।

রোমে ফিরে প্যারিসের সাথে দেখা করতে গিয়ে দুই নাতি জানায় লিও আর নেই,তবে লিও এর দিনলিপিটি ইথান তার প্রিয় দাদুকে দেয়।সেটি পড়ে একটু হলেও স্বান্তনা পান প্যারিস।
একদিন দুই পুত্রকে বুকে নিয়েই বৃদ্ধ প্যারিস চিরনিদ্রায় যান।

সময় অতিবাহিত হতে থাকে।ফিদেল তার মামার ব্যবসায় একটি কাজ জুটিয়ে নেয়।আর মাঝে মাঝে দেখা করে অ্যালেক্সান্দ্রার সাথে।অ্যালেক্সান্দ্রা প্রতি সপ্তাহে গির্জায় প্রার্থনা করতে যেতো।সেখানেই ফিদেলের সাথে দেখা হতো তার।ফিদেল অ্যালেক্সান্দ্রার প্রনয়ে বাধা পড়লেও সে কখনো প্রিয়তমার চোখে তার প্রতি ভালোবাসা দেখেনা।এতে ভীষন আক্ষেপ ফিদেলের।

এদিকে বিলগ্রেডের রাজকন্যা ভেনাস ইথানের প্রতি দূর্বল হলেও,ভেনাসের প্রনয় বারেবারেই প্রত্যাখান করেন ইথান অরিটাস!
রাজপ্রাসাদে কাজ পায় অ্যালেক্সান্দ্রা।তার সময় গুলো ভালো ই কাটতে থাকে।এর মাঝেই তার রুপে মুগ্ধ হয়ে যায় ইথান।প্রনয় যেনো তার মনে দোলা দিতে থাকে।
হটাত একদিন ফিদেল গির্জায় এসে অ্যালেক্সান্দ্রাকে জানায় তার একটি ভুল হয়ে গেছে।
কি সেই ভুল?
যার জন্য অ্যালেক্সান্দ্রা তার বাবার ঠিক করা বিয়ে ভেঙে দেয়?
ফিদেল অ্যালেক্সান্দ্রা কে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে রাগে অ্যালেক্সান্দ্রাকে ছেড়েই আবার স্পার্টায় ফিরে আসে।

এদিকে ইথান অরিটাসের মনে ধীরে ধীরে স্থান পেতে শুরু করে অ্যালেক্সান্দ্রা।রোমের সবচেয়ে বড় উৎসব পারিলিয়াতে সকলের সাথে সাথে অংশ নেয় অ্যালেক্সান্দ্রা।সেখানে মল্লযুদ্ধে ভয় পেয়ে জ্ঞান হারায় সে।যুবরাজ ইথান নিজে কুলে করে ঘোড়ার গাড়িতে নিয়ে আসে তাকে।পুরো উৎসবে ইথানের দৃষ্টি যে অ্যালেক্সান্দ্রার উপর ছিলো তা চোখ এড়ায় না ভ্রাতা সানভীরের স্ত্রী আরিষ্টার।প্রাসাদে ফিরেই সব জানায় সম্রাজ্ঞী কে।

একদিন নিভৃতে অ্যালেক্সান্দ্রা কে প্রেম নিবেদন করে।অ্যালেক্সান্দ্রা তা প্রত্যাখান করে।ভ্রাতা সানভীর অনেক বুঝালে ইথানের প্রতি তার মনেও ভালোবাসা উঁকি দিতে থাকে।
কিন্তু সম্রাট বোহেম ইথানের এই প্রনয় মেনে নিতে নারাজ।তিনি যেনো ইথান মিরিউলাসের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান পুত্র ইথান অরিটাসের মাঝে।

তমিসের সাথে যুদ্ধে যেতে ইথান আর সানভীর প্রস্তুত।তবে তার অনুপস্থিতি তে কেউ তার ক্ষতি করতে পারে ভাবে প্রিয়তমাকে রেখে আসে ইকো সার্জেসের বাড়ি।
সেখানে অ্যালেক্সান্দ্রা জানতে পারে লিও ছিলো ইকোর ভ্রাতাসম।ইকোর মুখে অতীত শুনে ইথান মিরিউলাসের প্রতি তার ভুল ধারনা ভেঙে যায়।

তমিস রাজ্য জয় করে যুবরাজ প্রাসাদে না গিয়ে চলে যায় ইকো সার্জেসের বাড়ি প্রিয়তমাকে আনতে।প্রাসাদে এসেই অ্যালেক্সান্দ্রা কে আংটি পড়িয়ে বাগদত্তা করেন।যদিও এতে সম্রাট বোহেম বেশ ক্ষিপ্ত।

এদিকে স্পার্টায় এসেও ফিদেল ভুলতে পারেনা অ্যালেক্সান্দ্রা কে।ঠিক করে মুদ্রা জমিয়ে রোমে গিয়ে ফিরিয়ে আনবে প্রিয়তমাকে।কাজের খুঁজে গিয়ে দেখা পায় মির্নাভার।মির্নাভার বাবা মিরাকাস ফিদেল কে কাজ জুটিয়ে দেন আর বলেন প্রতিদিনের খাবার যেনো সে মিরাকাসের বাড়িতেই করে।প্রতিনিয়ত মির্নাভা ফিদেলকে দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রনয় নিবেদন করলে ফিদেল তা প্রত্যাখান করে এবং জানিয়ে দেয় অ্যালেক্সান্দ্রার কথা।
টাকা জমিয়ে সে রোমে পাড়ি জমায় তার অ্যালিকে আনতে।

রোমে যাবার পর পূর্নিমারাতে একদিন ও দুগ্ধস্নান করা হয়নি অ্যালেক্সান্দ্রার। একদিন পূর্নিমাতে রোমে জেগে উঠে এক আগ্নেয়গিরি। তবে কি পুরোহিতের অশুভবানী সত্যি হতে চলেছে?
রোম রাজ্যের পুরোহিত স্বপ্ন দৈব বানী পান যুবরাজের সবচেয়ে প্রিয়তম কিছু উৎসর্গ করলেই এই আগ্নেয়গিরি শান্ত হবে।
যুবরাজের সেই প্রিয়তমা আর কেউ না তার বাগদত্তা অ্যালেক্সান্দ্রা!
যুবরাজ প্রিয়তমাকে উৎসর্গ করতে অস্বীকৃতি জানালে পুরো রোম তার বিরুদ্ধাচরন করে,এমন কি সম্রাট নিজেও!
ভ্রাতা সানভীরের বুদ্ধিতে ইথান ঠিক করেন পূর্নিমার পূর্বেই প্রিয়তমাকে নিয়ে রোম সাম্রাজ্য ছাড়বেন দুজনে।
ঠিক এই সময়ে ফিদেল রোমে এসে পৌঁছে, আর সকল ঘটনা শুনে ভয়াবহতা আঁচ করতে পারে।সে অ্যালেক্সান্দ্রাকে ফিরিয়ে নিতে এসে শুনে ইথানের বাগদত্তা আর কেউ নয় স্বয়ং অ্যালেক্সান্দ্রা!
যেদিন রোম ছাড়বে ইথান তার প্রিয়তমা কে নিয়ে সেদিন রাতেই সম্রাট ও তার সেনাপতি সহ সকল পুরোহিতরা অ্যালেক্সান্দ্রাকে জোড় করে নিয়ে যেতে আক্রমন করে।ইথান সেখান থেকে প্রিয়তমাকে বাঁচাতে যুদ্ধ শুরু করে।একসময় নিজের গলায় ছুড়ি ধরলে সম্রাট ও বাধাগ্রস্ত হয়।এমন বিপত্তি তে যুদ্ধ করতে করতে পালাবার সময় একজন অ্যালেক্সান্দ্রা কে অপহরন করে।লুকিয়ে সেই অপহরন কারিকে দেখে ফেলে ফিদেল।সে ইথান ও ভ্রাতা সানভীর কে নিয়ে যেতে চায় অপহরণকারীর নিকট।অপহরণকারী ইথানকে জানায় তার বাগদত্তাকে বাঁচানোর জন্যই সে তাকে অপহরন করে।নিজের পরিচয় দেয় অ্যাজাক্স নামে। কে এই অ্যাজাক্স? যে নিজের প্রানের বিনিময়ে হলেও অ্যালেক্সান্দ্রাকে বাঁচাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ!

ঘটনাক্রমে ইথান,ভ্রাতা সানভীর আর অ্যালেক্সান্দ্রা পালিয়ে এসে ঠাঁয় নেয় স্পার্টায় ফিদেলের বাড়িতে।
সেখানে মির্নাভা ফিদেলকে পাওয়ার বাসনায় যুবরাজ ইথানকে জানায় ফিদেল যার খুঁজে রোমে গিয়েছিলো সে আর কেউ নয় অ্যালেক্সান্দ্রা!তাদের গভীর প্রনয় ছিলো।যার জন্যেই মির্নাভাকে বারবার প্রত্যাখান করে ফিদেল।
কষ্টে,ঘৃনায় বিষাক্ত হয়ে উঠে ইথানের মন।যার জন্য নিজ রাজ্য ছেড়ে এসেছে সে কিনা এমন চরিত্রের!রাজ রক্ত টগবগ করে উঠে।অ্যালেক্সান্দ্রার প্রতি গভীর প্রেম মুহূর্তকালেই তিক্ততায় পরিনত হয়।শুরু হয় অ্যালেক্সান্দ্রার প্রতি ইথানের অন্যায় আচড়ন,অবহেলা।
তারই মধ্যে ঘটতে থাকতে একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনা।
এরই মাঝে ইথান জানতে পারে সে বাবা হতে চলেছে।মন খুশিতে ভরে গেলেও প্রিয়তমার প্রতি অবহেলা কমে না তার।
সময় অতিবাহিত হলে অ্যাজাক্স খবর নিয়ে এলো রোমের সম্রাট বোহেম পুত্রশোকে ইহলোক ত্যাগ করেছেন।আর ইথানের রোমে ফিরে যাবার আগ অবধি তার ভগ্নিজামাতা ফিরোডাস আর মাহিনাসের হাতে রাজ্যভার দিয়ে গেছেন।
কিন্তু ফিরোডাস রাজ্যে অবতরন করেই ইথানকে রাজদ্রোহী বলে ঘোষনা দেয় এবং ইথান ও ভ্রাতা সানভীর কে দেখা মাত্রই হত্যার আদেশ দেয়!
সব শুনে ক্রোধান্বিত হয়ে ইথান নিজের রাজ্য আক্রমনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সাহায্যের জন্য বিলগ্রেডের রাজার নিকট পত্র পাঠায় অ্যাজাক্সেরর মাধ্যমে।

এরই মধ্যে অ্যালেক্সান্দ্রা পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।ইথান অরিটাস নিজ সন্তানের মুখ দেখে পুলকিত হোন।পুত্রের নাম রাখা হয় এ্যাথেন্স অরিটাস।

বিলগ্রেড থেকে সম্রাট লাইনাস জানায় তিনি ইথানকে সাহায্য করবেন তবে সে যদি অ্যালেক্সান্দ্রা কে ত্যাগ করে তার কন্যা ভেনাস কে বিয়ে করে।

কি করবে এবার ইথান?
নিজের রাজ্যে যাওয়ার জন্য তবে কি সম্রাট লাইনাসের প্রস্তাব মেনে নিবে?
কি হবে অ্যালেক্সান্দ্রার?
সেই হটাত জেগে উঠা আগ্নেয়গিরি কি শান্ত হয়?

তবে শেষ অবধি যার জন্য রাজ্য ছাড়ে ইথান তাকে বাঁচাতেই রোমে ফিরে আসেন।কিন্তু কিভাবে ফিরেন তিনি?
বাঁচাতে পেরেছিলেন কি তিনি তার প্রিয়তমাকে?

সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পাঠককে যুদ্ধ,মিথ,বীরত্ব, প্রেম বিশ্বাসঘাতকতা,রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং আত্মত্যাগের শ্বাসরুদ্ধকর উপখ্যান "এ ফায়ার অফ ফোর্থ সেঞ্চুরি পড়তেই হবে।এমন রোমাঞ্চকর উপন্যাস যেকোন পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে।তাই পাঠক সানন্দে এই বইটি পড়তে পারেন

পরিশিষ্টঃছয় বছর পরে ছেলে এ্যাথেন্স কে নিয়ে আগ্নেয়গিরির কাছে যায়।গত ছয় বছর ধরেই প্রতি পূর্নিমা রাতে নিয়ম করে সে এখানে আসে।রাত অতিবাহিত করে।(অসমাপ্ত)

ব্যাক্তিগত মতামতঃ "এ মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরী" বইটির মধ্য দিয়েই জিমি হাইসন আমার প্রিয় লেখিকা হয়ে উঠেন।সেই বইয়ের পরের অংশ এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি পড়ার জন্য সবসময় ই উন্মোখ হয়ে ছিলাম।অবশেষে ইচ্ছে পূরন হলো।প্রথম বইটির মতো এই বইটিতেও আশাহত করেন নি লেখিকা।টান টান উত্তেজনায় বইয়ের প্রতিটি পাতা পড়েছি।লিখায় লেখিকার শব্দশৈলি ছিলো দারুন।যুদ্ধ,মিথ,বীরত্ব, প্রেম,রাজনৈতিক কুটনীতি, আত্মত্যাগ সব রসদ একসাথে আগে কোন বইয়ে পাইনি।সত্যি বলতে এতো রোমাঞ্চকর ছিল বইটি যে পড়ার সময় অন্যদিকে মন বসাতে পারিনি।প্রথম বইয়ের মতই এই বইটি পড়ে চোখের জল বাধ মানেনি।প্রতিটি পাতা যেনো অদ্ভুত ভাবে আমাকে দিয়ে পড়িয়ে নিয়েছে লেখিকা।অসাধারন বললেও কম হয়ে যাবে।এই বইয়ের প্রশংসা কোন শব্দ দিয়ে করলে মন তুষ্ট হবে জানা নেই।লেখিকার লেখার তুলনা কেবল তিনি নিজেই।
তবেপছন্দের বইয়ের তালিকায় আরেকটি বই স্থান করে নিলো।
যেকেউ নিঃসংশয়ে বইটি পড়তে পারেন।এতোটুকু খারাপ লাগবে না তা বলে দিতে পারি।নিঃসন্দেহে যেকোন পাঠকের প্রিয় হয়ে উঠবে বইটি।

লেখক পরিচিতিঃ জিমি হাইসন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তরুন লেখক, যিনি জন্মগ্রহণ করেছেন ৫ই ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে।ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ২০১৭সালে তার প্রথম উপন্যাস "এ মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি"প্রকাশিত হয়।এর প্রেক্ষাপট ধরেই লিখেন "এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি"।

লেখকের পাঠক আলোচিত ট্রিলজি উপন্যাস " এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি " এবং " এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি" এর মাঝেই বেস্টসেলারের খাতায় নাম লিখিয়েছে।
এছাড়াও ইন্দ্রজাল ও রক্ততৃৃষ্ণা বই দুটোতেও লেখিকার সুনিপুন হাতের জাদুময় লিখায় পরিচয় পাওয়া যায়।
Profile Image for Ashikur Rahman.
4 reviews2 followers
May 21, 2020
#বই_আলোচনা

বইয়ের নামঃ এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি
লেখিকাঃ Jimee Tanhab

ফোর্থ সেঞ্চুরি ট্রিলজির প্রথম বই "এ মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি" এর রিভিউ শেষে "অসমাপ্ত" লিখা ছিলো। অব্যক্ত কিছু সম্পর্কিত কথা তাই জায়গা পাবে এই রিভিউতে। বিস্তর আলোচনার সুবিধার্থে স্পয়লার এলার্ট রয়েছে শুরুতেই।

চতুর্থ শতাব্দীর এই গল্পের মূখ্য চরিত্রগুলো ইথান অরিটাস, অ্যালেক্সান্দ্রা, সানভীর আর ফিদেল। প্রিন্স ইথান অরিটাস সম্রাট ইথান মিরিউলাসের প্রিয় ভাগনে বোহেম এর সন্তান। প্রিয় মামার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ নিজ সন্তানের নাম রাখেন ইথান। অস্ত্রবিদ্যা, সমরজ্ঞান, পৌরুষ সবখানেই প্রিন্স ইথান মিরিউলাসের ছায়া।

স্পার্টার এক ব্যবসায়ী আরিসাম আর তার মা মরা মেয়ে অ্যালেক্সান্দ্রা।

স্পার্টারই আরেক কোনে বাস করে ফিদেল। সদ্য বড় ভাই হারানো ফিদেল জীবিকার খোঁজে পাড়ি জমায় রোমে। রোমের জাহাজে পরিচয় হয় আরিসাম আর অ্যালেক্সান্দ্রার সাথে।

ভাগ্য এবার সানভীরের রূপে প্রাসাদে নিয়ে যায় অ্যালেক্সান্দ্রাকে। পরিত্যাক্ত সেই বাগানবাড়িতে আবার প্রাণের ছোঁয়া পায় অ্যালেক্সান্দ্রার হাতে। প্রিন্স ইথানের কল্পনায় আসা সেই অদৃশ্য রাজকুমারীর জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নেয় অ্যালেক্সান্দ্রা।

এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিলো এরপর হুট করেই প্রিন্স ইথান মিরিউলাসের কথাগুলো সত্য হতে শুরু করে। অ্যালেক্সান্দ্রার মনে ভালোবাসার যে ঝড় ওঠে তা বারবার মনে করিয়ে দেয় অ্যালেক্সকে বলা সেই কথাগুলো। রাজপরিবারে বড় হওয়া ইথান নিজের ভেতর ভালোবাসা চেপে রাখতে পারলেও পারেনি অ্যালেক্সান্দ্রা। মান - অভিমান, চাওয়া - পাওয়া, সম্মান - মর্যাদা এই জিনিসগুলো বেরিয়ে আসতে শুরু করে অ্যালেক্সান্দ্রার মাধ্যমে। অনুভূতির জগতের এই দোদুল্যমান খেলা দুই পর্বে দুটি ভিন্ন রূপে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ লেখিকার প্রতি।

ফিদেল চরিত্রটি পাশ্ব চরিত্র হিসেবে ছাপিয়ে গিয়েছে সানভীরকে। তবে অ্যাজাক্স চরিত্রটি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। গ্ল্যাডিয়েটর লড়াইতে সেদিন দয়াবশত জীবন ফিরে পাওয়া অ্যাজাক্স পরবর্তীতে ভাইটাল হয়ে ওঠে। হুট করে নতুন চরিত্র নিয়ে আসার বদলে পুরোনো চরিত্র ব্যবহার করায় লেখায় নতুন মাত্রা আসে।

অ্যালেক্সান্দ্রার দুধ দিয়ে গোসল করার সেই বিষয়টা কুসংস্কার নাকি মিথ সেটা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলাম। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর সেটি যে কোনো সময় হতে পারে তবে এর সাথে সম্পর্ক রেখে জিনিসটা এমন করেও যে ফুটিয়ে তোলা যায় তা অনবদ্য।

পরিনতির দিকটা নিয়ে বলার কিছু থাকেনা৷ ক্রমে ভুল বোঝাবুঝির পাল্লা ভারী হতে থাকে দুপাশে। ইথান ধীরে ধীরে গুছিয়ে নেয় নিজেকে। কষ্ট দিতে থাকে অ্যালেক্সান্দ্রাকে। মান-অভিমানের লড়াইতে অ্যালেক্সান্দ্রাও একটা বিভেদের দেয়াল তুলে ধরে দুজনের মাঝে, সম্পর্কটা আরও এলোমেলো হয়ে যায় সানভীরের পক্ষপাতে। এত দুঃখ কষ্টের মাঝেও একটু একটু সুখ, একটু একটু ভালোবাসার ছোঁয়া ছিলো। বারবারই মনে হয়েছে এই বুঝি ইথান তার মনের সংশয় দূর করে কাছে টেনে নেবে অ্যালেক্সান্দ্রাকে। পাহাড়ের ওপর জোর করে অ্যালেক্সান্দ্রাকে জড়িয়ে ধরে থাকা আর বাধা দিতে দিতে নিজেকে সপে দেয়ার মুহূর্তটা বেষ্ট ছিলো। একটা সময় ইথানের বুকে নীরব হওয়া অ্যালেক্সান্দ্রার সাথে আবারও যে খারাপ কিছু হবে তা ভাবিনি।

সহ্য করতে করতে একটা সময় বাঁধ ভেঙে যায় অ্যালেক্সান্দ্রার। স্বামী সন্তান সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে তাদের মঙ্গল সাধনে আত্বহুতি দিতে নিভৃতে রোমের পথে পা বাড়ায় অ্যালেক্সান্দ্রা। চাপা পড়া ভালোবাসা অগ্নুৎপাতের মতন বেরিয়ে আসে ইথানের মনে। মহাপরাক্রমশালী রোমান বীর মাথা নোয়ায় বিলগ্রেডের সম্রাটের কাছে। সম্রাট হিসাবে মর্যাদা করলেও পিতার স্থানে অনড় তিনি। বিলগ্রেডের রাজদরবারে হাটু গেঁড়ে মাথা নিচু করে থাকা ইথান নিজের সবকিছু ততক্ষণে ত্যাগ করেছে শুধু ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে। বাধ্য হয়ে ভেনাসকে বিয়েতে মত দেন ইথান। যেখানে রোমের সামান্য দূত কারো সামনে হাটু গেড়ে সম্মান দেখায় না সেখানে প্রিন্স স্বয়ং এই অবস্থানে!!

অ্যালেক্সান্দ্রার নির্বিকারভাবে আত্বহুতি দিতে এগিয়ে যাওয়াটা বর্ণনার এক উত্তম উদাহরন। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের "শাপমোচন" উপন্যাসে মহেন্দ্র এর মৃত্যুর যে চমৎকার একটা হৃদয় ছোঁয়া বর্ণনা ছিলো সেরকম গভীরভাবে মন ছুঁয়ে গেছে অ্যালেক্সান্দ্রার আত্বহুতির বর্ণনা। অনেকদিন পর পড়তে পড়তে গলাটা ধরে এসেছিলো।

বই নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করার মতন কোনো কিছু নেই। শেষ অংশটুুকু সীলমোহর হিসেবে কাজ করে।

অ্যালেক্সান্দ্রার মৃত্যুর পর ফিদেল বাড়ি ফিরে সবকিছু পুড়িয়ে দিচ্ছে!! মিনার্ভার অপেক্ষমান ভালোবাসাতে সায় না দেয়া। ভালোবাসার এই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম গভীর হিসাব গুলো অসাধারণ।

অধ্যায় উপঅধ্যায়ে বিন্যাস্ত লেখিকার লেখায় এটা ছুটে গেছে ওখানে খেয়াল করা হয়নি এমন অভিযোগ আনার কোনো উপায় নেই। বরং চাহিদার চেয়ে বেশিই পাওয়া যায় তার বইতে।

মিনার্ভা, অ্যাজাক্স এর মতন চরিত্রগুলোতেও ডিটেইলিং, ঘটনার রেশ, প্রতিক্রিয়া সুন্দরভাবে তুলে ধরা।

যমক অলংকারে রচিত দুটি কবিতা ট্রিলজির বইদুটির সামনে দেয়া। এই কবিতার মাঝেই নিহিত আছে বইয়ের ভাব এবং বিষয়বস্তু।

একটি অসমাপ্ত সমাপ্ত গল্প। হয়ত কোনো লেখায় এ্যাথেন্সকে ঘিরে নতুন করে কোনো কাহিনী বুনা হবে। তবে একটা কথা না বললেই নয় "হিষ্ট্রি রিপিটস"। ইথান মিরিউলাসের অভিশাপ ফিরে এসেছে, অ্যালেক্সান্দ্রার ছায়া এ্যাথেন্সের মাঝে, তাই এ্যাথেন্সকে নিয়ে এই ট্রিলজির কোনো অংশ আসতে পারে হয়ত। তবে এই অসমাপ্তিটাই একটা সমাপ্তির রেশ টেনে দিচ্ছে।

বইয়ের নামঃ এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি
লেখিকাঃ জিমি তানহাব
প্রচ্ছদঃ রেড কোল্ স
প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য
মুদ্রন মূল্যঃ ৫৫০ টাকা
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Sumaiya.
296 reviews4 followers
January 5, 2025
২.৫/৫
কেমন যেন জমলো না, ভিন্ন কোনো স্বাদ পেলাম না!
অ্যালেক্সান্দ্রা ক্যারেক্টার টা এতো বিরক্তিকর 😣
প্রিন্স এর ক্যারেক্টার টাও স্ট্রং লাগেনি।
তবে ফিদেল চরিত্র টা ভালো ছিলো।
Profile Image for রি য়ে ন.
170 reviews25 followers
June 25, 2019
এই বইটির নাম দিয়েছিলাম বড় লোকেদের বই। আমার মতো হয়তো কিছু মানুষ বইটার এই নাম দিয়ে থাকতে পারে। কারণ বইটার মূল্য ৭৫০ টাকা। আমার মতো যারা টাকা বাঁচানোর জন্য লোকাল প্রিন্ট পড়ে তাদের কাছে এই বই কেনা আর আকাশের চাঁদ ধরা একই কথা। বইটির রিভিউ পড়েই গেছি এতোদিন। কোনদিন কিনতে পারব চিন্তা করিনি। কিন্তু একদিন একটা সুযোগ এসে দুয়ারে কড়া নাড়ল। ৫০% ছাড়ে পেয়ে গেলাম বই খান। আমাকে আর পায় কে? চোখ বন্ধ করে কিনে নিলাম। যাইহোক গল্পটি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

গল্পের শুরুটা পড়ে মনে হচ্ছিলো ডিজনির কোন কার্টুন মুভি দেখছি। এক কাঠুরি তার ৭ বছর মেয়েকে নিয়ে বনে থাকত। বনের কাঠ কেটে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে বাবা মেয়ের সংসার চলত। একবার মেয়েটি বনে বেড়াতে আসা মানুষের পায়ে জুতো দেখে বাবার কাছে আবদার করলো তাকে এনে দেওয়া জন্য। বাবা অনেক চেষ্টা করেও পারেনি আনতে। তখন এক বৃদ্ধ বাবাকে দামী রত্ন খচিত জুতো দিল। এবং বলল এ জুতো সারাজীবন পরতে পারবে সে। যাইহোক এ জুতো নিয়েই শুরু হলো গল্প। ফ্যান্টাসি গল্পের স্বাদ পাওয়া জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম কিন্তু তা হয়নি। গল্পটি শেষ পর্যন্ত ত্রিভুজী প্রেমে রুপ নেয়। জুতার জন্য খুন হয় মেয়েটির বাবা। জীবন রক্ষায় মেয়েটি পালিয়ে আশ্রয় নেয় লিওর কাছে। লিও তাকে নিয়ে গ্রিস থেকে পালিয়ে যায় রোমে। সময়টা তখন ৪০০ খ্রিস্টাব্দ। রোমের প্রিন্স তখন ইথান। লিও মেয়েটির প্রেমে পরার সাথে প্রেমে পরে প্রিন্স ইথান। কিন্তু বনে বড় উঠা মেয়েটি ভালোবাসা কি তার মানেই বুঝে না। এদিকে পাগলের মতো মেয়েটিকে ভালোবাসে প্রিন্স। লিও গোপন করে ফেলে তার ভালোবাসা অনুভূতি গুলো। ইথানের পাগলি প্রভাব ফেলতে পারে দেশ পরিচালনায়। জুতোর জন্য মেয়েটির বাবাকে খুন করা তিন খুনি জুতোর লোভে পিছু পিছু চলে আসে রোমে। ব্লা ব্লা ব্লা.... এই হলো গল্প......

বইটি যদি দেবদাস যোগে বের হতো তবে দেবদাস উপন্যাসের মতোই জনপ্রিয় হয়তো বলে আমার ধারণা। আমার ভাল্লাগছে বহুত। রোমান্টিক গল্প গুলো সবসময়ই বহুত ভাল্লাগে। শুধু রোমান্টিকই না ইতিহাস মিশ্রিত উপন্যাস। মনে হয় উপন্যাসের কিছু কিছু অংশ সত্য। গল্প পড়ে আপনার মনে হবে কোন অনুবাদ নয় তো? বাংলাদেশি কেউ এমন বই লিখবে বিশ্বাস করা কষ্টের। কিন্তু কষ্টের হলেও এটা সত্য। লেখিকার তিন বছরের কষ্টে ফসল এই বই। ৭৫০ টাকা দিয়ে কিনলেও সার্থক হতো বইটা।
Profile Image for Suborna.
2 reviews2 followers
July 15, 2018
চমৎকার বই। এক কথায় অসাধারণ।
Displaying 1 - 14 of 14 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.