Jump to ratings and reviews
Rate this book

নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে

Rate this book

87 pages, Hardcover

First published January 1, 2018

76 people want to read

About the author

Imtiar Shamim

53 books115 followers
ইমতিয়ার শামীমের জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫ সালে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আজকের কাগজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু নব্বই দশকের গোড়াতে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ডানাকাটা হিমের ভেতর’ (১৯৯৬)-এর পান্ডুলিপি পড়ে আহমদ ছফা দৈনিক বাংলাবাজারে তাঁর নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন, ‘একদম আলাদা, নতুন। আমাদের মতো বুড়োহাবড়া লেখকদের মধ্যে যা কস্মিনকালেও ছিল না।’

ইমতিয়ার শামীম ‘শীতের জ্যোৎস্নাজ্বলা বৃষ্টিরাতে’ গল্পগ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার (২০১৪), সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সকল প্রধান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (11%)
4 stars
23 (65%)
3 stars
7 (20%)
2 stars
1 (2%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 17 of 17 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,667 reviews430 followers
April 17, 2022
৩.৫/৫
বাংলা কথাসাহিত্যের প্রেক্ষিতে এ উপন্যাস বেশ দুঃসাহসিক। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অক্ষমতা হচ্ছে কাহিনির সূচনাবিন্দু।সেই অক্ষমতা বা যৌনশৈত্যের জের ধরে সম্পর্কে ফাটল, পরনারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন হচ্ছে কাহিনির ডালপালা।কোনো অপ্রধান লেখক এ উপন্যাস লিখলে যৌন সম্পর্কের বর্ণনার জায়গায় চরিত্রদ্বয়ের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে না তুলে রগরগে বর্ণনা দিয়ে পুরো পরিবেশের গভীরতা নষ্ট করে দিতে পারতেন।ইমতিয়ার শামীমের লেখা কোথাও একটুও হেলে পড়ে নি,একটুও পথচ্যুত হয়নি;পুরো সম্পর্ক তিনি বর্ণনা করেছেন চরম নিঃস্পৃহতার সাথে।
উপন্যাসের শেষদিকে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বদলে আছে কন্যা ও পিতার আবেগের রসায়ন যা মনোগ্রাহী হলেও প্রথমদিকের তুলনায় ম্লান।কাহিনির গতিপথ না পাল্টালে একটা দুর্দান্ত উপন্যাস পেয়ে যেতাম আমরা।তারপরও যা আছে,সেটুকুও অনবদ্য।
Profile Image for Ummea Salma.
126 reviews123 followers
June 25, 2021
"চলে যাচ্ছি বলে যে মায়া রেখে যাই, অসীম আকাশ তা জানে"

পৃথিবীর সব জাকারান্ডা/নীল কৃষ্ণচূড়ারা সুখী হোক। সুখী হোক রিনি বা অদিতার মত মেয়েরাও।
Profile Image for Rifat.
501 reviews327 followers
August 22, 2023
যদি জিজ্ঞেস করা হয় ইমতিয়ার শামীমের লেখনি ঠিক কেমন শক্তি রাখে!? উত্তরে বলবো উঁনার জায়গায় লেখক হিসেবে অন্য কেউ থাকলে ঘটনার বর্ণনা হয়ে যেত উষ্ণ, ক্ষেত্র বিশেষে তা রগরগে শব্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতো। কেননা স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের অভ্যন্তরে প্রবেশে ব্যর্থতা এই উপন্যাসের উপক্রমণিকা। শুধুমাত্র ইমতিয়ার শামীমের লেখা বলেই বোধহয় এহেন ঘটনার বর্ণনা একেবারেই নির্লিপ্ত, মনে হয় হঠাৎ কেউ যেন আছড়ে ফেললো সাদা বরফের মধ্যে, মন আর মস্তিষ্কে বিঁধে যাচ্ছে বরফের তীক্ষ্ণ সুঁই। উপন্যাসের নায়ক যৌবন পার করা মাঝবয়েসী ভদ্রলোক, বিয়েও করেছিলো উপযুক্ত বয়সের পরে, তার স্ত্রীরও একই অবস্থা। কিন্তু বিয়ের পরে আসলে সম্পর্কটা টিকে ছিল কোনো রকমে, কারণ ওদের মাঝে ঝুলে ছিল সক্ষমতা, অক্ষমতা আর পুরুষত্বের ভারি আবরণ।এরপর আমাদের সমাজে আর দশটা কাপলের মাঝে যা ঘটে ওদেরও তাই হয়। বিচ্ছেদ আর পরকীয়া হেঁটে চলে গটগট করে। আর মাঝে মাঝে উঁকি দেয় একজন বাবা আর তার মেয়ে। তারা গল্প করে নিজেদের, শোনায় মায়ের কথা।

উপন্যাসটিতে প্রাধান্য পেয়েছে কথকের মনস্তত্ত্ব, সহজ সরল স্বীকারোক্তি! সেখানে কোনো অভিযোগ নেই, নেই কাদা ছোড়াছুড়ি, নেই কোনো দোষারোপ, আছে একরাশ মুগ্ধতা, মায়া, স্নেহ, হাহাকার আর মানব জীবনের ভবিষ্যতে থাকা এক নিশ্চিত নিঃসঙ্গতার কথা।
তখন দুপুরের তীব্র রোদ ঝকঝকে শানানো ছুরি হয়ে নেমে আসছে এ শহরের অলিগলিতে, রাজপথে, ফুটপাতে, বাড়ির বারান্দা ও ছাদে। আইল্যান্ড ও রাস্তার পাশে, দরদালানের ফাঁকফোকড়ে গজিয়ে ওঠা গাছগুলো তাদের ফ্যাকাশে মরো মরো সবুজ পাতা মেলে ধরে আছে খুন হয়ে যাওয়ার তীব্র নেশা নিয়ে। কিন্তু খুনোখুনির কোনো তাড়া নেই সে রোদের তীক্ষ্ণ ডগায়, কী এক উন্মাদনায় সে কেবল তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে শহরের বাড়ি-ঘর-রাস্তার প্রতিটি বিন্দুকে। আমাকেই কি খুঁজে বেড়াচ্ছে সে? না কি আমার মতোই আর কাউকে? আহ্, কাকে যে খুঁজছে সে- কাকে যে খুঁজছে নিঃসঙ্গ দুপুরের ওই রোদ!



নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে'র শেষ পাতা পড়তে পড়তে মনে মনে আমি বাড়ি চলে যাই, ধূলো জমা বইয়ের তাকের দিকে তাকিয়ে গুনতে থাকি- ২টা নাকি ৩টা? আর কয়টা পড়া বাকি? মনে মনে অন্য হিসেব কষতে থাকি! কিছু না করে বসে বসে থাকার ক্লান্তি অবলীলায় ভেংচি কাটে, প্রথমবারের মতো আসলেই আফসোস হয়!


২২ আগস্ট, ২০২৩
Profile Image for Ahmed Atif Abrar.
720 reviews12 followers
April 4, 2022
অর্ধযুগ আগে এক অখ্যাতনামা প্রকাশনালয় থেকে বেরিয়েছিল। এবার নতুন করে বেরুচ্ছে 'বুকস অফ বেঙ্গল' থেকে। এর প্রুফনিরীক্ষা আমি করেছি; আর তাতেই সংবেশিত হয়ে একের পর এক পাতা উলটে গেছি। শামীমের বানান ভুল প্রায় হয় না বললেই চলে। বেশ যত্ন করে লেখেন। তাই প্রুফনিরীক্ষার পেশাদারিত্বের চেয়ে পাঠকের সংবেশের সুযোগই ছিল বেশি।
যৌনতার অনেক রকম। অপত্যস্নেহের আরেক রকম।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
June 26, 2024
লেখকের মাথায় কোন কাহিনি ঘুরপাক খেতে খেতে যখন কলমের ডগায় এসে ঝরে পড়ে তখন লেখক মাত্র তা আলাদা ভাবে প্রকাশ পায়। লেখকের মানসিকতা ও দক্ষতার কারনে প্রকাশভঙ্গিটাও ভিন্ন হয়।
ইমতিয়ার শামিম "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিন" ছোট্ট একটা ঘটনা, স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়া আর রক্তের সম্পর্কের টানাটানি।

লেখকের লেখা বরাবরই ভালো লাগে।
Profile Image for Akash.
446 reviews151 followers
April 14, 2024
"অথচ, সকলেরই ইচ্ছেপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।"

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতার 'অমলকান্তি' অথবা এ উপন্যাসের নায়ক অর্থাৎ কথককে অমলকান্তি ছাড়া আর কীই-বা বলতে পারি! শরীর মুক্ত হয়নি বলে যার মন মুক্ত হয়নি।

যে অমলকান্তি সমাজের চোখে, রিনির চোখে পুরুষ হতে পারেনি। অন্যদিকে রিনিও তো সমাজের ভয়ে নিজের প্রকৃত যৌন পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি। যার ফলে সংসারে ফাটল ধরেছে। আর কথক তার মনকে মুক্ত করতে অচেনা অজানা নম্রতার কাছে তার শরীর মুক্ত করেছে। যার ফলে অদিতার জন্ম হয়েছে।

এ উপন্যাসে কন্যা ও পিতার রসায়ন ছিল মনোমুগ্ধকর। পাশাপাশি দু'জনের মায়ের স্মৃতি, গ্রাম ও শৈশবের স্মৃতি সবাইকে নস্টালজিক করবে।

যৌনতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় যখন ইমতিয়ার শামীমের মতো লেখকেরা বর্ণনা করে তখন তা সবার জন্য পাঠযোগ্য হবার পাশাপাশি যা আগে বলা হয়নি অর্থাৎ পড়া হয়নি তা পড়ার মাধ্যমে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারি। বলতে পারি, যাক কেউ একজন তো উপন্যাসে জায়গা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টা যা বাংলা সাহিত্যে এতদিন অগোচরে ছিল।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
526 reviews197 followers
March 1, 2023
এটার আগে আমি এই লেখকের অন্য একটা বই পড়েছি। ইমতিয়ার শামীম নেই নেই ধরনের মনে হয়েছিলো। ইমতিয়ার শামীমের লেখা আমি মুগ্ধ হয়ে পড়ি। সেই মুগ্ধতা ফিরে এসেছে।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
547 reviews
November 7, 2025
ইমতিয়ার শামীম কেন একজন শক্তিশালী লেখক এমন প্রশ্ন উঠলে এই বইটি প্রশ্নকর্তাকে পড়তে দেয়া যেতে পারে। এই বইয়ের যা প্লট তা অন্য কেউ পেলে কিভাবে লিখতেন আর ইমতিয়ার শামীম কিভাবে লিখেছেন সেটাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
Profile Image for Anik Chowdhury.
176 reviews35 followers
August 31, 2022
এই লেখকের লেখা খুব কম পড়েছি বলে আফসোস হয়। সুন্দরভাবে লেখাকে একটা গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ ভালো লাগে। এই বইয়ের মূলে একজোড়া নারী ও পুরুষের যৌনজীবন । একজোড়া মানুষের এই অনুভূতির পরিধি ও তার নির্লিপ্ত ভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে যাওয়া মতো কাজ লেখক কত নিখুঁতভাবে যে সম্পাদন তার ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব নয়। সাথে মানসিক টানাপোড়েনের মতো বিষয়গুলোও হেসেখেলে কথা বলেছে লেখকের ভাষায়। পিতা ও কন্যার সুন্দর একটা সম্পর্কের ছোঁয়া দেখতে পাই এই উপন্যাস জুড়ে।

"আমি প্রতিদিন তারিয়ে তারিয়ে আমার নিঃসঙ্গতাকে অনুভব করব। নিঃসঙ্গতাকে জারিত করার নতুন নতুন বাকপ্রতিমা আমাকে প্রতিদিন মুগ্ধ করবে, উদ্বেলিত করবে, সারাদিন কাটবে আমার সেই বাকপ্রতিমার ঘোরে। এবং এইভাবে আমি একদিন কারও কোনো রকম অনুকম্পা ছাড়াই মৃত্যুর কাছে পৌঁছে যাব। এক অর্থে, প্রতিটি মানুষই নিঃসঙ্গতাতার এই নীল কৃষ্ণচূড়া বুনতে শিখে— কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারে না, সে আসলে নিঃসঙ্গতার একটি নীল কৃষ্ণচূড়া বুনছে তার ভরা সংসার জুড়ে।"
-নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে

রেটিং-৩.৫/৫
Profile Image for Muntasir Dhip.
165 reviews3 followers
June 15, 2024
এ বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায় ছড়ানো ছিটানো ছিলো শুধুই মুগ্ধতা। অনবদ্য।
Profile Image for Aditee.
90 reviews21 followers
September 3, 2018
যাক, এখনও খানিকটা মানুষ আছি।
এখনও বই পড়ে কাঁদি।
Profile Image for Saffat.
93 reviews67 followers
March 9, 2025
একরাশ বিষণ্ণতা আর শূন্যতায় ঘেরা উপন্যাস!
Profile Image for Farjana Rahman.
51 reviews3 followers
April 17, 2025
বই: নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে
লেখক: ইমতিয়ার শামীম
প্রকাশনী: বুকস অফ বেঙ্গল
পৃষ্ঠা: ৭৭
মূল্য: ১৭৫ টাকা।

ইমতিয়ার শামীমের গল্প পড়া যেন ব্লটিং পেপারের মতো আপনার চারপাশ শোষন করে পাঠককে একদম বুঁদ করে রাখে তার সম্মোহনী লেখনীতে। আর আপনার চারপাশ ব্লার হয়ে যায়। "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" বইয়ের প্রতিটি পাতা যেন সেই ব্লটিং পেপার এবং চারপাশ উপেক্ষার করেই পাঠক একদম নিজেকে সমর্পন করেন ইমতিয়ার শামীমের গল্পে।

বহু বছর পূর্বে অন্যএক প্রকাশনীর হতে বের হলেও নতুন করে "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" বের হলো "বুকস অফ বেঙ্গল" থেকে। খুব ছোট একটা বই। সংলাপের তেমন বালাই নেই। ইমতিয়ার শামীমের কাব্যধর্মী ন্যারেটিভে গড়া হয়েছে এই গল্প। ইমতিয়ার শামীমের গল্প সহজ নয়। "আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক" এর সৌন্দর্য থেকে কোন অংশে কম না অন্য বইগুলো, তবে চিঠিযুগ থেকে আরো কঠিন তার রূপকের অবাধ বিচরনের জন্যে। ইমতিয়ার শামীমের লেখনীর শক্তির জন্যে। পাঠকের কাছে বাড়তি মনোযোগের দাবি রাখে এবং "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" সে মনোযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গড়ে ওঠে লেখকের যাদুকরী কলমের কারনে।

ইমতিয়ার শামীমের "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" যে দুর্দান্ত ন্যারেটিভে এগিয়েছে তার কথক মানে মূল চরিত্র নামহীন। এই নামহীন প্রধান চরিত্রের মনস্তত্ত্ব এবং দুটো সম্পর্কের অনুভূতি, মানসিক টানাপোড়েন ও খুঁটিনাটি বিষয় উঠে এসেছে লেখকের কলম ধরে। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" লেখক ইমতিয়ার শামীমের একটা দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা। কথকের মতো পাঠকও উপভোগ করবেন "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনের" ভেতরের নিঃসঙ্গতাকে,

"আমি প্রতিদিন তারিয়ে তারিয়ে আমার নিঃসঙ্গতাকে অনুভব করব।"

একজোড়া নারী (রিনি মানে কথকের স্ত্রী) ও পুরুষের (কথক) সংসারিক জীবনের যে টানাপোড়েন, নির্লিপ্ততা এবং একে অন্যের ভেতর প্রবেশের অক্ষমতার গল্প নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে। দুজন নর-নারীর যৌ/ন সম্পর্ক স্থাপনে অক্ষমতা এবং তার রেশ ধরে উঠে আসা একধরনের মানসিক জটিলতার স্ফুরণ আঁকা হয়েছে গল্প জুড়ে। অথচ পাঠক কোনভাবেই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ছাড়া অন্য কোন মুখোরেচক বা পাঠোরোচক কিছুর আভাস বিন্দুমাত্র পাবেন না। ইমতিয়ার শামীম বলেই হয়তো তার কাব্যিক ন্যারেটিভে সেই কলুষতা অনুপস্থিত। বরং কথকের এক ধরনের অদ্ভুত সরলতা বা স্বীকারোক্তি পাঠকের জন্যে এক মোহনীয় সময়ের উপহার।

কথকের বিষণ্ণতা পাঠক বেশ তরিয়ে তরিয়েই উপভোগ করবেন "তারিয়ে তারিয়ে নিঃসঙ্গতাকে অনুভব করার" মতো করেই। কথক ও তার স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিচ্ছেদের পথ ধরে আসে নম্রতা। পর/কীয়া। যদিও মাত্র তিন দিনের সম্পর্ক। এখানেই আসে জাকারান্ডা! নীল কৃষ্ণচূড়া। অদিতা। কথকের মেয়ে। যার জন্মের ১৪ বছর ১১ মাস ৩০ দিন পরে প্রথম দেখা কথক আর অদিতার মানে পিতা-কন্যার। উপন্যাস জুড়ে শুরুতে এই বাবা-মেয়ের প্রথম পরিচয়ে শুরু হলেও শেষে এসে দেখি বাবা ও মেয়ের সুন্দর একটা সম্পর্কের গল্প।

সম্পর্কের হৃদয় খুঁড়ে মনস্তাত্বিক ব্যাপাগুলোই এই উপন্যাসের মূলসূত্র। ইমতিয়ার শামীম তার ন্যারেটিভে অন্যসব বইয়ের মতোই একগাদা প্রশ্ন রেখে যান কথকের বলা জুড়ে। যদিও এই প্রশ্ন মূলত উত্তরের অপেক্ষা না করে প্রশ্ন করে যাওয়া মানে অনেকটা স্বগোক্তির মতো। তবু এটা তো নিশ্চিত ইমতিয়ার শামীম পাঠের পর প্রশ্নগুলো আপনাকে খোঁচাবে। কোনপ্রকার জটিলতা তৈরী করবে না, বরং ঋজু হয়ে বসবে ভাবনাগুলো আপনার সাথে সাথে। আগে হোক বা পরে - সেগুলো আপনাকে ভাবাবে।

যেমন ভাবাবে আপনাকে অনেকগুলো মোমবাতি। বাসার মধ্যে জ্বালানো অনেকগুলো মোমবাতি আর সিমেট্রিতে জ্বালানো মোমবাতির যে তফাৎ তা খুব সচেতন ভাবে আমরা আদৌ কি ভাবনায় স্থান দিয়েছি? অথবা খুব বড় হয়ে গেলে জন্মদিনে এক ফুঁ তে মোমবাতি নিভিয়ে ফেলার যে আক্ষেপ - এই আক্ষেপ কার? কন্যার? না বাবার? হয়তো পিতা-মাতার! তারা চায় সম্মিলিত ফুঁ মোমের আলো নিভালেও উদ্ভাসিত হতে ওঠে মায়াবী ভালোবাসা।

"নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" উপন্যাস পড়ার পরে হয়তো পাঠকের জন্যেও এমনটাই হবে, যে বারান্দার একটি অপরাজিতার দিকে দেখতে দেখতে একদিন না তাকিয়েও সেই অপরাজিতাটাকে অনুভব করতে শেখার মতো মন ভালো করা ব্যাপার। এই উপন্যাস শুধু দুটো নারী-পুরুষের সম্পর্কের মনস্বাত্বিক দিকই নয় বরং আরো অনেক কিছুরই অনুষঙ্গ।
মায়া! আসলেই "নীল কৃষ্ণচূড়ার জন্মদিনে" পড়া শেষে উপন্যাসের রেশ কথকের প্রতি বা অদিতার প্রতি অথবা এই গল্পের প্রতি একটা মায়া রেখে যাবে। ঠিক যেন নম্রতার যাবার মুহূর্তে ফেলে আসা চিরকুটের মতো -

"চলে যাচ্ছি বলে যে মায়া রেখে যাই, অসীম আকাশ তা জানে... "

Profile Image for Marshia Mumu.
5 reviews
October 31, 2022
"চলে যাচ্ছি বলে যে মায়া রেখে যাই, অসীম আকাশ তা জানে... "

এই লেখকের প্রথম কোন লেখা পড়লাম। কি অসম্ভব সুন্দর। মায়ায় ভরা 😍
এক অন্যরকম ভালোলাগায় মনটা ভরে গেল। একটা পরিপূর্ণ কাজ। আর তার ভাষার সৌন্দর্য আমার ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা নাই। এত্ত সুন্দর করে, চমৎকার ভাষায় লেখাকে একটা গতিতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা মুগ্ধ করেছে খুব। কিছু কিছু লাইন পড়ে মনে হয়েছে, এত্ত অসাধারণভাবেও বর্ননা করা যায়! নিখুঁত একটা কাজ বলা যায়। অতীব সুন্দর আর মায়ায় ভরা।
1 review
February 4, 2023
ইমতিয়ারের বই পড়ার সময় আশেপাশের কোনো কিছু অনুভব করতে পারি না ; তাঁর গদ্যের সম্মোহনী শক্তির কারণে।
Profile Image for Asif Khan Ullash.
145 reviews8 followers
October 20, 2023
ইমতিয়ার শামীম শক্তিশালী লেখক, তাই এমন দুঃসাহসী, ‘বোল্ড’ লেখার প্রত্যাশা তার কাছেই থাকে বেশি। বইয়ের বিষয়বস্তু বেশ জটিল, একটু ঊনিশ-বিশ হলে পুরো লেখার আমেজ নষ্ট হয়ে গিয়ে থিকথিকে কাদা হয়ে যেতে পারতো উপন্যাসটা। কিন্তু, ইমতিয়ার শামীম তা হতে দেননি।

মূল চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব খুব ভালোভাবে পাঠককে স্পর্শ করতে পারে, তার বিষণ্ণতা ছুঁয়ে যায় পাঠকের হৃদয়। অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লেখা তবুও পড়তে বিন্দুমাত্র অস্বস্তি হয়না লেখনীর গুণেই।

ছোট্ট বই, বুকস অফ বেঙ্গলের করা নতুন প্রছদটাও সুন্দর। ইমতিয়ার শামীমের সেরা কাজ নয় অব্যশই কিন্তু, স্রেফ এত জটিল বিষয়বস্তুকে এমন স্মুথভাবে হ্যান্ডেল করতে পারার জন্য তাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে।
Displaying 1 - 17 of 17 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.