ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের জন্য অসাধারণ একটি সংগ্রহ হতে পারে সাহিত্যিক মঈনুস সুলতানের ‘পুষ্পিত ফরাশ ও বেগুনি জ্যোৎস্না’ গ্রন্থটি। এখানে বেলজিয়াম ও প্যারিসের বিভিন্ন স্থানের অসাধারণ সব বর্ণনার পাশাপাশি রয়েছে জনজীবনের একটি অনুন্মুক্ত রূপ, যা পৃথিবীর কাছে রঙিন পর্দার আবরণে ঢাকা। প্রতিটি স্থানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে লেখকের নিজস্ব অভিব্যক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গির অদ্ভুত সমন্বয়। ভ্রমণগ্রন্থ হয়েও এতে ফুটে উঠেছে পৃথিবীর এক বিরূপ বাস্তবতা। রোগের সংক্রমণ আর মানুষের নৃশংস আচরণের কাছে পরাজিত হয়েছে মানবিকতা। ব্যথাতুরা পৃথিবীর একটি ভিন্ন রূপ লেখক অঙ্কন করেছেন গ্রন্থটিতে। চিরাচরিত পৃথিবীর বাইরে তাই ‘পুষ্পিত ফরাশ ও বেগুনি জ্যোৎস্না’ হয়ে উঠেছে ভিন্ন এক পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।