'শেষ রাত্রির গল্পগুলো' প্রচলিত অর্থে কোন গল্পগ্রন্থ নয়। বলা যেতে পারে একটি গল্পের আসর। এই আসরে লেখক ও পাঠক পরস্পর গল্প করবেন। গল্প করতে করতে আনমনা হবেন। গল্প করতে করতেই চিন্তা-প্রতিচিন্তায় ঋদ্ধ হবেন।
আমি তরুণ। যাদের সাথে পড়ি, তারা তরুণ। যাদের সাথে ওঠাবসা করি, তারাও তরুণ। যারা আমার কবিতা পড়ে, তাদের অধিকাংশ তারুণ্যে উচ্ছ্বল। এই তরুণদের বিশ্বাসী চেতনা ও শুদ্ধাচারী প্রাণনা-কে সবুজতর করার জন্যে একটি প্রাণোদনা ভেতরে কাজ করে আপনাতেই। নিজে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি, আবার সেই স্বপ্নে অন্যকে তাড়িত করতে পারলে পুলক অনুভব করি। সেই স্বপ্নকে ছোঁয়ার জন্যে কিভাবে সিঁড়ি নির্মাণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবি। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে যায় ভাবনাগুলোও। মাঝেমাঝে কলমের নিবের ছোঁয়া পেয়ে ডায়েরির পাতায় তারা জেগে ওঠে। আমি এই ধরণের লেখাগুলোর নাম দিয়েছি 'প্রবন্ধগল্প'। দুই হাজার বারো থেকে দুই হাজার ষোলো; পড়ন্ত কৈশোর থেকে বাড়ন্ত তারুণ্য অবধি এই পাঁচ বছরে প্রকাশিত 'প্রবন্ধ'গুলো থেকে কিছু লেখা নিয়ে 'শেষ রাত্রির গল্পগুলো'র পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত হোল।
লেখাগুলোর ধরণ ও প্রকৃতিতে বৈচিত্র আছে। কখনো হালকা চালে গল্পনির্ভর লেখা, কখনো তথ্যসূত্র ও টীকা-টিপ্পনীতে ভরপুর পুরোদস্তুর একাডেমিক লেখার মতোই। কখনো চোখে পড়তবে প্রবন্ধের মোড়কে গল্প বলার কোশেশ। অথবা গল্পের আবহে প্রবন্ধের অবতারণা।
আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব এর জন্ম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা সদরে, ১৯৯৭ ইসাব্দের ২২ জানুয়ারি। ড. মাহমুদুল হক ওসমানি ও জাহান আরা হযেসমিন এর প্রথম সন্তান। অধ্যয়ন করছেন স্নাতক সম্মান (৪র্থ বর্ষ), আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা সাত। লেখালেখির পাশাপাশি বিতর্ক অঙ্গনে সরব পদচারণী। ২০১৭ ইসাব্দে কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন। ২০১৮ ইসাব্দে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সিভিলাইজেশন কনফারেন্সে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। লেখকের অন্যান্য গ্রন্থ: এক মুঠো সবুজের স্বপ্ন (কাব্য), শেষরাত্রির গল্পগুলো (প্রবন্ধগল্প), সবুজ নায়ের মাঝি (অণুকাব্য), বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর (প্রবন্ধগল্প), সবুজ রাতের কোলজি (কাব্য), সবুজ চাঁদে নীল জোছনা (কাব্য)।
এই ছেলেটাকে নিয়ে আমার ঈর্ষা হয়। ভার্সিটির থার্ড ইয়ারে পড়া ছেলে কিভাবে এত চিন্তাশীল আর কাব্যিক প্রতিভার অধিকারি হয়! যতক্ষণ ধরে বইটা পড়েছি, একটা কথাই বারবার মাথায় এসেছে। এতসুন্দর করে কিভাবে লিখে? এতসুন্দর কাব্যিক প্রতিভা কোথা থেকে পেল সে? মাশাআল্লাহ। পুরো বইটা জুড়ে পেয়েছি আবেগ, হাসি, আনন্দ, সাথে পেয়েছি ভ্রমণকাহিনীর স্বাদ। কত সুন্দর আর সহজভাবে গল্পের ছলে দাঁতভাঙা কথা বলে দিলো! অসাধারণ ভাষাশৈলী আর উন্নত শব্দভাণ্ডার। আর বইটায় এতটা আবেগ ছিল যে, পড়েছি আর আবেগের মায়াজালে আটকা পড়েছি। আর ওর অনুবাদের দক্ষতা! আল্লাহ! কাব্যানুবাদগুলো নিজ ডায়েরিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি। যখনই সুযোগ পাবো, মেরে দিবো। :D
বইয়ের কন্টেন্ট নিয়ে as usual কিছু বলবো না। সৃষ্টিকর্তা লেখকের সাহিত্য, কাব্য ও ভাষাচর্চাকে আরো সমৃদ্ধ করুক।
কবে থেকে যে পড়তে চেয়েছিলাম! কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা ঠিক তখনই আমাকে এই বইটি পড়ার তাওফিক দিলেন, যখন আমার এই বইতে থাকা রিমাইন্ডারস এর সবচেয়ে বেশি দরকার।
বইটির নাম দেখে ভেবেছিলাম বইটি হয়তো তাহাজ্জুদ রিলেটেড অথবা দু'আ কবুলের গল্প নিয়ে লেখা, যদিও সেরকম না যেমন আমার ধারণা ছিল! কিন্তু এই বই থেকে একটি দু'আ আমি খুব ভালো ভাবেই শিখে গেছি। আল্লাহুম্মাগফিরলী নজীব ভাই।
প্রথমত এটা বলে রাখি,নজীব ভাইয়ের 'তারাফুল' বইটি আমি প্রথমে পড়ি।আমি বইটির একেকটা পৃষ্ঠা পড়ছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম, ঠিক 'শেষরাত্রির গল্পগুলো ' বইটিতেও একই অবস্থা।এতো সুন্দর লেখা, কী সুন্দর করে সবকিছু ব্যাখ্যা করে। . আমার একটা অবস্থা কী,জাহেলিয়াত জীবন ছাড়ার পর তাওবাহ করা স্বত্তেও একই পাপগুলো আবার করে বসি। মানে নিজের নফসের সাথে যুদ্ধ করেই চলছি! 'শেষরাত্রির গল্পগুলো' বইটির কিছু লেখা আমার জন্যই! . আপনি তাওবাহ করছেন পাপের জন্য, আবার তা জেনে বা না জেনে করে ফেলছেন?এটা থেকে মুক্তির উপায় কী?
বইটিতে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে- "আপনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার অবাধ্যতাকে খুবই গর্হিত এবং নিন্দনীয় কাজ মনে করেন। আপনার প্রিয়তম স্রষ্টা কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো বিষয়কে আপন করে নিতে আপনার মন সায় দেয় না। তবুও অলক্ষ্যে, সময়ে- অসময়ে আপনি তাতে জড়িয়ে পড়ছেন।তার জন্য আবার প্রচন্ড অনুশোচনাও হচ্ছে। তাওবাহ করে ফিরে আসার পর আপনার প্রতিজ্ঞা নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে; যার কারণে আবারো পুরানো পথেই হাঁটছেন। তারপর আবারও অনুশোচনায় পুড়ছেন!
মোটামুটি এই অস্বস্তিকর চক্র থেকে এখন আপনি মুক্তি পেতে চান।তার জন্য নিজেকে প্রবোধ দিতে হবে,আর সেটা কিভাবে? জানতে হলে বইটি পড়ে ফেলুন❤এক কথায় সুন্দর বইটি। . আরো কিছু সুন্দর কথা এতো সুন্দর করে বুঝিয়েছেন, যা বলার বাহিরে।আর সবচেয়ে মজার বিষয়টি হলো, কবিতা! কবিতার কারণেই নজীব ভাইয়ের বই আমায় বেশী টানে!
২য় বারের মতো পড়লাম ‘শেষ রাত্রির গল্পগুলো’। এর আগে বইটি পড়েছিলাম প্রায় দু’বছর আগে। তাহাজ্জুদ নিয়ে যে গল্প বইয়ে আছে তা পড়ার নিয়তে আবার হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু লেখক যেই ধাঁচে লেখেন সে ধরনের লিখা আমার প্রিয়। তার উপর এই বইয়ের বিষয়বস্তু সমূহও এক কথায় অসাধারণ। তাই পুরোটা না পড়ে আর রেখে দিতে পারিনি। এই বইয়ের লেখক হলেন আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম ‘আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব’ ভাই। . বইটির প্রথম দিকের গল্প তাহাজ্জুদ নিয়ে লিখা। কিভাবে তাহাজ্জুদ শুরু করা যায়, কেন আমাদের তাহাজ্জুদ পড়া দরকার বা, যারা অনিয়মিতভাবে তাহাজ্জুদ পড়ে কিভাবে নিয়মিত হওয়া যায় তা নিয়ে লিখা। মূলত এই গল্প পড়ার জন্যই ২য় বারের মতো বইটি আমার হাতে নেওয়া যাতে তাহাজ্জুদের জন্য কিছু মোটিভেশান পেতে পারি। বইয়ের প্রতিটা গল্প আপনাকে ইসলামের পথে প্রচুর প্রেরণা যোগাবে। লেখকের বাইতুল্লাহর জিয়ারতের গল্পগুলো চোখে প্রায় পানি নিয়ে এসেছিল। লেখক প্রত্যেকটা গল্প কতটা যত্ন আর আবেগ দিয়ে লিখেছেন তা পড়লেই বুঝা যায়। প্রতিটা গল্পেই আমি নিজেকে আচ্ছামতন ‘শাসিয়ে নেয়ার’ মতো উপকরণ আছে এখানে। . রাসূল(সাঃ) এর প্রতি লেখকের ছোটবেলার ভালোবাসার যে প্রকাশ তাতেও চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠার জন্য যথেষ্ট। পাঞ্জাবি পড়া কিন্তু ছোটবেলায় দাড়ি না থাকায় মুখে কলম দিয়ে কালো করে দিয়ে এঁকে দাড়ি আঁকানোতে লেখকের ছেলেবেলার রাসূলপ্রেম বুঝা যায়। . আরেকটি গল্পের কথা বলতেই হয় তাহলো ‘বিড়ালওয়ালার গল্প’। আবু হুরায়রা (রাঃ) ছোট ছোট বাচ্চাদের পেলে তাদের আদর করে কাছে টেনে নিতেন আর তাদের দিয়ে নিজের জন্য দোয়া করিয়ে নিতেন। বাচ্চাদের বলতে বলতেন ‘আল্লাহুম্মাগফির লি আবি হুরায়রা’। একই ধরনের কাজ করতেন ‘উমার (রাঃ) ও। তো আমিও কেন বাদ যাব? আমিও করি সাথে। . ‘আল্লাহুম্মাগফির লি আবি হুরায়রা’, ‘আল্লাহুম্মাগফির লি ‘উমার’, ‘আল্লাহুম্মাগফির লি নজীব’, ‘আল্লাহুম্মাগফির লি রেজাউল বাবলু’।
মনে হলো এক চুমুক ঠান্ডা পানি পান করলাম।বইটার শেষ পাতায় এসে মন ভার হলো।পানি শেষ কিন্তু তৃষ্ণা যে মিটেনি।
মনে করুন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনেক ভালোবাসা আপনি আরেকজন নবী প্রেমিক মানুষের মুখে নবীজির গল্প শুনলেন;ভালোবাসার গল্প শুনলেন। এইতো বেশ!বায়তুল্লাহর গল্প শুনে যাদের চোখের বাঁধ ভাঙ্গে অল্পতে তাদের এটা নির্জনে পড়ার পরামর্শ রইল।ছোট ভাইবোনদের কেমনে কাছে টেনে নাসীহা দিতে হয় তা শিখলাম।
Good book, quite inspiring. The writer successfully conveyed his message across and it was very easy to follow. His knowledge base is also very wide ma sha Allah. May Allah give barakah in his life and his writing and accept this from him.
ধরুন, আপনি কাউকে ভালোবাসেন। খুব, খুউব ভালোবাসেন। আবেগসিক্ত অনুরাগে হৃদয়ে প্রীতিময় দ্যোতনা সৃষ্টি করেন। ভেবে দেখুন তো, আপনার অনেক অনেক প্রিয় ভালোবাসার মানুষটির সাথে আপনি কখন কথা বলবেন? হৃদয়ের অব্যাক্ত অনুভূতিগুলো কখন ব্যাক্ত করবেন? নিশ্চয়ই একান্তে! তাই না? আল্লাহ পূর্ববর্তী অনেক কিতাবে বলেছেন, "যে আমার ভালোবাসা দ���বী করে, সে মিথ্যা বলে। যখন রাত নেমে আসে, সে আমাকে ফেলে কিভাবে ঘুমিয়ে থাকে?” এই অংশটা পড়ার পর কত বার যে আনমনা হয়েছি বলার বাইরে। মুখে সবাই বলে দিতে পারি আল্লাহ কে নিজের জীবনের চাইতে খুব বেশি ভালোবাসি কিন্তু কতজন পারি শেষ রাতের ঘুম থেকে উঠে সে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে? 'শেষ রাত্রির গল্পগুলো' প্রচলিত অর্থে কোন গল্পগ্রন্থ নয়। বলা যেতে পারে একটি গল্পের আসর। এই আসরে লেখক ও পাঠক পরস্পর গল্প করবেন। গল্প করতে করতে আনমনা হবেন এবং চিন্তা - প্রতিচিন্তায় ঋদ্ধ হবেন। ঠিক তাই, এই বইটির গল্পগুলো পড়ার সময় প্রতিবারে আনমনা না হয়ে পারিনি। আমাদের সবার কমবেশি একটা অভিযোগ হচ্ছে, আমি অনেক চেষ্টা করেও রাত্রে তাহাজ্জুদের জন্য ঘুম থেকে জাগতে পারি না। এই প্রতিষেধক হিসাবে হাসান আল-বাসরী অল্প কথায় সমাধান দিয়েছেন- ‘তুমি দিনের বেলায় পাপ কাজ থেকে দূরে থাকো, তাহলে রাতের বেলা সালাতের জন্য জাগ্রত হতে পারবে’ ; রাত্রে সালাতে দন্ডায়মান হওয়াটা অনেক বড় মর্যাদার ব্যাপার। আর পাপীকে কখনো এই মর্যাদা দেওয়া হয় না। এই বইটি তে অনেক গুলো অসাধারণ আনমনা আর ভাবনায় ডুবে যাওয়ার মত গল্প আছে। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিটি গল্পের মধ্যে অসাধারণ কিছু কবিতা দেওয়া আছে, সেগুলো গল্পগুলো কে আরো শ্রুতিমধুর করে তুলেছে - "বুকের খাতায় খুব যতনে একটা স্বপন আঁকি ফিরদাউসের ফুল বাগানে আমি হবো পাখি।