ইতিহাস তো দুই ধরনের। প্রথাগত ইতিহাস তথা রাজাগজাদের কথাবার্তা আর অপ্রথাগত ইতিহাস বলতে সাধারণ জনতার সংগ্রামের ইতিহাস, তাঁদের জীবনকথা ইত্যাদি।
বইটির লেখক তেসলিম চৌধুরী প্রথাগত ঐতিহাসিক। তাই সঙ্গতকারণেই তাঁর বইতে জায়গা হয়নি নিম্নবর্গের।
ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যযুগ ইতিহাসের সূচনাকারী বলেছেন তরুণ মুহাম্মদ বিন কাশিমকে। তাঁর সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসকগোষ্ঠী তৈরি করেনি। কিন্তু মুসলমান সালতানাত প্রতিষ্ঠার বীজটি তিনিই বপন করেছিলেন।
সিন্ধু জয়ের পর দীর্ঘকাল ভারতমুখী হয় নি মুসলমানরা। সুলতান মাহমুদ যুদ্ধ করেছেন রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক কারণে। ভারতে স্থায়ী হবার কোনো লক্ষণ তিনি দেখান নি।
মূলত, মুহাম্মদ ঘুরীর তরাইনের দুই নাম্বার যুদ্ধ জয়ই ভারতে মুসলমান শাসকগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ঘুরীর যোগ্যতম সেনাপতি ও এককালের ক্রীতদাস কুতুবউদ্দিন আইবকের রাজত্বকালে দিল্লির আনুগত্য স্বীকার করে তুর্কি ভবঘুরে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর বাংলা জয় সমগ্র বাংলার ইতিহাসকে পাল্টে দেয়।
বখতিয়ারের জয়রথ হিমালয়ের দিকে গিয়ে চরমব্যর্থ হয়। এ শোকেই মৃত্যু ঘটে বখতিয়ারের।
এদিকে দিল্লিতে আইবকের পর তুঘলকি পরিবার শাসক গোষ্ঠী বনে যায়। তুগলকদের রক্ত ঝরিয়ে জালালউদ্দিন খলজী দিল্লির সিংহাসন দখল করেন। আবার, নিজের চাচা ও শ্বশুর জালাল খলজীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে সিংহাসন বাগিয়ে নেন আলাউদ্দিন খলজী। দুর্ধর্ষ আলাউদ্দিনের শেষটা ভালো যায় নি, তার মৃত্যুর সাথে সাথে অস্ত যেতে থাকে খলজীদের শাসনের।
আলাউদ্দিনের প্রিয় খোজা মালিক কাফুর ক্ষমতা দখল করেন। তার থেকে ক্ষমতা যায় আলাউদ্দিনের অযোগ্য পুত্রের হাতে। একে হত্যা করে আরেকজন ক্ষমতা নিয়ে নেয়। এভাবে একের পর এক রাজবংশ ক্ষমতা নেয়, আবার বিদায় নেয়।
সবার হাত রক্তে রাঙা। এই বইতে একটা কথা পরিষ্কার যে, ক্ষমতায় গিয়ে সবাই ভুলে গিয়েছিল কেন আগের শাসকের পতন হয়েছিল। আর সেই ভুলে যাওয়াটা তাদেরও পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।