ছোটবেলা থেকেই, আমি এমন কিছু করতে চাইতাম যেটা অন্যদের থেকে আলাদা। তার মানে এই নয় যে, সবাই পোশাক পরে, সুতরাং আমায় দিগম্বর হয়ে ঘুরতে হবে। ধরুন, আমার বয়সের সবাই জিনস পরে, আমি পরি না। কর্ডের প্যান্ট অথবা কারগো পরি। হায়ার সেকেন্ডারির পর আমার বেশিরভাগ বন্ধু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে গেল, আমি যাইনি। প্রেসিডেন্সিতে স্ট্যাটিস্টিকস অনার্স পড়লাম, যে সাবজেক্ট খুবই কঠিন এবং খুব অল্প লোকে পড়ে। আলাদা কিছু করার অনেক ফল ভুগেছি যদিও, সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। আমি লেখালিখি করব এমন কথা ভুল করেও ভাবিনি। এমনি মজা করার জন্য লিখতাম। তখন শ্রদ্ধেয় শ্রী কবীর সুমনের কাছে গান শিখতাম। উনি আমার লেখা পড়লেন, প্রশংসা করলেন এবং আরও লিখতে বললেন। তারপর আমি লেখালিখির ব্যাপারে সিরিয়াস হলাম। কিন্তু কী লিখব! কবিতায় আমার অ্যালার্জি আছে। যেহেতু ছোটবেলা থেকেই আমি এমন কিছু করতে চাইতাম যেটা অন্যদের থেকে আলাদা, তাই মজার গদ্য লিখতে শুরু করলাম। মজার লেখা খুব বেশি মানুষ লেখেন না। আস্তে আস্তে 'আনন্দবাজার পত্রিকা', 'সংবাদ প্রতিদিন', 'উত্তরবঙ্গ সংবাদ' এবং কয়েকটি ম্যাগাজিনে বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হল। আগের বছর বইমেলায় প্রথম বই 'লাকি থারটিন' প্রকাশিত হয়েছিল। বইটা অনেকে পড়লেন, প্রশংসা করলেন, খিস্তি করলেন। হয়তো কালের নিয়মে সেই বইটি হারিয়েও যাবে। বেশ কিছু লেখা জমে গেছিল, তাই দ্বিতীয় বইটি করা। এখানে পূর্বপ্রকাশিত বেশ কিছু লেখা স্থান পেয়েছে। 'সৃষ্টিসুখ'-এর রোহণদা না থাকলে এই বই কোনওদিনই প্রকাশিত হত না। ওঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি লেখক নয়, কারণ লিখলেই তো আর লেখক হওয়া যায় না। আমার লেখা পড়ে হয়তো কিছু মানুষ মজা পাবেন, হাসবেন এইটুকুই...
হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, পড়ার পর দীর্ঘদিন ধরে বুকশেলফে ঘুমিয়ে থাকলেও বইটার রিভিউ দেওয়া হয়নি। অতঃপর এই লেখার চেষ্টা। ফেসবুক করেন তথা পড়েন, এমন বাঙালির সঙ্গে সুমন সরকারের লেখার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না। অসামান্য রসবোধ, আত্মদংশন, সাংস্কৃতিক স্বমেহন এবং অ্যানাল ফেটিশের অপরূপ সমাহার ঘটে তাঁর লেখায়। এই বইয়েও রয়েছে তেমন একগুচ্ছ লেখা। তারা হল~ ১. আপুলিশ-আপুলিশ ২. প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট ৩. এক-দুই-তিন ৪. একটি অমীমাংসিত স্টুল-টেস্ট ৫. যারা আসে না জানিয়ে ৬. ঘোরেল বাঙালি ৭. আইবুড়ো সমস্যা ৮. এক থা টয়লেট ৯. মাঝে মাঝে বারবার ১০. হাতের লেখা ও ডাক্তারবাবু ১১. কিচ্ছু পাইনি ১২. কিছু বাঙালি বিয়েবাড়ির গপ্পো ১৩. রোগা মানুষের ব্যালাড ১৪. ফাউ বেশিরভাগ গল্পই মল-মূত্র তথা বাহ্যবস্তুর চারপাশে আবর্তিত হয়েছে। শুধু মাঝেমধ্যে ভাগাড়ের পাশে দাঁড়ানো অযত্নের গাছ থেকে ঝরে পড়া ফুলের মতো হয়ে এসেছে আমাদের অর্থহীন জীবন নিয়ে কিছু অসহায় অকৃত্রিম ভাবনা। পড়া বা না-পড়া এবার আপনার হাতে।