অভীক সরকারের জন্ম পয়লা জুন, উনিশশো উনআশি সালে। বেড়ে ওঠা প্রাচীন শহর হাওড়ার অলিগলিতে। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, মা স্কুল শিক্ষিকা। রয়েছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পেশায় সেলসম্যান, কর্মসূত্রে ঘুরেছেন পূর্ব-ভারতের প্রায় সব শহর ও গ্রাম। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাসা বেঁধেছেন হায়দ্রাবাদ, পাটনা, মুম্বাই ইত্যাদি বিভিন্ন শহরে। শখের বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশক। লেখালেখির শুরু আন্তর্জালে ও বিভিন্ন ব্লগে। প্রকাশিত বইগুলো হল মার্কেট ভিজিট, তিতিরপাখি ও প্রিন্সেস (সহলেখক অনুষ্টুপ শেঠ), এবং ইনকুইজিশন, খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ, চক্রসম্বরের পুঁথি, ইত্যাদি। বিবাহিত। কন্যা সন্তানের পিতা। ভালোবাসেন ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল, ইয়ারবন্ধু এবং ইতিহাস।
অবশেষে! বাঙালের হাইকোর্ট দর্শন-এর মতো আমার দ্বারা “মার্কেট ভিজিট এবং অন্যান্য” পাঠ সমাপ্ত হল। আমি কি খুব বড়ো একটা কাজ করলাম? লোকে বলে, ভালো ভালো বই পড়লে নাকি পুণ্য নামক একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট জিনিস কিঞ্চিদধিক মাত্রায় করায়ত্ত হয়। সেটাকে অ্যাডজাস্ট করার জন্য আমি পাঠান্তে উক্ত বইটির উদ্দেশে, এবং মেজাজ প্রচণ্ড মার্তণ্ডতুল্য হলে বইয়ের লেখকটির উদ্দেশে লোষ্ট্রবৎ মন্তব্যাদি নিক্ষেপ করি, যাতে বেশি পুণ্যের ঠেলায় আমার পাঠক্রমে খুনখারাপির বদলে ভক্তিভাবের অনুপ্রবেশ না ঘটে। বলতেই হচ্ছে, এই বইটি পড়ে আমি যারপরনাই নিশ্চিন্ত বোধ করছি। এটি পড়ার ফলে অন্তকাল বা এন্তেকাল সমাসন্ন হলেও আমাকে “বড়ো ভালো লোক” বলার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাবেন না সেইসব মহাত্মারা, যাঁরা কী পড়লে পাঠকের সুকোমল চিত্ত তথা কচি ও তাজা প্রাণে আগুন লাগা ঠেকানো যায়, সেটা ঠিক করার দালালি নিয়েছেন। এই বইয়ে কী আছে? আছে মদ্যপান এবং অন্যান্য বিবিধ রিপুতাড়িত রক্তমাংসের একজনের চোখে, মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর দর্শনের বর্ণনা। আছে হো-হো হেঁ-হেঁ-র মাঝে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো মর্মান্তিক, অথচ নিকষিত হেমতুল্য সত্যের ঝলসে ওঠা। আছে জীবনের অজস্র দেনা-পাওনা মিটিয়েও তাকে একই সঙ্গে রঙিন অথচ সাদা চোখে দেখার আখ্যান, যা পড়া শেষ হলে পাঠক স্তব্ধবাক হয়ে ভাবতে বাধ্য হয়, “এভাবে কেন কথাটা আগে ভাবিনি?” আছে নারীমাংসলোলুপ পুরুষের সোনা-বাঁধানো দাঁতে বাজারের আলো পড়ে তৈরি হওয়া কদর্য রোশনাইয়ের সামনে এক ভাইয়ের অসহায়তার কথা। আছে বাবা আর মেয়ের খুনসুটির অন্তরালে প্রত্যেক বাবা’র ভেতরের ভয়ের, গর্বের, মজার আলতো আলপনা। আছে ভয়, সংশয়, উত্তেজনা, এবং অপ্রত্যাশিতের আঘাত মিশিয়ে তৈরি করা কিছু লেখা, যাদের আপনি যেকোনো নামে ডাকতে পারেন। সর্বোপরি আছে এক সটান, দাপুটে, ধারে ও ভারে অন্য অনেক প্রোথিত-যশা নামসর্বস্ব সাহিত্যিককে বলে-বলে গোল দেওয়া এক সুতীব্র লাল-হলুদ ভাষা! অধমও চন্দ্রবংশীয়, কিন্তু শ্রী সরকারের পেশিতুল্য ভাষার সামনে আমার দুর্বল বাক্যসমষ্টি স্ফোটমাত্র। কিছু বুঝলেন? নাঃ, আপনাদের জন্য আস্ত সূচিপত্রটাই তুলে দিতে হচ্ছে। • প্যারিসে নিশিবাসরে • অ্যাক্ট অফ গড o আগের স্টেশন o কিপটে o রায়, অভিজিৎ রায় • দাম্পত্য • অথ হোস্টেল সিরিজ o অথ হোস্টেল সিরিজ: পার্ট ১ o অথ হোস্টেল সিরিজ: পার্ট ২ o অথ হোস্টেল সিরিজ: পার্ট ৩ o অথ হোস্টেল সিরিজ: পার্ট ৪ • ডিলেমা • মার্কেট ভিজিট o মার্কেট ভিজিট ১ o মার্কেট ভিজিট ২ o মার্কেট ভিজিট ৩ o মার্কেট ভিজিট ৪ o মার্কেট ভিজিট ৫ o মার্কেট ভিজিট ৬ o মার্কেট ভিজিট ৭ o মার্কেট ভিজিট ৮ o মার্কেট ভিজিট ৯ o মার্কেট ভিজিট ১০ o মার্কেট ভিজিট ১১ o মার্কেট ভিজিট ১২ • অথ গুরুপ্রসাদী কথা • কিউবিকল • প্রিন্সেস o প্রিন্সেস o একটি নিট পেগ ও মুম্বাই প্রবাসের ইতিবৃত্ত o হার্ট অ্যাটাক • পাটায়াতে পটলকুমার
যেসব সুধীজন ফেসবুকে শ্রী সরকারের মুক্তগদ্য, যাকে মিষ্টভাষীরা মুক্তো-গদ্য বলে থাকেন, নিয়মিত পাঠ করে থাকেন, তাঁরা অনেকেই হয়তো এই লেখাগুলো মনে করতে পারবেন। চাই কি তাতে তিনি কী কমেন্টিয়েছিলেন, তাও হয়তো তাঁদের মনে পড়বে। তাহলে বই হিসেবে এগুলো পড়বেন কেন? হুঁ-হুঁ বাওয়া, হিসেবি বাঙালি ফ্রিতে পাওয়া মাল আবার পয়সা খচ্চা করে কিনবে? তারে এমন ম্যাড়া পাও নাই! কিন্তু আমি কিনেছি। খবরে প্রকাশ, প্রথম সংস্করণ শেষ করে বইটার দ্বিতীয় সংস্করণও নাকি নিঃশেষিতপ্রায়। কেন? কারণ এই নাতিস্থূল, সুমুদ্রিত, টাইপো-বর্জিত বইটিতে সঙ্কলিত লেখাগুলো গ্লেনফিডিচ অন-দ্য-রকস-এর মতোই অমোঘ আকর্ষণ উৎপাদনে সক্ষম। একবারে হুড়মুড়িয়ে নয়, বরং অল্প-অল্প করে, সময় নিয়ে, এদের রসাস্বাদন করুন, হে পাঠক। অচিরেই আপনি আত্মবিস্মৃত হবেন, এবং বুঝবেন, নিলাজ, নির্ভীক, ও আপাতভাবে ‘আই ডোন্ট কেয়ার কানাকড়ি, জানিস আমি স্যান্ডো করি!’ গদ্যে আসলে এই লেখাগুলো আপনাকে বলছে, “ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা, ছোটো ছোটো দুঃখকথা, নিতান্তই সহজ সরল, সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি, তারই দু-চারিটা অশ্রুজল। ………… সংসারের দশদিশি ঝরিতেছে অহর্নিশি ঝরঝর বরষার মতো – ক্ষণ-অশ্রু, ক্ষণ-হাসি পড়িতেছে রাশি রাশি, শব্দ তার শুনি অবিরত। সেইসব হেলাফেলা, নিমেষের লীলাখেলা, চারিদিকে করি স্তূপাকার, তাই দিয়ে করি সৃষ্টি একটি বিস্মৃতিবৃষ্টি, জীবনের শ্রাবণনিশার”।
চলুন, অভীক সরকারের গড়া এই স্কচ, বিরিয়ানি, হাসিঠাট্টা, এবং ক্যালেইডোস্কোপের বর্ণচ্ছটার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় ও যন্ত্রণার্ত অন্ধকারের পৃথিবীতে ঢুকে পড়া যাক।
আগেও পড়েছি তবে হামলে পড়ে, আর তারপর চার মাসের অসুস্থতা। আবার পড়লাম, একই রকম লাগল, দুর্দান্ত। এই বইয়ের সুচীপত্র দেওয়া দরকার মনে হয় আগে, তারপর না হয় প্রতিক্রিয়া জানাবো ভালো করে।
প্যারিসে নিশিবাসরে
অ্যাক্ট অফ গড
আগের স্টেশন
কিপটে
রায়, অভিজিৎ রায়
দাম্পত্য
অথ হোস্টেল সিরিজ পার্ট এক থেকে চার
ডিলেমা
মার্কেট ভিজিট এক থেকে বারো
গুরুপ্রসাদী কথা
কিউবিকল
প্রিন্সেস
প্রিন্সেস
একটি নীট পেগ ও মুম্বই প্রবাসের ইতিবৃত্ত
হার্ট অ্যাটাক
পাটায়াতে পটলকুমার
এর মধ্যে সেরা নিঃসন্দেহে দাম্পত্য, সুজন আর স্নিগ্ধার ফাইন্যাল ঝামেলাটা আমি আমার বরকে পড়েও শুনিয়েছি। অথ হোস্টেল সিরিজের আর প্রিন্সেসের রচনাগুলিও আমার দারুণ লেগেছে। চোখ ভেজানোর জন্য রয়েছে অ্যাক্ট অফ গডের রচনাগুলি। বিশেষত প্রথম ও তৃতীয়। আর মার্কেট ভিজিট ৫ পড়ার পর কাল রাতে আর কিছু পড়তে ইচ্ছে করেনি, খুব মনখারাপ হয়ে গেছিল। প্রিন্সেস নিয়ে আরেকটু কিছু বলার ইচ্ছে আছে। ওইরকম বাপকে সিধে করার জন্য এইরকম প্রিন্সেস খুব দরকার। বিশেষত শেষেরটা পড়ে আমার দুর্দান্ত লেগেছে। খ্যাঁকখ্যাঁক হাসির জন্য গুরুপ্রসাদী কথা অবশ্যই পড়া দরকার। কিউবিকল নিয়ে আর কি বলব, ওটা পড়েও আমি অনেকক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে বসে ছিলাম।প্যারিসে নিশিবাসর আর পাটায়াতে পটলকুমার দুটো পড়েই মিশ্র অভিজ্ঞতা, হাসি কান্না মেশানো। আর আমি বাবা আমার কত্তাকে একা ব্যাঙ্কক যেতে দিচ্ছি না একেবারেই।
লেখাগুলির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, একদমই ছুৎমার্গ ছাড়া। রগরগে যৌন বিবরণহীন, কিন্তু প্রাপ্তমনষ্কদের লেখা। আমার দুইবারই দুর্দান্ত লাগল। পরের বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
কিছু লেখা আমার আগে ফেসবুকের পাতাতেই পড়া, তবুও দুইবারই অসাধারণ লেগেছে। আর দ্য ক্যাফে টেবল এর প্রকাশনাকে আর কি বলব, খুব যত্ন করে ছেপেছেন, মলাট, পাতার কোয়ালিটি, বা���ান সবই খুব ভালো। বইয়ের শেষে লেখক পরিচয়টাও পড়ার মত।