বাসবকে নিয়ে লেখা এই চারটি উপন্যাস— যার প্রথমটি আবার দু'টি রহস্যভেদের সাক্ষী— পড়লে (আমার মতো বহু পাঠকেরই দ্বিতীয় পাঠ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি) একটা কথা বোঝা যায়। ব্যোমকেশকে নিয়ে লেখা গল্প-উপন্যাসের সূক্ষ্ম বুদ্ধির খেলা আর শরদিন্দুর মনোলোভা লেখনী না থাকলেও এই কাহিনিরা সার্থক মনস্তত্ত্ব-নির্ভর গোয়েন্দা গল্প। চোখ-ধাঁধানো অ্যাকশনের পরিবর্তে এতে আমরা পাই পূর্ব ও উত্তর ভারতের রুক্ষ, ধূলিধূসর, আর শিল্পায়নের ধোঁয়ায় কালো এক পটভূমি— যেখানে ষড়রিপুর প্রাবল্যের শিকার হয়ে ঝরে যায় প্রাণ। আর এই কঠোর পরিপ্রেক্ষিতে, একান্ত নিষ্করুণ ও কর্কশ ভঙ্গিতে সত্যসন্ধান করেন বাসব। হয়তো পালিশ ও প্রচারের অভাবে এই লেখাগুলো আজকের পাঠকের রাডারের নীচে থেকে গেছে৷ কিন্তু এই উপেক্ষা লেখক ও বাসবের প্রাপ্য নয়। পড়ে দেখলে সম্ভবত আপনিও আমার সঙ্গে একমত হবেন।