এলিনা। এক সুপারজিনিয়াস শিশু। ওর মা রিয়া একজন বিজ্ঞানী। এলিনার মা এলিনার মস্তিষ্কের অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যাপারে বুঝতে পেরে ওকে নিয়ে সবার অগোচরে পালিয়ে গেল। এলিনাকে সে বড় করতে চায় নিভৃতে, আর দশটা সাধারণ শিশুর মতো। কিন্তু এক স্নায়ু গবেষকের নজরে পড়ে গেল তারা। এলিনাকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়ে গেল প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. হুদার গোপন ল্যাবরেটরিতে। রিয়া চায় এলিনাকে রক্ষা করে একটা স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে। এলিনা কি পাবে কাঙ্ক্ষিত সহজ জীবন?
তানজিনা হোসেনের জন্ম ১৯৭৫ সালে। বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞান কল্পগল্প ও ফিকশন দিয়ে লেখালেখির শুরু। পাশাপাশি নিয়মিত ছোটগল্প লিখে আসছেন। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অগ্নিপায়ী’ (২০০৬)। তানজিনা হোসেন পেশায় চিকিৎসক। শিক্ষকতা করেন ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে।
তানজিনা হোসেনের বেশ কিছু ছোট পরিসরের সাই ফাই চোখে পড়েছে কিশোর আলোতে- পড়ে বেশ ভালোই লেগেছে। তাঁর সায়েন্স ফিকশন হার্ডকোর। সবগুলো গল্পেই কল্পবিজ্ঞানের তুলনায় সত্যিকার বিজ্ঞান ব্যাখ্যায় তাঁর উৎসাহ বেশি মনে হয়েছে। 'এলিনা'ও ব্যাতিক্রম নয়। এলিনার কাহিনী মূলত গড়ে উঠেছে নিউরোসায়েন্স ও জেনেটিক্সকে ঘিরে। তবে হার্ডকোর লিখতে গিয়ে তানজিনা হোসেন বোধহয় বইটাতে একটু বেশিই খটমট শব্দ ব্যবহার করে ফেলছেন। ট্রান্সপোজিশনাল এলিমেন্ট, টেলোমেরিক হেটারোক্রোমাটিন, এন্ডরাইবোনিউক্লিয়েজ এনজাইম- এরকম জিনিসগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় আমাকে রীতিমতো গুগল করতে হয়েছে! :3 তানজিনা হোসেনের গল্প বলার ধরনটা চমৎকার, লেখনীও সুন্দর। মাত্র ৬২ পৃঠার সায়েন্স ফিকশন হলেও লেখক কোনোকিছুর কমতি না রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন। অবশ্য একটা প্রশ্ন এখনো আছে আমার। এলিনার মস্তিষ্কের পরিবর্তনের কারণ জেনোমিক শক। কিন্তু গল্পের প্রথমের শিশুগুলো কিংবা কেনীয় আদিবাসী শিশুগুলোর ব্রেন ম্যাটার ভারী হওয়ার কারণ কী? ব্যাপারটা কি পুরোপুরি প্রাকৃতিক? যাই হোক, নিউরোসায়েন্স বা জেনেটিক্স নিয়ে তেমন জানাশোনা নেই। 'এলিনা' বই পড়ে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এসব নিয়ে একটু পড়াশোনা করার। আফটার অল, দিস ইজ দি সেঞ্চুরি অফ জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং! আমার ধারণা তানজিনা হোসেন যদি এভাবে চালিয়ে যান, একসময় খুব জনপ্রিয় লেখক হবেন তিনি। তবে আমাদের মতো আমপাঠকদের ধরতে হলে বিজ্ঞানের ব্যাপারগুলো আরেকটু খোলাসা করতে হবে। জাফর ইকবাল স্যার, হুমায়ূন আহমেদের বেশ ক'টা বইয়ে দেখেছি শেষ পৃষ্ঠায় টীকা দেওয়া থাকে! সেটাও করা যেতে পারে।