কবি গোলাম মোস্তফার 'বিশ্বনবী' একটি আশ্চর্যরূপ সফল গ্রন্থ। হৃদয়ের আবেগ ও বিশ্বাস শব্দে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, আন্তরিক অনুভূতি বর্ণনায় যেভাবে উচ্চকিত হয়েছে এবং চিত্তের উপলব্ধিজনিত আনন্দ ভাষার আবহে যেভাবে জাগ্রত হয়েছে তার তুলনা আমাদের গদ্য সাহিত্যে সত্যিই বিরল। যদিও কখনও কখনও কবি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিষ্ঠায় যুক্তির সমর্থন খুঁজেছেন কিন্তু সে সমস্ত যুক্তি উচ্ছ্বাসে সচকিত এবং বিশ্বাসের অবিচল নিষ্ঠায় প্রবহমান। (—সৈয়দ আলী আহসান, ১৯৬৮ সালে দশম সংস্করণের ভূমিকা)
গোলাম মোস্তফা একজন বাঙালি লেখক এবং কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রেঁনেসার কবি নামে পরিচিত।
গোলাম মোস্তফার জন্ম ১৮৯৭ সালে যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার শৈলকূপা থানার অন্তর্গত মনোহরপুর গ্রামে। তাঁর পিতা ও পিতামহ ছিলেন সাহিত্যানুরাগী-ফারসী ও আরবী ভাষায় সুপণ্ডিত। তাঁর তিন পুত্রের মাঝে একজন হলেন বিখ্যাত পাপেটনির্মাতা ও চিত্রশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার।
মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান এক বিরল দৃষ্টান্ত। স্কুলজীবনেই এই কবির সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এ সময় তাঁর ‘আর্দ্রিয়ানোপল উদ্ধার’ কবিতাটি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘রক্তরাগ’ প্রকাশিত হলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে কবিতার মাধ্যমে অভিনন্দিত করেছিলেন।
তাঁর পরবর্তী গ্রন্থাবলীর মধ্যে ‘হাসনাহেনা’ (কাব্যগ্রন্থ) ‘খোশরোজ’ (কাব্যগ্রন্থ), ’সাহারা (কাব্যগ্রন্থ)’, ‘বুলবুলিস্তান’ (কাব্যচয়ন), ‘রূপের নেশা’, ‘ভাঙ্গাবুক’, ‘একমন একপ্রাণ’ ইত্যাদি উপন্যাসগুলি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
অনুবাদক হিসেবেও কবি গোলাম মোস্তফার বিশেষ খ্যাতির পরিচয় পাওয়া যায়। আরবী ও উর্দু সাহিত্য হতে বিভিন্ন গ্রন্থ ভাষান্তরিত করে বাংলা সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। ‘ইখওয়ানুস সাফা’, ‘মুসাদ্দাস-ই-হালী’,- ‘কালাম-ই-ইকবাল’, ‘শিকওয়া’ ও ‘আল-কুরআন’ তাঁর ভাষান্তরিত গ্রন্থগুলির অন্যতম। এছাড়া, চিন্তামূলক ও যুক্তিবাদের উপর লিখিত আরও কিছু গ্রন্থ তিনি রচনা করেছিলেন। ‘ইসলাম ও কমিউনিজম’, ‘ইসলামে জেহাদ’, ‘আমার চিন্তাধারা’, এগুলি তাঁর গভীর চিন্তাধারার জ্ঞানলব্ধতার ফসল।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। গায়ক ও গীতিকার হিসেবে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বিশেষ করে ইসলামী গান, গজল ও মিলাদ মাহফিলের বিখ্যাত ‘কিয়ামবাণী’ (রসুল আহবান বাণী) রচনায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তাঁর অনেকগুলি গান আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠেও রেকর্ড হয়েছিল। এছাড়া নিজের কণ্ঠেও তিনি বেশ কয়েকটি গান রেকর্ড করেছিলেন।
এটা একটা জীবনীগ্রন্থ, কিন্তু সাহিত্যের মানের দিক দিয়েও কোনো কমতি নাই। এতো সুন্দর ব্যাখ্যা আর শব্দচয়ন অসাধারণ!
এই বইটাকে শুধু একটা জীবনীগ্রন্থ বললে ভুল হলা হবে। এর দার্শনিক বিবৃতিকেও অস্বীকার করবার উপায় নেই। নবীজীর ﷺ জীবনের বিভিন্ন দিক পয়েন্ট বাই পয়েন্ট ধরে আমার মনে হয়না আগে কেউ এভাবে আলোচনা করেছেন।
(এই বইটাকে যে এখনো বাংলা একাডেমি বা সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় অনুবাদ করিয়ে বিশ্ববাসীকে পড়বার সুযোগ করে দিচ্ছেনা, তাই ভাবছি।)
নবীজীর ﷺ জীবনের ঘটনাপ্রবাহ তো মুসলিম নামধারী মাত্রেরই জানা৷ কিন্তু সেইসব ঘটনার কারণ, সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য, এই ঘটনায় মানুষের কল্যাণ কী পরিমাণ আছে সেসব আগে কেউ এভাবে লিখেননি (বলা উচিত আমিই আগে এই বইটি পড়িনি, ১৯৪১ সালে প্রথম প্রকাশ হয় এ বই 😑)
বইটি ২ অংশে সাজানো, এক অংশে নবীজীর ﷺ জীবনী আর পরের অংশে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আর দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো চিত্রটা দেখানো হয়েছে, ২/১ টা জিনিসে লেখকের সাথে আমার নিজস্ব মতের মিল পাইনি, কিন্তু সেসব মুসলিম হিসেবে ধরা ঠিক না।
যে জিনিসটাতে অবাক হয়েছি তা হল, নবীজীর ﷺ প্রতি কুলাঙ্গার কথিত নাস্তিকগুলো যেসব অভিযোগ করে থাকেন, তার প্রত্যেকটা জবাব এই বইতে আছে। হ্যাঁ, নাস্তিকেরা আজ অবধি নতুন কোনো যৌক্তিক অভিযোগ প্রকৃতপক্ষে তৈরি করতে পারে নাই। এই বইই তার প্রমাণ। এই বইতে সব অভিযোগ খণ্ডন করা হয়েছে। আমার তো মনে হচ্ছিলো লেখক কোনোভাবে যেন সময় ভ্রমণ করে বর্তমান থেকে দেখে গিয়েই এই বই লিখেছিলেন। নাস্তিকেদের সমস্ত অভিযোগই খ্রিস্টান মিশনারীদের পয়সায় পসার পেয়েছিলো আর সেসবই আধুনিক মুক্তমনারা ‘পুরোনো মদ নতুন বোতলে’র মতো আমাদের সামনে পেশ করছে।
এই বইয়ে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স এতো সুন্দরভাবে সহজ আর অল্প কথায় বলা হয়েছে যে, ওই দুইটা জিনিসের সাধারণ ব্যাখ্যা আর কখনো হয়তো না পড়লেও চলবে, إِنْ شَاءَ اَللَّه।
নবীজীর ﷺ জীবনের প্রত্যেকটা সুনির্দিষ্ট ঘটনা ধরে এভাবে আলোচনা করা সত্যিই অন্যরকম একটা কাজ। লেখক যে কী পরিমাণ নবী ﷺ প্রেমিক আর ইসলাম প্রেমিক ছিলেন, অবর্ণনীয়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত মোহাম্মদ (সা) জন্মেছিলেন আরবে। আরবের কেন্দ্র হতেই ইসলামের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে, যা বলবৎ ছিল দীর্ঘ একটা সময়। মুসলিম বিশ্ব আজ নানা ব্লকে বিভক্ত হয়েছে মূলত ইসলামের শিক্ষা হতে দূরে সরে যাওয়াতেই। তবুও রাসুল (সা) বা ইসলামের গুরুত্ব কমে যায় নি।
আল্লাহ যাকে এত ভালোবাসেন তাকেই কিনা পৃথিবীতে পাঠালেন এতিম হিসেবে! কারণ ছিল অবশ্যই। জন্মের আগেই পিতার মৃত্যু এবং জন্মের কয়েক বছর পরে মাতার মৃত্যুতে দায়িত্ব এসে পড়লো দাদা-চাচার হাতে। ছোটবেলা থেকেই চারিত্রিক সদ-গুণাবলির সাহায্যে সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন। আরবের লোকেরা তখন ব্যবসা করতে বিভিন্ন দেশে যাত্রা করতেন। তেমনই এক ব্যবসায়ীর বিধবা স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা) এর অধীনে কাজ শুরু করেছিলেন মহানবী। রাসুল (সা) এর চারিত্রিক গুণাবলি ও সততা মুগ্ধ করেছিল তাকে। তাই বয়সে পনেরো বছরের ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমাদের রাসুল (সা) এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন হয়ে নবুয়ত লাভ করেন চল্লিশ বছর বয়সে। দীর্ঘ তেইশ বছরের ইসলাম প্রচারের মাধ্যমে আইয়ামে জাহেলিয়াতকে দূর করেছিলেন সমাজ থেকে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শান্তির পতাকা। যুদ্ধ করেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। রক্ত ঝড়িয়েছেন যুদ্ধের প্রান্তরে। তবু প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। রাসুল (সা) এর জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। জীবনের উত্থান পতনে সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে ছিলেন অবিচল। এমনকি অমুসলিমরাও রাসুল (সা) এর চরিত্রের প্রশংসা করেছেন।
বইটির প্রথম অংশে রাসুল (সা) এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলি, ইসলাম প্রচারে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, হিজরত, যুদ্ধ ইত্যাদির বর্ননা দেওয়া হয়েছে। তবে বইটির দ্বিতীয় অংশটাই সবচেয়ে বেশি আগ্রহোদ্দীপক। কারণ এই অংশে রাসুল (সা) এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ঘটনা, একাধিক বিবাহের কারণ, যুদ্ধ, বিভিন্ন মোজেজা সম্পর্কিত আলোচনা করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে লেখা বইটিতে লেখক যেভাবে বিজ্ঞান ও যুক্তির সাহায্যে রাসুল (সা) এর জীবনের ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করেছেন তা আসলেই ভাববার বিষয়। ঐ সময়ে তথ্যের প্রাচুর্যতা না থাকা সত্ত্বেও বেশ গুছিয়ে অধ্যায়ভিত্তিক ঘটনাবলী বর্ননা করেছেন। লেখার মান ভালো এবং রচনা সাবলীল হওয়ায় পড়তে বেগ পেতে হবেনা।
প্রায় আশি বছর আগের লেখা একটা বই, লেখকের এমন চিন্তাধারা পাঠককে মুগ্ধ করবে। তবে যদি আমার কথা বলি তাহলে বইটির প্রথম অংশ আমার কাছে নতুন কিছু উপস্থাপন করেনি। মক্তবে পড়েই এই ঘটনাগুলো জানা হয়ে গিয়েছিল। এদিক দিয়ে বলতে গেলে দ্বিতীয় অংশটাই নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যা যুক্ত করেছে। রাসুল (সা) এর জীবনের অনেক কিছুই জানা যাবে এই বইটির মাধ্যমে। যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তা লেখক খোলাসা করার চেষ্টা করেছেন। সর্বোপরি বাংলা ভাষায় রাসুল (সা) এর জীবনীভিত্তিক বইগুলোর মধ্যে এই বইটা ভালো বলা চলে। প্রাথমিক সীরাত গ্রন্থ হিসেবে এই বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। হ্যাপি রিডিং।
প্রাথমিকে পড়া ‘ প্রার্থনা' কবিতাটা মনে পড়ে? যে কবিতাটা শুরু হয়েছিল এভাবে ‘ অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি, বিচার দিনের স্বামী'? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছন্দে ছন্দে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সেই কবিতার কবি ছিলেন গোলাম মোস্তফা। তবে এবারের কাজটা আরও ব্যাপক। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবনের সাথে তিনি পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন আমাদেরকে।
বইটা দুইটা খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ড বিশ্বনবীর জীবনের ঘটনাবলীর ধারাবাহিক বর্ণনা। তবে এতেও লেখকের পাণ্ডিত্যের ছাপ আছে। তিনি শুধু ঘটনার পরপর বর্ণনাই দেন নি, তিনি প্রতিটা ঘটনার বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন কেন নবীর জীবনেই সেসব ঘটনা ঘটল, সেসব ঘটনা কিভাবে তাঁকে ‘নবী’ হতে সাহায্য করল, তাঁর উম্মতের জন্য তা কিভাবে আদর্শ স্থাপন করে গেল। তাইতো তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্বনবীর এতিম হওয়ার কারণ, তাঁর অপুত্রক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা, ধনী খাদিজা ( রা.) এর সাথে তাঁর বিবাহ হওয়ার প্রেক্ষাপট, সিনা চাক বা মিরাজের প্রয়োজনীয়তা, তাঁর বহু বিবাহের তাৎপর্য, খন্দকের যুদ্ধে মাটি কাঁটার গুরুত্ব, মা আয়েশার ( রা.) নামে অপবাদের ঘটনা বা বদরের ও হোনায়েন যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের শিক্ষণীয় দিকটা। এভাবে প্রথম খন্ড জুড়ে লেখক তৎকালীন আরবের অবস্থা ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থে বিশ্বনবীর আগমণের ভবিষ্যদ্বাণীর দিকটা আলোচনার পাশাপাশি তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলী ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছেন।
বইয়ের আকর্ষনীয় দিকটা হলো এর দ্বিতীয় খন্ড। দ্বিতীয় খন্ড মূলত লেখকের কিছু প্রবন্ধের সংকলন যেগুলোতে তিনি নবীর জন্ম তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি, তাঁর বহুবিবাহের তাৎপর্য, মিরাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, ‘নবী আমাদের মতো মানুষ’ দাবির সমালোচনা, নবীর মুহাম্মদ ও আহমদ নামের তাৎপর্য ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেছেন। এসবের মধ্যে স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক ও অতিস্বাভাবিকের আলোচনার মাধ্যমে নবীর মানুষ হওয়ার দিকটার ব্যাখ্যা এবং নবীর মুহাম্মদ ( চরম প্রশংসিত) ও আহমদ ( চরম প্রশংসাকারী) নামের ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রবন্ধগুলো ভীষণ ভালো লেগেছে। লেখক সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন স্বাভাবিকতা একধরনের ভ্রান্তি, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার বাইরে কেন কোনোকিছু বিশ্বাস করতে চাই না সেটা স্পষ্ট করেছেন। নবী কি মুহাম্মদ ছিলেন বা আহমদ ছিলেন শীর্ষক প্রবন্ধগুলো আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ; পূর্বে কখনও এধরনের কোনো আলোচনা শোনা বা পড়ার সুযোগ হয় নি। বিজ্ঞান দিয়ে ধর্ম প্রমাণের বিষয়টা আমার কাছে বরাবরই অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, তাইতো মিরাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রবন্ধটা ততটা ভালো লাগে নি। তবু লেখক যেভাবে আইনস্টাইনের তত্ত্বগুলোর সহজবোধ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেগুলো দারুণ ছিল।
তথ্য ও তত্ত্বের প্রাচুর্যতা ছাড়াও লেখকের দারুণ ভাষা শৈলী ও তাঁর পড়ার গভীরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। লেখক নিজে কবি হওয়ায় এবং নবীর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা থাকায় বর্ণনাভঙ্গি হয়েছে অতি সুস্বাদু। প্রেমিকসুলভ আবেগ এবং লেখকসুলভ রেফারেন্স থাকায় বইটা পড়া গিয়েছে কোনো বাঁধা ছাড়াই। লেখকের পড়ার ব্যাপ্তিটাও লক্ষ্য করার মতো। বাংলা, আরবি ও ইংরেজিতে নবীর জীবনালেখ্য তো পড়েছেনই, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থও বাদ যায় নি তাঁর পাঠ্যতালিকা থেকে। বইয়ের শেষে বিবলিওগ্রাফি অংশটা পরবর্তী পড়াশোনাকে সহজ করবে।
মোটের উপর চার শতাধিক পৃষ্ঠার বইটা পড়ে মুগ্ধ-ই হয়েছি বলা যায়। গুটিকয়েক সীরাত পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার ; তাদের মধ্যে এটা যে সেরা সেটা বলতে সঙ্কোচ নেই। বইটা এমনভাবে লেখা যে প্রতিটা মুসলমান তো বইটা পড়তে পারবেন-ই ( এবং পড়া আবশ্যক বলে মনে করছি!), নবী সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক যেকোনো অমুসলিমও বইটা পড়তে পারবেন বিনা দ্বিধায়।
সংক্ষিপ্ত করে লিখলেও বইটা পড়ে ভালো রকম ধারনা পাওয়া যাবে নবীজিকে নিয়ে। তবে আর প্রায় জীবনীর মতোই এটাতােও নবী জীবনের একাংশের কথার উল্লেখ পাওয়া যায় না। এবং উনার রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কেও বিশদ কিছু নেই। থাকলে ভালো তো। তারপরও অনেক কিছু জানা যায় এটা পড়ে, অন্তত বর্তমান ওয়াজ মাহফিল থেকেও। সেখানেতো নবীজি কখন কি করছে আর বলছে এবং নারীর কাহিনি বলেই শেষ, নবীজি যে সম্পূর্ণ নতুন একটা জাতিকে কোথা থেকে কই নিয়ে গেছেন এবং তার বর্তমান অবস্থা আসলে কোথায়, এবং ভবিষ্যতে এই জাতির কী হবে তারা এর কোনো আলোচনাই করেন না। যাইহোক বইটা ভালো।
সংক্ষেপে নবীজীর জীবনী বেশ মহব্বত নিয়েই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই বইয়ে। লেখকের কাব্যিক ভাষার কারণে পড়তে ভালো লেগেছে। জীবনীর সাথে শেষাংশে কিছু তত্ত্বমূলক আলোচনাও হয়েছে। এটা আরো ভালো সংযোজন। তবে কিছু আলোচনার বিষয়বস্তু ও যুক্তি আমার কাছে ধারালো মনে হয়নি । সেটাও যে লেখকের নবীজীর প্রতি ভালোবাসারই ফলে তা উপলব্ধি করা কঠিন নয় (অবশ্য ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় সবসময় সেটা অনিবার্যও নয়)। ইসলাম ধর্মের মহাপুরুষ সম্পর্কে প্রেমময় ধারণা পেতে অবশ্যই পড়তে পারেন।
ঠিক সিরাত নয়, আবার সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক জীবনীও নয়। বিশ্বাসের সুতায় গিট্টু মেরে রেখে ইতিহাসের মাঠে একটা বৃত্তাকার এলাকায় ঘাস খেয়ে আসা যায় আরামসে। লেখাতে প্রাঞ্জল্য না থাকলেও ভাব-গভীরতা আছে। কবি সাহেব কোন সূত্র ধরে এ পুস্তক লিখেছিলেন তা জানি না কিন্তু তিনি লুকোছাপাতে যাননি। নিতান্তই ধার্মিক গোছের কবির কলম দিয়ে তাঁর কবিতার মতই এক বিশাল কিতাব বের হয়েছে। কিশোর বয়সে ধার্মিক আবেগ একটু বেশি থাকে একটা সময়ে। সেই সময়ে পড়া হলে মন্দ নয় বোধ করি। বুকশেলফে পড়ে ছিল বহুদিন। বড় দেখেও সাহস নিয়ে পড়ে ফেলেছিলাম বেশ অনেক আগেই। এখন কেন লিখতে বসলাম কারণটা ধোঁয়াশা।
I read this book while I was in my school years. I found it so amazing, finished it as quickly as I could. Now with a mature set of mind, and by the Grace of Allah, who gave me the scope to know more about Islam, I was looking for a copy to go through again. Thank you very much for the link to download. I cannot wait to go through it again. I think everybody who want to know about Islam, should read it, and it will clear up so many questions in their mind once to come to know Muhammad (Peace be upon Him). And may be it will pave the journey towards enlightment of the soul... Praying for all the future readers..
প্রতিটা মুসলিমেরই নবীজীর (সা) জীবনী জানা আবশ্যক। আর সেই চেষ্টা হিসেবেই আমরা ছোটকালে মক্তব থেকে শুরু করে পরবর্তীতে সেই জানা অব্যাহত রাখি। তিনি এমনই এক মহামানব যে তাঁকে নিয়ে যতই জানা হয়, যতই পড়া হয় ততই মনে হয় জানায় অপূর্ণতা থেকে যায়। নবীজীর (সা) সম্পর্কে জানার শেষ হয় না। নবী (সা) জীবনী অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন গোলাম মোস্তফা তার "বিশ্বনবী" বইতে। বইটিতে তিনি নবী (সা) জীবনের নানা ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। বইটিকে তিনি দুইটি খণ্ডে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগে এসেছে নবীর (সা) জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটনাবলীর ধারাবাহিক বর্ণনা। আর দ্বিতীয় খণ্ডে নবী (সা) জীবনের নানা ঘটনা বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন।