বরেণ্য কথা-শিল্পী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যাইয়ের বরেণ্য সৃষ্টির ব্যপ্তির সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করাবার জন্যে এই বিশাল-বিপুল গ্রন্থের আয়োজন। শীর্ষেন্দু, বিন্দু থেকে সিন্ধু শিরোনামের এই রাজসিক প্রকাশনায় সংগৃহীত হয়েছে তার প্রাচীন ও হাল আমলে লেখা হৃদয়স্পর্শী ৬টি উপন্যাস- ফেরা, জীবনপাত্র, বাসস্টপে কেউ নেই, ভুল সত্য, একটি স্বপ্নের আড়ালে এবং কাচের মানুষ। ৮টি নানাস্বাদের ছোট উপন্যাসে আছে-রূপ, মারীচ, ধূসর সময়, বেশি দূরে নয়, সম্পত্তি, আলো-অন্ধকার, পিপুল এবং দগ্ধ দিনের গল্প। ২০টি গল্পের মধ্যেও বেছে নেওয়া হয়েছে নানাকালের অনবদ্য সৃষ্টি। রয়েছে ৪টি হৃদয়-ছোঁয়া আত্মকথা। মাতৃপূজা থেকে মোবাইল ছুঁয়ে ক্রিকেট পর্যন্ত ব্যাপ্ত তাঁর ১৭টি রম্যরচনার পরিধি। আছে তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য কাছের ঠাকুর। শীর্ষেন্দুর বিন্দু থেকে সিন্ধু অনুভবের এ এক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
উপন্যাস – ফেরা; জীবন পাত্র; বাসস্টপে কেউ নেই; ভুল সত্য; একটি স্বপ্নের আড়ালে; কাচের মানুষ নভেলেট – রূপ; মারীচ; ধূসর সময়; বেশি দূরে নয়; সম্পত্তি; আলো-অন্ধকার; পিপুল জীবনী – কাছের ঠাকুর গল্প – বানভাসি; হাতুড়ি; সংলাপ; কৈখালির হাটে; জন্ম; রাসমণির সোনাদানা; এক দুই; হরণ; কর্তার ভূত; সবুজ বেড়াল; আলি; শিবুচরণের সমস্যা; ফোটন; মাধুর জন্য; ট্রিলজি; আজ ব্যাথা নেই, বৃষ্টি নে্ বিষণ্ণতা নেই; খেলার ছল; তিন টুকরো গল্প; সংসার; নসিরাম আত্ম-কথা – একটুখানি বেঁচে থাকা; মায়ের গায়ের গন্ধ; আমাদের সেই দুর্গাপুজো; কবিতা কেন লিখি না নানা বিষয়ক রম্য রচনা – বাঙালির মাতৃপূজা; কলকাতার পুজো; পুজোর লেখালেখির ঝকম্নারি; মায়ের পুজো মোবাইলে!; চাহিতে গেলে মরি লাজে; এক আদ্যন্ত ভারতীয় লেখক; সৌরভ; রাজাবাবুর প্রত্যাবর্তন; ক্রিকেটের কুড়িকুড়ি; ক্রিকেট অক্রিকেট; ভূতের ভিসা; দৃষ্টিকোণ; একালের পরিবারে, সেকালের বাবা-মা; বলো আমি কে; এই পঁচাত্তরের ভয়-ভাবনা; বিবাহে বিবিধ বাধা; অলৌকিক ঘেরাটোপ
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।