চিরায়ত গ্রন্থমালা এবং চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা শীর্ষক দুটি সিরিজের আওতায় বাংলাভাষাসহ পৃথিবির বিভিন্ন দেশ ও ভাষার শ্রেষ্ঠ রচনাওস্মূহকে পাঠক সাধারণের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই বইটি 'চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা'র অন্তর্ভুক্ত।
বইটির সূচি আত্মকথা আত্মপরিচয় অভিনন্দন আমার ধর্ম অভিভাষণ কবির অভিভাষণ জন্মদিনে
Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
যুগের চেয়ে এতটা আধুনিক ছিলেন বলেই তিনি বিশ্বকবি। একটা গোঁড়া সমাজ থেকে উঠে আসা ব্যক্তি মননে ও চিন্তায় এতটা মুক্তমনা ও প্রগতিশীল ছিলেন— সেটা ভারতবর্ষের জন্য তো বটেই সে যুগে বাঙালির জন্য এত বড় পাওয়া আর হয় না। আর কোনো রবীন্দ্রনাথ আমাদের না আসুক, কেবল এই রবীন্দ্রনাথকেই যদি সমগ্রে পড়া হত বাংলায় বুদ্ধিবিকশিত মানুষের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠত না। চিন্তার সংকীর্ণতা ও জাতিগত হীনমন্যতা পরিচয়টুকু অন্তত নিজের কাছে খোলাসা থাকত। বাঙালি নিজের দুর্বলতাকে জানতে বড় পিছপা, ঢাকতে বড়ই উদ্যমী। জড়ত্বের আয়োজনের জগতে যথেষ্ট আছে, রবীন্দ্রনাথ ছুটেছেন আইডিয়ার পেছনে— এর প্রয়োজনই সকলের চেয়ে বড় প্রয়োজন। পৃথিবীর সময় ও সাম্রাজ্যের বিরাট কলেবরের মাঝে চিন্তা ও কল্পনার শক্তি যে সম্পদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ!
' কে আমার দলে, কে আমার দলে নয়, সেই বুঝিয়া যেখানে স্তুতি-সম্মানের ভাগ বণ্টন হয় সেখানকার সম্মান অস্পৃশ্য ; সেখানে যদি ঘৃণা করিয়া লোকে গায়ে ধুলা দেয় তবে সেই ধুলাই যথার্থ ভূষণ, যদি রাগ করিয়া গালি দেয় তবে সেই গালিই যথার্থ সম্বর্ধনা। ' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
'আত্মপরিচয়'-কে রবিঠাকুরের আত্মকথা বললে সর্বাংশে সত্য বলা হবে না৷ বরং আত্মবিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। নিজেকে জানা খুব দরকারি ; নিজেকে জানানো অদরকারি মনে করেন না রবিবাবু। তবে এই জানাশোনার জন্য নিজেকে চেনা বড্ড প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের তাগিদেই রবীন্দ্রনাথ ধর্ম,দর্শন, কাব্যে আপনাকে খুঁজে বেরিয়েছেন। আত্মসমালোচনাকে আশ্রয় দিয়েছেন, প্রশ্রয় পেয়েছে সর্বকালীন কল্যাণকামী মানসিকতা।
প্রতি পাতাতেই ছোট ছোট কবিতা আছে। কবিতাগুলো ভাবনার উদ্রেক করে। এমনই একটি কবিতার অংশবিশেষ -
' অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো সেই তো তোমার আলো। সকল দ্বন্দ্ববিরোধ মাঝে জাগ্রত যে ভালো সেই তো তোমার ভালো। '
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমস্ত লেখার মধ্যে এই বইটি হয়তো সবচেয়ে underrated। স্বল্প কয়েক পাতার ছোট্ট উপস্থাপনা, ৬টি ছোট ছোট পরিচ্ছেদে ভাগ করা।
জীবনচারণ কিভাবে দর্শনের সামগ্রী হয়ে উঠতে পারে আমাদের সকলের ক্ষেত্রেই, প্রতি পদে দেখিয়ে চলেছেন এই বইতে লেখক। রবীন্দ্রনাথ বইটিকে বাঁধছেন নিজের জীবনের কথায়, কিন্তু বইটি আসলে আপনার, আমার জীবন নিয়ে।
জীবনের বুনিয়াদি প্রশ্নগুলি কেমন হবে, কিভাবে খুঁজবো তাদের উত্তর, ঈশ্বর কী জীবন ব্যতীত অন্য কিছু -- এই সমস্ত নিয়েই এই বইয়ের আলোচনা। অন্ধকারে আলোর মতো এই বই, আমার রোজকার সঙ্গী।