‘কিত্তনখোলা’ নাটকে বিশাল পটভূমিকায় মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় গ্রামীণ জীবনের একটি বিস্তারিত চিত্র প্রতিফলিত। বর্ণনাত্মক শিল্পরীতির প্রয়োগে এ নাটকটি শিল্পের একটি মহৎ জায়গায় পৌছে যায়-পায় একটা ভিন্ন মাত্রা। -------- (ফ্ল্যাপে লেখা কথার কিয়দাংশ)
কিত্তন খোলা বাংলা নাট্যসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কারণ,সেলিম আল দীনের হাতে সৃষ্টি হয়েছে এ অসামান্য নাট্যসাহিত্যটি। সেলিম আল দীন বাংলা নাট্যসাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ প্রবাদ পুরুষ।তাঁর হাত ধরেই বাংলা নাটকের পূর্ণতা লাভ পায়।আজীবন তিনি নাট্যসাহিত্যে সংযুক্ত থেকে সেটিকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী করে যান। তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা থিয়েটর এর একজন প্রধান পুরুষ ও গ্রাম থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন৷ তিনি মূলত মধ্যযুগীয় নাট্যসাহিত্য নিয়ে গবেষণা করতেন।আর তার হাতের নির্যাস এই কিত্তন খোলা।
নাট্যসাহিত্যে কিত্তন খোলা এক অনবদ্য সৃষ্টি। নাটকটি পাঠকালে পাঠক মহল বিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিচিত হবে।মূলত,মনাই বাবার মাজারকে কেন্দ্র করে কিত্তন খোলা মেলা বসে। আর সেই মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে।বলা যায় এটি একটি বাৎসরিক মিলনমেলা।পুরো মেলাজুড়ে গ্রাম-বাংলার আবহ আপনার চিত্তকে নাড়া দিয়ে যাবে। গ্রাম বাংলার অতি সাধারণ ব্যক্তিসকল উঠে এসেছে নাট্যকারের লেখায়। ৯টি সর্গে নির্মিত এ কিত্তন খোলা আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে আপনার দূরন্ত শৈশবের কোনো এক বটবৃক্ষের নীচে জমায়েত মেলার স্মৃতিতে।
নাটকটি পাঠকালে অনেক চরিত্রের সাথে পরিচিত হলেও রবিদাশ,ছায়ারঞ্জন,সোনাই,ডালিমন,বনশ্রী,রুস্তম,ইদু, সুবল দাস আপনার বেশ পরিচিত হয়ে উঠবে। এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো- যাত্রাপালা। আর এই যাত্রাপাঠ পড়ার সময় পাঠক অল্প সময়ের জন্য ঘুরে আসবে মধ্যযুগীয় ঐতিহ্যবাহী কিসসা,সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, মহুয়াপালা,রহিম-রূপবান পালা,বেহুলা পালা ইত্যাদিতে। এছাড়াও পুঁথি পাঠসহ একটি পুরোদস্তুর মেলার সব কিছুই তাতে উঠে এসেছে।
নাটকটি পাঠকালে পাঠক বনশ্রী বালা ও ডালিমনের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সক্ষম হবে। জানতে পারবে লাউয়া সম্প্রদায় ও ডোম সম্প্রদায় সম্পর্কে। সেলিম আল দীন পুরো নাটকে হতদরিদ্র সাধারণ মানুষ,সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষসহ শোষক-শোষিত ও প্রতিবাদী চরিত্রে রস ঢেলেছেন।
আশা করছি এই নাটকটি পড়ে আপনার ভালো লাগবে৷ যদিও পুরো নাটকজুড়ে আঞ্চলিক খেটে খাওয়া মানুষের মুখের ভাষা।পড়া শুরু করলে তা আপনার বোধগম্য হয়ে উঠবে সহজেই। তাই,যদি না পড়ে থাকেন- সময় সুযোগ হলে সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন সেলিম আল দীনের - কিত্তন খোলা।