Jump to ratings and reviews
Rate this book

ধুলোখেলা

Rate this book
কৃষিজমি-রক্ষা-আন্দোলনের ঝোড়ো ঘূর্ণিতে জড়িয়ে যায় কিংশুক। তমালকে টেনে নেই টেবিল । চারপাশে আরো অনেক মুখের মিছিল। প্রেমে-অপ্রেমে-হর্ষে-বিষাদে সবাই ভাসছে-ডুবছে সেই অতল এবং বহুবর্ণিল তরঙ্গমালায়- যার নাম জীবন। ধুলো থেকে উঠে এসে ফের ধুলোয় মিশে যাওয়া- এটুকু মাত্র জীবন?

149 pages, Hardcover

Published January 1, 2014

Loading...
Loading...

About the author

Sourav Mukhopadhyay

50 books48 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (15%)
4 stars
9 (47%)
3 stars
5 (26%)
2 stars
1 (5%)
1 star
1 (5%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Mohana.
100 reviews13 followers
April 16, 2023
উপন্যাস শুরু হয় এক যৌথ পরিবারের মাথা সিতাংশুর শ্রাদ্ধের কাজ দিয়ে যেখানে পরিবারের বাকি মানুষেরা ঠিক করে তাদের আদি বাড়ি ভাগ করে ফ্ল্যাট তোলা হবে, প্রতিবাদ করেন তাদের সদ্য বিধবা, বৃদ্ধা মা তরুলতা। এরপর উপন্যাস গড়াতে থাকে এই পরিবারের প্রত্যেকের জীবনের গল্পকে নিয়ে। তবে মূল ফোকাসে থাকে কিংশুক ও তমাল। কিংশুক, যে কিনা একটি সাধারণ কলেজ ছাত্র, যার বাবা একরোখা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারী কর্মচারী, সে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে ভোগে, সে তার এই পৃথিবীতে উপস্থিতির কারণ খুঁজে পায় না। অন্যদিকে তমাল যে সারাজীবন কোনদিনই নিজের জীবনের কোনো মানে খুঁজে পায়নি শুধু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে হারতে হারতে হেঁটে চলেছে মাত্র, সেও বুঝে পায় না তার এই হতাশ জীবনের মানে কি। এরা দু'জনেই জীবনের পথে চলতে চলতে অবশেষে খুঁজে পায় দু'জনের উদ্দেশ্য। একজন নিজের জীবনকে নিয়ে যায় বাস্তবের বৈপ্লবিক রণক্ষেত্রে আরেকজন নিজের সবটুকু উজাড় করে লিখে ফেলতে থাকে পাতার পর পাতা।

বইটা পড়ার ইচ্ছা ছিল আমার অনেকদিনের। লাইব্রেরীতে যখন দেখি বইটা রয়েছে তখন আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করিনি। তবে বইটা পড়ে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে।

প্রথমেই বলি, অনেকেই বলেন আজকাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো উপন্যাস লেখা হয় না তাদের প্রত্যেকের এই বইটা পড়া উচিৎ। আদিবাড়ি ভেঙে ফেলা, প্রমোটরের হাতছানি এসব তো আজকালকার জীবনে রোজকার ব্যাপার। তাই এই দৃশ্যগুলি পড়ার সময় মনেই হয় না যে বই পড়ছি, বরং মনে হয় বাস্তব দৃশ্য দেখছি। এই যে চরিত্ররা বারংবার নিজেদের জীবনের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করছে এটাও আমার কাছে ভীষণ রিলেটেবল। আমি এই প্রশ্নগুলো নিজেকে প্রায় রোজই করে থাকি। কিছু চরিত্রের গঠন, তাদের ব্যাপ্তি, তাদের যেভাবে লেখক গড়ে তুলেছেন তা আমার বেশ ভালো লেগেছে, তার সাথে ভাষার সাবলীলতা উপন্যাসটিকে আরো বাস্তবিক করে তুলেছে। উন্মেষের চরিত্রটির সাথে রিলেট করতে পারি অনেকটা।

এবার আসি যেটা ভালো লাগেনি সেই বিষয়ে, (কারুর খারাপ লাগলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী, এগুলি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত)। উপন্যাসটা খুবই ধীর গতির। কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত বেশি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, এত বেশি প্রত্যেকটা দৃশ্য, প্রত্যেকটা জিনিস বর্ণনা করার, আমার মনে হয়েছে, কোনো দরকার ছিল না। এছাড়া মহিলা চরিত্রদের মধ্যে কেবলমাত্র বৃদ্ধা তরুলতা ও তৃতীয় চিন্তার দলে থাকা মেয়েগুলি ছাড়া, বাকিদের অর্থাৎ নৈঋতা, রাকা, তমালের স্ত্রী অনুশ্রী, অদিতি (অর্থাৎ যারা মূল ফোকাসে আছে) এদের প্রত্যেককে যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা একজন মেয়ে হিসেবে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে। যদিও তৃতীয় চিন্তা দলে থাকা মেয়েদের চরিত্র নিয়ে বিশেষ বিবরণ নেই। নৈঋতা ও রাকা প্রেমের জন্য পাগল, তাদের কোনো একটি ছেলের সাথে জুড়ে দিতেই হবে, সেটা কখনো উন্মেষ, কখনো জয়জিৎ, কখনো দেবদত্ত, কখনো রাকার কেমিস্ট্রি টিউটর। একটা মেয়ের সম্পূর্ণ জীবন জুড়ে শুধুই প্রেম? তার জীবনের আর কোনো ব্যাপ্তি নেই? কোনো ইচ্ছা নেই? কোনো কিছু হয়ে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা নেই? শুধু প্রেম, শরীর, কামনা আর ভালোবাসা ব্যাস? আর শেষ মুহূর্তে এসে কান্না ব্যাস? অথচ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে কিংশুক, বিধান, তমাল, তীর্থ, উন্মেষ এদের চরিত্রের ব্যাপ্তি দেখলে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় এদের জীবনটা তো শুধুই প্রেম, ভালোবাসা, কামনায় আটকে নেই তাহলে মেয়েরাই শুধু এসবে আটকে আছে এমনটা দেখানোর কি মানে আমি জানি না। আবার অনুশ্রী ও অদিতি, দুই বিবাহিত মহিলা, কেবলই টাকা বোঝেন, নিজেদের আখেরটা গুছিয়ে নেন খালি, এটাও যথেষ্টই অপ্রীতিকর। তাদের কাছে তাদের স্বামীর ভালো থাকার কোনো মানে নেই? নিজেদের পরিবারের সদস্যদের কথা ভাবার কোনো অবকাশ নেই? এই একই লাইমলাইটে দেখানো হয়েছে কিংশুকের বাবা তিমিরকেও, কিন্তু তার একরোখা, বদমেজাজি, নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া গায়ে লাগে না কারণ তিনি ভেতরেও যা মুখেও তাই, অর্থাৎ তিনি যে খারাপ সেটা তিনি মুখেই বলেন এবং সেই খারাপকেও শেষে গ্লোরিফাই করা হয় ব্যর্থ বাবার হেরে যাওয়ার দৃশ্য দিয়ে। কিন্তু অদিতি ও অনুশ্রীকে দেখানো হয়েছে এমনভাবে যে তারা ভেতরে খারাপ কিন্তু মুখে একেবারে আদর্শ মেয়ে বা বউ। আমি বলছি না বাস্তবে এমনটা হয় না, হয়। কিন্তু প্রত্যেকটা চরিত্রকেই যদি এভাবে লেখা হয় তখন মেয়ে হিসেবে গায়ে লাগে। এখানে একটা লাইন আমি উল্লেখ করবো বইটা থেকেই -

দেবদত্ত বলছে নৈঋতা কে -
" আরে ধুর! বাইশ বছর পর্যন্ত একটা মেয়ে কোথাও কিচ্ছুটি করেনি, এটা আবার সম্ভব? তোমার সঙ্গে যদি আমার নার্সারিতে আলাপ হত, তবে হয়তো একটা চান্স ছিল ... যে হ্যাঁ, একেবারে ল্যাপাপোঁছা স্লেট এর মতো, এখনও খড়ির দাগ পড়েনি।..."

নৈঋতা বলছে "ডোন্ট ইউ ফিল জেলাস?"

উত্তরে দেবদত্ত বলছে, "অন দ্য কনট্রারি আই ফিল সিকিয়র্ড যে যাক বাবা এই মেয়ের হৃদয়বৃত্তি আছে।....সত্যিই যদি একটা বাইশ বছরের মেয়ে কখনও প্রেমে না পড়ে থাকে, কোথাও মন দেওয়া নেওয়া না করে থাকে, তবে সেই ব্রহ্মবাদিনী কিংবা আলুর বস্তাটিকে নিয়ে আমিই বা কি করব?"

ভীষণই মজার ভঙ্গিতে উপরের অংশটা হয়তো লেখা হয়েছে কিন্তু অত্যন্ত সৎভাবে জানাচ্ছি আমার মজা লাগেনি। একটি বাইশ বছরের মেয়ে কেন তিরিশ বছরের এমনকি তারও বেশি বয়সের মেয়েও প্রেম ভালোবাসা ও বিয়ে ছাড়া অবিলম্বে জীবন কাটাতে পারে, সেটা সম্পূর্ণ তার ইচ্ছা বা চয়েস, তার জন্য তাকে 'আলুর বস্তা' হতে হয় না। এই যে সুন্দরভাবে লেখক দেবদত্তকে একটা প্রায় ঈশ্বরের দূতের মতো পারফেক্ট চরিত্র করে নৈঋতার জীবনে আনলেন আর তারপর এরকম একটা অত্যন্ত নিম্নমানের ডায়লগ গুঁজে দিলেন তার মুখে তারপর আবার সেটাকে হাসির ছলে উড়িয়েও দিলেন নৈঋতার দ্বারা, এই পুরো ব্যাপারটা পড়ে আমার কোথাও যেন মনে পড়ে গেল 'এইজন্যই বোধহয় একমাত্র মহিলা চরিত্রদের পুরোপুরি জাস্টিস দিতে পারেন মহিলা লেখিকারাই'। নয়তো এরকম একটা সম্পর্ক বাস্তবে হলে সেই মেয়েটির জীবনই নষ্ট।

আরেকটা জায়গা উল্লেখ করছি বইটা থেকে,

"অদিতি জানলার বাইরে তাকিয়ে আছে। প্রকৃতির শোভা দেখছে, না মুখেচোখে বিষন্নতা ফুটিয়ে রাখার প্রস্তুতি শুরু করেছে, ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না মনিশঙ্কর। অদিতি এই ব্যাপারটা বেশ পারে। যে কোনও শোকের পরিবেশে গিয়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চকিতের মধ্যে বেশ মানানসই রকমের অশ্রুসিক্ত অভিব্যক্তি এনে ফেলার ক্ষমতা আছে ওর। ....."

এই অংশে অদিতি হচ্ছেন সিতাংশুর মেয়ে এবং মনিশঙ্কর তাঁর জামাই। একটা মেয়ের বিয়ের পর তার বাবা শেষ বয়সে যতই ভুগে থাকুক, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভিতর থেকে কোনো কষ্ট হবে না? তাকে মুখের উপর ফুটিয়ে তুলতে হবে তাৎক্ষণিক যন্ত্রণা? মহিলারা এতটা নিষ্টুর বা ক্রুর হয়ে উঠলেন কবে থেকে?

আরেকটি জায়গা বলি, এটা তিমির বলছেন একজন মেয়ে সম্পর্কে যে নিজের ট্রান্সফারের জন্য অ্যাপ্লাই করতে এসেছেন তার কাছে -

"কে তোমাকে এই ব্লক টু ব্লক ঠোক্কর খাওয়ার চাকরি নিতে মাথার দিব্যি দিয়েছিল, মা জননী? বাড়ির কাছাকাছি গার্লস স্কুলে মাস্টারনি হয়ে যেতে পারতে। সবক্ষেত্রেই তোমরা ছেলেদের সমান, এটা লাফিয়ে উঠে প্রমাণও করতে যাবে, আবার লেংচে লেংচে নাকি সুরে কান্নাও জুড়বে - এ কেমন সাম্যবাদ হে বীরাঙ্গনা? এমনিতে মেয়েদের চাকরি করতে বেরোনোটাকে খুব একটা ভালো চোখে কোনওদিনই দেখে না তিমির। বিশেষত ডাবল ইনকাম ব্যাপারটা, এই বেকারির জমানায়, একটা টোটাল ওয়েস্টেজ মনে হয় তার। কত ফ্যামিলিতে একটা চাকরির জন্য হাহাকার, একটা করে মাঝারি মাপের চা��রি পেলে কত হাজার বেকার ছেলের জীবন দাঁড়িয়ে যেতে পারে, আর এই মহিলারা স্রেফ শখের বশে আর মেকি স্বনির্ভরতার বুলি আউড়ে সেসব পোস্ট আটকে রেখেছে....."

তিমির চরিত্রটা একটা আদ্যোপান্ত নেগেটিভ চরিত্র, কিন্তু উপন্যাসটা শেষ করে মনে হয়েছে যেন তিমিরই লিখলো উপন্যাসটা। মানে মহিলাদের যেভাবে লেখা হয়েছে তাতে আর কি বলি!

পুরো উপন্যাসে এক তরুলতা ছাড়া আর কোনো দৃঢ় মহিলা চরিত্রই নেই, মহিলাদের বিপ্লব লড়তে হয় না? অদিতিকে এই যে নিজের গানের স্কুলটা অ্যাডজাস্ট করে ড্রয়িংরুমে চালাতে হয় এটা লড়াই নয়, নিজের স্বামীর উল্টোপাল্টা মন্তব্যের সাথে লড়াইটা লড়াই নয়? অনুশ্রীকে যে পুরো সংসারটা চালিয়ে নিতে হয় একা হাতে যখন তমাল লেখায় পাগল হয়ে ওঠে, কিংবা ছন্নছাড়া হয়ে ওঠে সেটা লড়াই নয়? নিজের স্বামীর রাতের পর রাত জেগে লেখায় তার যদি সহমত ও আশকারা না থাকতো তবে কি তমালের এত কিছু লেখা হয়ে উঠতো? সেগুলোর বিবরণ নেই কেন? রাকা জীবনে প্রেম ছাড়াও একটা বড় মানুষের মত মানুষ হতে চায়, তার সাহিত্যপ্রেম, লড়াই এসবের উল্লেখ কই? নৈঋতা উন্মেষ আর দেবদত্তর মাঝে গড়িয়ে যেতে যেতেও নিজের দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে গড়ে তুলতে চায় না এটা কি সম্ভব?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর আমি পাইনি, তাই এই উপন্যাস আমার কাছে একটা মিশ্র অনুভূতিযুক্ত পাঠ হয়েই থেকে যাবে চিরকাল।

শেষে প্লটের ব্যাপারে এলে, জমি লড়াইয়ের বিষয়টা প্রথমদিকে ভীষণ একপেশে লাগলেও শেষে যখন দেখানো হল যে আদতে কোনো বিপ্লবই যে পথে চলবে বলে দাবী করে সে পথে কোনোদিন চলে না। তৃতীয় চিন্তা, নকশাল বা পরিবর্তন সবই আদতে এক, সাধারণ গরীব খেটে খাওয়া মানুষের কোনদিনই কোনটায় লাভ হয়নি আর হবেও না, তাদের শুধুই রক্ত যাবে, প্রাণ যাবে কিন্তু দিনের পর দিন তারা গরীবই থেকে যাবে। আর বিপ্লবেও হিংসা যে দুপ্রান্ত থেকেই চলে, আর কিছু মানুষ সবসময় বাইরে বসে মজা নেয়, এই সম্পূর্ণ ব্যাপারটা দেখানোয় আমি খুব খুশি হয়েছি। যদিও কিংশুকের শেষ সিদ্ধান্তের আরো কিছু অদল বদল হতেই পারতো। প্রচ্ছদটি বেশ সুন্দর। রাজনৈতিক সামাজিক উপন্যাস পড়ার ইচ্ছে থাকলে পড়ে দেখতে পারেন এই বইটা।
Profile Image for Azahar Hossain.
55 reviews9 followers
August 31, 2021
ধুলোখেলা ~ সৌরভ মুখোপাধ্যায়
আনন্দ পাবলিশার্স
৩০০ টাকা।

বছর খানেক আগে, তখন একটা বেসরকারি হাসপাতালে ট্রেনি ফার্মাসিস্ট হিসেবে জয়েন করেছি। প্রথম মাসের বেতন নিয়ে, কলেজস্ট্রিট গিয়ে বেশ কিছু বই কিনলাম। তার মধ্যে একটা বই ছিল 'প্রথম প্রবাহ'। ওটাই আমার পড়া সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম বই। মহাভারতের আদিপর্ব নিয়ে লেখা চমৎকার একটা লেখা। যেমন ভাষা, তেমনই বর্ণনা - পড়ার পর বইয়ের প্রথম পাতায় লিখে রেখেছিলাম, - "আমার প্রথম স্যালারিতে কেনা বই।"

আজকে পড়ে শেষ করলাম সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের আরও একটি উপন্যাস - "ধুলোখেলা"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপর রচিত সুন্দর একটা উপন্যাস। বিশাল কোন দর্শন নেই, সাধারণ কিছু ঘটনা নিয়ে খুব সাধারণ ভাবে লেখক প্রত্যেকটা চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পড়তে নিজেকে কখনো কিংশুক মনে হয়েছে, কখনো উন্মেষ, আবার কখনো তমাল।
কিছু মানুষ নিজের জীবনের মানে খুঁজে বেড়াচ্ছে, জীবনের সার্থকতা খুঁজছে। জমি অধিগ্রহণ, জমি রক্ষাকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে - রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা।
তমালকে লিখতে গিয়ে লেখক যেন নিজের কিছুটা অংশ রেখেছেন - স্কুল শিক্ষক, যিনি স্বল্প ভাষী, খুব কম লেখেন। গল্পের লেখার ব্যাপারে খুব যত্নশীল।

"আমার মনে হয়, নাস্তিক হওয়া একটা টাফ ব্যাপার। খুব বিরাট, খুব ষ্ট্রং একটা ফিলোজফিক্যাল বেশ দরকার হয় নাস্তিক হওয়ার জন্য, দারুণ মজবুত একটা মেন্টাল মেক-আপ, না হলে ওই প্রবল "না" -এর ধাক্কা তোমাকে গুঁড়িয়ে দেবে!'......
..... ভগবান নেই, ফলে এই দুনিয়ায় তোমার কোনও গাইড নেই। তুমি একা। মৃত্যু তোমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে যাবে। কারণ, তুমি জানো, যাকে হারালে সে আর অবশেষ নেই, সে আর কোনওদিন কোনওভাবে আসবে না! এই যে বিরাট শূন্যতা, একটা সর্বব্যাপী "না", যত এটা নিয়ে গভীরে ভাবতে যাবে ততই তুমি ডিপ্রেসড হবে। কোথাও কোনও আলো নেই, আশা নেই। নাস্তিক দর্শন খুব সাংঘাতিক, টুলু!"

এবার সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের ছোট গল্প পড়ার ইচ্ছে আছে। তাই ওনার গল্পের বই চৈত্রমাস ও সর্বনাশের গল্প অর্ডার করলাম।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews