এসএসসি পরীক্ষা শেষের অলস অবকাশে বুকশেলফের পুরনো বইয়ের মাঝে এই রোম্যান্টিক উপন্যাসটি খুঁজে পেয়েছিলাম। বইটি পড়া ও পড়ে বেশ ভালো লাগার জন্য সেটাই বোধহয় সঠিক বয়স ছিল, তাই অভিনেতা আফজাল হোসেনের লেখক পরিচয়ের সন্ধান পেয়ে অভিভূত হয়ে আফজাল- সুবর্ণা জুটির "পারলে না রুমকি" নাটকটি দেখারও বেশ খায়েশ হয়েছিল- অন্তর্জাল মাধ্যম একসময় সহজলভ্য হওয়ার পর খোঁজাখুঁজি করে সেই অতি প্রাচীন নাটকের সন্ধান মেলে নি অবশ্য। এদ্দিন পর আবারো মনে পড়ল, আবারো হল বইটি পড়া- স্মৃতির ধুলোবালিতে উপন্যাসের শেষ অংকের দৃশ্য বাদে কিছুই মনে ছিল না যেহেতু! অবশ্য এখন বোধহয় বুড়ি হয়েই গেছি, তাই " আমার জন্ম হয়েছে তোমাকে ভালোবাসার জন্য" গোছের সংলাপ দেখলে অতি প্রগলভতাই মনে হয়! তবে এখন যা মনে হল... বইটির আসল গুণ- উভয় পক্ষের মনস্তত্ত্ব আর পারিপার্শ্বিকতা বেশ ডিটেইলড ভাবে রূপায়নে! কীভাবে হুট করে একটি নির্মল সম্পর্ক গাছের মত গজিয়ে যেতে পারে, আবার আপাতদৃষ্টিতে অতি তুচ্ছ মান-অভিমান আর লুকোছাপা মহীরুহের আকার ধারণ করে সে সম্পর্কে কীভাবে চূড়ান্ত বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে- তারই এক ধরনের চমৎকার আলেখ্য ( কিঞ্চিৎ সিনেমাটিক!) হয়ে উঠেছে বইটি। জ্যোতি আর রুমকির অবুঝ-সবুজ প্রেম-ভালোবাসায় বেশি ফোকাস করায় নাটের গুরু নীলি ভাবি চরিত্রটিকে শেষমেশ একটু অবহেলিত মনে হলেও আগেকার-পরেকার সব ভালো লাগা মিলিয়ে সর্বোপরি রেটিং - ৪/৫ :)