তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জনের পরে তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ দুই-দশকের লেখক-জীবনে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-সাহিত্য, উভয় ধারাতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তিনি যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন, তখন ঘটনার বিবরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন মানব-মনের আলোছায়াকে তুলে আনার বিষয়ে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর বহু কাহিনি রেডিও-স্টোরি হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সমাদর পেয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং নান্দনিক সাহিত্য সম্মান।
যদি কেউ প্রশ্ন করে তোমার ইদানিং কালের সবচেয়ে পছন্দের লেখক কে? মনের অজান্তেই বেরিয়ে যাবে সৈকত মুখোপাধ্যায়ের নাম। খুব বেশি সংখ্যক বই যে পড়েছি তার তা কিন্তু না। খুবই অল্প সংখ্যক বই পড়েছি মাত্র। কিন্তু যতগুলো পড়েছি সবগুলোই অসম্ভব ভালো লেগেছে। এটাও সেই অসম্ভব ভালোর মধ্যেই পড়ে। আর তাই ডিরেক্ট মোস্ট ফেভারিট শেলফ এ এর অবস্থান।
তিন তিনটা জমজমাট গল্প নিয়ে এই বইটি। প্রত্যেকটি আলাদা ভাবে অসাধারণ তার মধ্যে অনন্যসাধারণ ২য় গল্পটি। 'দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো '। অমৃত পাতা, ময়ুরকন্ঠী টিয়া নিয়ে যেভাবে রহস্য তৈরি হয়েছিল তা অতুলনীয়। কোন ভাবেই গেস করতে পারছিলাম না। যাইহোক আরো কয়েকটা কালেকশনে আছে লেখকের বই। খুব তাড়াতাড়িই পড়ার ইচ্ছা আছে।
সৈকত মুখোপাধ্যায় এর গল্পের বিষয়বৈচিত্র চোখে পড়ার মতো। তিনটা গল্পের মধ্যে "মৃত রাজা জাগো" সেরা।নারিয়া উপজাতির মৃত রাজার মমি নিয়ে লেখা এই কাহিনির মোচড়গুলো অপ্রত্যাশিতরকম সুন্দর।এ গল্পের শেষ অংশটুকু বহুদিন মনে গেঁথে থাকবে। অন্য গল্প দুটো পড়েও ভালো লাগলো।
সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখার কি রিভিউ দেওয়ার দরকার আছে? নেই বোধহয়। তবু, নিজের মুগ্ধতার কথাটুকু লিখি। ১] "মৃতরাজা জাগো" প্রকাশিত হয় 'আমপাতা জামপাতা'-তে। এই অসামান্য গল্পটি শুধু বাংলায় 'মমি' নিয়ে ভাবনার জগতে একঝলক টাটকা হাওয়াই নয়। বরং মানুষের অধিকার, চাওয়া-পাওয়া, আর স্বপ্ন দেখা এখানে একাকার হয়ে গেছে মায়াবী এক গল্পের কাঠামোয়। ২] 'দিঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো' বেরিয়েছিল শারদীয়া শুকতারা-তে। উপন্যাসটা প্রকৃতির রহস্য, রোমাঞ্চ, আর ফোটোগ্রাফার তথা অভিযাত্রী নীল মুখার্জির এক দারুণ অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে স্মরণীয়। ৩] 'মুনিয়ার আংটি' এই বইয়ের সবচেয়ে নরম, ভীরু, কিন্তু মিষ্টি গল্প। এও প্রথম প্রকাশিত হয় 'আমপাতা জামপাতা'-তেই। এই গল্পটার মাধুর্য আর রোমাঞ্চ স্রেফ লা-জবাব। সব মিলিয়ে বিশুদ্ধ পাঁচ তারা লেভেলের এই বইটি ঝটপট জোগাড় করুন, আর বুঁদ হয়ে যান তাতে।
সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখায় একটা জাদু আছে। প্রকৃতি, গল্পের প্লটের বিচিত্রতা, মায়াময় সাবলীল লেখনী সব মিলিয়ে দুর্দান্ত। ভদ্রলোকের লেখার মায়ায় বেশ ভালো মতোই মজেছি।
ছোটখাটো বইটায় গল্প মোটে তিনটা। তিনটাই সুন্দর! প্রথম গল্প, 'মৃত রাজা জাগো' বেশি মাত্রায় সুন্দর। আর শেষ দুটো গল্প, দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো ও মুনিয়ার আংটি-এই দুটোর প্লট চমৎকার কিন্তু কিছু জায়গা একটু কেমন খাপছাড়া 😐 সেই জায়গা আলোচনা করলে আবার স্পয়লার হয়ে যাবার আশংকা। তবে লেখকের প্রকৃতি প্রেম, বন্য পশু-পাখির প্রতি মমতা, গাছাপালা ও আদিবাসীদের জন্য যে মায়া কাজ করে তা খুব ভালোভাবে টের পাওয়া যায় তার লেখার মাধ্যমে। যাকগা, চমৎকার বর্ণনা সমৃদ্ধ কিন্তু দারুণ গল্পের মাঝে খুব অল্প একটুখানি কেমনতর যদি হয় তিনটা গল্পের মাঝে দুইটা তাহলে তো তারা কিছুটা কমা উচিত। (প্রথমে ভেবেছিলাম তিন তারা দেব, কিন্তু নাহ! এতো মায়া মায়া লেখা! পারলাম না সেটা) এখন আসি, অল্পের উপর ঝাপসা বর্ণনায়।
মৃত রাজা জাগো: মধ্যপ্রদেশের নাড়িয়া উপজাতিরা বিশ্বাস করে তাদের রাজা ফিরে আসবে। সেই সাথে আসবে তাদের সুদিন। প্রাচীন উপকথাকে বর্তমানের চোখে দেখলে যা বুঝা যায় তা হলো সেই রাজার মৃতদেহকে মমি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু নৃতত্ত্ববিদ আর আরকিওলজিস্টদের কল্যাণে আমরা জানি মমি করে রাখার ব্যাপারটা তো মিশরদের এক চেটিয়া অধিকার। তবে? মৃত রাজা কি আসলেই জেগে উঠবে? নাকি এটা শুধুই মিথ?
দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো: একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার নীল চ্যাটার্জী। ধনেশ পাখির ছবি তুলতে ডুয়ার্সের জঙ্গলে যেয়ে আবিষ্কার করে এক ভদ্রলোককে। যে নাকি জঙ্গলের গাছাপালার মধ্য থেকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সর্বরোগনাশক একটা গাছের পাতা। সেই পাতার গাছের আবার ছবি নেই, কেবল একটা পাতার ছবি, তাও শুকনো পাতা আর খুব রহস্যময় ভাবে আঁকা। এদিকে জঙ্গলে উপস্থিত রয়েছে আরেক উপজাতি দলের সর্দার। সেও জানে সেই ঔষধি গাছের কথা। কিন্তু চোখে দেখেনি কোনদিন। লোকের মুখে মুখে, গানের মাঝে শুনেছে সেই অত্যাশ্চর্য পাতার কথা। এবার তবে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে?
মুনিয়ার আংটি: জঙ্গলে ঘেরা চিতলভাসা গ্রামের মেয়ে মুনিয়া। ওর বাবা প্রায় এক বছর যাবত নিখোঁজ। কেউ জানে না, মুক্তিনাথ মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে। মুনিয়ার মা অভাবের সংসারে খেটে যায় প্রাণপণে আর প্রায়ই চোখের জল ফেলে। ভাবে, বুঝিবা স্বামী মারা গেছে। কিন্তু মুনিয়া ভাবে অন্য কথা। বাবার হাতে তো একটা আংটি আছে। বাঘও ভয় পায় সেই আংটিকে। তবে বাবা কিভাবে মারা গেল? আর আংটিটারই বা কি হলো? তাদের এমনি বিপদের দিনে দেবদূতের মতো আসে এক দল লোক। বড়দা মোহনকে কাজ দিতে চায়। দলটার সাথে জঙ্গলে যায় মোহন। প্রথম প্রথম খোঁজখবর পেলেও দাদা একটা সময় আর যোগাযোগ রাখেনা ওদের সাথে। তবে কি বাবার মতো দাদাও হারিয়ে গেল? ইশ! বাবার আংটিটা থাকলে কতোইনা ভালো হতো! ভাবে মুনিয়া। স্বর্গের হাঁসকে বলে দেখবে নাকি মুনিয়া একটাবার?
কি দারুন একখানা বই। ছোট্ট কলেবরে, তিনটি বড় মাপের গপ্পো। নিখাদ কিশোরপাঠ্য হলেও, ভীষণ উপভোগ্য। মন খারাপের রাতবিরেতে এমন একখানি বই টনিক ন্যায় কার্যকরী। সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখনী নিয়ে প্রশংসা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই। মিষ্ট মায়ায় আবিষ্ট লেখাগুলো, বন জঙ্গল এবং অরণ্যের বাসিন্দাদের নাড়ির খবর ভারী কাছ থেকে শোনায়। এদের মাঝে হারিয়ে যাওয়া যায়। হারিয়ে যেতে ভয় করে না। সাথে দোসর হিসেবে মেলে এক পরশ অ্যাডভেঞ্চার এবং অনেকটা ভালো লাগা। সেখানে দাঁড়িয়ে দেব সাহিত্য কুটিরের ছিমছাম পরিবেশনা, বেশ মনোরঞ্জক।
বইঃ মৃত রাজা জাগো লেখকঃ সৈকত মুখোপাধ্যায় প্রকাশকঃ দেব সাহিত্য কুটীর প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা প্রকাশকালঃ এপ্রিল, ২০১৭ ঘরানাঃ ফ্যান্টাসি/থ্রিলার গল্প প্রচ্ছদঃ অজানা পৃষ্ঠাঃ ৯৬ মুদ্রিত মূল্যঃ ১৩০ রুপি
১। মৃত রাজা জাগোঃ মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্যপর্বত অঞ্চল। এখানেই বংশানুক্রমিক ভাবে বসবাস করে আসছে আদিবাসী নারিয়ারা। এদের একজন রাজা প্রায় চারশো বছর আগে নিহত হন। নারিয়াদের সবাই বিশ্বাস করে, মৃত রাজা কিলারায় নারিয়ার মৃতদেহ মমি করে লুকিয়ে রাখা আছে কোথাও। শীঘ্রই যে-কোন দিন তিনি আবার জেগে উঠ��েন। হাতে তুলে নেবেন নারিয়াদের শাসনভার।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বিশ্বদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদেশে নারিয়াদের গ্রামে পা রাখলো অ্যানথ্রপলজির ছাত্র মৃন্ময়। ত্রিশ বছর আগে মৃত রাজার মমি'র খোঁজ না পেয়ে বিফল হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন তার শিক্ষক। এবার মৃন্ময় কি সফল হবে রাজা কিলারায়ের মমি সন্ধান পেতে?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ চমৎকার একটা গল্প। সৈকত মুখোপাধ্যায় বেশ জটিল একটা রহস্যের আবহ তৈরি করেছেন তাঁর 'মৃত রাজা জাগো' গল্পে। গল্পের শেষটাও বেশ ভালো লেগেছে।
২৷ দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলোঃ নীল চ্যাটার্জি একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার। বিরল প্রজাতির হর্নবিলের (ধনেশ পাখি) ছবি তোলার জন্য সে পা রাখলো ডুয়ার্সের দীঘলবাড়ি জঙ্গলে। সেখানে অকস্মাৎ তার দেখা হয়ে গেলো ডক্টর সব্যসাচী মিত্র'র সাথে, যিনি খুঁজে বেড়ান আদিবাসীদের প্রাচীন সব ঔষধি গাছগাছড়া। এবার তিনি খুঁজছেন প্যানাসিয়া পাতা, যা নাকি সমস্ত রোগ এক নিমেষে সারিয়ে দিতে পারে!
সেই দীঘলবাড়ির জঙ্গলেই তরুণ নীলের পরিচিত হলো মূক ও বধির বালক কাজল ও তার বৃদ্ধ দাদু দয়াল সর্দারের সাথে; যারা নিজেরাও সেই ধন্বন্তরি প্যানাসিয়া পাতাই খুঁজছে। শেষমেষ কি পাওয়া গিয়েছিলো সেই পাতা!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ জঙ্গল বিষয়ক অ্যাডভেঞ্চার ধাঁচের গল্প 'দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো'-তে লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায় এতো চমৎকার ভাবে বন্য পরিবেশ ও তার জীববৈচিত্র্যের বর্ণনা দিয়েছেন যে একেবারে তন্ময় হয়ে পড়ে গেছি শুধু। মূল থিম ছিলো প্যানাসিয়া পাতার খোঁজ। আরও ছিলো লোভ আর মানবতার যুগপৎ মিশ্রণ। বেশ ভালো লেগেছে গল্পটা।
৩। মুনিয়ার আংটিঃ বার্ড এক্সপার্ট বিজিত মণ্ডল ও তার টিমের সাথে প্রায় এক মাস হলো সামতা রিজার্ভ ফরেস্টে গাইড হিসেবে ঢুকেছে ছোট্ট মুনিয়ার দাদা মোহন ছেত্রী। পনেরো বছর বয়সী কিশোর মোহনকে নিয়ে তার মা আর ছোট্ট বোনটার দুশ্চিন্তার কোন শেষ নেই। তার ওপর ওই বনেই এক বছর আগে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন মোহন-মুনিয়ার বাবা মুক্তিনাথ ছেত্রী। কি হয়েছিলো তাঁর, জানাও যায়নি।
মোহন যখন বিজিত মণ্ডলকে সামতা'র পশুপাখিদের ব্যাপারে গাইড করছিলো, পাশাপাশি খুঁজে চলছিলো ওর নিখোঁজ বাবাকে। আর মুনিয়ার মন পড়ে ছিলো ওর বাবার হলুদ পাথরের এক অদ্ভুত আংটির কাছে, যেটা আঙুলে পরা থাকলে নাকি খোদ বাঘেও ছোঁয় না!
কি হয়েছিলো সেই সামতা'র জঙ্গলে? মোহন আর মুনিয়া কি ফিরে পেয়েছিলো তাদের বাবাকে?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে 'মুনিয়ার আংটি'। ছোট্ট মুনিয়ার সরলতা, বিভিন্ন পশুপাখি সম্পর্কে জানতে পারা ও সবশেষে ভয়ঙ্কর এক ষড়যন্ত্র গল্পটাকে নানা স্বাদে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
.
ওপার বাংলার লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায়ের একটা বই-ই আমি এর আগে পড়েছি। আর তা হলো 'মৃত্যুর নিপুণ শিল্প'। ওটাও গল্পগ্রন্থ ছিলো। অনেকদিন বাদে তাঁর আরও একটা বই পড়া হলো - 'মৃত রাজা জাগো'। বইটাতে স্থান পেয়েছে তিনটা গল্প।
আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় 'মৃত রাজা জাগো'-এর তিনটা গল্পের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে কোন গল্পটা, আমি বলবো প্রথমটা অর্থাৎ 'মৃত রাজা জাগো'। অন্য দুটো গল্পও ভালো ছিলো। সৈকত মুখোপাধ্যায়ের সহজ-সরল বর্ণনাভঙ্গির কারণে গল্পগুলো পড়তে ভালো লেগেছে।
বইটার প্রচ্ছদ অসাধারণ লেগেছে। আক্ষেপ রয়ে গেলো এই যে, বইয়ের কোথাও প্রচ্ছদশিল্পীর নামটা আমি খুঁজে পাইনি।
বইটা শেষ করতে অনেক সময় লেগে গেলো। মাঝে বেশ কিছুদিন কোন কিছুই পড়তে পারছিলাম না। রিভিউ লেখার তাগিদ বড় ভয়াবহ জিনিস। তাই বইটা শেষ করেই লিখে ফেললাম। 'মৃত রাজা জাগো'-এর খোঁজ দেয়ার জন্য বন্ধু ও সুহৃদ সুস্মিতাকে ধন্যবাদ।
একশো পাতারও কম লম্বা এই বইটি তিনটি বড়োগল্পের সংকলন। গল্পগুলো হল~ ১. মৃত রাজা জাগো ২. দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো ৩. মুনিয়ার আংটি এদের মধ্যে দু'টি লেখা 'আমপাতা জামপাতা'-তে এবং একটি শারদীয় শুকতারা-য় প্রকাশিত হয়েছিল। লেখাগুলো ছোটোদের তথা চিরসবুজ পাঠকদের জন্য লেখা। রহস্যের একটা আবরণ থাকলেও এদের আসল জোর হল চরিত্ররা। তারাই নিজেদের সাহস, দয়া, মায়া, ভয়— এগুলো দিয়েছে পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি পাঠকের মনে কৌতূহল ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। তার জন্য কখনও যদি বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের সীমাটা আবছা হয়েও যায়, তাতে ক্ষতি হয় না। বরং লাভ হয়— ইংরেজি আর বাংলা, দুই অর্থেই। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।
৩ টা মিডিয়াম সাইজের গল্প নিয়ে এ বই। প্রকৃতি আর এডভেঞ্চারের উপস্থিতি গল্পগুলোর মূল আকর্ষণ। টুইস্ট গুলোও চমৎকার। তবে বইটা মূলত কিশোর সাহিত্য... তাদের কাছে নিশ্চয়ই আরো ভাল্লাগবে।
তিনটি রোমাঞ্চকর রহস্যকাহিনির সংকলন 'মৃত রাজা জাগো'। সাবলীল, শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা ক্ষণে ক্ষণে শিহরিত করেছে। উপজীব্য বিষয়বস্তু পৌরাণিক হওয়ায় সবচে' ভালো লেগেছে 'মৃত রাজা জাগো'। উল্লেখ্য—এই কাহিনিটির অবিশ্বাস্য সমাপ্তি মনে দাগ কেটেছে। বাকি দু'টির একটি 'দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলি' অতিরিক্ত অপ্রাকৃত হয়েছে বিধায় ভালো লেগেছে তবে মাত্রাতিরিক্ত না। 'মুনিয়ার আংটি'তে হালকা বিশ্ব রাজনীতির ছোঁয়া এবং নিসর্গ ও নৈসর্গিক জীব-জড়ের প্রতি মমত্ববোধের নিদর্শন কাহিনিটিতে পূর্ণতা এনে দিয়েছে। কিশোরদের দূরদৃষ্টি প্রসারে এইসব শিল্পকর্ম যথেষ্ট গুরুত্ব ও প্রশংসার দাবি রাখে। সর্বোপরি, 'মৃত রাজা জাগো' বেশ উপভোগ্য একটি রহস্য গ্রন্থ। পড়লে আশাহত হবেন না, আশা করি।
সৈকত মুখোপাধ্যায়ের তিনটি গল্পের সংকলন এই বই।অ্যাডভেঞ্চারধর্মী গল্পগুলো মূলত কিশোরদের জন্য লেখা।বইজুড়ে লেখকের মেদহীন ঝরঝরে গদ্যে ছিমছাম বর্ণনা পড়তে বেশ আরামদায়ক লেগেছে।বইটি আরেকটু কম বয়সে পড়লে হয়ত আরও বেশি উপভোগ করতে পারতাম ।গল্পের হাতি যদিও মালগাড়ি ঠেলে হাসপাতালে পাঠিয়েছে,তবুও এক বসায় পড়ে ওঠার জন্য ভালো বই 'মৃত রাজা জাগো'।
এই প্রথম আমি সৈকত মুখোপাধ্যায়ের বই পড়লাম। "মৃত রাজা জাগো" বইটিতে ৩ টে গল্প আছে - ১) মৃত রাজা জাগো ২) দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো ৩) মুনিয়ার আংটি। এর মধ্যে আমার প্রথম গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে, ২য় গল্পটি পড়ার ইচ্ছে ছিল না জোর করেই শুরু করেছিলাম, তবে খানিকটা পড়ার পর ভালই লাগছিল। হর্নবিল পাখি, ময়ূর কণ্ঠি টিয়া, অমৃত পাতা এইসব সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। "মুনিয়ার আংটি" গল্পটি খারাপ না,মোটামুটি লেগেছে আমার। (গল্প শুরুর আগে বইএর এক পৃষ্ঠায় গল্পের সারসংক্ষেপ দেওয়া ছিল,সেটাই আমি নিম্নে তুলে ধরলাম,নতুন যারা পড়বে তাদের সুবিধার্থে) -
মৃত রাজা জাগো : বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ বিশ্বদেব বন্দোপাধ্যায়ের একটা ফিল্ড ওয়ার্ক incomplete থেকে গিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে বাস করে যে নারিয়া উপজাতির মানুষেরা তাদের এক রাজার শরীর নাকি মমি করে কোথাও লুকিয়ে রাখা আছে।নারিয়ারা বিশ্বাস করে ৪০০বছর পর সেই মৃত রাজা আবার জেগে উঠবেন।প্রফেসর বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক চেষ্টা করেও মমি টাকে খুঁজে পাননি। ৩০বছর বাদে তাঁর তরুণ ছাত্র মৃন্ময় এর ওপর ভার দেন তাঁর ওই অসম্পূর্ণ কাজের। তখন মৃন্ময় ওই মধ্যপ��রদেশের জঙ্গলে মৃত রাজার মমির খোঁজে যায়। তারপর ? সত্যিই কি জেগে উঠেছিল ??
দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো : ডুয়ার্সের দীঘলবাড়ি - যেখানে ঘন জঙ্গলের মুঠোর মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে আস্ত একটা ডলোমাইট মাইনস। সেখানেই ওয়াইল্ড লাইফ photographer নীল চ্যাটার্জীর সঙ্গে হঠাৎই দেখা হয়ে যায় dr. সব্যসাচী মিত্রর,যিনি আদিবাসীদের ঔষধি লতাগুল্ম এর গুনাগুন খুঁজে বেড়ান। দীঘলবাড়ি তে dr. Mitro খুঁজছিলেন অমৃত পাতার গাছ। সে এমন এক পাতা যার রস পেতে গেলে যে কোনো অসুখ সেরে যায়। হেঁয়ালিতে মোড়া সেই অমৃত পাতার ঠিকানা কি খুঁজে পাওয়া গেলো !?
মুনিয়ার আংটি : জঙ্গলে ঘেরা চিতলভাসা গ্রামের মেয়ে মুনিয়া জানত তার বাবা forest guard মুক্তিনাথ ছেত্রী জঙ্গলের মধ্যে বুনো পশুদের খপ্পরে পড়ে মারা গেছে। তার বাবার হাতে অদ্ভুত বাঘ তাড়ানো আংটি ছিল। সেটার কথা প্রায়ই তার মনে পড়তো। তার মা বলেছে স্বর্গ থেকে উড়ে আসে যে হাঁসেরা তারাই একদিন ঠোঁটে করে তার বাবার আংটি ফেরত নিয়ে আসবে। কিন্তু যেদিন তার দাদা মোহনও অদ্ভুতভাবে জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গেলো, সেদিন দাদাকে খুঁজতে গিয়ে সেই রূপকথার জগৎ থেকে মুনিয়া আছড়ে পড়লো ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্রের দুনিয়ায়। শেষ অবধি মুনিয়া কি খুঁজে পেল তার দাদাকে ? খুঁজে পেলো হাঁসের ঠোঁটের আংটি ??
জঙ্গল পটভূমিতে লেখা তিনটি জমজমাট রহস্য গল্প নিয়ে এই "মৃত রাজা জাগো " বইটি। প্রথম দুইটি গল্প তিন নম্বর গল্পটি থেকে উন্নত, তৃতীয় টির প্লট ভালো ছিলো কিন্তু কেমন যেন তারাহুরো করে শেষ হয়েছে আর কিছু খাপছাড়া বিষয় ছিলো যেগুলোর জন্য ঐ গল্পটি বেশি ভালো লাগেনি। এই বইয়ের প্রথম গল্প "মৃত রাজা জাগো" থেকেই বইয়ের নামকরণ এবং প্রচ্ছদেও প্রথম গল্পের ছাপ।প্রচ্ছদটা সুন্দর,যেকোনো পাঠককেই টানবে। লেখক যে অনেক প্রকৃতি প্রেমি এবং বন্য পশু-পাখি, গাছাপালা ও আদিবাসীদের সমন্ধে তাঁর জ্ঞান যে অনেক সমৃদ্ধ,তা তার এই গল্পগুলোর মাঝেই প্রকাশিত।
তিনটি গল্প; মৃত রাজা জাগো, দীঘলবাড়ির দুরস্ত দিনগুলো আর মুনিয়ার আংটি। প্রথম গল্প থেকেই শুরু করি, বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ প্রফেসর বিশ্বদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ফিল্ড ওয়ার্ক অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে বাস করে যে নারিয়া উপজাতির মানুষেরা তাদের এক রাজার শরীর নাকি মমি করে কোথাও লুকিয়ে রাখা আছে। নারিয়ারা বিশ্বাস করে সেই মৃত রাজা আবার জেগে উঠবেন। প্রফেসর বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক চেষ্টা করেও মমিটাকে খুঁজে পাননি। অনেক বছর বাদে তাঁর তরুণ ছাত্র মৃন্ময় আবার ফিরে যায় মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে, মৃত রাজার খোঁজে। তারপর? সত্যিই কি জেগে উঠেছিলেন মৃত রাজা? এই গল্পের বর্ননা অসাধারণ লেগেছে,মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছিলো মৃন্ময় বাংলাভাষী ইন্ডিয়ানা জোন্স। এই গল্পের শেষটা চমৎকার,একটা রহস্য রেখেই জবানিকা পতন।
দ্বিতীয় গল্প দীঘলবাড়ির দুরস্ত দিনগুলো : ডুয়ার্সের দীঘলবাড়ি যেখানে ঘন জঙ্গলের মুঠোর মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে আস্ত একটা ডোলোমাইট মাইনস। সেখানেই ওয়াইল্ড-লাইফ ফোটোগ্রাফার নীল চ্যাটার্জির সঙ্গে আকস্মিকভাবে দেখা হল ডক্টর সব্যসাচী মিত্রর, যিনি আদিবাসীদের ঔষধি লতাগুল্মের গুণাগুণ খুঁজে বেড়ান। দীঘলবাড়িতে ডক্টর মিত্র খুঁজছিলেন অমৃতপাতার গাছ। সে এমন এক পাতা, যার রস পেটে গেলে যে কোনো অসুখ সেরে যায়। এদিকে জঙ্গলে ড.মিত্রর সাথেই রয়েছে আরেক উপজাতি দলের সর্দার। সেও জানে সেই ঔষধি গাছের কথা। তার নাতির ওষুধ সাড়ানোর জন্য সে সেই পাতা খুঁজছে, কিন্তু সেও চোখে দেখেনি কোনদিন। লোকের মুখে মুখে, গানের মাঝে শুনেছে সেই অত্যাশ্চর্য পাতার কথা। তারা কি সন্ধান পাবে এই আশ্চর্য পাতার? এই গল্পটাও অনেক ভালো লেগেছে,মানুষের লোভের কারনে যে পৃথিবীর অনেক প্রজাতির পশু পাখি হারিয়ে যাচ্ছে তার করুন বর্ননা রয়েছে এই গল্পে।
তৃতীয় ও শেষ গল্পটি মুনিয়ার আংটি : জঙ্গলে ঘেরা চিতলভাসা গ্রামের ছোট্ট মেয়ে মুনিয়া, তার বাবা, ফরেস্ট গার্ড মুক্তিনাথ ছেত্রী, জঙ্গলের মধ্যেই বুনো পশুদের খপ্পরে পড়ে মারা গেছে। বাবার হাতে একটা অদ্ভুত বাঘ তাড়ানো আংটি ছিল। সেটার কথা প্রায়ই মনে পড়ে মুনিয়ার। মা বলেছে, স্বর্গ থেকে উড়ে আসে যে হাঁসেরা, তারাই একদিন ঠোঁটে করে বাবার আংটি ফেরত নিয়ে আসবে। কিন্তু যেদিন তার দাদা মোহনও অদ্ভুতভাবে জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গেল, সেদিন দাদাকে খুঁজতে গিয়ে সেই রূপকথার জগৎ থেকে মুনিয়া আছড়ে পড়ল ভয়ঙ্কর এক ষড়যন্ত্রের দুনিয়ায়। শেষ অবধি মুনিয়া কি খুঁজে পেল তার দাদাকে? খুঁজে পেল হাঁসের ঠোঁটে আংটি। তিনটি গল্পের ভিতর এইটিই সবচেয়ে দুর্বল লেগেছে,মনে হয়েছে বড্ড তারাহুরা করে গল্পটি শেষ করেছেন লেখক।
তিনটি গল্পই কিশোর পাঠ্য, তবে বড়দেরও বেশ ভালো লাগবে,কারন প্লট বিশেষ করে প্রথম দুইটি গল্পের প্লট এবং কাহিনী বিন্যাস চমকপ্রদ এবং উপভোগ্য।
This entire review has been hidden because of spoilers.
প্রথম আর আমার প্রিয় বড়গল্পটি হলো "মৃতরাজা জাগো"। এই গল্পটি নিয়ে কিছু বললেই spoiler দেওয়া হবে । তাই কিছু বলছি না। শুধু এইটুকুই বলবো 'দারুন' ।
দ্বিতীয় গল্পটি হলো 'দিঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো''। এই গল্পটার পটভূমি আমার বাড়ি বাড়ির খুব কাছের একটি জায়গা । এমনকি যে গাছটির ওপর নাম করে আমাদের জায়গার নাম রাখা হয়েছিল "ওদলাবাড়ি" সেই ওদলা গাছের তাৎপর্য এই গল্পে সুন্দর করে প্রকাশ পেয়েছে । জঙ্গলের সাথে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, প্রাণীজগৎ যে কতটা বিচিত্র সেগুলো খুব সুন্দর করে ফুটে উঠেছে এই এডভেন্চের গল্পের মধ্যে দিয়ে । গল্পের শেষটিও খুব সুন্দর। তবে এই গল্পে চা এর সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস খাওয়ার উল্লেখ হয়েছে । খুব চোখে লেগেছে এটা । তাই একটা তারা খসালাম রেটিং থেকে। এটা রাগ করেই খসানো !
'মুনিয়ার আংটি' গল্পটি একটি ছোট্ট মিষ্টি ছোটোগল্প !
Lekhoker ei boiti nature er upore lekha. Marang gramer panthosala choto golpoti j tulir achor e toiri, akhankar 3 te golpe sei tuli die chobi ekechen mone hoi. Lekhoker bivinno area te research r golpo bolar dhoron jante, eta must read.
বর্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পলেখকদের মধ্যে অন্যতম সেরা হলেন সৈকত মুখোপাধ্যায়। আরো বিস্তারিত বললে লেখার প্লট এর বৈচিত্র্যময়তার জন্য সৈকত বাবুর জুড়ি মেলা ভার। মৃত রাজা জাগো মূলত অরণ্যকেন্দ্রিক তিনটি বড়গল্পের সমষ্টি। প্রতিটি গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিখুঁত।
I would rate it as 3.5 star. The stories are good, reflects the writers perspective of love toward the nature and environments. However, if you want to buy a book, consider it a collection of Juvenile stories.
আহ এমন সুখপাঠ্য বই আর হয়না। কতদিন পর যে গল্পের ছলে ঘুরে এলাম ডুয়োর্সের জঙ্গল, ধনেশ পাখি আর প্যানিসিয়ার আবিষ্কারের খুজে। একেকটা গল্প ফিরে নিয়ে গেলো সেই কিশোর এডভেঞ্চারে। এত চমৎকারভাবে বন ও বনের মানুষ, প্রানী নিয়ে একমাত্র সৈকত মুখোপাধ্যায় এর লেখা আমার ভালো লাগে।