ষোলশ বছর পূর্বে, সেন্তুসেনিয়া নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা গ্রীসের এক নির্জন বনে বাস করতো কাঠুরে কন্যা অ্যালেক্স। পৃথিবীতে বাবা ছাড়া আপন কেউ ছিল না তার। এক অশুভ সকাল, অ্যালেক্সের জীবনটা ওলটপালট করে দেয়। নিজ বন, নিজ রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। বাইরের জগত সম্পর্কে অ্যালেক্সের ধারনা কিঞ্চিতই। বিপদের মুহূর্তে সর্বক্ষণ ছায়ার মত পাশে থাকে লিও। যে অ্যালেক্সকে বাঁচাতে, তাকে নিয়ে পা বাড়ায় অজানার উদ্দেশ্যে। একটা সময় অ্যালেক্সের প্রতি এক সর্বগ্রাসী মায়ায় জড়িয়ে যায় অন্য একজনের জীবন, যার সাথে জড়িত পুরো রোমান সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ। নীরবে ভাগ্যকে মেনে নেয় লিও। পাওয়া যায়, অলিম্পিয়া হতে প্রেরিত পৃথিবীতে জিউসের সর্বশেষ নিদর্শনের সন্ধান। ঘটনার পরিক্রমায় চলতে থাকে পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব, সিংহাসন নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং সিনেটের অসহযোগ। উন্মোচিত হয় কিছু অযাচিত সত্যের। ঘটে যায় কিছু অনাকাঙ্খিত পরিণতি, যা অনেককে ঠেলে দেয় ধ্বংসাত্মক এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
বইঃ এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখকঃ জিমি হাইসন (Jimee Hison) প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য প্রচ্ছদঃ রেড কোলস পৃষ্ঠাঃ ৪০৫ মূল্যঃ ৭৫০ টাকা রেটিংঃ ১০/১০ . আমি রিভিউতে কাহিনীর বর্ণনার চেয়ে আমার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়াই বেশি রাখতে বাধ্য হয়েছি। সীমাহীন মুগ্ধতাই এরকম বাধ্য হওয়ার কারন। . ►অভিনব আবির্ভাব◄ . অজেয় অবাধ্য অথর্ব অরুণ অরুণের অনলে অস্ফুট অতৃপ্তি অতৃপ্ত অহমিকায় অবুঝ অশ্বথ অশ্বথের অতলে অবাধ্য অপ্সরা অপ্সরার অধরে অসুরের অবয়ব অবয়বে অপরূপ অলংকার অশোভন অশোভন অন্ধকারে অপ্রস্তুত অন্ত অন্তে অরুণের অযাচিত অস্ত। . ----উপন্যাসের আগেই এই কবিতাটি নজর কেড়েছে। শব্দচয়ন, ছন্দের অন্ত্যমিল, কারুকার্যময় অলংকার সমৃদ্ধ ভাষার ব্যবহার আমাকে অভিভূত করেছে। উপন্যাসটি পড়ে শেষ করার পর কাহিনীর সাথে এই কবিতাটার মিল আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।
►কাহিনী সংক্ষেপ◄
কাহিনী নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু লিখছি না। এমনিতেই আমি রিভিউ লিখতে পারি না। লিখতে চেষ্টাও করি না। অনেক সময় লাগে। যতটুকু সময় পাই সেটা বই পড়ার জন্যই ব্যবহার করি। বইয়ের নামই প্রমান করে বইটি মিস্ট্রি ঘরানার এবং কাহিনী শুরুই হয়েছে একটি রহস্য নিয়ে। সুতরাং গল্পের ধরন অনুসারে মিস্ট্রি ঘরানার বলা চলে কিন্তু এটাকে আমি অন্তরস্পর্শী প্রেমের উপন্যাসই বলবো। ৪র্থ শতাব্দীর রহস্য নিয়ে লেখা শুরু করে এটা খুবই মিষ্টি একটি প্রেমের উপন্যাসে রূপ নিয়েছে। আবার যারা রোমান্ট্যিক উপন্যাস পছন্দ করেন না তারা যদি বইটি পড়ার তালিকা থেকে বাদ দেন তাহলে মারাত্বক মিস করবেন। ৪র্থ শতাব্দীতে গ্রীসের এক নির্জন বনে বাস করতো ৬ বছর বয়সী কাঠুরে কন্যা অ্যালেক্স। পৃথিবীতে বাবাই ছিল আপন, আর কেউ ছিল না অ্যালেক্সের। ৪র্থ শতাব্দীর সেই রহস্যের কারনেই চোখের সামনে অ্যালেক্সের বাবা খুন হয়ে যান। তারপরই অ্যালেক্সের জীবনটা ওলটপালট হয়ে যায়। সুদর্শন লিও আসে অ্যালেক্সের জীবনে। তারপর ঘটতে শুরু করে একের পর এক ঘটনা। সেগুলো আর নাইবা লিখলাম। লিও’র অব্যক্ত প্রেম যেমন মুগ্ধ করেছে ঠিক তেমনি অ্যালেক্সের সেটা অনুধাবন করতে না পারাটাও আমাকে অস্থির করে তুলেছিল। আবার এদিকে রোম যুবরাজ ইথানের ভালবাসা। এই ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী কিভাবে সফল পরিণতিতে নিবেন লেখিকা সেটা নিয়ে আতঙ্কিত ছিলাম এই ভেবে যে, না জানি নতুন লেখিকা এ্যামেচারসুলভ কোন মিলন দেখিয়ে দেয়। কিন্তু যখন সেই ভালবাসার কাঙ্ক্ষিত পরিনতি এলো তখন লেখিকার কল্পনাশক্তির প্রশংসা না করে পারিনি। . লিও’র প্রেম অব্যক্ত কিন্তু ইথানের প্রেমের প্রকাশ প্রভাতের সূর্যের আলোর মতোই জানান দিয়েছে। তাই হয়তো ইথানের প্রেমিক সত্তা বেশি প্রস্ফুটিত হয়েছে। যদিও আমি লিও’র পক্ষেই ছিলাম তবুও ইথানের আর্তনাদ আমাকে বিহ্বল করে তুলেছে। ইথানের মনের আকুলতা লেখিকা যেভাবে প্রকাশ করেছেন সেটা খুবই মর্মস্পর্শী ছিল।
লেখিকার লেখনীতে - এক প্রেমিক হৃদয়ের আর্তনাদ এর চেয়ে গাঢ় কি হতে পেরেছিল? "সবাই আমাকে উদীয়মান সূর্য বলতো। সিংহের সঙ্গে তুলনা করতো কেউ কেউ। যে রাজ্যে চোখ দিয়েছি, তাই জয় করে ছেড়েছি। শুধু পারিনি তোমাকে জয় করতে। তুমি এই উদীয়মান সূর্যকে অস্তমিত করে ছেড়েছো। কেড়ে নিয়েছো সেই সিংহরূপ ব্যক্তিত্ব। আর কি চাও তুমি? আর কত অধঃপতন দেখতে চাও আমার? শরীরে ক্ষত তৈরী করতে ভয় পাচ্ছো? অথচ ভেতরের ক্ষত তৈরী করতে একবারও ভাবলে না! তরবারিটা ওঠাও। একনিমিষেই সব শেষ করে দাও, সব ব্যাথা, সব অন্তর্জালা, সব বোবাকান্না।" . ►বইটি আমার যেমন লেগেছে◄ একটি অসাধারণ ম্যাজিক্যাল বই যা আমাকে প্রথম পেইজ থেকে শুরু করে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত উপন্যাসের প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে চুম্বকের মতো ধরে রেখেছিল। বইটি শেষ করার পরেও তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ ফুরিয়ে যায়নি। কারন লেখিকা চতুর্থ শতাব্দীর রহস্যটা রহস্যই রেখে দিয়েছেন যা ২য় অথবা ৩য় খণ্ডে হয়তো পরিষ্কার হতে পারে। এই রহস্যের কিনারা না করেই লেখিকা গল্পকে অন্য এক দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন। নিঃসন্দেহে ১৭ সালের আলোচিত বই এটি। . জীবনের প্রথম উপন্যাস লেখার জন্য ৪র্থ শতাব্দী আর গ্রীস এবং ইতালি বেছে নেয়া বিস্ময়কর রকমের নতুনত্ব। আমাদের দেশীয় সাহিত্যে এরকম গল্পের প্লট আমি এর আগে পড়িনি, আছে কিনা জানিও না। লেখিকার প্রথম বই মনেই হয়নি। সহজ, সাবলীল এবং ছোটখাট ঘটনার খুঁটিনাটি বিবরন আমাকে মুগ্ধ করেছে। . স্বাস্থ্যবতী বই পড়ার সময় চরিত্রের প্রাচুর্য্যের কারনে অনেক সময় আমার চরিত্রের ক্রম রক্ষা করতে সমস্যা হয়ে যেতো যা এই বইটিতে পাইনি। চরিত্রের বাহুল্য এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। . বইটি পড়া শুরু করার পর আমার আর নিজে থেকে পড়ার চেষ্টা করতে হয়নি। রোলার কোস্টার কনকর্ড বিমানের গতিতে ছোঁটা শুরু করেছিল। ইনশাল্লাহ নিশ্চিত করেই বলতে পারি, যে সকল বইপ্রেমীরা স্বাস্থ্যবতী বই দেখলেই ভয় পান তারা ৪০৫ পেইজের কথা বেমালুম ভুলে যাবেন। . সর্বোপরি বইটি পড়তে সময় পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে কতটা মায়া মমতা ভালবাসা আর দরদ দিয়ে লেখিকা তার জীবনের প্রথম উপন্যাস লিখছেন!!!
►সমালোচনা◄ -১৬ শ বছরের আগের পটভূমি নিয়ে উপন্যাস লিখতে গিয়ে লেখিকা নিশ্চই অনেক বই পড়েছেন সে সকল বইয়ের কোন লিস্ট নেই।
-যুদ্ধের বর্ননা অপ্রতুল মনে হয়েছে।
-প্রচ্ছদ খুব কমন মনে হয়েছে। কাহিনীতে অনেক গুরুত্বপূর্ন কিছু ছিল যা প্রচ্ছদে দেয়া যেতো। যেমন অ্যালেক্সের জুতো জোড়া। . ►যা ভয় পাচ্ছি◄ লেখিকার কাছে পাঠকের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অন্তঃতপক্ষে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ফেইসবুকের সাহিত্যের গ্রুপে গ্রুপে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। এই প্রত্যাশার চাপে প্রকাশিতব্য দুটি খন্ডের লেখার মান ম্রিয়মাণ হয়ে যায় কিনা সেটা নিয়েই ভয় পাচ্ছি। সমরেশ মজুমদারের লেখায় এরকম বহুবার দেখেছি। অন্তরের অন্তস্থঃল থেকে প্রার্থনা করছি দুটি প্রকাশিতব্য দুটি খন্ড যেন এর চেয়েও অনেক বেশি সুখপাঠ্য হয়। . ►লেখিকার নাম নিয়ে কৌতূহল নিরসন◄ প্রথম বই হিসেবে একজন লেখকের লেখা যতখানি আলোচিত হয় কিংবা তার সৃষ্টি পাঠককে যতটুকু আকৃষ্ট করে ব্যক্তিলেখক নিজে ততখানি আলোচিত হন না। মজাটা এখানেই। এক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয়েছে। লেখিকা তার সৃষ্টিতে যতখানি সাড়া ফেলেছেন তার নিজের নামেও ঠিক ততখানি পাঠককে আকৃষ্ট করেছেন। পিতামাতা কর্তৃক প্রদত্ত নাম “নুরে জান্নাত জিমি”। বৈবাহিক সূত্রে পদবী পেয়েছেন “হাইসন”। এভাবেই তিনি হয়েছেন “জিমি হাইসন” যা পাঠকের মনে তীব্র কৌতূহল সৃষ্টি করেছে বলেই আমার ধারনা। . ►বইটির অস্বাভাবিক মূল্যের ব্যাখ্যা◄ তুখোড় বইপ্রেমীরা শুধুমাত্র লেখার মান নিয়েই চিন্তা করে না সার্বিক বিচারে বইটি কেমন সেটা নিয়েও বিশদ চিন্তা করে থাকেন বলেই আমার ধারনা। তাদের কথা বিবেচনা করেই বইটির অস্বাভাবিক মূল্যের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে যাচ্ছি। ভার্জিন রেজিন অফসেট পেপার দিয়ে বইটি মুদ্রিত হয়েছে যার প্রতি ফর্মার মূল্য প্রকাশক ৩০ টাকা করে নির্ধারন করেছেন। ২৫ ফর্মার বই তাই গায়ের মূল্যে ৭৫০ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহ্যের সকল বই কিন্তু এরকম দামী কাগজে ছাপা হয় না। তাহলে সম্পূর্ন নতুন একজন লেখকের জীবনের প্রথম বইটির মুদ্রণে এতো বেশি খরচ করে প্রকাশক কেন রিস্ক নিতে গেলেন??? রিস্ক ফ্যাক্টর এখানেই শেষ নয়। বইটি পরবর্তী দুইটি খণ্ডে সমাপ্ত হবে ইনশাল্লাহ। আর কে না জানে যে প্রথম খন্ড পাঠক না কাটলে বাকি দুইটি খণ্ড ইঁদুরই কাটবে। আমার ধারনা প্রকাশক পাণ্ডুলিপি পড়েই বুঝে ফেলেছেন এই বই ভালোই কাটবে। . প্রকাশক কাঁচ এবং হীরের পার্থক্য ধরতে পেরেছেন। হ্যাঁ বইটি কাঁচের টুকরাও নয়, সোনার টুকরোও নয় বরং সাক্ষাৎ হীরের টুকরো। আর হীরে যে কৌটায় রাখা হয় সেটাও দামী হয়। দামী জিনিসের দামী মোড়ক এটাই তো স্বাভাবিক! আপনাকে আমিই নিশ্চিত করছি যে, এতো দাম দিয়ে বইটি কিনে পড়ার পর ওভার প্রাইসড নিয়ে আপনার মনে কোন খচখচানি থাকবে না। কাগজের মান, মুদ্রণ, চমৎকার শব্দচয়ন, নির্ভুল বানানের একটা বই হাতে পেয়ে আপনার অন্তরের ব্যথা পুরোটা লাঘব হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। ২ টা বইয়ের দাম দিয়ে ১ টি বই কিনে পড়ার পর যদি সেই ২ টা বই পড়ার চেয়েও সন্তুষ্টি বেশি হয় তাহলে আমি এরকম বইই সবসময় কিনতে চাই। .
►লেখক পরিচিতিঃ বই এর ফ্ল্যাপ থেকে◄ জন্ম - ১৯৮৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর। ইংরেজি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তরুন উদীয়মান এই লেখিকার লেখালেখির শুরু বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এবং সাহিত্য সাময়িকীতে। 'এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি' উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন তিনি ২০১৩ সালে। দীর্ঘ তিন বছরে রচিত এই উপন্যাসে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পাঠককে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন সেই ষোলশ বছর পূর্বের রোমান উপনিবেশে। উপন্যাসটিকে কেউ 'অনুবাদ' কিংবা 'কোন ঘটনার ছায়া' অবলম্বনে ভেবে থাকলে ভুল করবেন। এটি সম্পূর্ণ মৌলিক বাংলা উপন্যাস যা জিমি হাইসনের সৃষ্ট। একই প্রেক্ষাপটে তার প্রকাশিতব্য আরও দুটি উপন্যাস 'ফোর্থ সেঞ্চুরিঃ ইথান ২' এবং 'ফোর্থ সেঞ্চুরিঃ এ্যাথেন্স অরিটাস'।
পাঠ-অনুভূতির মাঝে খারাপ লাগা বেশি থাকলে আমি সাধারণত সে বইয়ের রিভিউ দেই না। কিন্তু এটার রিভিউ গ্রুপে না দিলেও নিজের টাইমলাইনে দিচ্ছি যার প্রথম কারণ হচ্ছে, “আই ফিল চিটেড উইথ দিস বুক’স কভার” -_- বইয়ের ভেতরের সাথে কভারের মিল না থাকাটা শুধু এ দেশেই না, বাইরের অসংখ্য বইতেও এমন হয়। কিন্তু তাই বলে থ্রিলার গল্পের মতো কভার, অথচ ভেতরে ৮০% স্টোরি চিলড্রেন ফ্রেন্ডলি ডিজনি-স্টোরি টাইপ রোমান্স?
বইয়ের প্রথম ৫০-৬০ পেইজ পড়ার পরই বুঝেছি ভুল জানরায় ভুল অডিয়েন্স টারগেট করে বইটার পসিবিলিটিকে নষ্ট করা হচ্ছে। এদেশে ছোটদের জন্য ইশপের গল্প আর পেত্নির গল্প ছাড়া তেমন ফ্যান্টাসি বই কম। কিন্তু এটা অনেক ভালো একটা অরিজিনাল দেশি সিরিজ, তাও ছোটদের জন্য – বের হচ্ছে ভেবেছিলাম শুরুতে। কিন্তু দুর্বল প্রোটাগনিস্ট, গল্পের মূল নারী চরিত্র প্রজাপতি ধরা, কান্নাকাটি করা আর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া ছাড়া কিছুই জানে না; পাঁচ বছর ধরে লিওর খাবার বেড়ে দিচ্ছে, অথচ লিও নাকি মেয়ের “যাস্ট ফ্রেন্ড!!”
আর অনেক বড় বড় অপ্রয়োজনীয়, দুর্বল ডায়ালগ, দুর্বল ভিলেইন, মিস্ট্রি বলতে কিছুই নেই, মাঝের ২০০+ পেইজে জুতা বা ঐ তিন চোর নিয়ে কোন কিছুই ছিলো না যে জুতাই ছিলো শুরুর দিকের মিস্ট্রি – সবকিছু মিলে ৪০০ পেইজ পর্যন্ত পার করা খুব কষ্ট হয়েছে।
১৫০ পেইজের ভেতর বইটা শেষ হলে, সাথে ড্রিমি-ফেয়ারি টেল জানরার আঁকা কভার হলে বইটা পারফেক্ট হতো। সবচেয়ে ভালো হতো পিকচার বুক হিসেবে বের হলে। এনিম্যাশন মুভি হিসেবেও গল্পটা ভালো। দু ঘন্টায় একটা মুভি হওয়ার মতো যথেষ্ট উপকরণ আছে বইটিতে। গল্পের শুরুটা এবং মাঝের কয়েকটা টুয়িস্ট, সাথে শেষ দিকে কিছু ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে বিরোধ – আমাকে ছোটবেলার বারবি-মুভিগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখানেও সমস্যা একটাই বারবি কিংবা ডিজনি প্রিন্সেসদের গল্পগুলোতেও মেয়েরা এতোটা দুর্বল না। দেখা যায় মেয়েরাই সব করে ফেলে। কেন যেন প্রিন্সগুলো শেষ সময়ে উদয় হয়ে দু’চার বার তলোয়ার ঝাঁকিয়েই কৃতিত্ব নেয়; অথচ পুরো গল্প জুড়ে শুরুতে মেয়েটা একাই অনেক পথ পাড়ি দেয়। কিন্তু এই গল্পে প্রোটাগনিস্ট হওয়ার মতো যথেষ্ট স্ট্রং না এলেক্স। পুরো গল্প মূলত লিও, ইথান আর প্যারিসের দৃশ্যপটে পূর্ণ। কিন্তু তারপরও মনে হয় না কখনও আমি রূপকথার গল্প ৪০০ পৃষ্ঠা ধরে পড়তাম।
মোটকথা, চিলড্রেন ফ্রেন্ডলি রোমান্স হলেও কোন মেয়ে শিশুকে বইটা উপহার দিতে পারবো না কখনো। এন্ডিংটা যেভাবে হয়েছে তেমন না হলে আমি রিভিউও দিতাম না। এন্ডিংটার জন্যই বলেছি মুভি হলে গল্পটা সফল হবে; (এ ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্টে ডায়ালগে এবং সিন-ডিস্ট্রিবিউশনে অনেক পরিবর্তন হয়ে একটা ভালো অনুপাতে চলে আসবে)।
পাঠ-সংক্ষেপঃ (স্পয়লার এলার্ট) ছোট্ট এলেক্স নির্জন বনে কাঠুরে বাবার সাথে থাকে। জীবনে প্রথম বাবার সাথে লোকালয়ের বাজারে গিয়ে সবার পায়ে জুতা দেখে অবাক। তারও সাধ হলো জুতো পরবে। দরিদ্র পিতার তার একমাত্র মেয়ের জুতার জন্য সঞ্চয় করতেই লেগে গেলো অনেকদিন। একসময় যখন এলো প্রতিক্ষিত দিনটি, সেদিন হঠাৎ পানিতে পরে যায় জুতা। শোকে পাথর হয়ে অখানেই স্তব্ধ হয়ে পরে থাকলো কাঠুরে পিতা। আঁধার হয়ে এলে হঠাৎ পানি থেকে এলো একজোড়া হাত, যে হাতে আশ্চর্য সুন্দর একজোড়া পাথর খচিত জুতা, যে পাথর আঁধারে চারদিক আলো করে জ্বলছে। এই জুতা মেয়ের বয়সের সাথে বড় হবে। সারাজীবন পরে থাকতে পারবে।
জুতা পেয়ে খুশি এলেক্স বড় হতে থাকলো। একসময় কাঠুরে বয়সের কারণে অসুখে পড়লো। আগের মতো কাজ না করতে পারায় খাবার ফুরিয়ে এলো। বাধ্য হয়ে জুতার একটি পাথর খুলে বাজারে বিক্রি করতে গেলো। অমুল্য পাথরে মাত্র ১০০ সোনার কয়েন পেলেও সেটাই ছিলো কাঠুরের জন্যও বিরাট ধন-সম্পদের মতো। সুস্থ হতেই তাকে লোভ জেঁকে ধরলো, শহরে গিয়ে বড় ব্যাবসা ধরবে বলে। কিন্তু খারাপ লোকেরা জেনে গেলো জুতার কাহিনী। জুতার পেছনে পড়লো তারা। কাঠুরেকে খুন করলো, এলেক্স আর জুতার পেছনে ধাওয়া করলো।
এলেক্স পালিয়ে আশ্রয় নিলো এতিম একাকী যুবক লিওর বাড়িতে। সৎ লিও এলেক্সকে আশ্রয় দিলো, বুঝতে পারলো জুতার কারণেই এলেক্স সংকটে। লোকগুলো কিছুদিন পরে ওদের খোঁজ পেয়ে গেলে ওরা গ্রিস থেকে সব ছেড়ে পালিয়ে রোমের জাহাজে পাড়ি দিলো। জাহাজেই দেখা সৎ বণিকের সাথে যার দোকানে কাজ পেলো লিও। কিন্তু শয়তান লোকগুলো কয়েক মাসের মধ্যেই ওদের রোমেও খুঁজে পেলো, আক্রমণও করলো। বাধ্য হয়ে তারা রোমের সম্রাট আর যুবরাজ ইথানের শরণাপন্ন হলো। তাদের জুতার ঘটনা থেকে শুরু করে সবকিছু বলার পর উদার সম্রাট তাদের প্রাসাদেই আশ্রয় দিলেন। লিওকেও কাজ দেয়া হলো। প্রিন্সের বাগানবাড়িতে ওদের থাকতে দেয়া হলো, অমূল্য জুতার রক্ষাকর্তাও হলেন তারা।
কিছুদিনের মাঝেই প্রিন্স ইথান এলেক্সকে ভালোবেসে ফেললো। কিন্তু প্রিন্সের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে লিও তার ভালোবাসার কথা এলেক্সকে জানাতে পারলো না। আর এলেক্সও কারো প্রতিই বন্ধু বা শ্রদ্ধা ছাড়া ভালোবাসা অনুভব করে না। যদিও সম্রাটের তুমুল বাধার কারণে এলেক্স প্রিন্সের দিকে আগানোর সাহস পেলো না। শুরু হলো দু’জন পুরুষের এক তরফা ভালোবেসে যাবার গল্প আর পিতা-পুত্রের মাঝে বিরোধ। গল্পের শেষ দিকে প্রিন্সের কঠিন সময়ে সিনেটের কিছু ছিঁচকে ষড়যন্ত্রকারীও এলো রাজমুকুট দখল করতে। কার হাত ধরলো এলেক্স শেষ পর্যন্ত?
ছ' বছরের ছোট্ট মেয়ে অ্যালেক্স। বাস করে সেন্তুসেনিয়ার নদীর তীরে গ্রীসের এক নির্জন বনে তার কা��ুরে বাবার সাথে। পৃথিবীতে বাবা ছাড়া আপন আর কেউ ছিলনা তার। এভাবেই সুখে দুখে কেটে যাচ্ছিল অ্যালেক্সের দিনগুলো। একদিন নদীর পাড়ে বনভোজনে আসে কিছু মানুষ। তাদের দেখে অ্যালেক্স লুকিয়ে লুকিয়ে। দেখে তারা কি সুন্দর পোশাক পড়েছে, জুতো পড়েছে। সুন্দর জুতো দেখে অ্যালেক্সেরও শখ জাগে একজোড়া জুতোর। বাবাকে বলে তার ইচ্ছের কথা। বাবাও কথা দেয় তাকে সুন্দর একজোড়া জুতো কিনে দেবে।
মেয়েকে কথা দিয়ে চিন্তায় পরে যায় অ্যালেক্সের বাবা। গরীব কাঠুরে সে। কি করে তার মেয়েকে জুতো কিনে দেবে?
তবুও সে টাকা জমিয়ে কেনে একজোড়া জুতো। জুতো নিয়ে ফেরার পথে অসাবধানবশতঃ জুতো নদীতে পরে যায়। এখন কি করবে সে? কি করে মুখ দেখাবে তার ছোট্ট মেয়েটাকে? মেয়েটা যে পথ চেয়ে বসে আছে। এমন সময়ে একজন ব্যক্তির সাথে দেখা হয় তার। সে সুন্দর লাল টুকটুকে একজোড়া জুতো দেয় কাঠুরেকে । অসংখ্য ছোট পাথর ঝকমক করছে তাতে । লোকটা বলে এই জুতো অ্যালেক্স ও কাঠুরের সৌভাগ্যের কারণ হবে। তবে সাবধান। কখনও যেন কাঠুরে লোভ না করে। লোভ করলে, অন্যায় করলে, তার ফল ভালো হবে না।
জুতো নিয়ে ফিরে আসে কাঠুরে। ভুলে যায় সাবধানবাণী। জুতো থেকে ছোট একটা পাথর খুলে নিয়ে বিক্রি করে একশ স্বর্ণমুদ্রা পায় সে। মুদ্রা নিয়ে শহরে যায় ঘুরতে। শহরে গিয়ে তিন ঠকবাজের পাল্লায় পড়ে কাঠুরে। ঠকবাজেরা মদের নেশায় ভুলিয়ে জেনে যায় জুতোর রহস্য। জুতো জোড়া দখল করার জন্য ঠকবাজেরা কাঠুরেকে সংগে নিয়ে বনের পথ ধরে। এদিকে যত বাড়ির কাছাকাছি হতে থাকে তত মাথা পরিস্কার হয়ে যায় কাঠুরের। শেষ মুহূর্তে অ্যালেক্সকে বাচানোর জন্য পালিয়ে যেতে বলে। শিকার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে নিষ্ঠুরভাবে ঠকবাজেরা হত্যা করে কাঠুরেকে। জান হাতে নিয়ে পালায় অ্যালেক্স। পিছনে ধাওয়া করতে থাকে খুনিরা।
একপর্যায়ে অ্যালেক্সের পরিচয় হয় লিওর সাথে। লিও আশ্রয় দেয় অ্যালেক্সকে। কিন্তু এখানেও এসে হাজির হয় খুনিরা। তাই অ্যালেক্সকে সাথে নিয়ে পালায় লিও। পাড়ি জমায় রোম-এ। শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই।
এ গল্প অ্যালেক্সের, এ গল্প লিওর, এমনকি এ গল্প পুরো রোমান সাম্রাজ্যের; ভালোবাসার, ষড়যন্ত্রের, বিশ্বাসঘাতকতার, পিতা-পুত্রের দ্বন্দের উপাখ্যান।
একান্ত আমার কথা: হুমায়ূন আহমেদ বাদে আর কারো বই আমি কখনোও এত দাম দিয়ে কিনি নাই। কেন জানি এই বইটা দেখেই খুব পড়তে ইচ্ছা করছিলো। তাই নেয়া। হতাশ হইনি। লেখিকা খুব প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করেছেন। পড়তে এতটুকু বিরক্ত হয়নি।
বই : এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখিকা : Jimee Hison প্রকাশনী : ঐতিহ্য প্রচ্ছদ : রেড কোলস মুদ্রিত মূল্য : ৭৫০ পেজ : ৪০৪
কাহিনী সংক্ষেপ : ষোলশ বছর পূর্বে গ্রীসের সেন্তসেনিয়া নদীর তীরের এক বনে বসবাস করত কাঠুরে কন্যা এলেক্স। তার বাবা নিতান্তই একজন কাঠুরে, সারাদিন কাঠফাটা রোদে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করেই দিন চলে তাদের। বাবা ছাড়া পৃথিবীতে আর আপন বলতে কেউ নেই এলেক্সের। ছোট্ট এলেক্সের বনের প্রজাপতি আর কাঠ বিড়ালিদের সাথে ছোটাছুটি করেই সময় কাটত, কিন্তু সুখের সময় বড়ই স্বল্প, সুখের পর যেমন আসে দুখ তেমনিই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে যায় এলেক্সের জীবনে, তারই চোখের সামনে নৃশংসভাবে খুন হয় তার বাবা। দিশাহারা হয়ে পালায় এলেক্স! নিজ বাসভুমি নিজ বন ছেড়ে পা বাড়ায় অজানার পথে, বাইরের পৃথিবীর ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ সে। সঙ্গী লিও লিও কথা দেয় বিপদে আপদে সব সময় তার সাথেই থাকবে, এক মুহুর্তের জন্যও কাছ ছেড়ে যাবে না। সময়ের পরিভ্রমণে তারা টাইবার নদীর তীরে সাত পাহাড়ের নগরী রোমে এসে পড়ে। পিছু নেয় এলেক্সের বাবার খুনিরাও! এলেক্স বা লিও কেউই বুঝতে পারে না এলেক্সের বাবা কিসের জন্য খুন হল আর কেনইবা খুনিরা এখনোও ক্ষ্যান্ত দিচ্ছে না! ঘটনাক্রমে এলেক্সের জীবনের সাথে জুটে যায় অন্য আরেকজনের জীবন, যার সাথে জোড়ে আছে পুরো রোমান সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ, নীরবে ভাগ্যকে মেনে নেয় লিও! সময়ের পরিক্রমায় চলতে থাকে পিতা পুত্রের দ্বন্দ্ব! উন্মোচিত হয় অপ্রকাশিত কিছু সত্যের! ঘটে যায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা! যার পরিণতি অনেককে ঠেলে দেয় ধ্বংসাত্মক এক অনিশ্চিত জীবনের দিকে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া : শুধু একটা জিনিসই বলব এই বইয়ের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অনেক কিছুর অভাব দূর হবে, লেখিকার টাইমলাইন চেক করে জানতে পেরেছি বইটা ইংরেজিতেও অনুবাদ হচ্ছে। এটা আরেক অগ্রগতি। এরকম প্রেক্ষাপটের বই নিজ দেশের কারো কাছ থেকে পাবো কল্পনাও করিনি। আর এরকম উন্নত বাধাই, পেজ এটাও আমাদের দেশে বিরল। আমাদের দেশে সবচে বড় সমস্যা প্রিন্টিং মিস্টেক যার এখানে কোন চান্সই নেই। আমার মনে হয়েছে লেখিকা এখানে ব্যাক্তিগত ভাবে দৃষ্টি দিয়েছেন। প্রত্যেক লেখক লেখিকারই এসব দেখা উচিৎ। দাম নিয়ে কিছু বলব না, এরকম সরল প্রেমের বা স্বর্গীয় প্রেমের বই পড়ার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করতেও ধিধা নেই আমার। ভাববেন না আমার টাকা আছে, এক মাসের নাস্তার টাকা খরচ করে বইটা কিনেছি, এক টাকাও মাঠে মারা যায়নি। আশা করি আপনারাও দাম নিয়ে ধিধা দ্বন্দ্বে ভুগবেন না।
"A MYSTERY OF FOURTH CENTURY" revolves around a pair of miraculous of red shoe owned by a girl named Alex, who lives in the forest with her father Nicholas. Several incidents involving the shoes leads Alex to the city of Rome. The author's eloquent description takes back the readers to the fourth century's Roman Kingdom Ruled By Emperor Hebram Miriullas. The most thrilling part of this story is the war strategies and the detailed portrayal of the warzone. Jimee Hison beautifully expresses the labyrinth of conflated human emotions through her evocative words. And in order to solve the mystery I would suggest everyone to read this book and dwell in the mystical world of Alex.
মরণশীল মানুষের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত, তার মধ্যে সত্যিকারের সুখ বড়ই কম, কিন্তু প্রেমের মধ্যেই আছে সেই বেদনাহীন সুখ..... কিন্তু প্রেমের চেয়ে প্রলয়ঙ্করী আর কি-ই বা হতে পারে? প্রেম যখন আসে তখন আগুন-নক্ষত্র হাতে নিয়েই আসে, যখন চলে যায় দুঃখটুকুও আর নিজের থাকে না, থাকে শুধু তীব্র শুন্যতা- অন্ধকারের থেকেও গাঢ়, মৃত্যুর থেকেও নীল...। হ্যা, বাস্তবতা কিংবা নিয়তির এই দুই রূপ সারাক্ষণ পাশাপাশি বয়ে বেড়িয়েছে "এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি"
অ্যালেক্স। যতটুকু শুভ্রতা মানুষ ধারণ করতে পারে ততটুকুই শুভ্র সে। তার পৃথিবীতে শুধু একজনই ছিল- তার বাবা। মৌলিক চাহিদার অভাব ছিল, কিন্তু সুখের অভাব ছিল না। প্রজাপতির মতো এক জীবন নিয়ে বাবার সাথে সুখেই ছিল সে। কিন্তু সেই যে নিয়তি! বাবাকে হারায় সে। সেই দুঃস্বপ্ন থেকে পালিয়ে বেচে যায় অ্যালেক্স। ছায়া হিসেবে পাশে পায় লিও কে। সেও তারই মতো এক ভাগ্যবিড়ম্বিত। এক অভিশাপ কিংবা আশীর্বাদ সংগে নিয়ে তারা ভাসতে থাকে। ভেবেছিল হয়তো এর শেষে তারা সুখে থাকবে। কিন্তু মানুষ চিরকাল ভাবে এক আর হয় আরেক। দুঃস্বপ্ন পিছু ছাড়ে না। ভাগ্য তাদের নিয়ে যায় রোমান রাজ প্রাসাদে। পৃথিবীর সবটুকু শুভ্রতম ভালবাসা নিয়ে অ্যালেক্সের সামনে হাজির হয় যুবরাজ ইথান। অ্যালেক্স অবাক হয়ে লক্ষ করে, এই সেই সাদা ঘোড়া, এই এই সেই রাজকুমার, যাকে ছোটবেলার রূপকথার কল্পনায় সে দেখতো!... কিন্তু ভালবাসা সে তো এক রহস্যের নাম! কাওকে পেতে হলে সত্যিকারের ভালবাসার পাশাপাশি সত্যিকারের সৌভাগ্যও প্রয়োজন হয়। নয়তো এই নিখাদ ভালবাসা বারবার প্রতিহত হয়ে ফিরে যাচ্ছে কোন সে ভালবাসার কাছে?!!!
৪০৫ পৃষ্ঠার একটা বৃহৎ কলেবরের বই, আমি শুধু শুরু করেছিলাম... তারপর কখন সেন্তুসেনিয়া নদীর তীর থেকে জাহাজে ভেসেছি, কখনইবা গিয়েছি রোমে, রাজপ্রাসাদ... সব যেন এক সম্মোহিত সময়ের মধ্যে ঘটে গেছে! বই শেষ হবার পরও মাথায় ঘুরছিল অ্যালেক্স, ইথান, লিও... অদ্ভুত ভাবে মায়া লাগছিল লরেনের জন্য।। তার কথাগুলো কানে বাজছিল- "এ দু বছর আমি শুধু তোমাকেই ভেবেছি। কতোবার দোকানে গিয়ে খোজ করেছি তুমি এসেছো কিনা! তুমি গিয়েছিলে ঠিকই, কিন্তু আমার জন্য নয়।"
আপনাকে যদি বলা হয় আট লাইনে পুরো বইটার একটা তৈলচিত্র একে দিন তো, আপনি হয়তো পারবেন না। কিন্তু লেখিকা কি অপূর্ব মুন্সিয়ানায় শুরুর আট লাইনে পুরো বইয়ের এক আনিদ্যসুন্দর নকশা একে রেখেছেন! এখানেই হয়তো পাঠক আর লেখকের পার্থক্য। বইটা শেষ হবার পরও আমি অবাক বিস্ময় নিয়ে বারবার পড়ছিলাম- অজেয় অবাধ্য অথর্ব অরুণ অরুণের অনলে অস্ফুট অতৃপ্তি অতৃপ্ত অহমিকায় অবুঝ অশ্বথ অশ্বথের অতলে অবাধ্য অপ্সরা অপ্সরার অধরে অসুরের অবয়ব অবয়বে অপরূপ অলংকার অশোভন অশোভন অন্ধকারে অপ্রস্তুত অন্ত অন্তে অরুণের অযাচিত অস্ত।...
লিও ভালবাসায় হয়তো কোনই খাদ নেই, মুক্তোকে বুকে ধরার অস্ফুট ভালবাসা তার, কিন্তু আমার সবটুকু ভালবাসা ইথানের জন্য। তার অরুণ আলোর মতো উদ্ভাসিত ভালবাসায় আমি সম্মোহিত! একজন প্রেমিকের ভালবাসা এর চে শুভ্রতর কি হতে পারে...! ইথান বলছিল- "তোমরা জান না ও আমার জন্য কি, বুঝতেও চেষ্টা করো না। ও যদি আমার গভীর ভালবাসার মর্যাদা দিতে না পারে, তারপরও ওকে ভালবাসব। আমার ভালবাসা যদি একতরফাও হয়, তারপরও ওকে ভালবাসব। ও যদি আমার জীবনে না আসে, তারপরও ওকেই ভালবাসব। তোমরা আজ যা বোঝাতে চাইছো, তা আমি নিজেকে অনেক আগেই বোঝাতে চেয়েছি। বারবার ব্যার্থ হয়েছি। কোন যুক্তি, কোন ভেদাভেদ, ওকে ভালবাসা থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারছে না। বিশ্বাস করো, নিজের উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এ নিয়ন্ত্রণহীন ভালবাসা দেখে আমার নিজের আত্মাই ভীত!!!" প্রিন্স ইথান, আপনি আমার ভালবাসা জানবেন।
বইটি পড়তে চাওয়ার পর যে ব্যাপারটা আপনার মনে একটু দোটানার সৃষ্টি করতে পারে তা হচ্ছে এর দাম। তাই বলছি, কিছু বই থাকে যেগুলো হাতে নিলে একটা শান্তি অনুভূত হয়, প্রতিটা পৃষ্ঠায় চোখ বোলানো হয় দৃষ্টিসুখকর... ভার্জিন রেজিন অফসেট পেপার দিয়ে মুদ্রিত বইটি তেমনি একটি বই। কাগজের মান, মুদ্রণ, বাইন্ডিং ও চমৎকার নির্ভুল একটা বই আপনাকে দামের ব্যাপারটা অগ্রাহ্য করতে বাধ্য করাবে। আর ঐতিহ্য'র মতো প্রকাশনী যখন একজন নতুন লেখিকার প্রথম বই এতো দামী করে ছাপায় তখন সচেতন পাঠক মাত্রই বুঝতে পারছেন, তিন বছর সময় নিয়ে লেখিকা অসাধারণ কিছু একটাই সৃষ্টি করেছেন।
কাহিনীতে ফিরে আসি। কখনো কখনো অভিজ্ঞতা হয় প্রশ্নবিদ্ধ, বিচক্ষণতা হয় বুমেরাং, আর দূরদর্শিতা হয়ে যায় বিভীষিকা... তবে এটা কি সেই অনল দহনে দগ্ধ হবার গল্প? আর প্রেম? ভুল প্রেমে কেটে যায় অনেক বসন্ত, কিংবা একটা জীবন! এটা কি তবে এক ভুল প্রেমের গল্প?? কিংবা ভালবাসারা ফিরে ফিরে আসে। কিছু বিরল সৌভাগ্যবান মানুষের কাছে হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা ফিরে আসে। এটা কি তবে সেই ভালবাসার পূর্ণতার গল্প? সেটা মিস্ট্রি হয়েই থাকুক 'এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি'র জন্য।
লেখিকাকে নিয়ে কিছু কথাঃ এই বইটা যেমন কোন অনুবাদ সাহিত্য নয়, আমাদের সাহিত্যেরই এক মৌলিক রচনা তেমনি লেখিকাও কোন বিদেশী নন, আমাদেরই একজন। উনার নামটা পড়ে বিস্ময় জাগতে পারে আপনাদের। তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত নাম “নূরে জান্নাত জিমি”। স্বামী তারেক মাহমুদ হাইসন, সেই সূত্রে পদবী পেয়েছেন “হাইসন”। আর আমরা পেয়েছি আমাদের 'জিমি হাইসন'কে। এটা লেখিকার প্রথম রচনা। আশা রাখি সামনের লেখাগুলো দিয়ে তিনি আমাদের আরো বিমোহিত করবেন। তার জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা।
Well, I am DNFing at 313. Just can't take it anymore. Why this kind of cover with a story like this?!! Too much unnecessary, weak dialogues. Protagonists' behavior is laughable at times. I am with the minority here. Maybe I expected something different. I really don't want to know the mystery of fourth century, thank you.
বইটার ছবি দেখে, কিংবা নাম দেখে মনে হতে পারে, কোন ইংরেজি অনুবাদকৃত বই। আসলে কিন্তু তা নয়, এটি একটি মৌলিক বাংলা উপন্যাস। ১৬০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রীস এবং রোমের সময়কালের চিত্র উঠে এসেছে বইটিতে। যার সুচনা হয় গ্রীসের একজন কাঠুরের মাধ্যমে। একমাত্র মেয়ে অ্যালেক্সকে নিয়ে যিনি বনের মধ্যে একাকি বসবাস করেন। কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করেন।
কাহিনীর প্রারম্ভে একজোড়া জুতোর সাথেও পরিচিত হতে হবে। যেটা স্বর্গীয় দেবতা জিউস বানিয়েছিলেন। জুতোজোড়ার সাথেই মূল কাহীনী অগ্রসর হয়েছে। পেয়েছি অত্যান্ত সুন্দরী, ভদ্র, নম্র, মেয়ে অ্যালেক্সকে। যে ভাগ্যের এক করুণ পরিণতি বরন করে। এবং লিও নামক পরোপকারী এক যুবকের সাথে দেখা হয়। এক সময় তার হাত ধরেই রোমের দিকে অনিশ্চিত যাত্রা শুরু করে।
রোমান ভাবি সম্রাট এথেন এর অ্যালেক্সের উপরে ভালোবাসা, সম্রাটের বিরোধ, পিতা পুত্রের দন্ধ। অ্যালেক্সের সরলতা, ইথানের মহানুভবতা লিওর পরোপকারীতা পুরো উপন্যাসকে আলাদা উচ্চ থেকে উচ্চতরে নিয়ে গেছে।
ভালো লাগা কিছু উক্তিঃ
*ঈশ্বর সবাইকে দক্ষ করে তৈরি করেননি। যারা দক্ষ, আমাদের উচিত তাদেরকে সেই দক্ষতা অনুযায়ী যোগ্য কাজে নিয়োগ করা।
*সত্য কিংবা বাস্তবতা যত রূঢ়ই হোক, তা মেনে নেয়ায় শ্রেয়।
*আক্রমণই যুদ্ধের ধর্ম। প্রতিপক্ষের প্রতি নির্দয় হও! বিদ্যুৎ বেগে অস্ত্র চালাও! খ্যাতিমানদের মতো লড়ো! বীরের মতো মৃত্যুকে অলিঙ্গন করো!
*সবার জীবনেই কোন না কোন দুঃখ থাকে। কিন্তু দুঃখটাকে পশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
*নিয়তি যদি নিজ হাতে কাউকে কিছু দান করে, নিজেকে তুচ্ছ ভেবে, সেটা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
*কেউ একটু ভালোবাসা পাবার জন্য হাহাকার করে মরে, আর কেউ ভালোবাসা কী তাই বোঝে না।
*লিও কাঁদছে, ঠিক কান্না নয়, এ কান্নায় অশ্রু নেই।
*হে অন্তরাত্মা, শান্ত হও তুমি, শান্ত। মেনে নাও, তোমার এ জীবনে প্রিয়তমাকে পাবার সুখ নেই। আছে শুধু অতৃপ্ত কামনার ভয়ংকর পীড়ন।
*কখনো কখনো মানুষের মৃত্যু হয় তার অন্তরে।
*অনেক সময় সান্ত্বনার বাণী তীর হয়ে বুকে বিঁধে।
*কখনো কখনো বলপ্রয়োগের অপর নাম কাপুরুষতা।
বইটির প্রচুর রিভিউ লিখেছেন অনেকে। পড়তে পড়তে অনেকেই হয়তো ক্লান্ত। তাই পুরো রিভিউ লিখে আর ক্লান্ত করতে চাচ্ছি না পাঠকদের। উপন্যাসটি পড়ে এতটুকু বলতে ইচ্ছে হয়- বাংলা সাহিত্যে একজন শক্তিমান লেখিকার যে আবির্ভাব হচ্ছে, হয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
আপনি যখন বইটি হাতে নিবেন। পৃষ্ঠা উল্টাবেন, পড়া শেষ করে একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বলবেন এত ভালো বাধাই, এত সুন্দর পেজ। এত ভালো কাহীনির বই আরও আগে কেন পড়লাম না! মূল্যের কথা কেনার আগে-পরে মনে হলেও বইটি পড়ার পর সেটি আর মাথায় থাকবে না। মাথায় তখন ঘুরপাক খাবে অ্যালেক্স, ইথান, লিও। লিও, অ্যালেক্স, ইথান। ইথান, লিও, অ্যালেক্স।
১৮ 'র বইমেলাতে লেখিকা জিমি হাইসন এর দ্বিতীয় উপন্যাস 'এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি' প্রকাশ পাচ্ছে। যা কিনা 'এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি' র দ্বিতীয় পর্ব। শুভ কামনা রইলো লেখিকার জন্য সাথে রইলো অনেক ভালোবাসা।
প্রথমেই, Special Thanks to Farhina Jannat😘 যার রিভিউ না পড়লে এই বইটি পড়ার কোনো ইচ্ছায় জাগত না আমার মনে।
আগে কখনো রিভিউ লিখিনি। জানিও না কীভাবে লেখা হয়।
কেবল আমার অনুভূতিটা বলছি।
কিছুদুর পড়তেই আর ছাড়তে পারছিলাম না। সারাক্ষণ শুধু মাথায় এটাই ঘুরছিলো, "এরপর কী হবে ?" মনে হচ্ছিলো যেন কোনো Movie দেখছি। যেন প্রত্যেকটি চরিত্রকে আমার চেনা। শেষটায় একদিকে যেমন ভালো লাগছিলো, অন্যদিকে তেমনি অনেক কষ্ট অনুভব করছিলাম। সারাজীবন মনে থাকবে এই বই। কিছু কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছিল, তবুও কেনো যেনো সে দিকে খেয়াল করতে ইচ্ছে করছিলো না। যাই হোক, না বললেই নয় 'জিমি হাইসন' এর একটি অসাধারণ লেখা এটি।
অভেদ্য রহস্যে ঘেরা এক অবিরাম যাত্রার উপাখ্যানের নাম-ই জীবন। আর সে জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ যে দর্পণে প্রতিফলিত হয়, তার নাম সাহিত্য। কোনো কোনো সাহিত্যকর্ম কখনো কখনো জীবনের বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যায়; বাস্তব থেকে বাস্তবতর হয়ে ওঠে। তখন সে সাহিত্যকর্মকে সাহিত্যের ধরা-বাঁধা গণ্ডিতে আর আটকে রাখা যায় না। এমনই এক সীমানা-ছাড়িয়ে-যাওয়া সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাঠকসমাজে হাজির হয়েছেন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জিমি তানহাব। তাঁর এই সাহিত্যকর্মের নাম "এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি"। এই জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাসে কোন সময়কালের আলোচনা করা হয়েছে, তা নাম শুনে নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়। জীবন যাত্রার উত্থান-পতনের পাশাপাশি মানব মনের জটিলতা ও জীবনপ্রবাহে তার প্রভাব এই উপন্যাসটিকে আলাদা উচ্চতা দান করেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, নাম দেখে অনেকে এটাকে অনুদিত উপন্যাস অথবা বিদেশি ভাষায় রচিত উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস বলে ভুল করেন। উপন্যাসের নামটি ইংরেজি হলেও আসলে এটা বাংলা ভাষায় রচিত মৌলিক উপন্যাস।
কাহিনি সংক্ষেপ চতুর্থ শতাব্দীর শেষ দিককার কথা। গ্রিসের এক গভীর অরণ্যের মধ্যে বিপত্নীক কাঠুরে নিকোলাস ও তার একমাত্র শিশু সন্তান অ্যালেক্স বাস করে। বনের কাঠ কেটে ও তা নিকটস্থ বাজারে বিক্রি করে যে যৎসামান্য অর্থ পাওয়া যায়, তা দিয়েই বাপ-বেটির জীবন কোনোভাবে চলে যায়। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও তারা কেউ অসুখী ছিল না। বেশ ভালোভাবেই তাদের দিন কেটে যাচ্ছিল। ঘটনাচক্রে এক অদ্ভুত লোকের সঙ্গে নিকোলাসের দেখা হয়। এরপর একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে নিকোলাসকে নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে অ্যালেক্সের জীবনেও আমূল পরিবর্তন আসে। তার জীবনে নতুন পুরুষ আসে, আসে প্রেম। এর অন্তরালে এক ব্যর্থ প্রেমিকের হতাশার চিত্র অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাঁর অনুভূতি ব্যাখ্যার প্রসঙ্গে কবি পৃথ্বীরাজ চৌধুরী রচিত পত্র কবিতার লাইন প্রণিধানযোগ্যঃ "যারা চলে যায়, কে বলল শুধু তাদেরই শবদাহ হয়?" শেষ পর্যন্ত এই পরিণয়-ও কি তার জীবনে অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে? অ্যালেক্স কি পারবে তার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে? জানতে হলে শ্বাসরুদ্ধকর এই উপন্যাসের গল্পের শেষাবধি চোখ রাখতে হবে।
চরিত্র বিশ্লেষণ এই উপন্যাসে বেশ কিছু চরিত্র চিত্রিত হয়েছে। এর মধ্যে মুখ্য চরিত্র হিসেবে রাখা হয়েছে অ্যালেক্স ও লিওকে। ঘটনাচক্রের শুরুতে লিওর উপস্থিতি না থাকলেও বাকি পুরোটা সময় জুড়ে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়৷ সত্যি বলতে, বাকিটা সময় তার উপস্থিতি উপন্যাসের গল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। চরিত্রের বিচারে অ্যালেক্সকে গল্পের নায়িকা এবং লিওকে গল্পের নায়ক বলা যেতে পারে। কারণ মূলত তাদের দুজনকে কেন্দ্র করেই মূল কাহিনি অগ্রসর হয়েছে। রহস্য গল্পের পাশাপাশি তাদের দুজনের পরিণয়ের বিষয়টি ঔপন্যাসিক অত্যন্ত চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন পাঠকের সামনে। সবমিলিয়ে তাদেরকে প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে যতটা না উপস্থাপন করা হয়েছে, তার চেয়ে বড় করে উপস্থাপন করা হয়েছে পরষ্পরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে। হ্যাঁ, সঙ্গী! তথাকথিত প্রেমিক-প্রেমিকার পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসে অ্যালেক্স ও লিও পরষ্পরের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে উঠেছে। উপস্থাপনের এই অনন্যতার জন্য ঔপন্যাসিক আলাদা করে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য দাবিদার। উপর্যুক্ত দুইটি মুখ্য চরিত্রের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে রাখা হয়েছে একজোড়া লাল জুতোকে। শুনতে অবাক লাগলেও একজোড়া লাল জুতো এই উপন্যাসের গল্পে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। প্রসঙ্গত, উপন্যাসের গল্পে সাধারণত প্রাণীবাচক চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই উপন্যাসে তার ব্যতিক্রম চোখে পড়েছে। গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে ঔপন্যাসিক একজোড়া লাল জুতোকে গল্পের প্রয়োজনে হাজির করেছেন। কিন্তু তাতে উপন্যাসের গল্পপ্রবাহে বিন্দুমাত্র হেরফের হয়নি। বরং এই ভিন্নতার ফলে উপন্যাসের গল্পে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে, যা পাঠক মনে নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। অন্যান্য পাঠকেরাও এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত পোষণ করবেন বলে আমার বিশ্ব��স। উপন্যাসের আলোচিত চরিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনেকের কথা-ই বলা হলো না। বলা হলো না জনদরদী যুবরাজ ইথান মিরিউলাস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর ও সেনাপতি প্যারিসের কথা। বলা হলো না প্রিন্সেস রিভান ও তাঁর দুই সন্তান বোহেম ও গ্লোরিয়ার কথা। নির্দিষ্ট গণ্ডির এই আলোচনায় বাদ পড়ে গেল সম্রাট, গুপ্তচর সাইলাস, রোমের জ্ঞানী ব্যক্তি থ্যালামাস, তিন দস্যু ভিটাস, থরমিস ও ফ্যালিপের কথা। আরো বলা হলো না মোজেস সওদাগর ও তাঁর পরিবারের সদস্য সহ অনেক চরিত্রের কথা। তন্মধ্যে এলিয়ানা, অলিভার ও লুসিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ভাষারীতি বিশ্লেষণ ও পাঠপ্রতিক্রিয়া চরিত্র চিত্রায়ণ নিয়ে তো অনেক কথা হলো। এবার উপন্যাসের ভাষারীতি ও পাঠপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলবার পালা। চলিত গদ্যরীতিতে রচিত এই উপন্যাসের পুরো কাহিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনায় ঔপন্যাসিকের বিশেষত্ব চোখে পড়বার মতো। অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় বর্ণিত হওয়ায় তা সহজেই পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। এদিক দিয়ে ঔপন্যাসিক সার্থক হয়েছেন বলা যায়। সত্যি বলতে, পাঠক হিসেবে কখনো এক মুহূর্তের জন্যেও মনে হয়নি যে, এটা ঔপন্যাসিকের প্রথম রচনা। পুরোটা সময় পরবর্তী অংশ জানবার তীব্র আগ্রহবোধ কাজ করেছে। এই কারণে ৪০৫ পেজের এই ঢাউস সাইজের বইটি পড়তে মোটেও বিরক্তি জাগেনি। রহস্য গল্পের পাশাপাশি মানব সম্পর্কের জটিলতা উপন্যাসের গল্পকে আলাদা অনন্যতা দান করেছে। আশা করি, এই বিষয়টি অন্য পাঠকদের কাছেও ভালো লাগবে।
ভালো না লাগা দিকসমূহ এবার বইটির ভালো না লাগা দিকসমূহ নিয়ে কথা বলব। প্রত্যেকটি জিনিসের ভালো দিকের পাশাপাশি কিছু খারাপ দিকও থাকে। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। বইটির বিভিন্ন দিক যেমন ভালো লেগেছে, তেমনি কিছু কিছু জায়গায় বানান ভুলের বিষয়টি দৃষ্টিকটু লেগেছে। এর পাশাপাশি ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছুটা অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়েছে। এই বিষয়গুলো ঔপন্যাসিক ভবিষ্যতে বিবেচনা করবেন বলে আমার বিশ্বাস। এছাড়া সার্বিক বিচারে ইতিহাস আশ্রিত এই বইটি আমার কাছে এক কথায় সুখপাঠ্য বলে মনে হয়েছে।
পছন্দের উক্তিসমূহ যুদ্ধ কোনো খেলা বা বিনোদন নয় যে, তা দেখার জন্য এত উদগ্রীব হতে হবে। যুদ্ধ বড়ই নির্মম, যেখানে আহতদের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আর সে বাতাসে মিশে থাকে তাজা রক্তের গন্ধ। বিজয় অর্জনের জন্য প্রয়োজন বীরত্ব আর বিজয় রক্ষার জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণতা। মাতৃশিক্ষাই একজন রাজপুত্রকে ভালো বা খারাপ সম্রাট হিসেবে গড়ে তোলে। যুদ্ধ আসলে কাউকে উপকৃত করে না, বিজয়ীদেরও নয়। কেউ একটু ভালোবাসা পাবার জন্য হাহাকার করে মরে আর কেউ ভালোবাসা কী তাই বোঝে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহানুভূতি এবং সমবেদনা বড়ই বেমানান। অন্ধকার হাহাকারের! অন্ধকার হতাশার! অন্ধকার আর্তনাদের! কখনো কখনো মানুষের মৃত্যু হয় অন্তরে। দেবতাকে ভক্তি করা যায়, প্রার্থনা করা যায়, কিন্তু প্রিয়তমার আসনটিতে তো আর বসানো যায় না। কখনো কখনো বলপ্রয়োগের অপর নাম কাপুরুষতা।
পাঠ অনুভূতি সুখের হোক!
রেটিংঃ ৭.৫/১০
এক নজরে বইটি সম্পর্কিত তথ্য বইয়ের নামঃ এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখকঃ জিমি তানহাব বইয়ের ধরনঃ ইতিহাস-আশ্রিত রহস্য উপন্যাস প্রকাশনাঃ ঐতিহ্য প্রথম প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ প্রচ্ছদঃ রেড কোলস পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪০৫ মুদ্রিত মূল্যঃ ৭৫০ টাকা ISBN No: 978-984-776-341-5
বইয়ের নামঃ এ মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখিকাঃ Jimee Tanhab
সময়কাল ৩৮৯ খ্রিস্টাব্দ, রোমের সিংহাসনে অধিষ্টিত সম্রাট হেব্রাম মিরিউলাস। সম্রাটের ক্ষমতার দুই অপরাজেয় স্তম্ভ হলো সেনাপতি প্যারিস আর পুত্র প্রিন্স ইথান মিরিউলাস। সতেরো বছর বয়স থেকেই যুদ্ধের ময়দানে এক ত্রাসের নাম ইথান। প্রায় সমবয়সী প্যারিস আর ইথানের তরবারির চোখ রঙানিকে ভয় পেতো অর্ধ পৃথিবী। রোস্ট্রা মঞ্চ থেকে যুদ্ধের ময়দান সবখানে জয়জয়কার ইথানের।
রোম যখন ইথানের গুনে বুদ হয়ে আছে তখন গ্রীসে এক ফুটফুটে কাঠুরে কন্যা প্রজাপতিদের সাথে খেলাধুলা করে৷ পৃথিবীতে সম্বল বলতে কেবল বাবা। ঈশ্বরের বিশেষ কৃপায় একজোড়া জুতোর মালিক হয় ফুটফুটে অ্যালেক্স। ঐশ্বরিক এই জুতোর কোনো বিশেষ ক্ষমতা না থাকলেও এর ওপরের মূল্যবান পাথরগুলোর প্রতি লোভ করতে মানা ছিলো। কিন্তু সেই লোভের পথেই পা বাড়ায় নিকোলাস। পরিনাম মৃত্যু।
খুনিরা পিছু নেয় অ্যালেক্সের। পালাতে থাকা অ্যালেক্স আশ্রয় পায় তারই মতন আরেক সর্ব হারা লিওর কাছে।
লিও অ্যালেক্সকে নিয়ে পালাতে পালাতে হাজির হয় রোমে। খুনিরা খুঁজতে খুঁজতে চলে আসে রোমেও। লিওর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। সম্রাটের দরবারে সব খুলে বলে লিও। ভীত অ্যালেক্স লিও জামার অস্তিন ধরে পেছনে লুকিয়ে থাকে।
প্রিন্স ইথান আর সম্রাট হেব্রাম এর অনুগ্রহে প্রিন্সের বাগানবাড়িতে থাকার জায়গা হয় লিও আর অ্যালেক্স এর। মিষ্টি অ্যালেক্স এর দুরন্তপনা প্রিন্সের মনে জন্ম দেয় ভালোবাসা। যে ভালোবাসার পথে বাধা স্বয়ং সম্রাট।
সম্রাটের গোপন ষড়যন্ত্রে বিভেদের দেয়ালের দুপাশে থেকে যায় ইথান আর অ্যালেক্স। প্রিন্স ইথানের সামনে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনা লিও।
এদিকে রোমের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সিনেটরদের কেউ কেউ হত্যার পরিকল্পনা করে প্রিন্সকে। সম্রাট নিজে ইথানের বিয়ে দিতে চান অ্যালেক্সের সাথে। লিওর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। সেনাপতি প্যারিস অস্পষ্ট অতীত পেরিয়ে নতুন জীবনে পা দেয়। এতদিন অভিভাবক মেনে আসা লিওকে ভালোবেসে প্রিয়তম দেবতার আসনে বসিয়ে ফেলছে অ্যালেক্স। প্রিন্স সিনেটরদের মৃত্যুজাল থেকে বের হতে পারবে কী? ইথান, লিও, অ্যালেক্স এর লাভ ট্রায়েঙ্গেল কোথায় পরিনতি পারে? কি হলো সেই ঐশ্বরিক বিশেষ জুতোর? এসবের উত্তর মিলবে "এ মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি" বইতে।
ব্যক্তিগত মতামতঃ বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এই লেখিকার সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা যাত্রা শুরু হয় এই বইয়ের মাধ্যমে। প্রথম বই ৪০০+ পৃষ্ঠা!!! সাহস এর পারদ পুরোদমে চড়িয়ে হাত চালিয়ে গেছেন।
পঞ্চাশটি অধ্যায়ে সাজানো এই বইটির প্রথম দুশ পৃষ্ঠায় মাত্র ১৭ টি অধ্যায় বসিয়ে বুনেছেন ঘটনার শুরুর অংশ। এরপর ছোট ছোট অংশে সমাপ্তি টেনে গিয়েছেন।
এত বড় একটা রচনা, এতগুলো অধ্যায় কিন্তু কোথাও পারিপার্শ্বিকের বর্ণনা টেনে অধ্যায়কে গড়ে তোলা হয়নি। একের পর এক ঘটনার ঘনঘটা। একদম বাস্তব ফিল দেয়।
এক স্থানে ঘটনার সমাপ্তি এবং ঐ একই সময়ে অন্য স্থানে সম্পৃক্ত ঘটনার জন্য অধ্যায়গুলোকে তিন চারটি করে ছোট উপ অধ্যায়ে ভেঙে লেখার মাধ্যমে যে বিরতি পাওয়া যায় তা পড়ার ভেতর মনোযোগ আটকে রাখতে সাহায্য করে।
বড় আকৃতির বইগুলোতে যেখানে একসাথে দুটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্লট অধ্যায়ের পালাক্রমে এগিয়ে নেয়ার প্রবনতা দেখা যায় সেখানে লেখিকা ভিন্নপন্থায় চলেন। ধারাবাহিক ভাবে গল্প আগাতে থাকে। একটা অধ্যায় একজনকে ঘিরে এক সময়ে আরেকটা আরেকজনকে ঘিরে আরেকসময়ে এই নীতির বাহিরে একই সময়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে লেখাকে ফুটিয়ে তোলা যায় এটাই তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
বর্তমান বাংলা সাহিত্যে নবধারার সূচনাকারী শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার বইয়ের মাঝে দুঃখের পিঠে দুঃখ লেখার যে নতুন ধারার প্রচলন করে গেছেন তার বাহিরে গিয়ে সুখ দুঃখের সংমিশ্রনে লেখাকে পাঠকপ্রিয়তা দেয়ার নতুন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। অ্যালেক্সের প্রত্যাখ্যানে যখন ইথানের মনের আকাশে বিষন্নতা, প্রিয়তমাকে হারিয়ে যখন প্যারিস পাগলপ্রায়, অ্যালেক্সের কাছে ভালোবাসা প্রকাশ করতে না পেরে যখন লিও ক্ষয় হচ্ছে, লরেনের ভালোবাসা যখন আহাজারিতে রূপ নিচ্ছে তার মাঝেও প্রিন্স আর প্যারিসের তলোয়ার যু্দ্ধ, টাইবারের তীরে মজাদার আড্ডা, ম্যাক্সিকে নিয়ে খুনসুটি এগুলো পড়ার মাঝে আগ্রহ ধরে রাখে। একরোখা লেখা পড়ার ফ্লো নষ্ট করে দেয়।
ফোর্থ সেঞ্চুরি বলতে বছরের হিসাবে বুঝায় সাল ৩০০-৩৯৯ পর্যন্ত। অথচ মাত্র ৫ম অধ্যায় থেকেই সময়কাল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দ এবং তার পরের। তার মানে ফোর্থ সেঞ্চুরি নাম দিয়ে ফিফথ সেঞ্চুরিতে লিখেছেন লেখিকা? উত্তর হলো, না। রহস্যটা ফোর্থ সেঞ্চুরি থেকেই চলে এসেছে। আর সেই মিষ্ট্রি বা রহস্যটা কি সেটা এই চারশ পৃষ্ঠার প্রতি অধ্যায় উপ অধ্যায়ে বুনে দেয়া হয়েছে।
ঘটনাকে প্রাণ দেয়া আর জীবিত করার মাঝে তফাত থাকে। চতুর্থ অধ্যায়ের ৬৪ পৃষ্ঠার একটু অংশ তুলে দিচ্ছি,
" জাহাজের সবাই হায় হায় করতে লাগল। অ্যালেক্সও কেঁদে উঠল যখন বুঝলো, মেয়েটি এলিয়ানাই। লিওকে দেখল রেলিংয়ের সাথে বেঁধে রাখা বাতাসভর্তি একটি চাকা খুলে নিচ্ছে। চাকাটি হাতে নিয়ে কেন যেন পা পেছাতে লাগল সে। এরপর সামনের দিকে দৌড়ে গিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ল। অ্যালেক্স, 'লিও' বলে জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠল। উপস্থিত সবাই এ দৃশ্য দেখে হে ঈশ্বর, হে ঈশ্বর করতে লাগল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কতকিছু ঘটে যাচ্ছে।"
লিও চাকাটি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে পড়ার পর পাঠ প্রতিক্রিয়া যা হতো এখন তার কয়েক পা পিছিয়ে এসে দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার বর্ণনা পড়ার পর সেম প্রতিক্রিয়া নেই। এই জিনিসগুলো তফাত গড়ে দেয়।
এতদিন দেখে এসেছি মানুষ অতীত থেকে লিখতে লিখতে বর্তমানে আসে। আর এই লেখিকা আস্তে আস্তে আরও অতীতে যাচ্ছে। তার প্রথম বই মিরিউলাস সম্রাটকে নিয়ে, তার পরের বই রক্ততৃষ্ণা শেষ সিজার সম্রাট নিরোকে নিয়ে এরপরের ইন্দ্রজাল সিরিজ তারও আগের সময়ে জুলিয়াস আর অক্টাভিয়ান সিজারের শাসনামলে। ধীরে ধীরে অতীতে ফিরতেছেন। এমনই আরেকটি লক্ষনীয় বস্তু হলো চরিত্রের পুনঃ পুনঃ ব্যবহার। মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরির শেষ অধ্যায়ে রক্ততৃষ্ণা শব্দটি চমকে দিয়েছিলো। এই বইতে চিত্রকর চরিত্রে পরিচয় পাওয়া টোবায়েস ইন্দ্রজাল সিরিজে সুদের ব্যবসায়ী ছিলো। রক্ততৃষ্ণা বইতে পাদ্রী চরিত্রে সায়মন ইন্দ্রজালে হিরো ছিলো। সুদূরপ্রসারী চিন্তার এক অভিনব উদাহরন।
প্রিন্স ইথানের গল্পের আলোচনা তো শেষ, আসছে সম্রাট ইথানের আলোচনা। ফোর্থ সেঞ্চুরি সিরিজের দ্বিতীয় বই "এ ফায়ার অব ফোর্থ সেঞ্চুরি"। অসমাপ্ত...
বইয়ের নামঃ এ মিষ্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখিকাঃ জিমি তানহাব প্রচ্ছদঃ রেড কোল্ স প্রকাশকালঃ ২০১৭ প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য মুদ্রন মূল্যঃ ৭৫০ টাকা
বই: এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখক: Jimee Tanhab প্রকাশনায়: ঐতিহ্য মুদ্রিত মূল্য: ৭৫০/-
স্বর্গ অলিম্পিয়া থেকে প্রেরিত দেবতা জিউসের সর্বশেষ নিদর্শন রক্ষা করতে গ্রিস থেকে পালিয়ে রোমান সম্রাজে চলে আসে ভয়ংকর রূপবতী এক কাঠুরে কন্যা। নাম তার এলেক্স। যার সঙ্গ নিয়ে পালিয়ে আসে এলেক্স, সে এক মেষপালক। নিজের অজান্তেই সে এলেক্সের প্রেমে পড়ে, হৃদয়স্পর্শী গভীর প্রেমে, যা সে নিজেও বুঝতে পারে না সহজে। ভাগ্যের দোষ কিংবা গুণের জেরে তাদের আশ্রয় হয় রোমান সম্রাজ্যের একমাত্র প্রিন্স এবং ভাবী সম্রাট ইথানের বাগান বাড়িতে। এলেক্সের রূপ ও ছেলেমানুষির মায়ায় পড়ে যায় ইথান৷ যেই মায়া তাকে উন্মাদ করে তোলে এলেক্সের প্রেমে। যেই প্রেম তাকে দয়ালু, হাস্যোজ্জ্বল, ভালো মানুষ থেকে পরিণত করে নিষ্ঠুর, নির্মম এবং অত্যাচারী শাসকে। যেই প্রেমের অভিশাপে তিনি রেখে যেতে পারেননি কোনো বংশধর। যেই প্রেম পুরো রোমান সম্রাজ্যের জন্য নিয়ে এসেছিলো এক বিভীষিকা। একজন ভাবী সম্রাট আর একজন সাধারণ মেষপালকের প্রেয়সী যখন একই নারী, এবং তারা উভয়েই অসাধারণ এক বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ, বুঝতে পারছেন লড়াইটা কেমন জমবে?
ইথান-এলেক্স-লিও এর ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ছাড়াও সেনাপতি প্যারিসের গল্পটাও পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। ইথান-লিও-প্যারিসের বন্ধুত্বের গল্পটাও মুগ্ধ করবে। তাদের খুনসুটি পড়তে গিয়ে হা-হা করে হেসে উঠতে হবে আনমনেই। অবাক হতে হবে একের জন্য অন্যের ত্যাগ দেখে৷ বন্ধুত্ব কেমন হওয়া উচিৎ, তা এই তিনজনের গল্প থেকে শেখার আছে। তাদের তিনজনের সম্পর্কে গণকের ভবিষ্যতবাণী স্নায়ুর চাপ বাড়াবে৷ লিও সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, তার ভবিষ্যৎ চার বছর মোটামুটি একইভাবে কাটবে। তারপর আর কিছুই তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। ধোঁয়াশা। চার বছর পর কি লিওর অস্তিত্ব থাকবে না? এই ভাবনাটাই ভয় ধরিয়ে রাখবে। এইতো গেলো পরিচিত প্রেম ও বন্ধুত্বের গল্প। 'এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি' বইতে আরো আছে যুদ্ধ, রাজ্য পরিচালনার কৌশল, বিখ্যাত গ্রিক মিথ ইত্যাদির সমাহার৷ সম্রাট হেব্রাম যেমন সাহসী ছিলেন, তেমনি বিচক্ষণ ছিলেন৷ কিন্তু একই সিদ্ধান্ত ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ফলাফল প্রদান করে। সম্রাট হেব্রামের আবেগকে মূল্য না দিয়ে সম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোই সম্রাজ্যের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। গ্রিক মিথ পড়তে আলাদাভাবেই ভালো লাগা কাজ করে। জিউসের সর্বশেষ নিদর্শনটা উপন্যাসের প্রায় অর্ধেক পর্যন্তই ছিলো রহস্যময় এবং আকর্ষণীয়।
জিমি তানহাবের লেখা প্রথম উপন্যাস 'এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি' আপনাকে নিয়ে যাবে ষোলশ বছর পূর্বের রোমান সম্রাজ্যে। কাহিনি বিন্যাসে যেমন বৈচিত্র্য পাবেন, উপস্থাপনেও পাবেন মুগ্ধতা। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর পাশাপাশি পার্শ্বচরিত্রগুলোর উপস্থাপনও বেশ ভালো লেগেছে। প্রথম বই হিসেবে দারুণ চমক দেখিয়েছেন লেখক৷ চারশো পৃষ্ঠার এই বইটি লিখতে লেখকের তিন বছর সময় লাগলেও পড়তে আমার লেগেছে কেবল একদিন৷ গল্প এবং বর্ণনা এতটাই আকৃষ্ট করে যে, বিরতি দিতে ইচ্ছেই করবে না। একদিনের পরিবর্তে ইচ্ছে করবে এক বসাতেই শেষ করে দিতে। পড়া শেষ করার পর দীর্ঘ সময় চরিত্রগুলো কিলবিল করতে থাকে মাথার ভেতর। যত দ্রুত এই বই পড়ে শেষ করা যাবে, এই চরিত্রগুলো বাদ দিয়ে অন্য বই শুরু করতে ততটাই দেরি হবে। এই উপন্যাসের পরিণতিটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এটি একই সাথে আপনাকে আনন্দিত এবং দুঃখি করে তুলবে৷
সুন্দর কিছু উক্তি: ★ সংখ্যা কখনো শ্রেষ্ঠত্বের পরিমাপক হতে পারে না। ★ কখনো কখনো মানুষের মৃত্যু হয় তার অন্তরে৷ ★ কখনো কখনো বল প্রয়োগের অপর নাম কাপুরুষতা। ★ নিয়তি যদি নিজ হাতে কাউকে কিছু দান করে, নিজেকে তুচ্ছ ভেবে, সেটা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। ★ সবার জীবনেই কোনো না কোনো দুঃখ থাকে। কিন্তু দুঃখটাকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়। হ্যাপি রিডিং!
বই: এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি লেখক: জিমি হাইসন প্রকাশনী: ঐতিহ্যn প্রচ্ছদ: রেড কোলস প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পৃষ্ঠা : ৪০৫ মূল্য: ৭৫০টাকা।
উপন্যাসটির নাম শুনে মনে হচ্ছে অনুবাদ বা কোন ঘটনার ছায়া অবলম্বনে রচিত। কিন্তু এটি সম্পর্ন মৌলিক বাংলা একটি উপন্যাস।
কাহিনী শুরু হয় ৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দে গ্রীসের স্রোতস্বিনী নদী সেন্ত্তসেনিয়া তীরে এবং ধীরে ধীরে পৌছে যবে রোমান সাম্রাজ্যে। এই স্রোতস্বিনী অগভীর নদীর আড়াআড়ি পাড় হলেই কেসারিয়ান বন। এই বন থেকেই কাহিনীর শুরু যা ১৬০০ বছর আগের গ্রীস এবং রোমের সময়কালের চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রীসের এই কেসারিয়ান নির্জন বনে বাস করতেন কাঠুরে নিকোলাস আর তার কন্যা অ্যালেক্স। নিকোলাস মেয়েকে নিয়ে একা বসবাস করত এবং কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করত।
মূলত কাহিনীর শুরু হয় এক জোড়া জুতাকে কেন্দ্র করে, যা দেবতা জিউস তাঁর কন্যা পার্সিফনকে জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন। আর এই জুতাজোড়ার সাথে কাহিনী ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়।
এক অশুভ কারনে অ্যালেক্সের জীবন ওলটপালট হয়ে যায় এবং নিজ বন এবং রাজ্য ছেড়ে তাকে পালিয়ে যেতে হয়। বাইরের জগত সম্পর্কে ধারনা বঞ্চিত এ সুন্দরী, ভদ্র, বিনয়ী অ্যালেক্স সবসময় পাশে পেয়েছে পরোউপকারী, ভদ্র, সুদর্শন লিওকে। একটা সময় অ্যালেক্সে বাঁচাতে লিও পা বাড়ায় অজানার উদ্দেশে। অ্যালেক্স জড়িয়ে পড়ে মায়ার জালে অন্য একজনের জীবনে, যার সাথে জড়িত পুরো রোমান সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ। লিও সব মেনে নেয়। ঘটনার পরিক্রমায় চলতে থাকে পিতা-- পুত্রের দ্বন্দ্ব, সিংহাসন নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং সিনেটের অসহযোগ, সন্ধান পাওয়া যায় কিছু অযাচিত সত্যের। ঘটে যায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিনতি, যা অনেককে ধ্বংস ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। আস্তে আস্তে কাহিনীর সাথে জড়িয়ে পড়ে মোজেস সওদাগর এবং তার স্ত্রী, কন্যা লরেন, তার সাথে রোমান সম্রাট, প্রিন্স ইথান, প্রিন্সেস রিভান, সেনাপতি প্যারিস এছাড়াও ছোট ছোট অনেক চরিত্র যা কাহিনীকে জটলা পাকাতে সাহায্য করেছে।
সব মিলিয়ে চমৎকার সুন্দর অনুভূতি। মায়া পড়ে যাওয়া তিনটি চরিত্র অ্যালেক্স, লিও, ইথান, প্রেমে পড়ে যাওয়া চরিত্র লিও। ঘটনা যদিও ১৬০০ বছর পূর্বের তবুও যেন মনে হচ্ছে আমি সেখানে উপস্থিত। সাবলীল আর প্রাঞ্জল ভাবে লেখিকা কাহিনী বর্ননা করেছেন।
বইটা নিয়ে আসলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করে। ফ্যান্টাসি বই বলা যেতে পারে যেটাতে থ্রিলার অংশ নেই মোটেও। বরং রূপকথার বই অবশ্য সে অর্থে রূপকথাও না, লাইক ডিজনির প্রিন্সেসের মুভিগুলোর মতো মুভির জন্য ভালো প্লট হতে পারে। যে জুতো নিয়ে এতো কাহিনি সেই জুতোর অংশ ফোকাসে এসেছ খুব সামান্যই৷ ফ্ল্যাপের লেখা (অর্থাৎ লেখিকা যেই গল্প একচ্যুয়ালি বলতে চেয়েছেন) আর প্রচ্ছদের কথা বিবেচনা করে যদি বইটায় রেটিং দিতে চাই, সেক্ষেত্রে রেটিং বড়জোর ২ পেতে পারে -_- আমার মতে, সেক্ষেত্রে বইটা মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলেছে। আর অইসব বাদ দিয়ে এমনি কাহিনি বিচার করলে (গড়গড় করে এগিয়ে যাওয়া কাহিনির জন্য) তাহলে বইটা প্রায় ৪ এর কাছাকাছি রেটিং পাবে।
বইটা কেমন কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি আসলেই খুব কনফিউজড হয়ে যাই৷ একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করে৷ তবে হ্যা, লেখিকা বইয়ে যে সময়টার কথা বলতে চেয়েছেন, সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন খুব ভালোভাবেই। ওভারঅল, হুম, ভালোই।
The book has disappointed me. I feel like I've been deceived.
The author's writing style is excellent. But the blurb, cover and the title of this book has deceived me. I always select a book by reading Blurb & looking at the title. I really thought the book was a thriller at first sight. When choosing a book, I do not give preference to anyone's review because I do not think that my choice will match the choice of others. But sad to say, the book is almost impossible for me to finish.
Rokomari has written this book's genre on their website as a thriller. Even if I had not cheated in this way.
The book is just the opposite as I thought. I am not the reader that the book is intended for. Now I am not interested to know the mystery of the fourth century.
এ মিস্ট্রি অব ফোর্থ সেঞ্চুরি একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত বই। সেন্তুসেনিয়ার তীড়ে বেড়ে উঠা অ্যালেক্স এবং তার বাবার সহজ স্বাভাবিক কাঠুরে জীবনযাত্রা থেকে শুরু যার গল্প। তারপর একজোড়া অলৌকিক জুতো কীভাবে কীভাবে তাদের জীবন পালটে দেয়, গল্পে এন্ট্রি করে লিও, দেশান্তরি হয়ে পৌঁছে যায় সুদূর রোমে। প্রিন্স ইথান এবং প্যারিসের সাথে দেখা হয়। মোড় ঘুরে গল্পের.... এবং গল্পটা এতোটাই টাচি যে পাঠক বইটা ফেলে উঠতে পারবেনা। আমার কাছে সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম বর্ণনা ভালো লেগেছে।
কিন্তু আমি মোটেও ভালোলাগা প্রকাশের জন্য রিভিউ লিখছিনা। বরং আমার কিছু দ্বিধা প্রকাশের চেষ্টা করছি, প্রথমত এই বইয়ের নাম। বইয়ের প্রচ্ছদে লেখকের নাম জিমি তানহাব দেওয়া আছে, কিন্তু লেখক পরিচিতি এবং পরিচিতি এবং বইয়ের বিস্তারিত জিমি হাইসন লেখা আছে যেটা অনেক কনফিউজিং। দ্বিতীয়ত, এই বইয়ের প্রেক্ষাপট ১৬শত বছর আগের, তথা চতুর্দশ শতাব্দীর। কিন্তু বর্ণনা বেশিই আধুনিক মনে হয়েছে। এতো এতো যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, কোথাও কোনো যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়নি, দিলে সেই যুগের অনুভূতিটা আসতো। আর প্রেম বর্ণনার ক্ষেত্রে একটু বেশিই লুতুপুতু মনে হইছে কোথাও কোথাও। ওভারঅল আমার পড়তে ভালো লেগেছে৷ ভীষণ সহজবোধ্য বই, অপ্রয়োজনীয় চরিত্র কিংবা ঘটনা আনা হয়নি। কোথাও মনে হয়নি যে টেনে বড় করা হয়েছে, যদিও এটা লম্বা একটা বই।
ধন্যবাদ, জিমি তানহাব একটি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় শতাব্দীর সাথে পরিচয় করাবার জন্য।
#গল্পটা_লিও_অ্যালেক্স_ইথানের #গল্পটা_প্যারিস_রিভানার #এ_মিষ্ট্রি_অব_ফোর্থ_সেঞ্চুরি:এক ভালোবাসা ও বিরহ আর পুরনো মিথের পুনর্জীবিত হওয়ার আখ্যান
বি:দ্র:এ লেখাটি(কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলাম,কিন্তু হয় নি বোধহয়)আমি উৎসর্গ করলাম আমার ক্রাশ "পাপিয়া"কে।কারণ,যে উপন্যাসটি নিয়ে এ লেখা,তার মূল নায়িকা অ্যালেক্সের কথা পড়তে গিয়ে আমার বারবার,বারবার ওর কথাই মনে হয়েছে!
একটা অনাথ ছেলে,তার নেই বাবা-মা প্রথমে চলে গেল মা,তারপর বাবা তারা ভাবলো না,কিভাবে বাঁচবে ঐ ছোট্ট ছেলেটা একা একা
রান্না করতে গিয়ে হাত পুরিয়ে ফেলতো,ছেলেটা খেয়ে-না-খেয়ে কাটতো দিনগুলো তার ভয়াল রাত্রি নামতো,আবার ভোর আসতো তার কুটীরের জানালায়।
তারপর একটা সময়,আর হাত পুড়তো না ঠিকভাবে করতে পারতো রান্না কাজ করে যেতো,চেপে কষ্ট ছোট্ট বুকে আর যত কান্না।
বনের মেষ পেলে-পুষে,বিক্রি করে বাজারে করতো জীবন পার।
একটা মেয়ে,থাকতো বনে,তার ছিল না মা ছিল শুধু স্নেহময় কাঠুরে বাবা বাবা বলতো তাকে,সাদা ঘোড়ায় এক রাজপুত্র এসে করবে রাণী তাকে,ভরিয়ে দেবে শত খেলনায়।
মেয়েটা একদিন,করলো বায়না এক জোড়া জুতোর যা দেবার সামর্থ্য,ছিল না তার হতভাগ্য দরিদ্র বাবার।
আশায় আশায় থাকতো ছোট্ট মেয়েটা একদিন আনবে জুতো তার বাবা।
তারপর একদিন ঠিকই আনলো জুতো কিন্তু হারিয়ে গেল,দূর্ঘটনায় জলে ভেসে জুতো খুইয়ে,অসহায় হয়ে কাঁদতে লাগলো,হতভাগ্য বাবা।
তারপর হঠাৎ,এক বৃদ্ধ এসে তাকে দিল একটা বাক্স যাতে ছিল একজোড়া অপূর্ব ইতিহাসখ্যাত এক লাল জুতো। সাথে সাথে এও বলে দিল "এটা নিয়ে কখনও লোভ করো না।"
জুতো পেয়ে মেয়ে তো খুবই খুশি খেলতো সারাদিন,পরে তা হঠাৎ তারা,আবিষ্কারর করলো, জুতোটা আলো ছড়ায়,রাতে রাত হলেই তারা ঢেকে রাখতো অমূল্য জুতোজোড়া তাই।
তারপর হঠাৎ,বাবাটা লোভে পড়ে বিক্রি করে দিল একটা দামী পাথর লেগে থাকা,জুতোর গায়ের। প্রাপ্ত স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে চলে গেল শহরে।
শহরের জৌলুসে ভুলে,মাতাল হয়ে ফাঁস করে দিল,জুতোর কথা যা শুনে দুষ্টু কিছু লোক তাকে ভুলিয়ে নিয়ে গেল,তার বনের কুটীরে হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেয়ে,নেশার ঘোর কেটে গিয়ে জেগে উঠলো বাবা সে খুন হলো সেই দুর্বৃত্তদের হাতে পালিয়ে বেঁচে গেল,তার মেয়ে।
ছুটতে ছুটতে মেয়েটা পৌঁছে গেল একাকী সেই ছেলেটার কুটীরে আশ্রয় পেল তার কুটীরে
রাত-দিন কাঁদতো মেয়েটা,বাবার জন্যে অসহায় না শেষ হওয়া,সে কান্না ছেলেটার আশ্বাসে থেকে গেল তার সাথে কাটতে লাগলো,জীবন।
তারপর হঠাৎ তাদের জীবনে নামলো ভয়াল এক ঝড় পালাতে হলো তাদের অন্য দেশে বাবার খুনীদের ভয়ে।
নতুন দেশ এক,তাদের সামনে আশ্রয় পেল এক স্নেহময় বাড়ীতে আবার,হারিয়ে গেল সুখ তাদের জীবনে সেদেশে খুনীদের আগমনে।
একজন যুবরাজ,যার জীবন ছিল যুদ্ধ আর জয়ে ভরা সে প্রেমে পড়ে গেল,সেই বাবাহারা মেয়েটির পেতে চাইলো আপন করে। সারাদিন মেয়েটির ভাবনায় আচ্ছন্ন্ হয়ে থাকতো সবকিছু করতে রাজি ছিল সে।
সাহায্যে এলো তার বন্ধু সেনাপতি যে পেয়েও হারিয়েছে নিজ ভালোবাসাকে।
একদিন নির্জনে জানিয়ে দিল যুবরাজ তার ভালোবাসার কথা মেয়েটি অকষ্মাৎ এই প্রস্তাবে পড়লো হতবিহবল হয়ে। সময় চাইলো সে উত্তর দেবার জন্য কিছুদিন তার থেকে
নানান চাপ আর দ্বিধায় পড়ে সে রাজি হলো না ফিরিয়ে দিল যুবরাজকে।
এদিকে তার প্রথম আশ্রয়দাতা,মেষপালক ছেলেটি কাঁদতো নীরবে কারণ সে ভালোবেসে ফেলেছিল,সেই মেয়েটিকে যা প্রকাশের সুযোগ পায়নি,পাবেও না সে। একটা বুকচাপা,কান্নাভেজা কষ্ট,গাঢ় নীল বিষাদ ঘিরে রাখতো তাকে।
আবার মেয়েটিও ছেলেটিকে ভালোবাসতো,অবচেতনে যা কখনও নিজেও সে তাই সায় দিল শেষমেষ বিয়েতে।
কিন্তু বিয়ের কিছুদিন আগেই হঠাৎ আক্রমণে পড়ে,আহত হলো সেই ছেলে তাকে এভাবে দেখে মেয়েটি বুঝতে পারলো সে ভালোবাসে ছেলেটিকে।
বলে দিল সে কথা,মুছে ফেলে সব দ্বিধা মহান আচ্ছন্ন যুবরাজকে। শোকে বজ্রাহত হয়েও কষ্ট বুকে চেপে মেনে নিল সব সে প্রেমকে পাবার এতো কাছে এসেও হারানোর বেদনা নিষ্ঠুর করে তুললো তাকে। রাজ্যের সম্রাট একের পর এক দেশ জয় করলো প্রবল জিঘাংসায় সে।
আর সেই ছেলেটি-মেয়েটি সব ছেড়ে ফিরে গেল তাদের জন্মভূমিতে,রেখে গিয়ে সে জুতোজোড়াকে ফিরে গেল কাঠুরের পেশায় ছেলেটি সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে তুচ্ছ করে।
এটা হয়তো একটা মিথ ভিত্তিক থ্রিলার অন্যান্যদের কাছে কিন্তু আমার কাছে এটা আবেগ আপন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমার পরিচিত পড়ুয়াদের মধ্যে আমিই মনে হয় সবার শেষে এই বইটা পড়লাম। প্রথমবার প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রুপে প্রচুর রিভিউ দেখতাম। আমি বিদেশি লেখক ভেবে আর পড়িনি। তারপর অবশ্য জিমি আপুর প্রায় সব বই-ই পড়া হয়েছে।
জিমির আপুর বই মানে প্রাচীন কোনো সভ্যতার অলিগলিতে বিচরণ। বিশেষ করে গ্রিক আর রোমান সাম্রাজ্য আর গ্রিক পুরানের দেব-দেবীদের নিয়ে আলেখ্য। নদীর তীরে গড়ে উঠা সেইসব সভ্যতার বাণিজ্য, রাজ্য নিয়ে যুদ্ধ, বিরোধিতা, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ছাপিয়ে যে জিনিসটা সামনে আসতো তা হলো প্রেম।
এই উপন্যাসের আছে প্রেমের এক মর্মান্তিক উপাখ্যান। আবার একইসাথে প্রিয় ভালোবাসার মিলনের এক আনন্দময় বিবরণ।
অ্যালেক্স, লিও আর ইথানের ত্রিভুজ ভালোবাসার গল্পে কিভাবে সম্রাজী হওয়ার চেয়ে ভালোবাসা জিতে যায় সেই গল্প।
ভালোই ছিলো। কিন্তু নাম আর প্রচ্ছদ দেখে কাহিনী আরও সাসপেন্স যুক্ত হবে ভেবেছিলাম। তাই একটু আশাহত হয়েছি আর কি। মাত্রই শেষ করলাম। বুকটা কষ্টে ভারী হয়ে আছে 😢😢😢