বাংলা সাহিত্যের এই খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য ১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদি নিবাস তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার (বর্তমান জেলা) শালিখা থানার অন্তর্গত শরশুনা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
নিমাই ভট্টাচার্য বাংলাদেশের বগুড়া জেলার কালীতলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর কন্যা দীপ্তি ভট্টাচার্যকে বিবাহ করেন। কলকাতার টালিগঞ্জের শাশমল রোডের বাসায় বসবাস করতেন তিনি।
জীবনের টানে, জীবিকার গরজে কক্ষচ্যুত উল্কার মত এশিয়া-আফ্রিকা ইউরোপ- আমেরিকা, গ্রাম-গঞ্জ, শহর -নগর ঘুরে বেড়িয়েছেন নিমাই ভট্টাচার্য। যারা তাঁকে ভালবেসে কাছে নিয়েছেন, তাঁদের সংগে লেনদেন হয়েছে হাসি-কান্না, স্নেহ-প্রেম ভালবাসার। হঠাৎ করেই একদিন তাঁদের কথায় লিখতে শুরু করলেন গল্প-উপন্যাস।
নিমাই ভট্টাচার্যের সাহিত্য চিন্তা তাঁর জীবনচর্চার একান্ত অনুগামী হয়ে দেখা দিয়েছে। ১৯৬৩ সালে তাঁর লেখা একটি উপন্যাস কলকাতার সাপ্তাহিক ‘অমৃতবাজার’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় এবং সাহিত্যামোদীদের নিকট ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। পরবর্তীকালে ‘রাজধানী নৈপথ্য’ রিপোর্টার. ভি. আই. পি এবং পার্লামেন্ট স্টীট নামক চারখানি উপন্যাস ঐ একই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিমাই ভট্টাচার্য পূর্ণোদ্যমে আরো আরো উপন্যাস লেখা শুরু করেন।
নিমাই ভট্টাচার্যের লেখা উপন্যাসগুলোতে বিষয়গত বৈচিত্র্যতার ছাপ প্রস্ফূটিত হয়ে উঠেছে। কোন কোন উপন্যাসে তিনি রাজধানীর অন্দর মহলের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা অভিজাত সমাজের কুৎসিত রূপের চিত্র তুলে ধরেছেন। কোথাও নীচু তলার মানুষের সুখ-দুঃখের জীবনকাহিনী চিত্রিত হয়েছে। তাঁর লেখায় কোথাও কোথাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদও লক্ষ্য করা যায়। আবার অনেক উপন্যাসে সোনালী আনন্দ দিনের বিলাপ লক্ষ্যণীয়। তাঁর লিখিত উপন্যাসগুলো সাহিত্যরস সমৃদ্ধ ও সুখপাঠ্য।
শুরুটা খুব ভালো লেগেছে, তবে শেষে গিয়ে কিছুটা হতাশ হয়েছি। মনে হয়েছে গল্পটা বড় করতে গিয়ে লেখার ফ্লো'টা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। লেখকের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
উপন্যাসের শুরুতে লেখক "সাগর চট্টোপাধ্যায়" চরিত্রের সাথে পাঠকের পরিচয় ঘটিয়েছেন খুব অদ্ভুতভাবে। সাগর চট্টোপাধ্যায় সোসিও ইকোনমিক সার্ভের কাজে ডেরাডুন আসে। নিঃসঙ্গতায় ভরপুর তার জীবন। শিলচরে মামা-মামির ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা সাগর সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব। নিজের আপনজন বলতে কেউ নেই তার। মামি কেই সে "মাগো" বলে ডাকতো। তার ভালোবাসার মানুষ মানসীকে-ও হারিয়ে ফেলে সে। তবুও তার মনে সবসময় দুটি নাম জ্বলজ্বল করছে- "মাগো", " মানসী"। ডেরাডুনে মিসেস রায়ের আদর-যত্ন সাগরকে বারবার মাগো'র কথা মনে করিয়ে দেয়। ভূতত্ত্ববিদ এস. পি.৷ সরকারের মেয়ে বুলার মধ্যে সাগর যেনো মানসীকেই খুঁজে পায়। সে ভাবে এবার হয়তো তার নিঃসঙ্গতার জীবনের অবসান ঘটবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই হয়? খুব কম সময়ের মধ্যে বুলার সাথে যে ঘনিষ্ঠতা সাগরের হয়েছিলো তার কি কোনো পরিণতি আছে? দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সাগর সার্ভের কাজ শেষ করে। এবার আসে তার যাবার পালা। ডেরাডুন এক্সপ্রেসে সাগর ছুটে চললো ভিন্ন জায়গায়। খুব কম সময়ের মধ্যে বুলার সাথে যে ঘনিষ্ঠতা সাগরের হয়েছিলো তার কি কোনো পরিণতি আছে? হঠাৎ পটভূমিতে আগমন ঘটে গাইনী ডাক্তার "চিত্রলেখা রায়"-এর। সে যেনো সাগর এর চেয়েও বেশি দুঃখী। সুনীলের কাছ থেকে চরম প্রতারণার শিকার হয়েও কখনও তাকে ঘৃণা করতে পারে নি সে। নিজের অতীত থেকে পালাতে পোস্টিং নিয়েছে ঢেংকানলে। সাগর এর সাথে তার পরিচয়ও ঘটে বেশ অদ্ভূতভাবে। প্যারাটাইফয়েডে আক্রান্ত সাগর এর পাশে যদি চিত্রলেখা না থাকতো তাহলে হয়তো তখনই সাগরের জীবনের ইতি ঘটতো। সুস্থ হয়ে সার্ভের কাজ শেষ করে সাগর কি চলে আসতে পেরেছিলো ভুবনেশ্বর? চিত্রলেখার মাঝে সাগর মানসীকে খুঁজে পায়। খুঁজে পেয়েছিলো বুলার মাঝেও। কিন্তু বুলাকে ওর ভালোলাগে, ভালোবাসতে পারে নি। পুরো উপন্যাস জুড়েই মানসী ছিলো ধোয়াশার মধ্যে। উপন্যাস শেষে কি সাগর কাউকে গ্রহণ করতে পেরেছিলো? বুলা নাকি চিত্রলেখা কে ধরা দিয়েছিলো সাগর এর কাছে? বইটি পড়ে মনে হচ্ছিলো কারোর স্বীকারোক্তি পড়ছি। আলাদাভাবে তিনজন মানুষের জীবন নিয়ে স্বীকারোক্তি। তারা যেনো অকপটে নিজের কাছেই স্বীকার করেছে নিজের অতীত। ভালোবাসতে কেউ কার্পণ্য করে নি। কার্পণ্য করেনি নিজেদের পরিত্যক্ত বর্ণনায়। বইয়ের কাহিনী বেশ ধারাবাহিকভাবেই এগিয়েছে। তবে শেষটা আরও সুন্দর হতে পাতো।
প্রথমে মনে হয়েছিল নরমাল প্রেমের গল্প উনি যেমনটা লেখেন। পরে দেখলাম গল্পের পেছনেও গল্প আছে। তিনটা মেয়ে ক্যারেক্টার। মানসী, বুলা আর ডাক্তার। মানসী মৃত। বুলা কয়েক মাসের স্মৃতি। শেষে ডাক্তারের সাথে মিল দেখায়। নায়ক সাগর সর্বকালের সেরা অনাথ। কেউই নেই। যারা ছিল সব মৃত। তাদের গল্প বলতে আর তাদের ছায়া ফিরে পায় বুলার কাছে। ও ধনীর মেয়ে। পরিবার ভালো। তবুও ওর সাথে কোন স্বপ্ন দেখে না। পরে ঘটনাক্রমে ডাক্তারের সাথে পরিচয়। সেই বেচারীও সংসার ভাঙা পাখি। নিঃস্ব।
এরপর একদম লাস্ট স্টেজে দুজনের মিল দেখায়
চারটা পার্ট। তিনটা ভাল্লাগছে ।চার নাম্বারটা শুরু করার পর একটু বিরক্ত লাগছিল। ধারণা করেছিলাম এই ডাক্তারের সাথে কিছু একটা হবে সাগরের। তারপর আস্তে আস্তে দেখলাম তাই হলো
This entire review has been hidden because of spoilers.
তোমাকে by Nimai Bhattacharya is a tender, evocative novel that explores the complexities of love, longing, and separation. Bhattacharya masterfully captures the nuances of human relationships, portraying the characters' emotional landscapes with depth and sensitivity. The protagonist's journey is one of self-discovery, as he navigates the bittersweet aspects of love and the ache of unfulfilled desires.