Shawkat Ali (Bangla: শওকত আলী) is a major contemporary writer of Bangladesh, and has been contributing to Bangla fiction for the last four decades. Both in novels and short stories he has established his place with much glory. His fiction touches every sphere of life of mass people of Bangladesh. He prefers to deal with history, specially the liberation war in 1971. He was honored with Bangla Academy Award in 1968 and Ekushey Padak in 1990.
বাঙালি মধ্যবিত্তের আটপৌরের সামাজিক জীবন আর একরাশ অনুযোগ অনুরোধ অপ্রাপ্তি আখ্যান নিয়ে অগুনতি লেখকের শাণিত কলম বারবার ঘুরেফিরে এসেছে আমাদের চৌকাঠে,গা এলিয়ে আয়েশ করে পড়তে মন্দ লাগে না বটে কিন্তু এই নির্মম নিষ্ঠুর সত্য চাবুকের করাঘাতে "আমার মত এত সুখী,নয়তো কারো জীবন"এই সাজানো গোছানো অলীক ছবিতে যেভাবে আঘাত এনে ভেঙ্গে টুকরো করে দেয় তার রেশ বেশ করেই লিখেছেন শওকত সাহেব
আবিদ হাসানের কথা মনে আছে?আরে ঐ যে সেই আপোষহীন বোকা প্রফেসর নিজের ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা না করেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যে এক উঠতি ছাত্র নামধারী অনেতা কে,যাকে দ্বার থেকে বের করে দেওয়ার ফলাফল অকালে রাস্তায় গাড়ি চাপায় প্রাণ হারানো, দীর্ঘ সময় ধরে স্ত্রী আশায় বাসা বেঁধে এর দ্বার থেকে ঘুরেছেন ওর দ্বারে,আপনপর শত্রু মিত্র এই বাছবিচার বোধ ছাড়াই সন্তানদের ভবিষ্যত আর স্বামীর জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর সেই নারীর শুধু শুনতেই হয়েছে গোটা কতক গথবাধা কথা,আপোষের প্রস্তাব আর নিরন্তর মানসিক অশান্তি।
সমাজে মেয়ে যতটাই প্রতিষ্ঠিত হোক না কেন তার জীবনের সফলতার মাপকাঠি সেই ঘরকন্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকা এদেশের চালচিত্রের আরেকটা উদাহরণ বিজয়া,বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানোর মত তাড়াইনি তাকে কেউ, অবশ্য অনাথের জীবনে কে রাখলো আর কে তাড়ালো তার খোঁজ কে রাখে!তার গুনের শতগাথা থাকলেও দ্বিগুণ বেগে শুধু তার অপগাথাই ছড়াবে ,কারন?সে মেয়ে উপরন্ত বয়স তার ছাব্বিশ,চাকরি মোটামুটি একটা গোছের করলেও ,ও বাবা মেয়ের চোপার জোরে কাক চিলে বাড়িতে তিষ্ঠোতে পারে না,এ মেয়েকে কে ঘরনী করে ঘরত্যাগী হবে?নেই কোনো লোভনীয় নগদ প্রাপ্তির আশ্বাস,নেই বাঁধভাঙা রূপ,তাকে বিয়ে করার জন্য উচ্ছ্বাস নিয়ে উদ্ধার কেই বা করবে?!
বিজয়াকে তো তাও বাইরের লাঞ্চনা সহ্য করতে হয়েছে বেশি,খালিদ সাহেবের কপাল খানা তারো থেকে মন্দই বটে,পত্মীবিয়োগের পর যাকে পুনরায় সংসারে মন বসানোর মহান দায়িত্ব নিজ হাতে পালন করতে চায় আশপাশের পরিচিত প্রতিবেশী বন্ধু এমনকি আত্মীয়রাও, রক্তের টান না কি বড়!তা বড়ই বটে, তিন ভাগ্নে অবশ্য রক্তের দোহাই দিয়ে রক্তচোষার মতো মামার জমিতে নিজেদের দাবী প্রতিষ্টা করার জন্য অনুরোধ উপরোধ,ছল কিছুই বাকি রাখেনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি।"যম জামাতা ভাগ্নে তিন নয় আপনার"এর মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বৈকি,ও বাংলা থেকে পোড় খেয়ে এ বাংলায় আসা খালিদ সাহেবের ঘর বোধহয় এ জন্মে আর কোথাও হবে না
ভালোই ছিল। পূর্বাপর, শুভবিবাহ আর কোথায় আমার ঘরবাড়ি এই তিনটা গল্প নিয়ে পুরো বই।
প্রথম গল্পটা বেশি ভালো লেগেছে। একদম বাস্তবতা। মাসুদার ফ্যামিলির টেনশন ছুঁয়ে গেছে আমাকেও। মাসুদার হাজব্যান্ড আবিদকে খুন করা হয় গাড়ি চাপা দিয়ে। খুনীকে নিজ চোখে দেখেছেও মাসুদা। কিন্তু অকাট্য প্রমাণ হাতে থাকলে কি হবে? দেশ কিংবা দেশের আইন, বিচার-আচার এসব তো আর সাধারণ মানুষের জন্য না। খুনী প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হওয়ায় মামলার রায় আর হয় না, শুনানির দিন আজ নয় কাল করে ঘুরতে থাকে বছরের পর বছর। উপরি হিসেবে বাদীপক্ষকে হুমকি-ধামকি দেওয়া তো আছেই। ইশ! কী দু:সহ পরিস্থিতি। অসম্ভব সুন্দর মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প।
বাকি দুটোও গল্পও আছে মোটামুটি। দ্বিতীয় গল্পটা এক স্কুল শিক্ষকের অনাথ ভাগ্নীকে নিয়ে। স্কুল শিক্ষিকা, সুশিক্ষিত, মার্জিত এক তরুণী, কিন্তু তাতেও কোন লাভ নেই। একে তো অনাথ দ্বিতীয়ত পাত্রপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক দিতে অপারগ মামা-দুইয়ে মিলে বিয়ে হচ্ছে না তার। যে সমাজের মানুষ সামনে আহা উঁহু করে, তারাই পিছন থেকে সমালোচনা করতে ছাড়ে না। জীবনটা বেচারির দুর্বিষহ। যে কোন মূল্যে যে কাউকে বিয়ে করে জাতে উঠতে চায় এই অভাগা তরুণীটি। আদৌ কি সফল হয় সে? কোথায় আমার ঘরবাড়ি মূলত এক নি:সঙ্গ বৃদ্ধকে নিয়ে লেখা। আচ্ছা! তার আগে বলেন তো, ঘর কি? এই বৃদ্ধ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে। খালিদ হাসানের বাড়ি ওপার বাংলায়, দেশ বিভাগের পর দিনাজপুরে থিতু হওয়া, তারপর শিক্ষা-দীক্ষার জন্য ঢাকায় বসবাস শুরু। স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে অনেকগুলো বছর, ছেলেমেয়ে সেটেল দেশের বাইরে। একাকী-নি:সঙ্গ জীবণ। পৈত্রিক বাড়ি দিনাজপুর যায় সে। শুরু হয় বৃদ্ধকে নিয়ে তার তিন ভাগ্নে আর ভাগ্নে বৌ-এর আদরযত্নের নামে তাকে হাতে রাখার খেলা।
পূর্বাপর, শুভ বিবাহ আর কোথায় আমার ঘরবাড়ি তিনটি নভেলা নিয়ে বই 'কোথায় আমার ঘরবাড়ি'। শওকত আলির লেখার সাথে এই বইয়ের মাধ্যমেই পরিচয় ঘটলো। লেখকের লেখনী বেশ ভালো, আকর্ষণী শক্তি আছে। সমকালীন উপন্যাস হিসেবে পূর্বাপর আর কোথায় আমার ঘরবাড়ি দুটি উপন্যাসই যেকোন সময়ের সাথে মানিয়ে যায়। তবে শুভ বিবাহ উপন্যাসের কাহিনী ঠিক ভালো লাগেনি। টাইম পাস করার জন্য বইটি ভালো, তবে ক্ল্যাসিক বলা যাবে না কিছুতেই।