একজন কবি বা শিল্পীকে অবশ্যই জানতে হবে যে, যা তিনি নির্মাণ করবেন তা অন্যের জন্য যদিও--তবু তা প্রথমে তাকেই অলৌকিক আনন্দ উদ্ভাসিত করে। সেই সাথে তাকে এও জানতে হবে যে, তার নিজস্ব সত্তা, তার হৃদয় অনিরুদ্ধ আবেগে আন্দোলিত হয়ে না উঠলে তার পক্ষে অলৌকিক শিল্প নির্মাণ সম্ভব নয়। কারণ শিল্পের সাথে প্রাত্যহিকতার পার্থক্যই হচ্ছে এই যে, শিল্প একটি অসাধারণ বোধ ও আবেগের নির্যাস এবং জীবনের ভেতরই থাকে তার নানাবিধ উপাদান। কিন্তু জীবনের নানা অংগনে তা নিষ্প্রাণ ও বন্ধনহীনভাবে ছড়িয়ে থাকে। শিল্পী তার অভিজ্ঞতা থেকে এই রস আরোহণ করে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দেন। সকলে যা জানে কিংবা অনুভব করে অথচ বলতে পারে না, তাকেই সকলের উপযোগী করে, আনন্দময় করে, হৃদয়গ্রাহী করে পরিবেশন করেন। সার্থক শিল্পী তাই সহজাতভাবেই পাঠকের অনুভবের সাথে একাত্ম হয়ে ওঠেন। জীবনের এই বোধ উপলব্ধি ও সত্যের প্রয়োজনে সকল শিল্পীকেই দার্শনিক হতে হয়। জীবনের গভীরে তাকে প্রবেশ করতে হয়, জীবনের আলোকিত ও অন্ধকারময় জগত তাকে অনুভব করতে হয় এবং এই জানার মধ্য দিয়েই তাকে সিদ্ধান্তে আসতে হয় যে কতটুকু অন্ধকারকে তিনি কতটুকু আলো দিয়ে প্রতিস্থাপিত করবেন।
লেখক ও কবি বুলবুল সরওয়ার পেশাগত জীবনে একজন চিকিৎসক ও শিক্ষক। অসাধারণ কিছু ভ্রমণকাহিনী রচনার জন্য অধিক খ্যাত হলেও গল্প, কবিতা, উপন্যাসেও তাঁর অবাধ বিচরণ। এছাড়া অনুবাদ সাহিত্যে তাঁর শক্তিশালী অবদান রয়েছে।