ছোটোদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শব্দ-ছবির ভিন্ন এক জগৎ। রূপকথা, লোককথার প্রচলিত আঙ্গিকে নয়, নিজস্ব ঢঙে ছোটোদের তিনি শুনিয়েছেন তাঁর কাহিনি। স্বপ্নের কল্পনালোকেই শুধু তাঁর বিচরণ নয়, প্রায়শই তিনি নেমে এসেছেন মাটির পৃথিবীতে। সচেতনভাবেই তাঁর গল্প ছোটদের মনে জাগাতে চায় শুভবোধ। কিন্তু কখনোই তা আরোপিত বলে মনে হয় না। ভাষার জাদুতে সঙ্গী করে নেন খুদে পাঠককে।
লেখকের উপন্যাস সমগ্র-র তৃতীয় খণ্ডে রইল : ভূতের নাম আক্কুশ, দুঃসাহসী দুই বুড়ো, কালা-জুজু, মানুষবলির জন্নগলে, বন সবুজের দ্বীপে, পিরামিডের দেশে।
শৈলেন ঘোষ ছোটদের জন্য লিখতেন। প্রতিবছর আনন্দমেলা শারদীয় সংখ্যায় তার উপন্যাসের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করতাম। তিনি মৃত্যুর পর কালের দাক্ষিণ্য পেলেন না। কোথাও তার বই নিয়ে আলোচনা দেখি না।শৈলেন ঘোষ মূলত রূপকথা, উপকথা ও ফ্যান্টাসির মিশেলে কাহিনি সাজাতেন। ভূত, রাজা, দেবতা, জলদস্যু, মানুষবলি, কথা বলা পাখি আর গাছ যেমন আছে তেমনি আছে মানুষের ও প্রাণীদের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, হতাশা ও সংগ্রামের ইতিকথা। স্থান ও কাল অনির্দেশ্য থাকায় তা সৃষ্টি করে চিরায়ত আবহ। হাস্যরসের চাইতে করুণরস সৃষ্টিতে শৈলেন অধিক পারঙ্গম। ছোটদের পক্ষে সবসময় তার গল্পের মর্মার্থ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, শুধু বাইরের রসাস্বাদন করা সম্ভব। বইয়ের সেরা তিনটি উপন্যাস বনসবুজের দ্বীপে, ভূতের নাম আক্কুশ আর পিরামিডের দেশে দারুণ জমজমাট কিন্তু শেষ অংশ তুমুলভাবে মন বিষণ্ণ করে দ্যায়।