সুখপাঠ্য। ঈসা খাঁ আর সোনাবিবির কাহিনী এর আগেও পড়া ছিল, বার ভুঁইয়া নিয়ে আরো আগ্রহ তৈরি হলো। শিশুপাল-জরাসন্ধ্র এরা যে বাংলার লোক বা বাংলার রাজা তা বঙ্কিম এর লেখায় পেয়েছিলাম। আজকে জানলাম শিশুপালের বসতবাটির ভগ্নাংশ নাকি কাপাসিয়াতে রয়ে গেছে। তাইলে শিশুপাল দা দেশী লোক। পশ্চিম বা বৃন্দাবনের বিদ্রোহ আমাদের রক্তে অনেক আগে থেকেই বলতে হয়। প্রশ্ন হলো, এই হিন্দু বা মুসলিম রাজারা নৃপতি হিসেবে উদার ছিলেন মানি, কিন্তু তারা এমনকি শিশুপাল দা, এঁরা কতখানি বাঙালি ছিলেন তাতে সন্দেহ করি।
ভালো উদ্যোগ, কিন্তু দিব্যপ্রকাশের সম্পাদনায় সমস্যা।
মাত্র ৫৩ পৃষ্ঠার ছোট্ট এই বইটি পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল যেন আমি কিছু সময়ের জন্য মধ্যযুগের বাংলায় ফিরে গিয়েছি। ইতিহাস আমার বরাবরের প্রিয় বিষয়, আর "গল্পে বারভূঁইয়া" সেই ইতিহাসকেই গল্পের রূপে জীবন্ত করে তুলেছে। বইটি মূলত বারো ভুঁইয়াদের কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত। বারো ভূঁইয়ারা মধ্যযুগের শেষের দিকে এবং আধুনিক যুগের গোড়ার দিকে আসাম ও বাংলার সৈনিক-ভূস্বামীদের জোটকে বোঝায়। প্রতিটি জোট আলাদাভাবে স্বাধীন সত্তা নিয়ে গঠিত ছিল, প্রতিটি জোট যোদ্ধাপ্রধান বা ভূস্বামীদের (জমিদার) দ্বারা পরিচালিত ছিল। এরা মোঘলদের বিরুদ্ধে এক্ত্র হয়ে লড়াই করতো।
লেখক অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ সুলিখিত ভাষায় বারো ভুঁইয়ার ইতিহাস, তাদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেছেন। শুধু ঈসা খাঁ নয়, অন্যান্য ভুঁইয়াদের সম্পর্কেও বইটি জানার এক নতুন জানালা খুলে দেয়। আমরা জানি, ঈসা খাঁ ছিলেন এই জোটের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা, ইশা খা অবশ্যই বারো ভুঁইয়াদের প্রধান তম ব্যাক্তি ছিলেন, অনন্যরাও বেশ বিখ্যাত কিন্তু বৃহত্তর ইতিহাসে কম আলোচিত। বারো ভুঁইয়ার প্রতিটি সদস্যই নিজ নিজ ভূখণ্ডে ছিলেন দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক।
লেখকের লেখনশৈলীতে রয়েছে একধরনের ঐতিহাসিক আবেশ, যা পাঠককে গল্পের মাঝে ডুবিয়ে রাখে। বইটি পাঠ করে মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও সে সময়কার সমাজজীবনের নানা দিক সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করেছি। বারো ভুঁইয়াদের বেশিরভাগই ছিলেন পূর্ববঙ্গের অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের।
সব মিলিয়ে, "গল্পে বারভূঁইয়া" একটি সুখপাঠ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ বই। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই পাঠযোগ্য, বিশেষত যারা মধ্যযুগের বাংলার স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী।
আমি নিশ্চিত সেই ছেলেবেলা থেকে বার ভূইয়ার কথা শুনে আসলেও এক ঈশা খা ছাড়া আর কারো কথাই লোকজন জানে না! খানিক টা খাপছাড়া হলেও বাংলার সেই বারো প্রতিপত্তিশালীর খবরা খবর এক মলাটে পাওয়া গেল সেটাই প্রাপ্তি