প্রজাপতি প্রকৃতির এক অপূর্ব সন্তান। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এদের টিকে থাকা জরুরি। তাই আমরা প্রজাপতি ধরব না। মিছিমিছি এদের কষ্ট দেব না। প্রজাপতি রক্ষায় যত্নবান হব।
বইয়ের লেখক আবদুল গাফফার রনি ভাইয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় ছিল। সচলায়তন ব্লগে পাখি-ফুল-পাতা-গাছ নিয়ে লেখালেখি করতেন। সেখান থেকে উনার প্রকৃতিপ্রেমের ব্যাপারে একটা ধারণা হয়েছিল। কিন্তু সেসব ধারণার সবগুলোই ক্ষীণ হয়ে যায় লেখকের সাথে একদিনের লম্বা আড্ডায়। তখন 'বিজ্ঞান চিন্তা' ম্যাগাজিন নতুন বের হচ্ছে। বিজ্ঞান চিন্তার অফিসে গেলাম লেখকের সাথে দেখা করতে। অফিসের নীচে চায়ের স্টলে আসন মেরে বসে জমিয়ে তুলেছেন আড্ডা। পিঁপড়া, পোকা, বিছা, শুঁয়াপোকার গল্প। কীভাবে তিনি এসবের পর্যবেক্ষণ করেছেন, খুটিয়ে খুটিয়ে দেখেছেন- সেসবের গল্প। পোকা-পতঙ্গ-কীট নিয়ে বাংলার বিজ্ঞানীরা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, কীসব লিখেছেন তার সব মজার মজার গল্প। তখন ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলাম প্রকৃতির সাথে তিনি কতটা মিশে গিয়েছেন। ঈর্ষা হয়েছিল তখন আমার, ঈশ আমিও যদি এমন হতে পারতাম। আমিও যদি আশেপাশের সৌন্দর্যগুলো এমন তীব্রভাবে উপভোগ করতে পারতাম। উনার প্রকৃতিপ্রেম এবং প্রকৃতির উপলব্ধি থেকেই জন্ম নিয়েছে "শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতি" নামের বইটি। বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রজাপতি সম্পর্কে ভেতরের লেখা খুবই চমৎকার হয়েছে। আঁকাগুলোও বেশ সুন্দর হয়েছে। সব মিলিয়ে ছোটদেরকে উপহার দেবার জন্য আদর্শ একটি বই।
প্রকৃতির সন্তান প্রজাপতি সম্পর্কে জানার জন্য ছোটদের জন্য বইটি। অনন্য সাধারণ ইলাস্ট্রেশন ও রঙিন ছবির বই। সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষা। ছোটরা বুঝবে সহজেই। লেখককে ধন্যবাদ এত চমৎকার একটি বই উপহার দেবার জন্য। নি:সন্দেহে শিশুরা তাদের শিশুকালেই প্রকৃতিকে জানবে, জীববৈচিত্র্যকে ভালোবাসবে, বিপন্নকে বাঁচাতে চাইবে, শিখবে। এই আশা রাখি।