Jump to ratings and reviews
Rate this book

মধ্যবিত্ত

Rate this book
ফ্ল্যাপে লেখা কথা
মায়ের গ্রামটার কথা ভাবি। ভাসা ভাসা স্মৃতি। আধবোঝা চোখে গ্রামটাকে ভাবনায় দেখার অযথা চেষ্টা।
দেখি একটা নৌকার গলুইতে পানি উঠছে। ঘুড়িটা কাটা পড়ে। একটা গরু পানিতে নেমে পড়ে। একটা ন্যাংটো শিশু। মালাই, মালাই। কচি ডাবে দায়ের কোপ। কয়লায় ঝকঝকে দাঁত। খেচইন জালে আটকে পড়া কচুরিপানা-চিংড়ি। পায়রার বাক বাক বাকুম। টক আমড়া। কাটা কলাগাছ। নদীতে ঝাঁপ। চোর কাটা। চুলকানি। গায়ে কাদা। গলে যাওয়া সাবান। কাঁচা খেজুর। কানে পানি। পান-চুন- জর্দা। আখের শক্ত পেলব শরীর। ভাঙা পুকুর ঘাট। বড়ই। গাবের কষ। নীল ফুল। মাগুর মাছ। আমৃত্তি। পিয়াজু। দানাদার। বাছা চাল। মুরগির আদার। কেরোসিন। বাজার সদাই। ঠা-া-কাশি-সিকনি। মেজবান। সূর্য ডোবে। হ্যাজাক লাইট। নতুন ইমামের আযান। ডালে সুরুৎ করে চুমুক। গাতকের গান, ‘মরি গেলি আর আইবা না...।’
এই তো গ্রাম। মায়ের কাছে শোনা, আমার চোখে কিছুটা দেখা গ্রাম। সে গ্রামে যাব।
মাকে রেখে আসব। মায়ের গ্রাম। মা ভালোই থাকবেন। আমরা কেমন থাকব?

112 pages, Hardcover

Published February 1, 2017

17 people are currently reading
140 people want to read

About the author

Kingkor Ahsan

18 books28 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
20 (12%)
4 stars
41 (25%)
3 stars
60 (37%)
2 stars
20 (12%)
1 star
17 (10%)
Displaying 1 - 30 of 33 reviews
Profile Image for সালমান হক.
Author 66 books1,969 followers
August 23, 2017
যদি কারো হাতে ক্যামেরা ধরিয়ে দেন, তাহলে বাটন চেপে ধরে সে কোন একভাবে ছবি তুলে ফেলতেই পারবে । কিন্তু কারো হাতে রঙ তুলি ধরিয়ে দিয়ে যদি বলেন যে- 'ছবি আঁক' - তাহলে শেষ পর্যন্ত সে ছবিটা আঁকতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে । ঠিক তেমনই কাগজ কলম(পড়ুন কিবোর্ডে চাপাচাপি করে) হাতে নিলেই কেউ "লিখতে" পারবে কি না, সে ব্যাপারেও সন্দেহ থেকেই যায় । কিঙ্কর আহসান সাহেব অবশ্য লিখতে পারেন, বেশ ভালোমতোই পারেন, পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা তার আছে - এটুকুই তো যথেষ্ঠ, তাই না?
মধ্যবিত্ত নামটা বইয়ের সাথে বড্ড বেমানান মনে হয়েছে, এক যুবক, যার মা'কে কোলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্যে(বাঁচবে না এটা জেনেও), তার জীবনযাত্রার কিছু খণ্ডচিত্র লেখক এঁকেছেন । মাঝে মাঝেই মনে হয়েছে মূল ফোকাস থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন । এসব ওসব, খাওয়া দাওয়ার বর্ণনাটা একটু চোখেই লেগেছে । 'বুনো' ক্যারেক্টারটাকে দিয়ে কি করাতে চেয়েছিলেন লেখক সেটা নিয়েও শেষ করার পর কিছু প্রশ্ন থেকে গেছে ।
মধ্যবিত্ত সেন্টিমেন্ট নিয়ে কিছু লাইন ছিল, সেগুলা দাগ কাটার মতন । :)
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books142 followers
April 6, 2017
* গতরাত ৩টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পড়ে শেষ ক্রলাম বইটা। আগের দিন, ৫/১০পৃষ্ঠা পড়েছিলাম। গল্পে পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা ভালোই বলা চলে লেখকের।

* জীবনের সবক্ষেত্রেই এতোটা নির্লিপ্ততা...! অবাক লেগেছে আমার কাছে! নিজের মায়ের চিকিৎসা করাতে গল্পের মূল নায়ক কলকাতা গমন। এরপরে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের বর্ণনা আছে বইটাতে। বাংলাদেশে তাদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা যেমন তুলে এসেছে বইটাতে, ঠিক তেমনি, 'খাওয়া খাওয়ি' ব্যাপারটা ব্যাপক ভাবে দৃষ্টি কেড়েছে বইটাতে। গল্পের নায়কের সকাল, দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যার নাস্তার বর্ণনা পড়ে খিদে এসেছিল অনেক... শেষটা আরেকটু অন্যরকম করলে কেমন হতো!

* এবার আসি, আসল বিষয়ে। বানান। প্রতি ৩ লাইনে ৬টা করে বানান ভুল, যতিচিহ্নের কোন ঠিকঠিকানা ছিল না! আমি যারপনা অবাক হয়েছি, একজন লেখক, যার কিনা, এই পর্যন্ত আগে আরো ৫টা বই বের হয়েছে, এবার নিয়ে ৬টা, সেখানে এত্ত বেশি বানান ভুলের কী হেতু হতে পারে! রকমারি বেস্ট সেলার বইটা। এত্ত বানান ভুলের জন্যে ভাল লাগার বইয়ের লিস্টে কখনোই থাকবে না, এই বইটা, কারণ একটাই, অতি মাত্রায় বানান, যতি চিহ্নের খামখেয়ালী! দোষটা আসলে কার? লেখকের? প্রকাশকের? নাকি পাঠকের? কেন এত্ত ভুল ধরবে! আমার চোখে প্রচণ্ড যন্ত্রণা করেছে বইটা পড়তে গিয়ে, এবং ভাল একটা গল্পকে মাঠে মারার জন্যে এমন নিম্নমানের প্রুফ রিডার দায়ী! ...

আমি সকল লেখকদের একটু অনুরোধ করবো, আপনারা লেখার পাশাপাশি, পাঠকের চোখের যাতে কষ্ট না হয়, সেদিকে একটু খেয়াল রাখবেন! শুভকামনা!
Profile Image for Kazi Asif.
41 reviews1 follower
April 11, 2017
বইয়ের নামঃ মধ্যবিত্ত
বইয়ের ধরণঃ সমকালীন উপন্যাস
বইয়ের লেখকঃ কিঙ্কর আহসান
প্রচ্ছদঃ মেহেদি হাসান
প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশনীঃ বর্ষাদুপুর প্রকাশনী
পৃষ্ঠাঃ ১১২
মূদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা
লেখক পরিচিতিঃ
লেখকের নাম কিঙ্কর আহসান। তার সম্পর্কে এক কথায় বলতে গেলে তার বুবুর কাছ থেকে শোনা কথাটাই বলতে হবে, ‘মাটির মানুষ ছেলেটা তবুও আকাশে ডানা মেলে ওড়ার আজন্ম সাধ তার।’লেখকের জন্মস্থান বা বেড়ে ওঠা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে তিনি লেখালেখির পাশাপাশি অনেক সৃষ্টিশীল কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। ‘পাতার নৌকা’, ‘ক্রিং ক্রিং’ ও ‘জলপরানি’ টেলিফিল্মের কাজ করে হয়েছেন প্রশংসিত। ‘কে হতে চায় কোটিপতি’ টিভি শো’র সহকারী স্ক্রিপ্ট রাইটারের কাজ করেছেন। এছাড়া ‘মার্কস অলরাউন্ডার’, ‘হাসতে মানা’, ‘হান্ডসাম দি আলটিমেট ম্যান পাওয়ার্ড বাই বাংলাদেশ নেভী’ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সুপার লীগ-গ্রান্ড লোগো আনভেইলিং’র প্রধান স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন। তাছাড়া তার আরো অনেক যোগ্যতা আছে। লেখক হিসেবে তিনি এখন পর্যন্ত ৭টি বইয়ের অধিকারী।
সার-সংক্ষেপঃ
মধ্যবিত্ত উপন্যাসটি উত্তম পুরুষে লেখা। একজন গল্পকথক পুরো উপন্যাসটি বর্ণনা করেছেন। উপন্যাসে গল্পকথকের নাম উল্লেখ করা নেই।
উপন্যাসটির গল্প এগিয়েছে গল্পকথকের অসুস্থ মা’কে ঘীরে। এখানে দেখা যায়, গল্পকথক তার পরিবারসহ কোলকাতায় আসেন তার মায়ের চিকিৎসা করাতে। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে তিনি। তাই জীবনের সর্বস্ব দিয়ে তারা আসেন তার মায়ের চিকিৎসা করতে। আর সেখানেই দৈনন্দিন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ভেসে একদল মধ্যবিত্ত জীবনের কাহিনী!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
“কোলাহলের কারাগারে-
দেশলাই বাকসো,
মুঠো ভরা কুয়াশা,
মোহর জমাচ্ছো?”
সুপ্রিয় পাঠক, আপনাকে যদি কেউ ১ টা মিষ্টি খাইয়ে বলে, বলুন তো স্বাদ কেমন? আপনি কি বলবেন? মিষ্টি? কিন্তু মিষ্টি তো মিষ্টি হবেই। মিষ্টির স্বাদ মিষ্টি বললে তো আসল অনুভূতিটা আপনি প্রকাশ করতে পারলেন না। তাহলে কি বলবেন?
আসলে কিছুই বলার নেই। একটি মিষ্টির স্বাদ কেমন তা কখনো বলে বোঝানো সম্ভব না। শুধুমাত্র চোখ বন্ধ করে আরামে স্বাদটা অনুভব করা যায়।
আলোচ্য মধ্যবিত্তের গল্পটা ঠিক সেই মিষ্টির মত। স্বাদটা বলে বোঝানো যায় না, শুধুমাত্র অনুভব করা যায়।
লেখক কিঙ্কর আহসানের বই এই প্রথমবার পড়লাম। চমৎকার লেখনী। কিছুটা ভিন্নতরও। ছোট ছোট বাক্য ও ঘটনার মধ্য দিয়ে লেখক অনেক কথা বলতে পারেন। তাছাড়া একটি দৃশ্য নিয়ে বেশি ত্যানাও পেচাতে দেখিনি তাকে। বাহুল্য বর্জিত লেখা। বাস্তবতার ছোঁয়াও ছিল বেশ উল্লেখ করার মত।
তবে লেখক গল্পের নায়ককে সহনশীল করতে গিয়ে কিছু কিছু জায়গায় অনুভূতিহীন আবার কিছু জায়াগায় কিছূটা ছেলেমানুষই করিয়েছেন বলে মনে হয়েছে আমার।
গল্পের ছোট ছোট কিছু কথা ভালো লেগেছে। ঘটনার প্রবাহের মাঝে মাঝে লেখক মধ্যবিত্তদের কিছু দৈনন্দিন দিকও তুলে ধরেছেন। তাদের জীবন ধরণ, চিন্তা চেতনা, অভ্যাস ইত্যাদি দিক খুব অল্প কথায় বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
কিন্তু এত কিছুর পরেও কিছু জায়গায় চোখে লেগেছে...
গল্পের প্লটটা তৈরী হয়েছে কোলকাতাকে ঘীরে। ব্যাপারটা আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগে নি। আমাদের দেশে কি মধ্যবিত্ত জীবনসংগ্রাম দেখা যায় না?
গল্পের শেষে “বুনো” চরিত্রের সাথে গল্প কথকের একটি সম্পর্কের কথা উল্লেখ আছে। এবং সেখানে লেখাও আছে, যে গল্প কথক কিছুটা অপরাধবোধে ভুগছেন। অথচ গোটা উপন্যাসে সেরকম কোন ঘটনার উল্লেখ নেই। শেষের দিকটা তাই স্পষ্ট হয়নি আমার কাছে।
বইয়ে বানান ও ছাপার ভূল ছিল বেশ চোখে পড়ার মত। “কোঠারি হাসপাতাল” কোথাও হয়েছে “কোটারি হাসপাতাল”, অপুদা হয়েছে অপু ভাই ইত্যাদি।
এছাড়া বইয়ের অন্য সব দিকই প্রশংসা করার মত। বিশেষ করে প্রচ্ছদ ও অলংকরণ। বইয়ের প্রচ্ছদের ও ভেতরের প্রতি অধ্যায়ের শুরুর ছবি বেশ ভালো লেগেছে। তার উপর আরও মধু যোগ করেছে প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে লেখা ২ লাইনের পংক্তি। লেখক ও প্রচ্ছদ শিল্পীকে সেজন্য জানাই বিশেষ ধন্যবাদ।
সবশেষে তাই বলতে চাই, বইটি পড়ে দেখুন। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা। কথা দিচ্ছি, এক অদ্ভুত আয়না দেখতে পাবেন, যেখানে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে আপনার নিজ���রই প্রতিচ্ছবি!
প্রিয় উক্তিঃ
-“মধ্যবিত্ত ছেলেদের এমন হয়। তারা ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পায়। বিদেশ তাদের কাছে অনেক দূর, ভয়ের আর অজানার... তারা তুচ্ছ জিনিসের প্রেমে পড়ে। নিজের ঘর, নিজের বাড়ি এইসব অনেক জরুরি বিষয় হয়ে ওঠে!”
- “বাটা মধ্যবিত্তদের জুতো। এই জুতোর প্রতি মধ্যবিত্তদের এক ধরনের মোহ কাজ করে। ডিজাইন যাই হোক না কেন টেকে বেশিদিন। লং লাস্টিং বিষয়টাই মধ্যবিত্তদের জন্য সবচেয়ে জরুরী!”
Profile Image for Musharrat Zahin.
406 reviews489 followers
November 1, 2020
রেটিং: ৩.৮/৫

"পোষা এইটুকুন রোদ যেন। কথা শোনে,শরীরে আরাম দেয়।"

বেশ সাধারণ একটা গল্প৷ কিন্তু শব্দের গাঁথুনি দিয়ে একজন লেখক যখন সেই সাধারণ গল্পকে অসাধারণ করে তোলেন, তখন তিনি অবশ্যই প্রশংসার শক্ত দাবিদার।

কিঙ্কর আহসান এর লেখা এই প্রথম পড়ছি। এক যুবকের তার মৃত্যুমুখী মা'কে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছে, সেই কলকাতায় যাওয়ার পর তার জীবনে কী কী ঘটে চলছে সেসব কথাই এই উপন্যাসে উঠে এসেছে।

আহামরি তেমন কিছু নেই বইয়ে, কিন্তু কী চমৎকার বর্ণনা, অদ্ভুত মায়াময় তাঁর বাক্যগঠন। বিশেষ করে খাবারের বর্ণনাগুলো পড়ার পর তো খিদেই লেগে যাচ্ছিল৷ অবশ্য গল্পের সাথে খাদ্যের এই অতিরঞ্জিত বর্ণনাগুলো ঠিক খাপ খাচ্ছিল না৷ খাপ খাচ্ছে না উপন্যাসের নামটাও৷ বইয়ে প্রচুর বানান ভুল ছিল।

তবে পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা লেখকের আছে, আছে নিজস্ব লেখার ভঙ্গি৷ বেশ ডিটেইলড একটা লেখা। উনার লেখার মধ্যে অন্য কোনো লেখকের ছায়া নেই বলে পড়ে বেশ আরাম পেয়েছি। হয়তো প্লটে কোনো নতুনত্ব নেই, কিন্তু দুপুরের কিংবা বিকেলের নরম রোদে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে এই বইটা পড়তে আপনার যে খারাপ লাগবে না, সেটার গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।
Profile Image for Omar Faruk.
263 reviews17 followers
September 20, 2022
খাপছাড়া, অগোছালো লিখনি। আহামরি তেমন ভালো লাগেনি।
Profile Image for Fahad Ahammed.
387 reviews44 followers
September 10, 2023
এক বাসাতেই শেষ করার মতো বই, লেখক ভালো লিখেন উপন্যাস টাও মন খারাপ করে দেয়ার মতোই। গল্পের পরিনতি অনেকটা আগেই ধরতে পেরেছিলাম।
Profile Image for Yasir Monon.
Author 6 books25 followers
October 5, 2017
লেখক: কিঙ্কর আহ্সান
প্রকাশনী: বর্ষা দুপুর
প্রচ্ছদ: মেহেদী হাসান
পৃষ্ঠাঃ সাড়ে ১১২ ।
প্রথম প্রকাশঃ একুশে বইমেলা ২০১৭
মূল্য:২০০ টাকা(মুদ্রিত)
#লেখক_পরিচিতিঃ কিঙ্কর আহ্সান ভাই । রেসিন্ডেনশিয়াল মডেল কলেজের আমাদের বড় ভাই । কিন্তু পরিচয় স্কুল কলেজে না , আমার দিক থেকে এক পাক্ষিক সামনাসামনি দেখা এবারের (২০১৭) বইমেলায় । শুধু হাত মিলিয়ে চলে এসেছি । আর পুরো পরিচয়টা হয়েছে এই গ্রুপের মাধ্যমে । ঢাকা ভার্সিটি থেকে মার্কেটিং এ পড়াশুনা করা কিঙ্কর আহ্‌সান কাজ করেছেন প্রথম আলো এবং কালের কন্ঠ-র মতো প্রতিষ্ঠানে । বর্তমানে তিনি মহাখালীতে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত আছেন । কাঠের শরীর , স্বর্ণভূমি আর আলাদিন জিন্দাবাদ- নামের তিনটি গল্পগ্রন্থ তাঁর লেখা । আর , আঙ্গারধানি , রঙিলা কিতাব ও মকবরা -হল 'মধ্যবিত্ত' ছাড়া লেখকের অন্যান্য উপন্যাস । গত সপ্তাহে ভাইয়ার অফিসে গিয়েছিলাম । একটা বই দিতে । দেখা হয়নি , কিন্তু শোনা হয়েছে অনেক কিছু । তাঁর অফিসের সামনের অফিসের দারোয়ান এর সাথে ২-৫ মিনিট কথা হয়েছে , লিফটের অপেক্ষায় ছিলাম । শুধু শুনলাম , ‘ছোট খাটো মানুষটা , অসম্ভব ভাল ব্যাবহার’
#প্রিভিউঃ ছোটবেলায় , আমার বাসা থেকে একটু দূরে একটা ক্যাসেটের দোকান ছিল । মাঝে মাঝে প্লেয়ারে ফিতা প্যাচায় যায় যে , ঐ টাইপের ক্যাসেটের দোকান । সকাল নয়টা হতে দেরী কিন্তু দোকান খুলে জোরে জোরে গান ছাড়তে দেরী হতোনা দোকানদারের । গানগুলোও ছাড়তো সেরকম ,' আকাশেতে লক্ষ তারা , চাঁদ কিন্তু একটারে... ইয়াহ ...ইয়াহ ...' এরকম সময় অনেকেরই কাটে । মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান ই খেয়াল করতে পারে এসব তুচ্ছ ব্যাপার , কানে বাঁজে বাসে দাড়ায়ে দাড়ায়ে প্রোডাক্ট বেচতে আসা হকারের ডায়ালগ । এরকম মধ্যবিত্ত মানুষ আর তাদের সন্তান , সংসার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু, দেশের প্রায় সর্বত্র । কিঙ্কর আহ্‌সানের লেখা 'মধ্যবিত্ত' - ঐ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা , চক্ষুলজ্জার বেড়াজালে আটকে থাকা এমনই এক সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবারের কিছু মিশ্রিত ঘটনা নিয়ে লেখা । আমি গ্রাম সেভাবে দেখিনি , কিন্তু এই বইয়ের কিছু তথ্য পড়ে আমার জীবন্ত মনে হয়েছে । হয়তো , মধ্যবিত্ত বলেই কিনা , কে জানে ।
#রিভিউঃ পুরো কাহিনী , শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত ঘরের এক ছেলের দেয়া বর্ণনা দিয়েই চলেছে , যার নাম কোথাও উল্লেখ হয়নি । বস্তুত , ঐ ছেলের অসুস্থ মা'কে কলকাতার এক হাসপাতালে নেয়ার পর থকে শুরু গল্পের । সাথে আসে বর্ণনাকারীর বাবা , মামা আর একমাত্র ছোট বোন । আর দশটা এরকম সাধারন পরিবারে যা ঘটে , সেরকম অনেকটাই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক । সকল জায়গায় চিকিৎসা করানোর পরও সুস্থ্যতা না পাওয়ায় শেষমেশ দেশের বাইরেই আনার সিধান্ত নেয় ঐ পরিবার । বেঁচে দেয় দেশের জায়গা জমি । কিন্তু কলকাতার হাসপাতালের ডাক্তাররাও চিন্তিত , অপারেশন করানোর জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বারবার পেছানো হয় অপারেশনের সময় । যিনি এই গল্পের বর্ণনাকারী , তাকে নায়ক হিসেবে বা মূল চরিত্র হিসেবে গন্য করলে , এই গল্পে নায়িকা আমার দৃষ্টিতে একজন । যে সম্পর্কে নায়কের ছাত্রী , যাকে বাসায় ছবি আঁকা সহ অন্যান্য পড়া শেখাতে গিয়ে মনে মনে পছন্দ করে ফেলে নায়িকা ।নায়িকাও হয়তো সেরকম কোনও একটা অনুভূতির মধ্যেই ছিল , যা লেখক সুন্দর ফুটিয়েছেন । পড়লেই ধরতে পারবেন ।
আরেকটি নারী চরিত্রের বেশ প্রভাব আছে গল্পে , অনেকে দ্বিতীয় নায়িকাও বলবেন হয়তো , নাম - বুনো । যে হাসপাতালে নায়কের মা ভর্তি , সেখানকার একাউন্টস ডিপার্টমেন্টে চাকরী করে সে। গল্পের ঘটনা প্রবাহে দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো টাকা এক খারাপ ব্যক্তি কৌশলে হাতিয়ে নেয় , সেই বিপদের সময়ে বাংলাদেশী এই পরিবার কে নিজেদের বাসার নীচতলায় ভাড়া দিয়ে থাকার সুজোগ দেয় বুনো । তারপর ? পড়েই দেখুন ?
বলা চলে একই ছাদের নীচে থাকতে থাকতে , বুনোর উপর একটা ভাল লাগা শুরু হয় নায়কের । কিন্তু গল্পের বিষয়টা মুলত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিল নায়কের মা’এর চিকিৎসার , অপারেশনের উপর । তাই, অনুমানে যেরকম সমাপ্তি ভাবছেন , মিলেও যেতে পারে । আরও চোখে পড়বে খাবার প্রেমিক হিসেবে নায়কের আরেক চেহারা । পাশাপাশি , লেখক সুনিপুণ ভাবে তুলে ধরেছেন গ্রাম বাংলার চিরায়ত রুপের কথা , সমাজ ব্যবস্থার কথা । একটা বিষয় না বললেই নয় , গল্পের প্লট অসাধারন , কারন ‘মা’ চরিত্রই সৃষ্টিকর্তার অসাধারন সৃষ্টি , তাই ‘মা’ কে নিয়ে লেখাও পাঠকের কাছে অসাধারন লাগা উচিৎ ।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ
‘মধ্যবিত্ত’র সম্পর্কে কিছু ‘ভাল দিকের’ উল্টো কথাও উল্লেখ করতে চাচ্ছি । বানানে কিছু সমস্যা আছে । আমার নিজের প্রথম বইয়ের প্রুফরিড করানো হয়নি প্রকাশকের দ্বারা ,তাই সে বইয়েও অনেক বানান ভুল আছে ,তাই আমি জানি এটা লেখক��র দোষ না । কিন্তু একজন পাঠকের পড়ার সময়ে ওই বানান ভুল গুলো কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব হয়তো ফেলে । (এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাক্তিগত ভাবনা)। আর বানান বাদে , দ্বিতীয় আরেকটু বিষয়ে কিছুটা নিরাশ হয়েছি গল্পের সমাপ্তিতে । একটু অন্যরকম হলেও মন্দ হতো না । কিঙ্কর আহ্‌সান ভাইয়ের লেখা এটাই আমার প্রথম পড়া কোনও উপন্যাস । অসম্ভব একটা ভাল প্লট নিয়ে অসাধারন একটা উপন্যাস । কিছু কথা খুব মন ছুঁয়ে গেছে , ‘পাখির জীবন চেয়েছিলাম সবসময় , পাইনি’ , ‘জীবন তো এখন ধার করা’ ।
প্রতিবারের মতো আবার বলবো,বইয়ের রিভিউ বা সমালোচনা করা , অনেক বড় বিষয় । অনেক ধৈর্য ��� জ্ঞানের বিষয় , যার কোনওটাই আমার মধ্যে নেই । তবুও নগন্য পাঠক হিসেবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশ করলাম আমার উপরোক্ত ভাষ্য :) বইটি পড়ে দেখতে পারেন , ভাল লাগবে আশা করি ।অনেক অনেক অনেক অনেক শুভকামনা লেখকের জন্য , অনেক ভালবাসা ।
কিঙ্কর আহ্‌সান ভাই , আপনার নামের হ- এর নীচে একটা হসন্ত আছে , আগে খেয়াল করিনি , দুঃখিত, মধ্যবিত্ত বলেই হয়তো সবসময়ে সবখানে চোখ পড়েনা । চোখও মধ্যবিত্ত হয়ে গেছে আমাদের ।
Profile Image for Ahsan Mahim.
69 reviews9 followers
March 18, 2021
লেখকের বর্ণনাভঙ্গি ভালো। আরো একটু ভিন্নতা আনতে পারলে ভালো হতো: কর্মজীবন, শিক্ষা-সামাজিক অবস্থান।
Profile Image for Rohan Uzumaki.
34 reviews1 follower
July 21, 2020
It was a very heart touching novel. the sorrow and the hopelessness moved me. The story is about a middle-class boy going outside the country, leaving his home, his known environment, the person he loved, to treat his mother. There were always a crisis and remarkable challenges, with uncertainty about his mother's life. He had to bear them all.

The plot was amazing and the story continued in a manner that was quite new. The representation could have been better. The fabulous twists were rather boring than shocking (IDK why I felt like that). And for some reason, it was hard to continue the book, maybe because of the lack of suspense.
Profile Image for Rumman Sadik.
8 reviews35 followers
May 14, 2020
লেখার ভঙ্গি অসাধারণ। খুব সাধারণ কাহিনী অসাধারণ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রাচুর্য কিছুটা অবান্তর মনে হয়েছে।
93 reviews18 followers
February 7, 2017
মধ্যবিত্ত-বুক মিভিউ
জানতাম-তাই কষ্ট হয়নি। কষ্ট হয়েছে সেই মধ্যবিত্তের জন্য, নিজের জন্য।
--জলেশ্বরী তলা, বৃষ্টিটা সবে শেষ হল। প্রকৃতি, বাতাস এখনো বৃষ্টি বৃষ্টি কথা বলছে। পাশ দিয়ে ড্রেনের হালকা পানি, দোকানের লাইটগুলো তাতে কেপে কেপে উঠছে। গাড়ি ঘোড়া কম। তুমি আর আমি। হাতে হাত । দূরে মন্দির। তুমি বললে জানো-আজ মাকে আমাদের কথা বলেছি। আমি হাত ছেড়ে দিয়ে সামনে হাটতে থাকলাম। আমি মধ্যবিত্ত
--বইয়ের চোখ তো আমি। ডাক্তার হিসেবে সমসময় সেই ব্যস্ত চরিত্র আমি। আমি স্বজনদের লাল চোখ দেখি। মন খারাপ করে বলি-দেখেন অন্য কোথাও কিছু পারেন কিনা। তাই বইয়ের চোখ হিসেবে অন্য দিকটাও দেখা হল। আগে লেখকের দুইটা বই পড়েছি। তেমন গোছালো ছিল না। ফর্মা হিসেবে বই মনে হচ্ছিল। এবারে এসে তাই একদম মন মত মধ্যবিত্ত। সেই হুমায়ুনের পেন্সিলে আকা-বাসার ছাদ, ছাদের উপর চেনা পরিচিত মেঘের টুকরো। সুখের দিনগুলো-মায়ের বকা-বাবার হাসি। আবার মোমবাতি নিভে গেলে-সব এলোমেলো।
--মা বাবা, রুবি, মামা আর আমি। এই ঘর, বাড়ি-ঘরকুনো বইয়ের ঘরকুনো আমি। ছোট ছোট স্বপ্ন। কাউকে ভেবে বেচে থাকা। লেখক ছোট ছোট বাক্যে বায়োস্কোপের সেই ছোট ছোট খোপ বানিয়ে নিয়েছেন। ঘুরতে ঘুরতে চোখের সামনে চলন্ত হয়ে উঠে।
ঘরকুনো আমি। আমি সিনেমার নায়ক নই। আমি সিনেমায় রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া মানুষ মাত্র। মনে পড়ে তোমার। কাউকে একবার বলেছিলাম-ভালোবাসি। সে হাসতে হাসতে এক আঙ্গুল দিয়ে আরেক হাতের আঙ্গুল খটকাতে খটকাতে বলেছিল-কই ভালোবাসার তো কোন লক্ষন দেখিনা। তুমি তো সিরিয়াস না। কোন দিন তো কোথাও খেতে ডাকলে না। সেদিন উত্তর জানা ছিল না। তার উত্তর আজ পেয়ে গিয়েছি।
“জীবন তো এখন ধার করা। আমরা মুগ্ধ হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। সব শিখিয়ে পড়িয়ে দেয়্‌ টিভি সিনেমা নাটক, বিজ্ঞাপন। কিভাবে ভালোবাসি বলতে হবে, কিভাবে বুলাতে হবে মমতার পরশ, কিভাবে দুঃখ পেতে হবে, আনন্দের সময়ে দু-হাত ছড়িয়ে দিতে হবে। আকাশে সব, সব আমরা শিখে নিচ্ছি, মেকি লাগে-পরিমিত সব”
--ভালোই হল। রিলেশন শিপ স্ট্যাটাস টা আমার নাম দিয়ে তোকে পরিবর্তন করতে হয়নি। আপাতত প্রকাশককে দ্রুত ও দুর্বল বাধাইয়ের জন্য বকা দেয়া ছাড়া –লেখককে কোন দোষ দিতে পাচ্ছিনা। সময়ে সময়ে লেখক আরো সুন্দর লেখা দিবেন আশা করি। পড়তে পারেন।
Profile Image for Nahid Ahsan.
Author 5 books8 followers
May 4, 2021
" মায়ের গ্রামটার কথা ভাবি। ভাসা ভাসা স্মৃতি। আধবোঝা চোখে গ্রামটাকে ভাবনায় দেখার অযথা চেষ্টা।
দেখি একটা নৌকার গলুইতে পানি উঠছে। ঘুড়িটা কাটা পড়ে। একটা গরু পানিতে নেমে পড়ে। একটা ন্যাংটো শিশু। মালাই, মালাই। কচি ডাবে দায়ের কোপ। কয়লায় ঝকঝকে দাঁত। খেচইন জালে আটকে পড়া কচুরিপানা-চিংড়ি। পায়রার বাক বাক বাকুম। টক আমড়া। কাটা কলাগাছ। নদীতে ঝাঁপ। চোর কাটা। চুলকানি। গায়ে কাদা। গলে যাওয়া সাবান। কানে পানি। পান - চুন - জর্দা। "

কণ্টক আবৃত মুখমন্ডলের অবয়বে লেখা 'মধ্যবিত্ত'। বইয়ের সুঘ্রাণ। মুগ্ধতা। চমৎকার ফন্টে নীচে লেখা 'কিঙ্কর আহ্সান'। কভারপেজ উলটে ভেতরে ঢুকতেই ফ্ল্যাপে উপরের লেখাগুলো দেয়া। ফ্ল্যাপের দিকে তাকালেই চোখ আটকে যায়। কী সুন্দর সাজানো গোছানো লেখা! কী ভীষণ সুন্দর বর্ণনা! মায়ের গ্রামের স্মৃতি। আবেগপ্রবণ ছোট্ট শব্দ। চোখ আটকে যায় প্রথমে, পড়তে পড়তে মনটাও আটকে যায়। এটাইতো জাদু! কথার জাদুকর যেন এই মধ্যবিত্ত বইটির লেখক। প্রচ্ছদ শিল্পী মেহেদী হাসানের করা প্রচ্ছদটি সত্যিই ভীষণ সুন্দর। বইটি প্রকাশিত হয়েছে 'বর্ষাদুপুর' প্রকাশনী থেকে ২০১৭ সালের একুশে গ্রন্থমেলায়।

লক্ষী বোন, সবচাইতে আপন মানুষ, একমাত্র বোন ফারজানা হক'কে উৎসর্গ করেছেন 'মধ্যবিত্ত' বইটি, এক আকাশ সমান ভালোবাসা রেখে৷ পৃষ্ঠা উল্টাতেই রহস্যে পড়ে যেতে হলো। চারটে লাইন।

" কোলাহলের কারাগারে __
দেশলাই বাকসো,
মুঠো ভরা কুয়াশা,
মোহর জমাচ্ছো? "

কেন লিখলেন? কীইবা বুঝালেন?

কোলকাতা শহর। প্রচন্ড গরম। রাস্তাঘাটে ভিড়। রাস্তার বাইরে দাঁড়িয়ে লেবুর শরবত খাচ্ছেন লেখক। অপরদিকে মা জানেন তিনি আজ মারা যাবেন। উপন্যাসের শুরু। মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প শুরু। যেই জীবনে পেট ভরার জন্য দুপুরবেলা গোটা পনের ফুচকা খেলেই হলো। সেই জীবনের গল্প লিখলেন কিঙ্কর আহসান৷ একটু মন খারাপের। না ভীষণ মন খারাপের।

ছোট বোন রুবি। ভীষণ আদরের। কিন্তু অলুক্ষনে। জন্মের পর থেকেই মায়ের অসুখ। মুখ থেকে গলগলিয়ে রক্ত যায়। ভীষণ অসুখ যেন। হাসপাতালের পর হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি। একটু সুস্থ হয়। কয়দিন পর আবার সেই মুখ গড়িয়ে দমক দমক রক্ত। রোগ ধরা পড়ে না। একের পর এক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনোভাবেই কোনো উপকারী সংবাদ নেই। অবশেষে 'আপন ভিলা' ছেড়ে, প্রাণের দেশ ছেড়ে এই কোলকাতা। বড্ড রাগে যে কোলকাতাকে গিলে ফেলতে ইচ্ছে করে। মায়ের চিকিৎসার জন্যেই এই কোলকাতায় আসা। সাথে এসেছেন বাবা, বড় মামা এবং বোন রুবি। কখনও না কান্না করা বাবা কাঁদে। বড় মামা সান্ত্বনা দেন। রুবি অবুঝ দাঁড়িয়ে থাকে। ডাক্তার জানায় তাদের হাতে কিছু নেই। সৃষ্টিকর্তাই শেষ ভরসা।

কী সুন্দর দিন ছিলো দেশে থাকতে! মাহবুবা নামের একজনকে পড়ানো হতো লেখকের। টিউশনি। মাহবুবাকে নিয়ে সুন্দর সব স্মৃতি। অবুঝ স্মৃতি। কেন ভালো লাগে, উচিত কিংবা অনুচিত সেদিকটায় খেয়াল নেই। বড্ড দুঃখের সময় মনে পড়া সেই দিনগুলো আসলেই অনেক ভালো ছিলো। লেখকের গল্প এগোতে থাকে।

ডলার এনডোর্স করাতে গিয়ে পুলিশি ঝামেলায় পড়ে লেখকের বাবা। বড় মামার সাথে আলোচনা করে। লেখক বুঝতে পারেনা। হয়তো ভিসা, পাসপোর্টের জটিলতাও রয়েছে। উকিল লাগবে। শক্ত এক উকিলের সন্ধান দেন অপুদা। দেশের লোক। কোলকাতায় পড়তে এসেছিলেন। বাবার কথামতে লেখকের অপুদার মতো হওয়া চাই। দেখা হয় অপুদার সাথে। ঝামেলা শেষ হয়না। এইদিকে মায়ের অসুখ বাড়ে। ডাক্তার জানায় অবস্থা ভালো না। সারাদিন এসব চিন্তায় দম আটকে আসে লেখকের। সত্যি বলতে পাঠকেরও আটকে আসবে দম। কী সব কষ্টের লেখা! ২৫ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ছোট্ট একটুকরো লেখা নীচে জুড়ে দিলাম :

" বাবার মুখটা শুকনো। যতোদুর জানি ডলার এনডোর্স এর বিষয়টা থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। চিন্তায় বাবার মুখটা ছোট হয়ে গিয়েছে। মায়া লাগছে। নিজেকে অসহায় লাগছে। আমার কিছু করার নেই। কিছু করার থাকলে ভালো লাগতো। "

মধ্যবিত্ত সন্তানের এ যেন অব্যক্ত আর্তনাদ। বাবা কষ্টে পথ চলে। সন্তান দেখে। বুঝে। কিন্তু করার কিছুই থাকেনা। মাথা নীচু করে চলতে হয়। কষ্টের পর কষ্ট আসে, যায়। বিপদ আসে, যায়। বাবার জন্য কিছু করার থাকে না। বাবার মুখগুলো শুকনাই থেকে যায়। গল্প এগোতে থাকে। ঝামেলার শেষ হয়না। বাড়তে থাকে। মধ্যবিত্তের ঝামেলা বড় হয় অনেক, বড় ঝামেলা।

নতুন এক লোকের সাথে পরিচয় হয়। আকাশ। লেখকের কথায় আকাশ মামা। এই আকাশ মামা বড্ড বিশ্বস্ত। মা'য়েরও ভীষণ প্রিয়। বাবার ঝামেলা মেটাতে আকাশ মামা সহায়তা করবেন। আকাশ মামার উপর ভরসা করে বাবা দেশে ফিরে যান। টাকা জোগাড় করতে। মায়ের চিকিৎসার জন্যেই লাগবে। বাবা টাকা পাঠায়। খুশির সংবাদ। মায়ের চিকিৎসা হবে, সুস্থ হবে। কিন্তু এই টাকা নিয়ে পালিয়ে যান আকাশ মামা। ঝামেলা বাড়তেই থাকে।

হাসপাতালে পরিচয় হয় বুনোর সাথে। একাউন্টস এর দায়িত্বে আছে। বুনোর সাথে সখ্যতা হয়। পেমেন্ট ক্লিয়ার না করেই চিকিৎসা যেন শুরু করা যায় সেদিকে বুনো সহায়তা করার আশ্বাস দেয়। বুনোর বাসায় থাকতে দেয়। বাবার ঝামেলা মেটাতে এবার বুনোর ছেলেবন্ধু হাজির হয়। গল্প এগোতে থাকে।

৪৩ নম্বর পৃষ্ঠার শুরুতে লেখা, " আলোতে যেই খবর,
অন্ধকারে সেই কবর। "

৫৭ নম্বরের শুরুতে লেখা,
" ঘর গোছানোর তোড়জোর,
রাত নামে, আসেনা ভোর। "

বুনোও সমস্যার কারণে দূরে সরে যায়। এই অপরিচিত কোলকাতায় কেউ কারোর যেন সহায়তা করতে প্রস্তুত না। আবার আসে অপুদা। অপুদা, বড় মামা, লেখক ও রুবি। গল্প এগিয়ে যায়। মা সুস্থ হয় আবার অসুস্থ হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া যায়না। অপারেশন।
মায়ের চিকিৎসার জন্যেই এখানে আসা। মায়ের খেয়াল রাখার চাইতে অন্য ঝামেলার মধ্যে ডুবে যায় সবাই। বাবা দেশ থেকে ফেরে না৷ কোনো সুসংবাদ পাঠায়না। সব কেমন চুপ। বারবার মনে হয় মা মারা যাবে। এদিকে একের পর এক দুঃসংবাদ। দেশের কথা, মাহবুবার কথা এবং আপন ভিলার কথা অনেক বেশি মনে পড়ে লেখকের। বাবা অনেক ভেঙে পড়ে। বাবার এক বান্ধুবী আসে কোলকাতা। রহস্যময়। গল্প এগিয়ে চলে। কিন্তু কি হয় এই মধ্যবিত্ত পরিবারের?

মায়ের শেষমেশ কি হয়? বাবার ঝামেলা কি মিটে যায়? কে মেটায়? না মেটালে কি হয়? বেঁচে থাকে মা? নাকি মারা যায়? লেখক, বড় মামা, রুবি, অপুদার সাথে কি হয়?
বুনোই বা কেন দূরে সরে যায়? অইযে টাকা মেরে দেয়া আকাশ মামা, তার সাথে আর দেখা হয় না?

ভীষণ মন খারাপের এই মধ্যবিত্ত উপন্যাসটি পড়লেই জানতে পারবেন উপরের সব প্রশ্নের উত্তর। মধ্যবিত্ত জীবনগুলো এমনই হয়। ঝামেলায় ভর্তি জীবনের গল্প। ছোটবেলায় গাড়ি ঘোড়া দেখার চেয়ে এম্বুলেন্স বেশি দেখা লাগে মাঝে মাঝে। তবুও কি থেমে যায় সব? জীবন চলে, চলতে হয় আসলে। মধ্যবিত্ত বলে থেমে থাকতে নেই। সবকিছু মিলিয়ে কিঙ্কর আহসানের দারুণ এক সৃষ্টি এই "মধ্যবিত্ত"। মধ্যবিত্ত পড়ে বেশ অনেকটা সময় ঘোরবন্দি ছিলাম। মন খারাপ। কিন্তু লেখার সৌন্দর্য, ভাষাগত সৌন্দর্য, শব্দের বুনন, বাক্য গঠন কিংবা বর্ণনা; সব মিলিয়ে দারুণ এক উপন্যাস মধ্যবিত্ত। প্রত্যেকের পড়া উচিত। প্রত্যেকের।

মাটির মানুষ এই ছেলে, আকাশে তার ডানা মেলে উড়ার বড্ড শখ। বেশ প্রতিভাবান এই কিঙ্কর আহসান। এক আকাশ সমান ভালোবাসা জানিয়ে 'মধ্যবিত্ত' এর রিভিউ এখানেই শেষ করছি। বই নিয়ে কথা চলবে। পৃথিবীটা একদিন বইয়ের হবে।

মধ্যবিত্ত বইটি পেতে পারেন রকমারি সহ অন্যান্য অনলাইন বুকশপে। নীচে লিংক দেয়া হলো :

রকমারি : https://www.rokomari.com/book/128303

বুক এক্সপ্রেস : https://m.facebook.com/106481647466215

এই বইটি অবশ্যই পড়া উচিত। বই পড়ুন। বই কিনুন। বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়না। বাংলা সাহিত্য ছড়িয়ে দিতে হবে। বেশি বেশি বই পড়তে হবে। পৃথিবী বইয়ের হোক।
Profile Image for Afiur Rahman Fahim.
13 reviews15 followers
January 22, 2018
'মধ্যবিত্ত' টপিকটা নিয়ে মাঝখানে ফেইসবুকে যেন একটু বেশিই মাতামাতি হচ্ছিল। সাবই মধ্যবিত্ত জীবনের সব কষ্ট যেন কলম চিপড়েই বের করে দিতে চাইছিলেন। অনেকে তো নিম্নবিত্তের চাইতেও মধ্যবিত্ত জীবন কতগুন বেশি কষ্টের, তা হিসেব করা শুরু করেছিলেন। সব মিলিয়ে এই বিষয়ের লেখার উপর এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছিল।

কিঙ্কর অাহসানের মধ্যবিত্ত ভাল লেগেছে কারন তিনি এখানে জোর করে কষ্ট ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেননি। কষ্টগুলো উঠে এসেছে খুব ন্যাচারালি। বেশ কয়েকবার মনে হয়েছে গল্পের বিষয়ের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কথা বলছেন লেখক। তবে চমৎকার লেখনীর কারণে সেই কথাগুলোকে বোঝা না মনে হয়ে বরং বোনাস মনে হয়েছে। তবে বুনো চরিত্র নিয়ে তিনি যা করেছেন, তা কারনোর জন্য চরিত্রটিকে ঠিকঠাকভাবে প্রস্তুত করা বোধহয় হয়েছিল না। হয়ত পাঠককে চমকে দেবার জন্য ইচ্ছা করেই এটা করেছেন লেখক, তবুও, এই চরিত্র নিয়ে পুরো ব্যাপারটিই অপিরিনত লেগেছ।

সব মিলিয়ে ভাল লেগেছে বেশ। লেখকের লেখনীতে মাধুর্য অাছে। তার জন্য অনেক শুভকামনা। :)
Profile Image for Rizal Kabir.
Author 2 books45 followers
February 8, 2019
আমার পড়া কিঙ্কর আহসানের প্রথম বই। লেখার ধরণ, বাক্যের গঠন অন্যরকম, কিন্তু আকর্ষণীয়। দুই বাংলার সমাজই উঠে এসেছে এই লেখায়। তবে পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, জীবন সম্পর্কে খুব স্বচ্ছ একটা ধারণা আছে লেখকের। নাহলে খুব সূক্ষ্ম যেসব ডিটেইলের বিবরণ আছে - ওগুলো সম্ভব হতো না।

মন খারাপ হয়েছিল লেখাটা পড়ে। একে অবশ্য লেখকের সার্থকতাই বলা যায়!!
Profile Image for Masum Billah.
186 reviews3 followers
May 5, 2021
মায়ের চিকিৎসা করতে কলকাতায় যাওয়া এক মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্দশার কাহিনী। কাহিনী বেশ ভালোই, তবে লেখক কাহিনী টেনেটুনে আরেকটু বড় করলে পড়তে আরেকটু ভালো লাগতো।
Profile Image for Maliha Tabassum.
40 reviews13 followers
June 8, 2020
বইঃ মধ্যবিত্ত
লেখকঃ কিঙ্কর আহ্সান।
প্রথম প্রকাশঃ ২০১৭
প্রকাশকঃ বর্ষাদুপুর
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫০

প্রথমত বলি, লেখকের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা যথেষ্ট রয়েছে, হয়তো যথেষ্টর তুলনায় একটু বেশি রয়েছে এবং এই কারনে কি না জানি না পুরো বইটিতে যেমন তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার উপযুক্ত ব্যবহার চোখে পড়ে একইভাবে অপব্যবহারও কম নেই য��টা মাঝে মাঝে চোখে লাগে।

কিন্তু গল্পের গাঁথুনি চমৎকার। একজন পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁর আছে এবং সুন্দর করে ধরে রাখতে তিনি জানেন।

গল্প গড়ে উঠেছে অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় আসা একটি পরিবারকে ঘিরে। বইয়ের নাম 'মধ্যবিত্ত' সুতরাং মধ্যবিত্তের স্বরুপ বোঝাতে একটি পরিবার থাকবেই তা বোঝা যায়। এই পরিবারটির বড় ছেলে কথক হিসেবে উপস্থিত থেকে সমগ্র উপন্যাসে পরিবারটির অস্তিত্ব সংকটের গল্প বলে গেছে যা বেশ চিত্তাকর্ষক যা পাঠককে পরিবারটির পরিণতি জানতে শেষ অবধি ধরে রাখে। গল্প বলার ধরনও গোছানো,পরিপাটি যদিও মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল মূল কাহিনী থেকে সরে যাচ্ছেন লেখক। তবুও এইটুকু উপেক্ষা করার মতো।

প্রথমেই বলেছিলাম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা। লেখক পুরো বইটিতে কথককে নির্লিপ্ত দেখাতে গিয়ে অহেতুক খাবারের বর্ণনা এনেছেন। অমুক জায়গার খাবার,তমুক খাবার, অমুকের সাথে খেতে যাওয়া,তমুকের সাথে খেতে যাওয়া এগুলো কিছুক্ষণ পর পর এসেছে যা সামান্য বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়।

তবে, লেখকের কিছু উক্তি ছিলো মনে দাগ কাটার মতো। হঠাৎ মনে হয় এগুলো আমারও কথা কিন্তু নেহাতই লেখকসত্তার জাগরনের অভাবহেতু বলতে পারিনি যা লেখক পেরেছেন। খুব ছোট ছোট পর্যবেক্ষণ তবুও কত সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেসবের।

"....আমাদের মায়েরা সেই সাধাসিধেই আছে। কেমন বোকা বোকা আর মায়া মায়া। খালি ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।"

"লং লাস্টিং বিষয়টাই মধ্যবিত্তের জন্য সবচেয়ে জরুরী।"

"পোষা এইটুকুন রোদ যেন। কথা শোনে,শরীরে আরাম দেয়।"

"ভুলে গিয়েছিলাম যে মধ্যবিত্তদের জীবন খুব প্রেটিক্টেবল।ম্যাজিকাল কিছু হয় না।"

উপন্যাসের প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে লেখক দুই লাইন করে কবিতা যোগ করেছেন। যেগুলোর অধিকাংশই আমার তেমন একটা ভালো লাগেনি। কেন জানি না মনে হয় ছন্দ মিলিয়ে লেখা দুটো লাইনমাত্র, অার কিছুনা। এছাড়াও লেখক উপন্যাসের নায়িকা বুনো কে নিয়ে তার পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্যটুকু পাঠকের সামনে পরিষ্কার করে তুলে ধরতে পারেননি। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় এই চরিত্রটি নিয়ে লেখকের বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল এবং গল্পটি নায়কের সামগ্রিক জীবনীভিত্তিক গল্প হলে বুনো চরিত্রটি আরেকটু বিকশিত হতে পারতো কিন্তু সামগ্রিক জীবন তুলে ধরা হয়নি বলে এই চরিত্র নিয়ে বেশি কাজ করা যায়নি।

আমরা যারা মধ্যবিত্ত তাদের কাছে খুব চেনা গল্প এটি। লেখক নায়ককে বিভিন্ন ধরনের বিপদে ফেলে পাঠকের উপর একধরনের মানসিক চাপের সৃষ্টি করেন। তিনি খুব ভালো করে জানেন মধ্যবিত্তদের মনস্তত্ত্ব। লেখক হিসেবে কিঙ্কর আহ্সানকে এই কৃতিত্বটুকু দিতেই হয়।

সবমিলিয়ে বইটি ভালো। অসঙ্গতিগুলো চোখে না পড়লে অসাধারন বই ই বলতে পারতাম।



#HAPPY_READING
This entire review has been hidden because of spoilers.
111 reviews
July 2, 2022
গল্পকথকের মা অসুস্থ।এ যাত্রায় বেচে ফেরা হবে না,তা সবাই জানে এবং সন্তানের অবুঝ মন ছাড়া বাকি সবাই মানেও।পুরো গল্প জুড়ে ডিপ্রেসিং কথাবার্তা।জীবনটাকে সে অন্যভাবে দেখেছিল,দেখতে চেয়েছিল,তার হলো না;পৃথিবীটা তার ঘুরে দেখার কথা ছিল,কিন্তু এখন সে জীবনের টানে ঘরকুনো।এসব।মার চিকিৎসা করতে গিয়ে পুরো পরিবার পথে বসার জোগান।এমন অবস্থায় আবার বাবার চাকরি চলে যায়।কথকের এসব ভালো লাগে না।নিতে পারে না।সপরিবারে পিকনিকে যায় একটু দম নিতে।উলটো যেনো দম বন্ধ হয়ে আসে।

আর এসবের মধ্যে মা যখন ম্লান শরীর নিয়ে হাসপাতালের বেডে ধুকে ধুকে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে,তার অবুঝ ছোট্ট বোন দূর থেকে কাচ ভেদ করে মায়ের সেই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখছে,বাবা দূর দেশে মায়ের চিকিৎসা এবং পুরো পরিবার চালাতে গিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন,ছেলে(গল্পকথক) তখন পসিব্লি কী করছিলো বলুন তো?ঠিক ধরেছেন! হঠাৎ এক মেয়েকে প্র‍্যাগ্নেন্ট করে বসে।ভাই,এটা কেমন কথা? তাও যেই মেয়ের মা তাদেরকে দয়া করে থাকার আশ্রয় দিয়েছে,যা না দিলে পথে বসতে হতো।পুরো বই জুড়ে এমন ডিপ্রেসিং কথা বার্তা,আর শেষে কিনা এই কাজ?মেজাজ খারাপ হয়েছে।

মধ্যবিত্ত এবং মা-বাঙালির এই দুই সেন্টিমেন্ট নিয়ে কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন।সেগুলো ভালো লেগেছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Promit Basak.
15 reviews1 follower
June 12, 2020
শুরুর দিকটা বেশ ভালো ছিল, নরম হাতের মায়াময় লেখা যেন। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই যেন বাস্তবতার ঝড়-ঝাপটায় গল্পটা ছিঁড়ে যাওয়া ঘুড়ির মত উদ্দেশ্যহীন যাত্রা শুরু করে, শেষমেষ আশ্রয় নেয় নির্মম এক বিষাদের চিলেকোঠায়। কিন্তু উপন্যাসের শুরু আর শেষের মধ্যে ফারাক এতই বেশি যে পুরো লেখাটা কিছু বাস্তবতাবর্জিত মনে হয়েছে।
কিছু চরিত্র বেশ চমৎকারভাবে গড়ে তুলেছেন লেখক, মামা, মাহমুদা কিংবা ছোটবোনের কথা বলা যায়। আবার কিছু চরিত্রের ক্ষেত্রে মনে হয়েছে আরেকটু গভীরে যাওয়া উচিত ছিল। গল্পের মাঝখানে কিছু উটকো বর্ণনা, কিছু চরিত্রের চরম দ্বিমুখী আচরণ আর অসফল উপসংহারটা বাদ দিলে খুব একটা খারাপ বলা যায় না এই উপন্যাসকে।
Profile Image for Saiful Islam.
58 reviews1 follower
April 20, 2023
প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে দু-চার লাইনের ছড়া থাকে (আমার কাছে অন্তত কবিতা মনে হয়নি)। সেগুলো কী লেখকের লেখা নাকি কোন বাচ্চার লেখা সেই বিষয়ে সন্দিহান আমি।
দু:খগুলো ফুটিয়ে তুলতে পারলোনা লেখক। কষ্ট পাবার বিপরীতে বিরক্তবোধ করলাম। আর এত খাওয়া-দাওয়ার বর্ণনা! বই পড়লাম নাকি কারো ডাইরির লেখা পড়লাম বুঝলাম না?

শেষের দুটো অধ্যায় শুধু ভালো লেগেছে কিছুটা। তাই ১ টা তারা দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করলাম।
ওই ফেসবুকে বুস্ট দিয়ে দিয়েই বই বিক্রি করতে হবে..
October 13, 2020
কিঙ্কর আহসানের উচিত লেখালেখি বাদ দিয়ে বইয়ের হকার হয়ে যাওয়া। উনি লেখালেখি কম বই বিক্রি করে খ্যাতি কামাতে বেশি আগ্রহি। একই ধাচের বই সবগুলো। কোন ভ্যারিয়েসান নেই। গদবাঁধা প্লট। বর্ণনামূলক অংশগুলো কোন কারণ ছাড়াই টেনে বড় করা। শেষের দিকে মনে হয়, খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ করে দিচ্ছেন। যেন ছাপানোর জন্যই বই লেখা।
Profile Image for Sushanto Kumar Saha.
93 reviews9 followers
April 27, 2020
মধ্যবিত্ত জীবনের স্ট্রাগলের গল্প। আমাদের সবার চারপাশ জুড়েই এই উপন্যাসের চরিত্ররা ঘুরে বেড়ায়। এরকম একজনেরই জীবনকে তুলে এনে লেখা হয়েছে।

৫০ পৃষ্ঠার বই। লেখা বেশ ভালো, অনেক ডিটেইলড। শুধু দু-একটা জায়গা একটু চোখে লেগেছে। কে জানে, হয়ত আমাদের কল্পনায় মধ্যবিত্তদের সেরকম হতে নেই!
December 27, 2020
"মধ্যবিত্তদের জীবন খুব প্রেডিক্টেবল।
ম্যাজিকাল কিছু হয়না। এ জীবনে শুধু
টানাপোড়েন। কোনো সুখের গল্প নেই।
সফলতার গল্প নেই।"
এই গল্পটি এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মা ও ছেলের গল্প। গল্পে নায়কের ( নাম উল্লেখ করেনি) মায়ের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় একটি হসপিটালে যায়। সেখানে তাদের অবস্থানের ফলে পরিবারে ও হসপিটালে সৃষ্ট অসুবিধা সমূহ নিয়ে এই উপন্যাসটি লেখা।
হুমায়ূন আহমেদের একটি উক্তি 'মধ্যবিত্তরাই ধরনীর আসল রূপ দেখতে পায়'। বইটি পড়তে গিয়ে হুমায়ূন আহমদের উক্তিটি আঁচ করেছি। নায়কের মা যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে , প্রায় সময় তিনি অচেতন অবস্থায় থাকেন ,সেই সময়ে তারা আকাশ নামের একজনে খপ্পরে পড়ে শেষ সম্বলটুকু হারায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলে হাসপাতালে যেই যেই সমস্যায় পড়ে থাকে, এই উপন্যাসে লেখক তা খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
লেখকের খুব ভালো প্রতিভা হচ্ছে তিনি পাঠককে গল্পের শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন। এই গল্পের অনেক সময় মনে হয়েছে হয়তো নায়কের মা বেচে যাবে, একটি ইতিবাচক সমাপ্তি দেখব।কিন্তু, গল্পকথকের মতে বলতে হয়,"মধ্যবিত্তের জীবন অনেকটা প্রেডিক্টেবল,সেখানে অলৌকিক কিছু ঘটে না"
এই গল্পতে আমি আমার মধ্যবিত্ত মায়ের ভালোবাসার আঁচ খুঁজে পাই। তাই গল্প পাঠে নিজেকে নায়কের স্থানে বসাতে দ্বিধা করিনি। সত্যি বলতে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোর স্বপ্নের মূলধন একটাই আর তা হলো পরিশ্রম।
শুদ্ধতায় আর হৃদ্যতায় পৃথিবী বইয়ের হোক।
1 review
Want to read
July 12, 2019
I want to read this book.
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Clannad.
32 reviews
April 11, 2020
তেমন বিশেষ কিছুই পেলাম না। গল্পের সাথে নাম একদমই বেমানান।
Profile Image for Azmain Adil.
27 reviews
April 18, 2020
In some cases excessive detailing ruined the story. But overall as a new writer not a bad one. The main character has some relevance with the regular life of elder son of a middle class family.
Profile Image for Surid Hasan.
6 reviews4 followers
April 29, 2020
লেখার ধরন পছন্দ হয়নি- বিশেষ করে পদক্রম(যদিও সেটাতে বাধ্য না) ও বাক্য সাজানোর বিষয়টা। প্লট চয়নটা ভালো ছিল কিন্তু সেটা ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।
Profile Image for Tanvir Raihan.
7 reviews1 follower
July 8, 2020
পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করার ক্ষমতা আছে বইটার। সেনসেটিভ ইস্যুতে লেখা বলেই হয়তো এরকম হয়েছে। লেখকের ৬ষ্ঠ বই হিসেবে খারাপ না। আশা করি ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে না লিখে সাহিত্য কল্যানে তিনি আরো ভালো বই লিখবেন।
Profile Image for Muhammad Tamimul Ihsan.
30 reviews
June 8, 2022
কিঙ্কর আহসানের অন্যান্য বইগুলোর লেখা ভালো লাগুক আর নাই বা লাগুক, 'মধ্যবিত্ত' বইটার লেখার ভাষা যারা বুঝতে পেরেছে তাদের কাছে বইটা অসম্ভব রকমের প্রিয় হয়ে দাঁড়াবে!
Profile Image for Ayrin Jahan.
75 reviews
June 14, 2022
৩'৫ দিবো।এই বইটায় মধ্যবিত্তদের ব্যাপার গুলি খুব ভালো করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কিন্তু পাশাপাশি একটু বেশিই ফিল্মি হয়ে গিয়েছে কিছু বিষয়। লেখকের লেখা মুটামুটি লেগেছে আর এন্ডিং টা বাস্তবতা দেখিয়েছে।
Profile Image for Nasim Bin Jasim.
116 reviews4 followers
May 3, 2023
মধ্যবিত্ত জীবনের বিভিন্ন অংশের একটি রূপ নিয়ে ছোট্ট একটি উপন্যাস। বুনো , মাহবুবা , মামা , বাবার বান্ধবী , কলকাতা এসব নিয়ে একটি পারিবারিক গল্প।
ভাল লেগেছে ।
Displaying 1 - 30 of 33 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.