DOUBLE AGENT A Bengali Detective Novel by Vikramaditya
প্রচ্ছদ – গৌতম রায়
ইতিহাসের ইতিহাস আছে। তে্মনি আছে ডবল এজেন্টের এক নেপথ্য কাহিনী। আর সেই কাহিনীকে ভিত্তি করে রচনা হয়েছে আমার গল্প। অতীত দিনের স্মৃতিকে রোমন্থন করতে গেলে আমার মনে পড়ে একটি রাত্রির কথা। বেরুটের এক সমুদ্রতটের সামনে আমি, গাসান কানাফানী আর লুলু দাঁড়িয়েছিলুম। শহর ক্লান্ত, নীরব, শুধু মাঝে মাঝে শোনা যায় সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন। গাসান আর লুলু সমুদ্রের পানে তাকিয়েছিলো। আমরা সবাই ছিলুম নির্বাক। হঠাৎ গাসান কানাফানীর কথায় আমরা চেতনা ফিরে পেলুম। গাসান বললো, দেখতে পাচ্ছো সমুদ্রের অনেক দূরপ্রান্তে কতোগুলো আলো। ওগুলো শুধু আলো নয়। ঐ আলোর দেশে আছে আমার জন্মভূমি প্যালেস্টাইন। কখনও যে আমার মাতৃভূমিকে দেখতে পাবো সে আশা আমার নেই কিন্তু তবু আজ আমার সবচাইতে বড়ো গর্ব যে প্যালেস্টাইন আমার জন্মভূমি। নিজের দেশের মাটির ভেতর আছে মোহিনী মায়া আর তার মিষ্টি বাতাসে আছে গানের রেশ, যে গান আমাকে উতলা করে, হাতছানি দিয়ে ডাকে কিন্তু তবু আজ আমি তার কাছে যেতে পারিনে-এটাই আমার দুঃখ। আমার ভিটে মাটি থাকা সত্ত্বেও আজ আমি যাযাবর- দুরন্ত আরব বেদুইন। কারু দেশপ্রেম যে এতো গভীর হতে পারে সেদিন রাত্রে আমি গাসান কানাফানীর কথায় প্রথম উপলব্ধি করেছিলুম। গাসান কানাফানী ছিলেন বিখ্যার আরব সাহিত্যিক, আরব বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটি উজ্জ্বল তারকা। যদি প্যালেস্টাইনের মুক্তি সংগ্রামে তিনি কাজ না করে শুধু সাহিত্য সেবা করে যেতেন তাহলে সাহিত্য জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকতেন। গাসান কানাফানী আজ জীবিত নেই কিন্তু তাঁর সাহিত্য বেঁচে আছে। সেদিনকার রাত্রের আলোচনার কিছুদিন পরে গাসান কানাফানী এক দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পেছনে ছিলো ইস্রায়েলী ইন্টেলীজেন্স সার্ভিসের চক্রান্ত। শুধু গাসান কানাফানী ণয়, তার মতো আরো অসংখ্য প্যালেস্টাইনের মুক্তি সংগ্রামের কর্মী ছিলেন যাঁরা তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বিসর্জন দিয়েছেন। এইসব কর্মীদের সঙ্গে আমার আলাপ পরিচয় হয়েছিলো-বিভিন্ন শহরে, বিভিন্ন গ্রামে। সেদিন তাদের মর্মস্পর্শী অব্যক্ত কথা শুনবার সুযোগ হয়েছিল- আর সেই কাহিনীকে ভিত্তি করে আজ রচনা হয়েছেঃ ডবল এজেন্ট। ...লেখক
বিক্রমাদিত্যের আসল নাম অশোক গুপ্ত (জন্ম: ১৯২৪ - মৃত্যু: ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)। বিখ্যাত রহস্য রোমাঞ্চ লেখক । তিনি বিক্রমাদিত্য ছদ্মনামে বই লিখতেন । অশোক গুপ্ত ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন । কিছুদিন প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ায় সাংবাদিকতা করেছেন । তারপর ফরেন সার্ভিস পাস করে চাকরিতে যোগ দেন । অবসর গ্রহণের সময় প্যারিসের দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন ।