‘পলিটিক্স সাকস’ বলতে পছন্দ করে এরকম একটা প্রজন্মই বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। ‘পলিটিক্স সাকস’ কিংবা ‘রাজনীতি খারাপ জিনিস’ এসব কথার যে কত বড় এবং গভীর রাজনীতি আছে, তা বেশিরভাগেরই খেয়ালে থাকে না।
‘আমি ভাই শিল্প-সাহিত্য করি, রাজনীতির মধ্যে নাই’, ‘আর্ট-কালচারের আবার রাজনীতি কি?’, ‘আমি ভাই নিরীহ ভদ্রলোক, রাজনীতির মধ্যে নাই’ এসব কথা বলা লোকেরও অভাব নেই। কিন্তু ‘সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক’ পরিবেশে ভোটের লাইনে লোকের যেমন অভাব হয় না, তেমনি, এদেশের জনগণ যুদ্ধ করে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করেছে। এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘটনা একটা জনগোষ্ঠীর জীবনে কতবার ঘটে?
আর জীবন-মৃত্যুর পুরো পরিক্রমায় সহজ মানুষের ডাকে সারা দিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই মানবজীবনের করণ বলে মনে করেন লালন ফকির। মানে, জীবন-মৃত্যু সবই রাজনৈতিক। পোশাক, খাদ্য, জন্ম, বেঁচে থাকা, বেড়ে ওঠা, জীবিকা, প্রেম, যৌনতা, মৃত্যু, লাইফস্টাইল সব।
এসব বিষয়কে মানুষ কিভাবে বিচার করে, এসব প্রশ্নকে কিভাবে সমাধান করে-তারই রূপ ধরা পড়ে সংস্কৃতিতে। তার বিচার অর্থাৎ অর্থনীতি, রাজনীতি ও ইতিহাসের সাপেক্ষে সংস্কৃতির এবং সংস্কৃতির সাপেক্ষে অর্থনীতি-রাজনীতি-ইতিহাসের বিচারকেই নাম দিলাম সম্পর্কশাস্ত্র। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল সম্পর্কশাস্ত্র বিচার। বিচারক আমরা সবাই।
এই নোট সংকলনে সংস্কৃতির গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সঙ্গে সমাজের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ও গণতন্ত্রের রূপান্তরের প্রশ্নকে যুক্ত দেখানো হয়েছে এই বইটিতে।