কিশোর ভারতী পত্রিকার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় রহস্য-রোমাঞ্চ-ভয়ের গল্প প্রকাশিত হয়েছে কয়েক হাজার। সেই তালিকায় যেমন বাংলাসাহিত্যের স্মরণীয় কথাশিল্পীরা আছেন, তেমনই আছেন জীবিত বিশিষ্ট সাহিত্যিকরাও। আবার হয়তো তেমন পরিচিত নন, এমন বিস্মৃতপ্রায় গল্পকাররাও লিখেছেন অনেক-অনেক গল্প। ভয় রহস্য ১০১ সংকলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, কিশোর ভারতীয় প্রতিটি সংখ্যা তন্নতন্ন করে খুঁজে তার থেকে বাছাই করা হয়েছে রহস্য- রোমাঞ্চ-ভয়ের একশো এক গল্প। তাই চিরায়ত-স্মরণীয়-বিশিষ্ট লেখকদের পাশাপাশি এই সংকলনে মণিমুক্তোর মতো আহরণ করা হয়েছে অচেনা-অপরিচিত-বিস্মৃতপ্রায় লেখকদের গল্পও। প্রধান বিবেচ্য লেখার মান, শুধুমাত্র লেখকের নাম নয়। পাঠকেরা ঠকবেন না, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এসসি। শিশু কিশোর ও প্রাপ্তমনস্ক সাহিত্যের ইতিহাস, বিজ্ঞান, রহস্য, হাসিমজা...নানা শাখায় বিচরণ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালিখি। প্রকাশিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। জনপ্রিয় চরিত্র বিজ্ঞানী জগুমামা ও টুকলু। ১৯৯৫ থেকে কিশোর ভারতী পত্রিকার সম্পাদক। ২০০৭ সালে পেয়েছেন শিশু সাহিত্যে রাষ্ট্রপতি সম্মান। শিশু-কিশোর সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত। মধ্যবর্তী সময়ে পেয়েছেন রোটারি বঙ্গরত্ন, অতুল্য ঘোষ স্মৃতি সম্মান, প্রথম আলো সম্মান ও নানা পুরস্কার
কিশোর ভারতী পত্রিকার পয়তাল্লিশ বছরের মোট পাঁচশো আঠাশটি কপি ঘেঁটে ১০১টি গল্প বাছাই করা খুবই কঠিন কাজ। তার ওপর প্রত্যেক লেখকের মাত্র একটি করে গল্প বাছাই করা মানে তো সাংঘাতিক ব্যাপার। তারপর সেই নির্বাচিত গল্পের সংকলনটিকে সুন্দরভাবে পরিবেশন করাও একটি কঠিন কাজ। সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় এই কঠিন তিনটি কাজ সম্পন্ন করে আরও একবার প্রমাণ করেছেন, শিশু-কিশোর সাহিত্যকে তিনি কতটা ভালোভাবে চেনেন। তবে সংকলনটি পড়তে গিয়ে বেশ ক'টি বিষয় দেখে কিঞ্চিৎ হতাশ হতে হল। প্রথমত, অলৌকিক ও রহস্য গল্পের পরিবর্তে যেকোনো একটি থিমকে বেছে নিলে বোধহয় ভালো হত। দ্বিতীয়ত, বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যের "স্বর্ণিম ঐতিহ্য" মেনে এই ১০১টি গল্পই নারী-চরিত্র বর্জিত। এই ব্যাপারটা যে কী পরিমাণে অবাস্তব এবং অযৌক্তিক তা প্রকাশকেরা বোঝার আগেই পত্রিকাগুলোর না অবলুপ্তি ঘটে! তৃতীয়ত, একজন লেখকের একটিই গল্প বাছতে গিয়ে মুড়ি-মিছরি একদর হয়ে গেছে। এমন বহু লেখা এই সংকলনে ঢুকেছে যা আজকের স্মার্ট পাঠকের কাছে খুবই গতে বাঁধা বলে মনে হবে। তবু, যদি হাতে সময় থাকে, তাহলে এই হৃষ্টপুষ্ট সংকলনটি পড়ে দেখতে পারেন। সময়টা বেশ কাটবে।