পথই যাঁর ঘর, প্রব্রজ্যার জীবনই যাঁর স্বেচ্ছানির্বাচিত জীবন, সেই উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জীবন-পথ-পরিক্রমার সূত্রে গঠিত ছবির অ্যালবামের পৃষ্ঠাগুলি অপরূপ সুন্দর। কথা দিয়ে আঁকা এক-একটা ছবি। সেসব ছবির অনুষঙ্গে অবাক-করা সব গল্প। বানানো গল্প নয়, জীবনেরই গল্প। কখনও সেই গল্পে উপস্থিত নিজের ছেলেবেলা, কখনও উপস্থিত রবীন্দ্রনাথ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, দিলীপকুমার রায়, অতুলচন্দ্র গুপ্ত। কখনও কোনও বিস্মৃত ভাস্কর, কোনও কৃপণ উকিল, কোনও স্বনামধন্যা অভিনেত্রী। জীবন যে গল্পকথার থেকেও রোমাঞ্চকর, তারই উদাহরণ উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘অ্যালবাম’ এবং ‘অ্যালবাম পুনশ্চ’। প্রকাশিত হল অনুপম এই দুই গ্রন্থের সংকলন ‘অ্যালবাম সমগ্র’। স্মৃতির জলছবি যেখানে শাশ্বত।
সূচি –
অ্যালবাম –
কোন নিরালায় রব আপন মনে লোকটি সংসার ও আশ্রম গোপালের প্রসাদী অনন্ত সান্ত্বনা স্বপ্নময় শান্তিময় ছাত্রহিতৈষী আশুতোষ আশুতোষের লাইব্রেরি বেজো না চরণে চরণে রবীন্দ্রনাথের ফেরারি চিঠি নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত বিচিত্র সংবাদ ক্যামেরাকাণ্ড পুরাতন ভৃত্য দম্পতি দাদাভাই যাচ্ছি পালা-পালা-পালা - ১৫০ পৃষ্ঠা
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ "বাংলার বাঘ" আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পুত্র উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক, যাঁর প্রধান বিচরণক্ষেত্রটি হল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ধারা, ভ্রমণ-কাহিনী। মণিমহেশ নামক ভ্রমণকাহিনীর জন্যে, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে, তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
গত কয়েকদিন ধরে খবর পাচ্ছি, যে চীন দেশে ১৫টি হাতির একটি দল নাকি নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে ৫০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা যেখানে পারছে শুয়ে পড়ছে আর যা পাচ্ছে তাই খাচ্ছে। বেশ একটা পরিব্রাজক ব্যাপার এসে গেছে মনে হলো তাদের মধ্যে, সব শুনে যা মনে হলো। তা হাতি আর পরিব্রাজক, এই দুই মিলিয়ে তো আমাদের বাংলা সাহিত্যে দুই দিকপাল লেখক আছেনই, একজন তো হস্তীবিশারদ, ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী এবং অপরজন যিনি, তিনি নিজেও এই ভাবেই পায়ে হেটে ৪০০ মাইল হেটে, যেখানে খুশি শুয়ে আর যা পাওয়া যায় তাই খেয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন সারা হিমালয়। উনি উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কিন্ত, এই বইটি ওনার ভ্রমণকাহিনী নয়, যদিও আনন্দ পাব্লিশার কিন্ত এটিকে তাই বলেই চালাচ্ছেন। উমাপ্রসাদ বাবু দীর্ঘদিন দেশ-এ লেখেননি বা লেখা দেননি একটি বিশেষ ঘটনার জন্য। কিন্ত ৮০-র দশকে ছোট ছোট লেখা দিতে শুরু করেন, আর সেগুলি দেশ-এ ছেপে বেরতো "অ্যালবাম" নামে। সেই সব লেখা কে একত্র করে সাজিয়ে এই বইটি সম্পাদনা করেন অনাথবন্ধু চট্টোপাধ্যায়। বইটি ছেপে বেরোয় ২০১৬ সালে, আর আমার এডিশনটিও সেই ১৬-র। উমাপ্রসাদ বাবুর লেখা নিয়ে "সমালোচনা/আলোচনা" করার ক্ষমতা বা ইচ্ছে আমার নেই। আমার মনে হয় উচিৎ ও না, কারন এই বই পড়ে শুধুই মনে শান্তি আসবে, আর শান্তির আলোচনা মানে, সুখে থাকতে ভুতের কিল খাওয়া। ছোট ছোট ঘটনার স্মৃতিচারণ এর মধ্যে দিয়ে মাঝে মধ্যে মুখে হাসি ফুটবে আবার চোখ ছল ছল ও করবে। সাবলিল বিনা আড়ম্বর এর ভাষা যেন আরও বেশি করে এই বইটিকে আপন করে নিতে সাহায্য করে। তথাকথিত রোমন্থন এটি নয়। Chronological ভাবে বলাও হয়নি কাহিনীগুলি এই বইতে, কিন্ত যারা উমাপ্রসাদের লেখা পছন্দ করেন আর স্মৃতিচারণ পড়তে ভালোবাসেন, এই বইটী কিনে ফেলুন। ঠকবেন না।