প্রেত সাধক বেনিত্তা হিমছড়ির দূর্গবাড়িতে এসেছে তার পূর্ব পুরুষ সতের শতকের দূর্ধর্ষ জলদস্যু সিস্তান বাতিস্তার গোপন ধন রত্নের সন্ধানে । এর জন্য জাগিয়ে তুলতে হবে বাতিস্তার মৃত আত্মাকে! কবরখানায় লাশকে পরিণত করতে হবে ভ্যাম্পায়ারে।রক্তচোষার থাবা চাই। বেনিত্তার প্রয়োজন দশটি নীল চোখের কিশোর ছেলের টলটলে চোখের মনি আর হাতের কাটা আঙ্গুল। এদিকে প্রবাল দ্বীপে ভিডিও ছবি তুলতে এসে 'দুঃসাহসী পাঁচ' আবিষ্কার করে ফেলল ডুবো জাহাজে বাতিস্তার হাইতুরু দ্বীপের কালো বেড়ালের মূর্তি। শুরু হলো অপারেশন। কে এই বেনিত্তা! জিপসিরা তাকে কি বলেছে? বাতিস্তার গোপন ডাইরি থেকে নীল দরিয়ার আতংক ক্যাপ্টেন কিডের নির্দেশ মত কি সন্ধান পেয়েছিল? কি হবে গোপন ধন-রত্নের? কিভাবে চলবে 'দুঃসাহসী পাঁচ' এর অভিযান!
Ali Imam (আলী ইমাম) is a Bangladeshi children's writer and audio-visual organizer. He written a lots of scientific story, travel story etc. for children.
Imam has written more than 550 books, translated nearly 40. Child psychology, humanism and adventure is found in his writing. A simple style is available. Adventures, science fictions, stories related with historic events are the categories.
Ali Imam was the General Manager of Bangladesh Television and retired from the job in 2006. He is now hosting two popular TV Talk shows in private channels and more concentrating in his forthcoming books.He is Very Famous Familiar Face in Bangladesh about his Workings Experience.
অনেক আগে পড়া বইটার নাম আর কাহিনী ভুলেই গিয়েছিলাম। শুধু প্রথম অধ্যায়টা মনে ছিল। ইবুক হাতে পেয়ে আবার পড়া হলো। দুপুরের রোদে মাছ ধরার নৌকা নিয়ে সাগরে একা জেলেপাড়ার নীল চোখের ছেলে মন্তা। মাথার ওপর উড়ে যায় গাঙচিল। ছেলেটার নীল চোখ উপরে নিতে আসছে এক প্রেতসাধকের সবুজ একটা কাক। কাকটা সফল হয়, মন্তার চিৎ হয়ে পড়ে থাকা লাশটা নিয়ে ডিঙ্গি নৌকাটা ভাসতে থাকে। লাল রক্তের ধারা নেমে যায় পানিতে। অশুভ একটা অনুভূতি হয় বইএর প্রথম অধ্যায়টা পড়ে, এটুকুই যেন মনে দাগ কেটেছিল। রহস্য উপন্যাস হিসেবে খারাপ না, তবে ঘটনাপ্রবাহের চেয়ে প্রাণীজগত আর পরিবেশ নিয়ে জ্ঞান দেয়াটা যেন একটু বেশী হয়ে গিয়েছে। পরের পর্বটা পড়া হয়নি আর।
পুনশ্চ: কেন যেন মনে হচ্ছে আগে যখন পড়েছি, এ উপন্যাসটার নাম ছিল.... 'হিমছড়ির ভয়ংকর'! কেউ জানলে আমার confusion দূর করবেন আশা করি।
ফয়সাল, তকি, লিমন, আকরাম ও আশরাফ। এই পাঁচজনকে নিয়েই দুঃসাহসী পাঁচ এর প্রথম অভিযানের গল্প এই ভয়াল ভয়ঙ্কর। এই সিরিজের বইগুলো আমি প্রথম পড়েছিলাম আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন আমি স্কুলে পড়তাম। কিশোর এডভেঞ্চার সিরিজের এই বইগুলো ছাপা হয়েছিল সেবা প্রকাশনী থেকে। ১৯৮৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এই বইটা। এই সিরিজের এটাই প্রথম বই। এই সিরিজের অনেকগুলো বই ছাপা হয়েছিল। সবগুলোর নাম আমার এখন আর খেয়াল নেই। প্রবল আগ্রহে তখন এই সিরিজের প্রায় বেশিরভাগ বই পড়েছিলাম তখন। আজ এত বছর পর আবার এই বইগুলো পড়তে বসে কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। অবিশ্বাস্য হলো সত্য যে, এত বছর পরেও এই বইটা পড়ার সময় এতোটুকুও খারাপ লাগেনি। বরং বেশ আগ্রহ নিয়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ১৬৭ পৃষ্ঠার বইটা শেষ করলাম। দুর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিলারের অনুভূতি পেলাম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।
কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের এই বইতে কী নেই? রক্তচোষা ড্রাকুলা থেকে শুরু করে পর্তুগিজ জাদুকর বেনেত্তা আর তার ভয়ংকর সব কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি উঠে এসেছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক নীল চোখের কিশোর ছেলেদের হত্যা করে চোখগুলো সংগ্রহ করতো কোনো এক ভয়ংকর আততায়ী। নীল চোখের আশরাফকে এই আততায়ী চেষ্টা করে মেরে ফেলার। বন্ধু আশরাফকে বাঁচাতেই জাদুকর বেনেত্তাকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠে ওর বাকি চারজন বন্ধু। হিমছড়ির গহীন এক জঙ্গলে শত শত বছরে পুরনো এক দুর্গবাড়িতে পূর্বপুরুষ জলদস্যু সিস্তান বাতিস্তার দেহকে আবার পুরনো কবরস্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসে জাদুকর। যেভাবেই হোক ওর পূর্বপুরুষকে আবার ড্রাকুলার মতো জীবন দান করতে হবে। তাহলেই সে উদ্ধার করতে পারবে জলদস্যু সিস্তানের লুকিয়ে রাখা অনেক ধন-সম্পদ। অবশেষে মরিয়া হয়ে পাঁচ জন সাহসী কিশোর ছেলে সেই দুর্গ বাড়িতে হানা দেয় জাদুকর বেনেত্তাকে প্রতিহত করার জন্য।
এই বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে হিমছড়ি, সেন্টমার্টিন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও সামুদ্রিক এলাকার অপূর্ব বর্ণনা। বিশেষ করে সমুদ্রের নিচের জলজ প্রাণীগুলোর বর্ণনা ছিল রীতিমত রোমাঞ্চকর। এই সিরিজের বাকি বইগুলো যোগাড় করতে পারলে পড়ে ফেলবো। তিন গোয়েন্দা সিরিজের চাইতেও এই সিরিজটা বেশি আকর্ষণীয়।
মোটের ওপর খারাপ না। তবে প্রকৃতি পরিবেশ নিয়ে কথাবার্তা একটু বেশিই ছিল। মূল কাহিনী থেকে বারবার সরে এসে সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য বর্ণনা করবার খুব দরকার ছিল না। সিরিজের নাম দুঃসাহসী পাঁচ। এটিই এই সিরিজের আমার পড়া প্রথম বই। বইয়ের নাম অনুযায়ী ভয়াল অংশও খুব বেশি নেই, ভয়ংকরও খুব বেশি নেই। দেখা যাক বাকিগুলো কেমন লাগে!
পর্তুগীজ জলদস্যুর বংশধর বেনিত্তা হাজির হয়েছে হিমছড়ির পুরোনো দুর্গবাড়িতে। নীল চোখের কিশোর ছেলেদের চোখের মণি আর হাতের আঙ্গুল দিয়ে শুরু করেছে এক বীভৎস উপাসনা। উদ্দেশ্য ্কবরখানায় শুয়ে থাকা তার প্রেতসাধক পূর্বপুরুষকে ভ্যাম্পায়ার রূপে জাগিয়ে তোলা।