এক বাড়ির পাঁচটি ভাই, অন্য বাড়ির দুটি – সব মিলিয়ে সাতজন বালক-কিশোরের একটি দল চলেছে সদর রাস্তা দিয়ে। ওদের একজনের হাতে একটি কুকুরছানা। ছানাটাকে পরশুদিন রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পেয়েছে ওরা। তাকে নিয়ে চলেছে পশুচিকিৎসকের কাছে। এই সাতজনকে ঘিরে আছে ছোট একটি মফস্বল শহর – যা প্রায় বড়সড় একটি পাড়ার মতোই। ছেলেগুলির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাক্রমে এসে যাচ্ছে, চকিতে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে নানা চরিত্র। কানু, ভোঁদড়, ফুটকাই, বঙ্কে, পান্তু, লেলো, সঞ্জু, দুলু, মিল্টু, ভুটুদের জীবন ধীরে ধীরে বাঁক নেয় অন্য আবর্তে। শৈশবসঙ্গীদের ছেড়ে কিশোর সঞ্জু, মা ও ভাইদের নিয়ে এই ছোট্ট শহর থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়। তার চোখের জলের প্রাচীরের ওপারে পড়ে থাকে লেবুগাছ পাঁচিল বারান্দা পুকুর খেয়াঘাট রাস্তা আর সেই মেয়েটির মুখ। যার নাম বেবি। অস্ফুট এক প্রেমের স্মৃতি সঞ্জুকে উদ্বেল করে তোলে। এরপর পঞ্চাশ বছর বয়সে এই শহরের মর্মে ফিরে এসে কী পেল সঞ্জু?
ভারতীয় কবি জয় গোস্বামী (ইংরেজি: Joy Goswami নভেম্বর ১০, ১৯৫৪) বাংলা ভাষার আধুনিক কবি এবং উত্তর-জীবনানন্দ পর্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি হিসাবে পরিগণিত।
জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে, তখন থেকেই স্থায়ী নিবাস সেখানে। পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন।
জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময়। সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখতেন। এভাবে অনেক দিন কাটার পর দেশ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাগলী তোমার সঙ্গে কাব্য সংকলনের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।