দুদিনের জন্যে কোপেনহাগেন যাচ্ছিলাম - সকালে লাইব্রেরি থেকে ইমেইল পাঠালো যে বই লেট্ করে জমা দেয়াতে ১০ পাউন্ড ফাইন উঠেছে। তাই এয়ারপোর্ট যাবার পথে ট্যাক্সি থামিয়ে লাইব্রেরিতে ঢুকলাম জরিমানা দিতে। বাসার কাছেই গ্যান্টস হিল লাইব্রেরি - কিন্তু এই ব্র্যাঞ্চে আগে আসিনি। ফর্মালিটিস শেষ করে ঢুঁ মেরে দেখলাম বাংলা বইয়ের শেলফটা কেমন? শেলফ আছে, তবে আবারও মূলত ঐসব রদ্দি মার্কা বাজারি উপন্যাস। আশাহত হবো হবো, এমন সময় এই বইটায় চোখ পড়লো। নামটা কেমন ব্যতিক্রমী। টেনে বের করে দেখি মলাটে বা ফ্ল্যাপে কোথাও কিছু লেখা নেই, একটা সামান্য লেখক পরিচিতিও না। তবু কি ভেবে যেন বইটা নিলাম।
এবং সেই সিদ্ধান্তের জন্যে নিজের ইন্সটিংক্টের কাছেই কৃতজ্ঞতা বোধ করেছি সেদিনের পর থেকে।
জ্যোতিপ্রকাশ চট্টো সম্পর্কে নেট-ফেট ঘেঁটেও তেমন সুরাহা করতে পারিনি। গুগল করলে যা বেরিয়ে আসে তা হলো বাংলাদেশের গদ্যকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত অথবা কলকাতার সংগীতশিল্পী জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। দেবেশ রায়ের সম্পাদনায় একটা "নির্বাচিত জ্যোতিপ্রকাশ" সংকলনের সন্ধান পেয়েছি বটে, কিন্ত লেখক সম্পর্কে আদৌ কোন ডিটেইলস নেই। এমনকি জন্মসাল পর্যন্ত কোথাও পাইনি এখনো। আন্দাজ করছি সংগীতশিল্পী জ্যোতিপ্রকাশ আর লেখক জ্যোতিপ্রকাশ এক মানুষ নন, কিন্তু সেই ব্যাপারেও ১০০% নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারছি না। এক হলেও হতে পারেন।
যাই হোক - জিৎভূমি। ২০০৬ এ প্রকাশ। শুরুতেই একটা হিন্ট - "যে সময় নিয়ে, যে মানুষদের নিয়ে এ উপন্যাস, তাদের নিয়ে এক মহাভারত লেখার কথা। তা আমার সাধ্যায়ত্ব নয়।" উপন্যাসের প্রথম দৃশ্য কোলকাতার ভোর, ইডেন হাসপাতালের সিঁড়িতে দুই দিন দুই রাত নির্ঘুম অপেক্ষা করে আছে উস্কোখুস্কো কিছু তরুণ। ওদের নিকট বান্ধবীর গুরুতর অপারেশন। ব্যাস এই ক্লোজ-আপ থেকেই শুরু।
অতঃপর প্রায় দুশো পাতার উপন্যাসে লেখক জীবন্ত ফুটিয়ে তুলেছেন কোলকাতা, তথা পশ্চিমবঙ্গ, তথা সমগ্র বাংলার ইতিহাসে এক চরম সন্ধিক্ষণ। মধ্যষাট থেকে সত্তরের দশকের গোড়া অব্দি সময়টুকু। একদল আদর্শবান তরুণ-তরুণী কিভাবে সেই সময়কে দেখেছিল, কিভাবে সময়ের দু:খ-বেদনা, সন্ত্রাস, আতঙ্ক, সর্বোপরি সীমাহীন রক্তপাত এবং বিশ্বাসঘাতকতার সাথে বোঝাপড়া করেছিল, এই বই তারই প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ। গদ্যের প্রবল immediacy থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে সেকালের বামপন্থী রাজনীতি, ছাত্র আন্দোলনকে একেবারে ভেতর থেকে দেখেছিলেন, চিনেছিলেন লেখক, কফিহাউজের সেসব রাগালো এন্ডলেস আড্ডায় তিনিও ছিলেন শরিক, তারও বন্ধুদের বাড়িতে রাতের গভীরে পুলিশের চোখ এড়িয়ে রাখা হতো বন্দুক আর বোমা, তারই সহযোদ্ধারা পশ্চিমবঙ্গের বামধারার শতমুখী ভাঙ্গনে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে কেউ কেউ হয়েছিলেন আশাভঙ্গ ব্যথিত, কেউ কেউ ছেড়ে দিয়েছিলেন পুরনো বোলচাল, আর কেউ, হতভাগা গোঁয়ার শ্যামলের মত কেউ হয়ে গিয়েছিলেন পলাতক সশস্ত্র বিপ্লবী। নকশাল।
"জিৎভূমি" মূলত নকশাল আন্দোলনের সময়ে উত্তাল কলকাতা শহরের হৃদয়গ্রাহী চিত্র, এবং লেখক যেভাবে চল্লিশ বছর ধরে তার স্মৃতিকে সযত্নে আগলে রেখেছিলেন, সেসব স্মৃতি বইয়ের পাতায় আবার জাগিয়ে তুলেছেন নতুন প্রজন্মের জন্যে, তার জন্যে তাকে অন্তর থেকে সাধুবাদ দিতেই হয়। তবে হ্যাঁ সেকালের বামধারার ক্ষয়-অবক্ষয় সম্পর্কে একদমই কিছু জানা না থাকলে গল্প ফলো করা সবসময় সহজ নয়, যেটা আমি টের পাই প্রথম বিশ-ত্রিশ পাতা পড়েই। ১৯৬৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে সিপিআই(এম)-এর জন্ম আর তার মাত্র তিন বছর পরেই মাওভক্ত চীনপন্থীদের পুনর্ভাঙন - যার পরিণতি চারু, কানু, জঙ্গল সাঁওতালের নেতৃত্বে সহিংস বিদ্রোহ। এবং একই বছর ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসকে নির্বাচনে হারিয়ে দিয়ে অজয় মুখার্জির নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট কোয়ালিশন সরকার গঠন। এই অজয় মুখার্জি-জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে লালবাজার টর্চার সেলের কুখ্যাত পুলিশ অফিসার রুনু গুহনিয়োগী, সবার সম্পর্কে অল্পবিস্তর ধারণা থাকলে বইয়ের রস আস্বাদনে সুবিধা হয়।
কলকাতার প্রতিটি পরিবারে, কফিহাউজের প্রতিটি আড্ডার টেবিলে এইসব রাজনৈতিক ঝড়ের ঝাপ্টা অনুভূত হয়েছিল। এমনই এক বন্ধুচক্রের ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই গল্প। অসীম, জয়তী, অমল, বিভূতি, জয়ন্ত, প্রদীপ, পূর্ণেন্দু, জহর, শ্যামল, স্বপ্না, মলিনা। সবাইকে আগলে রাখা বড়ভাই বড়বোনের ভূমিকায় দীপুদা আর নির্মলাদি। ঐ যে প্রথমজনের নাম বললাম অসীম - এই ছোট্ট দলের অঘোষিত নেতা। উত্তরে কাশীপুরে বাসা, সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, কমিউনিস্ট পার্টি করে। আর ঐ যে জয়তী - জয়তীকে ভালোবাসে অসীম। আজকে সকালে ইডেন হাসপাতালে যে অপারেশন হবে, সেটা জয়তীর শরীরেই। ওর জীবন বাঁচাতে তীক্ষ্ন ছুরি দিয়ে জয়তীর জরায়ু চিরতরে কেটে ফেলে দেবেন সার্জন।
*
এই ট্র্যাজেডি দিয়ে উপন্যাসের সাহসী শুরু, এবং নানা টেকনিক খাটিয়ে - সুনিপুণভাবেই বলতে হবে - ফ্ল্যাশব্যাক, জাম্প ফরোয়ার্ড, বিভিন্ন চরিত্রের মাল্টিপেল পার্স্পেক্টিভের যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন লেখক। একদমই যে ক্লিশে নেই বলবো না - অসীম জয়তী যেমন অনেকটাই আদর্শ মানব মানবী - অসাধারন ব্যক্তিত্বের কারনে সাধারণ অসীমকে সবাই সমীহ করে এবং বিনা বাক্যে গুরু মানে, অপরদিকে জয়তী জমিদারবাড়ির মেয়ে, ভবানীপুরে বিশাল বাড়ি, সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যাপার স্যাপারই আলাদা। কিন্তু তবু জয়তী জয়তীই - উচ্ছলা, চপলা, খেয়ালী, পাশাপাশি প্রচন্ড বুদ্ধিদীপ্ত, সিরিয়াস, কখনো আবেগী। এবং অবশ্যই দেখতে প্রতিমার মত। ওই যে বললাম টিপিক্যাল, কিন্তু এতটুকুর জন্যে লেখককে মাফ করাই যায়।
ওভারি হারিয়ে সমাজসংসার বন্ধুবান্ধব থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেয় জয়তী। বিশেষ করে অসীমের উপর তার অসীম উদাসীনতা এখন। কিন্তু সময় তো থেমে নেই, ব্যক্তিগত বিষাদের বাইরে ক্রমাগত চলে রাজনীতির হোলিখেলা। বাস্তব ইতিহাসের অনেক এপিসোড চলে এসেছে বইয়ের পাতায় পাতায়। যেমন ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির এক শীতের ভোরে কলকাতার রাস্তায় প্রবীণ নেতা হেমন্ত বসুর হত্যাকান্ড। উধাও হয়ে যায় শ্যামল, লিখে যায় সুদীর্ঘ এক চিঠি - সেই চিঠিতে আছে বাংলার বাম আন্দোলনের এক দশকের মর্মান্তিক সারমর্ম। ঘর-পালানো, পুলিশের তাড়াখাওয়া, বন্ধু-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন, এমনকি হয়তো সঠিক আদর্শ থেকেও বিচ্যুত একজন ফেরারী উগ্রবাদীর জবানবন্দী। এমন শত সহস্র নকশালের লাশ পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গের আনাচে কানাচে, এখনো পড়ছে ভারতবর্ষের অনেকটা জুড়েই। শ্যামলের চিঠি অন্তত একজনকে হলেও হিউম্যানাইজ করতে সফল হয়েছে।
অবশেষে জয়তীকে তার জীবনবিতৃষ্ণ খোলস থেকে টেনে বের করে আনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। আরেক জিৎভূমি। শ্যামলের স্বপ্ন হয়তো বাস্তবায়ন হয়নি, কিন্তু বাংলাদেশ সত্যি হয়েছিল, এবং সেই সফলতায় ক্ষুদ্র হলেও কিছু ভূমিকা রেখেছিল, প্রাণান্ত খেটেছিল জয়তী বা দীপুদার মত অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী। সেটা রেফুজি ক্যাম্পে ভলান্টিয়ারিং করে হোক, বা দুই বাংলার শিল্পীদের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে হোক। এই তো সনজিদা খাতুনের জন্যে তানপুরার ব্যবস্থা করছে জয়তী, দেখা হয়ে যাচ্ছে কর্ম��্যস্ত মহীরুহদের সাথে - রণেশ দাশগুপ্ত, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ। কিন্তু অসীম? অসীমের সাথে বনিবনাটা কি হবে শেষে, নাকি অভিমান ধরে রাখবে জয়তী?
এই উজ্জ্বল মানুষগুলোর পাশাপাশি আরেকটি চরিত্র আছে বইয়ে - তার নাম কলকাতা। ওপারের খুব বেশি বই এখনো পড়িনি, তাই কলকাতা নিয়ে মুগ্ধতাটা আমার জন্যে এখনো নতুন, ফ্যাসিনেশনটা কড়কড়ে। কিন্তু কি একটা শহরই না আছে বাঙালির। খুব কাছে থেকে দেখিনি, তাই হতে পারে যে এই মুগ্ধতা কিছুটা misplaced, কিছুটা কি, আসলে অনেকটাই idealized, কিন্তু তবু মনে হয় যে নাহ, পৃথিবীর অন্যান্য মহতী শহরের মতো কলকাতাও এক অর্থে অবিনশ্বর - নিউ ইয়র্ক বা প্যারিস, মস্কো বা মেক্সিকো সিটি প্রতিটি নাম যেমন হৃদয়ে একটি বিশেষ ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে, ঠিক তেমনই "কলকাতা" একটি বিমূর্ত ধারণা, ইতিহাসের ঐশ্বর্যে আর শিল্প-সাহিত্যের গরিমায় মৃত্যুঞ্জয়ী নগরী।
অন্তত এই মূর্খের কাছে।
একাত্তরের বাস্তব কলকাতা চষে বেড়ায় বাসে ট্রামে পায়ে হেঁটে এই বইয়ের চরিত্ররা। জায়গাগুলোর নাম গুনে শেষ করা যাবে না তবু মন্ত্রের মত জপে যাই, নানান মৌসুমে নানান বেশে নানান মেজাজে শহরের বর্ণনা স্বার্থক। এরই মাঝে উপন্যাসের দ্বিতীয় ইমোশনাল সেন্টারপিস - প্রথমটি ছিল শ্যামলের চিঠি। কাশীপুরের যুবনেতা নির্মল চ্যাটার্জি দিনে-দুপুরে খুন হন, এবং সেই খুনের অজুহাত ধরে প্রশাসনের মদদে এবং পুলিশের প্রচ্ছন্ন সহায়তায় পুরো কাশীপুর-বরানগর এলাকা ঘিরে ফেলে সরকারী দলের গুন্ডারা। তিন দিক ঘেরাও, পশ্চিম দিকে খোলা গঙ্গা। একাত্তরের মধ্য-আগস্টে সংঘটিত কাশীপুর-বরানগর হত্যাকান্ড বোধ করি আজ অব্দি নকশাল আমলের অন্যতম কুখ্যাত হত্যাকান্ড - বারাসাত, কোন্নগরের পাশেই এর নাম উচ্চারিত। যদিও যদ্দুর জানতে পেরেছি, অপর দুটোর তুলনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। দা বটি দিয়ে কুপিয়ে, শরীরে আগুন ধরিয়ে, গুলি করে, গঙ্গায় ডুবিয়ে মেরে ফেলা হয় এলাকার শখানেক মতান্তরে দেড়শত নারী পুরুষকে। ভিকটিম কি নকশাল না নরমাল, তা নিয়ে তেমন একটা বাছবিচার ছিল না। কোন হত্যাকাণ্ডেরই আজ অব্দি বিচার হয়নি, যদিও এই কয়েক বছর আগেও তদন্ত কমিটি বসেছিল, গণহত্যা নিয়ে নির্মাণ হয়েছিল ডকুমেন্টারি। এখনো উত্তর কলকাতায় শুনেছি প্রতি আগস্ট মাসে উদযাপন হয় সেই নারকীয় দিন।
অসীমের বাড়ি সেই কাশীপুরেই। এলাকা ঘেরাওয়ের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে। জয়তীর কানেও পৌঁছে যায়। উৎকন্ঠায় উদ্ভ্রান্ত জয়তী তখন জানের মায়া ভুলে ছুটে যায়, কোনমতে ঢুকে পড়ে অবরুদ্ধ এলাকায়, রোদেলা নির্জন মৃত্যুপুরীতে হন্যে হয়ে খোঁজে অসীমকে। অসীম কি বেঁচে আছে কোনভাবে, নাকি তান্ডবে তার প্রাণও গেছে? এই দীর্ঘ সিকোয়েন্সটি কি দুর্ধর্ষ নৈপুণ্যে লিখেছেন জ্যোতিপ্রকাশ, না পড়লে বোঝানো সম্ভব নয়। স্থান-কালের দূরত্ব নিমেষে দূর হয়ে গেছে, দেখতে পাচ্ছি যেন আমিও ছুটছি জয়তীর সাথে, রোদ ঠিকরে পড়ছে গলিতে, সুমসাম চারিদিক, প্রতিটি দোকানে তালা ঝুলছে, প্রতিটি বাড়ির দরজা-জানালা নিশ্ছিদ্র বন্ধ রাখা, কেন না প্রলয় ঘটে গেছে এই পাড়ায়, শেষ হয়েছে কি না কে জানে, নাকি এখনো চলছে ঐ যে ঐ মোড়ের বাঁকে?
যেমনটা বললাম, অসামান্য।
*
একটা কথা মনে হলো বইটি পড়ে - এক ফেসবুক বন্ধু লিখেছিলেন কিছুদিন আগেও। আমরা যেকালে বাস করি, এই পোস্ট-আইডিয়ালিস্ট যুগে, হাইপার-নেটওয়ার্কড সময়ে আমরা আসলেই অনেক একা, isolated এবং atomized। "এখন ব্যক্তিমানুষের কাল।" এটার ভালো কিছু দিক আছে নিশ্চয়ই, কিন্তু মন্দটা একেবারে কম নয়, যা হারিয়েছি সেটা এক বিচারে অমূল্যই ছিল। শোষিতের মুক্তির সংগ্রাম একটা জীবন্ত আদর্শ ছিল সেসময়ে - সেটা বিপথে গেছে অনেকভাবে, প্রোথিত শক্তির কাছে পরাস্ত হয়েছে, অনেক কর্মীর জীবন লণ্ডভণ্ড হয়েছে, অনেকের জীবনের অর্থটাই এক লহমায় হাপিশ হয়ে গেছে ১৯৮৯ সালে।
কিন্তু তবুও মনে হয় যে ওদের একটা কিছু ছিল যা আমাদের আর নেই, আর হবার নয়। একটা আদর্শের পতাকাতলে একত্রিত হয়ে সংহতি জানাবার, নিরলস নি:স্বার্থ কাজ করে যাবার সুযোগ বেশি মানুষের জীবনে আসে না, যাদের কাছে আসে, তাদের অনেকেই সেই সুযোগ থেকে পিছপা হয়ে নিজের চরকায় বরং মনোযোগী হন। আমাদের জন্যে সেই সুযোগ যেমন কমে এসেছে, তার থেকে আরো কমে এসেছে ইচ্ছা অনুপ্রেরণা চিন্তাশক্তি। একটা ছোট স্ক্রিনের দিকে দিনের ১২ ঘন্টা তাকিয়ে থাকলে মহৎ কোন অর্জন কি সম্ভব? এই প্রজন্মের লাইক-কামী আর ফলোয়ার-পিপাসু তারুণ্য আদৌ কখনো সেই আদর্শের স্পর্শ পাবে না, সমুন্নত চেতনাকে আপন করে নেবে না, শিরায় শিরায় সেই টগবগে উত্তেজনা অনুভব করবে না সেই ভাবনাটাই কেমন ডিপ্রেসিং... আরেকটা সুযোগ পেলে পুনর্জন্মই বেছে নিতাম আমি, অন্য কালে, অন্য স্থানে।