আই সি ইউ -এর ভেতরে সমর ভট্টাচার্য নামের এক রোগী অচেতন অবস্থায় অসংলগ্ন কথা বলে যাচ্ছেন। তাঁর সামনে রয়েছেন ডাক্তার সম্বুদ্ধ। যুদ্ধ- সাংকেতিক ভাষা- সর্বোত্তম জ্ঞানের সন্ধান- এইগুলো শুনে সম্বুদ্ধের মনে হয় যে সমরবাবু হয়ত কোন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে যেতে চাইছেন। তাই সে এই কথাগুলো ফোনে রেকর্ড করে নেয়।
সাড়ে বাইশশো বছর আগে সম্রাট অশোক নয়জন পন্ডিতকে নিয়ে একটি গুপ্ত সংঘ গড়ে তোলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য নয়টি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জ্ঞানচর্চা করা ও তা সাংকেতিক ভাষায় লিখে যাওয়া। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে এই গুপ্ত সংঘ এখনও আছে। সেই সুত্রকে ভিত্তি করে চিত্রনাট্যকার সাহিল রায় চলচ্চিত্রের জন্য একটি থ্রিলার লিখছেন। সাহিলের স্ত্রীর মাধ্যমে প্রজ্ঞাসূত্র' নামে একটি পুরনো বই হাতে পাওয়ার পর সাহিলের মাথায় এই প্লটটা আসে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যতা যাচাই করা ও আরো কিছু তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দশ্যে সাহিল কলকাতায় অধ্যাপক অমরেন্দ্র সিকদারের বাড়িতে পৌঁছয়। গল্প শোনার আনন্দে অধ্যাপকের পরিবার সাহিলকে আপন করে নেয়।
সেইখানেই সাহিল এই সমর ও সম্বুদ্ধের গল্পটা পড়তে শুরু করে। এই গল্পপাঠের মাধ্যমেই সাহিলের থ্রিলার এগোয়।
সম্বুদ্ধর মোবাইলটা পকেটমার হয়ে যায় সেটা কি নিতান্ত কাকতালীয়?
সম্বুদ্ধর কেন মনে হয় যে কেউ তাকে অনুসরণ করছে?
হাসপাতালে কেন সমরবাবুকে নিয়ে এত রহস্যজনক ঘটনা ঘটলো?
----
এটা কিন্তু ইতিহাস নির্ভর থ্রিলার নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে ভিত্তি করে সমসাময়িক কালের একটি গল্প তৈরির গল্প। পাঠক এই বই কেনার সময় যেন এটা খেয়াল করেন।
একদিকে সাহিলের মুখে আমরা শুনছি এক সহৃদয়, দায়িত্ববান ডাক্তারের তাঁর রোগীর ইচ্ছেপুরণ করতে চাওয়ার গল্প আরেকদিকে রয়েছে উপন্যাসের লেখকের সৃষ্টি চরিত্র সাহিলের থ্রিলার তৈরি হওয়ার গল্প।
গল্পের ভেতর আরেকটা গল্প। লেখকের সৃষ্টি চরিত্র সাহিল ও সাহিলের সৃষ্টি চরিত্র সম্বুদ্ধ, রুচি, সমরবাবুরা। কে যে আসল চরিত্র আর কে যে গল্পের, সেটা অনেকসময় পাঠকের মাথায় গুলিয়ে যায়। আর এইখানেই এই উপন্যাসের মজা।
আর শুধু একটা কথাই বলব। কাহিনীর প্রথমদিকটা একটু বেশি ধীরে আর শেষটা একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেল মনে হচ্ছে। যার জন্য প্রথমদিকে উৎসাহ পাইনি। পরে সাহিল যখন তাঁর থ্রিলার পড়তে শুরু করে তখন গল্প জমে ক্ষীর। ভালো লাগলো। একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা হল।