প্রথম দুই খন্ডের মতোই সাবলীল। ১ম আর ২য় তে যেখানে ছিল গড়ার পালা এই পর্বে কেবল শূন্যতা আর শূন্যতা। মিত্র & ঘোষের সুমথনাথ দেহ রাখলেন। পৃথিবীকে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আরও অনেক কিছু দু হাতে উজাড় করে দিয়ে পরপারে একে একে পারি জমাতে লাগলেন রথীমহারথীগণ। গজেন্দ্রকুমার মিত্রের মৃত্যুর সাথে সাথে ইতি ঘটল এক মহাকালের। কিন্তু মাঝে মাঝে মৃত্যু কেবল থেমে যাওয়া নয়, বরং শুরু। সেই ছোট্ট প্রকাশনা এখন রীতিমতো বটবৃক্ষস্বরূপ। ছোট্ট ভানু যে অবাক বিস্ময়ে কাকাবাবু আর তার বন্ধুদের সাহিত্য আড্ডা গিলতো সে এখন সবিতেন্দ্রনাথ রায়, বিশিষ্ট ভদ্রলোক, কর্মজীবনে সফল ব্যক্তি। দারুণ সুন্দরভাবে বাংলা সাহিত্যের কয়েকটা দশক তুলে ধরেছেন তার এই সুবৃহৎ গ্রন্থে। যদি ভাগ্যে থাকে একদিন কলকাতায় যেতে হবে। অবশ্য পালটে গেছে সবকিছু, পালটে যে যাবে সেটা তো ভবিতব্য। কিন্তু তারপরেও রেশ তো একটা থেকেই যায়...
খুব উপভোগ করেছি এ কদিন। চোখের সামনে নতুন নতুন সব চ্যাপ্টার খুলে যাচ্ছিল একেক লেখকের জীবনের। কত বইয়ের সন্ধান যে পেলাম, ইয়ত্তা নেই। সমৃদ্ধ হয়েছি অনেক। কিছু পুনরাবৃত্তি না থাকলে ভালো লাগতো আরো।
প্রথম দুটো থেকে বিবরণে কিছু সাবলীলতা দেখা গেছে। সেই অর্থে ভাল। কিন্তু শেষের তিনটি প্রবন্ধ অযৌক্তিক পরিসর বৃদ্ধি ছাড়া বিশেষ কোনও উপকার করেনি। প্রচুর মৃত্যু এসেছে স্বাভাবিক ভাবেই, মন খারাপ হয়েছে। তবে প্রকাশনী কর্ণধারদের মৃত্যুর ব্যাখ্যা ও আবেগ লেখকের নিজের বিবরণে সীমাবদ্ধ থাকলেই ভাল হতো। বাড়তি প্রবন্ধ যোগ করা হয়েছে এক্ষেত্রে, তার একটি দুটি ছাড়া বাকিগুলো ভাল লাগেনি।
এছাড়া মিত্র ও ঘোষ এর কর্ণধারদের মৃত্যুর পরবর্তীতে প্রকাশনীর ব্যাবস্থাপনা ও আনুসাঙ্গিক চালচিত্র নিয়ে সবিস্তারে ব্যাখ্যা আশা করেছিলাম, পাইনি।
ওহ আরেকটা বিষয়, দেশ পত্রিকার সাগরময় ঘোষ এর প্রতি লেখকের সরাসরি ক্ষোভের বিষয়টা আনাচে কানাচে উঠে এসেছে, এতে বিরক্তি হয়েছি।