বইঃ এক রাতের গল্প লেখিকাঃ ফাতিমা রুমি দামঃ ১৮০টাকা পৃষ্ঠাঃ ৯৬ ক্যাটাগরিঃ ফিকশন , উপন্যাস রেটিংঃ ৩/৫
রিভিউঃ বইটা Rijvi Ahmed Jibran ভাইয়ের সাজেশনে পড়া। উনি উপহার না পড়তে দিয়েছেন, খেয়াল নাই :p দুইদিন পরে পড়লাম। দুই ঘণ্টার মতোন লাগলো শেষ করতে। এক বসাতে, না, এক শোয়াতেই বইটা শেষ করলাম। কাহিনীটা প্রথম দিকে একটু আকর্ষণীয় লাগতেছিলো। তবে আস্তে আস্তে পড়তে থাকলে কিছুটা অনুমান করতে পারতেছিলাম, কাহিনিটা কোন দিকে যেতে পারে। মোটামুটি ধারণা করা যায়... কিন্তু পড়তে মন্দ লাগে নাই। বাক্য গঠনে মুন্সিয়ানা ছিল। কাহিনিটাকে আরেকটু আকর্ষণীয় করলে , আরো ভাল লাগতো। অতিমাত্রায়, অতিমানবীয় উপন্যাস লাগলো আসলে আমার কাছে... বাকিদের কাছে কেমন লাগবে, জানি না। উনার আরো দুইটা বই আছে, পড়ার ইচ্ছে। লেখার ধরণ সুন্দর, এই কারণেই পড়বো।
বইয়ের নামঃ এক রাতের গল্প বইয়ের ধরণঃ প্রেমের উপন্যাস বইয়ের লেখকঃ ফাতিমা রুমি প্রচ্ছদঃ শতাব্দী জাহিদ প্রকাশকালঃ অমর একুশে বইমেলা ২০১৬ প্রকাশনীঃ আলোঘর প্রকাশনা পৃষ্ঠাঃ ৯৬ মূদ্রিত মূল্যঃ ১৮০ টাকা
লেখিকা পরিচিতিঃ লেখিকা ফাতেমা রুমি ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ জন্মগ্রহন করেন । তার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ । এরপর তিনি তার শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার দরিয়া এলাকায় । এরপর ইডেন কলেজ থেকে ইংরেজী বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন । শিক্ষাজীবন শেষ করে সেন্ট গ্রেগরীজ হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে রোজ হ্যাভেন গ্রামার স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালে তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস “আমি অনিন্দিতা” বইটি কালি ও কলম পুরষ্কার অর্জন করেছে।
সার-সংক্ষেপঃ পরিবারের চাপে পড়ে হঠাৎ করেই অরনীকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় নাফিস।স্ত্রী হিসেবে মফস্বলে বেড়ে ওঠা অরনীকে কিছুতেই মানতে পারবেনা নাফিস কারণ সে জেনি নামের চার বছরের বড় কাউকে ভালোবাসে।কথায় কথায় জানতে পারে অরনীরও গিট্টু নামে বেঁটে,অশিক্ষিত একজনের সাথে সম্পর্ক আছে।বিয়ের পরদিন সকালে বেড়াতে যাবার নাম করে নাফিস আর অরনী দুজনেই বের হয়।উদ্দেশ্য দুজন দুজনার ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে দুদিক চলে যাওয়া।
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ প্রেমের উপন্যাস সাধারণত খুব কমই পড়ি। রবী ঠাকুর, শরৎচন্দ্রের কিছু ক্লাসিক আর আধুনিক লেখকদের মধ্যে বড় জোর হুমায়ুন আহমেদ। প্রেমের উপন্যাস সর্বোচ্চ এদেরই পড়ি। নতুন লেখকদের বই তেমন পড়াই হয় না। লেখিকা ফাতিমা রুমি’র বই এই প্রথম পড়লাম। খুব যে আহামরি প্লট তা না। গল্পও খুব কমন। এমনকি আপনারা ইতোমধ্যে বইয়ের নাম এবং সার-সংক্ষেপ দেখে সেটা কিছুটা আন্দাজও করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই। তারপরেও বলবো ভালো লেগেছে। বেশ ছোট্ট ছিমছাম গল্প। একরাতের মধ্যেই আবর্তিত হয়েছে গল্পটি। সুন্দর ও হিউমারে ভরা সংলাপ। আর সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে লেখিকার অসাধারণ লেখনীটা। তাঁর চমৎকার বর্ণনা ও লেখনীশৈলীর কারণে উপন্যাসের কোথাও কোন খামতি লাগেনি। বেশ সাবলীলভাবে পড়ে যেতে পেরেছি। এমনকি আগ্রহটুকুও সামান্য কমেনি। বইটির আরো একটি চমৎকার দিক হচ্ছে দৃশ্যপট ব্যাখ্যা। যাকে লেখনীর ভিজ্যুয়ালাইজেশন বলে। মানে কোন দৃশ্যপট বা লেখা পড়ার পর সে জিনিসটি স্পষ্টভাবে কল্পণা করতে পারা। আলোচ্য বইটি পড়ার সময় খুব সহজে সেটি করা গেছে। পড়ার সময় দৃশ্য গুলো কল্পনা করতে একেবারেই কষ্ট হয়নি বরং মনে হয়েছে চোখের সামনেই সবকিছু ঘটছে।গল্পের কথোপকথন গুলো বাস্তবিক মনে হয়েছে। সেই সাথে চরিত্রের মধ্যেও বাস্তবতা ছিল। বিশেষ করে অরনী চরিত্রটির কথাবার্তায় যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। টিনএজ বয়সী যেকোন মেয়ে অরনীর চরিত্রে নিজেকে খুব সহজেই কল্পনা করতে পারবে। মাত্র ৯৬ পৃষ্টার বই কিন্তু কোথাও তেমন কোন চোখে পড়ার মত বানান ভুল দেখিনি। বইটির প্রচ্ছদটিও বেশ আকর্ষনীয়। বইটির বাঁধাই, কাগজের মান, ছাপা বেশ সুন্দর। সবশেষে এটাই বলতে চাই, “এক রাতের গল্প” একটি নির্ভেজাল প্রেমের উপন্যাস। সুতরাং যারা প্রেমের উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, পড়ে দেখুন। ভালো লাগবে। ধন্যবাদ! হ্যাপি রিডিং!