ক্লাস সিক্সে উঠে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছি, নতুন টিচার, বন্ধুবান্ধব আর ক্যাম্পাসের সাথে খাপ খাওয়াতে গেল এক বছর। সেভেনের জানুয়ারি কী ফেব্রুয়ারিতে হল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, অংশ নিয়ে একেবারে বাজিমাত! একাই তিনটা পুরস্কার! আমাকে আর দেখে কে?
পুরস্কার হিসেবে সেবার পেলাম একগাদা বই। এর মাঝে দুটো দেখেই মন ভাল, এত বড় বই! তখন আমার কাছে বড় বই মানেই ভাল বই, অনেকটা সময় নিয়ে পড়া যায় যে! ডা. লুৎফর রহমানের রচনাসমগ্র বা শেক্সপিয়রের লেখাগুলোর খটমটে পড়ার বা পড়ে বোঝার বয়স তখন না থাকলেও একে একে পড়ে ফেললাম দুটো বইই। কখনও বুঝতে না পেরে, কখনও বা কোনো কঠিন শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করে করে আবার কখনও আমার সেসময়ের বয়সে যা জানা ছিল তার ইঙ্গিত পেয়ে খানিকটা কল্পনার জগতে ঢুকে বেরিয়ে শেষ করলাম বই দুটো।
ডা. লুৎফর রহমানের লেখা পড়তে পড়তে একসময় যে বিরক্ত হয়েছিলাম সেটা স্পষ্ট মনে করতে পারি। প্রত্যেকটা কথায় উপদেশ, মানুষকে মহাপুরুষ না করে ছাড়বেন না! লোকটার কোনো ছবি দেখিনি আগে, কিন্তু তার উপদেশের ভারে তাকে খুব গম্ভীর একটা চেহারার অ্যাপ্রন পড়া ডাক্তার বলে ভাবতে খুব একটা কষ্ট হয়নি।
তারপরেও বই দুটো আমার সামনে নতুন এক পৃথিবীর দরজা খুলে দিয়েছিল। তখন পর্যন্ত আমার পড়া প্রায় সব বইই ছিল নেহাত বাচ্চাদের বই, কিশোর উপন্যাস বা সায়েন্স ফিকশন। সেখান থেকে বেরিয়ে নতুন এক জগতের সন্ধান পেলাম ওসব বইয়ে। সেই জগতে হাঁটতে হাঁটতেই আজকের সময়ে আমার আসা। তাই প্রাপ্য তিন তারার সাথে একটা তারা বোনাস!