Goyenda Ashoke Thakur Samagra 3 by Samaresh Basu Edited by Dr. Jhuma Roychowdhury
প্রথম দুই খণ্ডের সাফল্যের পর এবার তৃতীয় খণ্ড। এখানে অশোকের পাশে আছে খুদে গোয়েন্দা গোগোল। দুইয়ে মিলে কোথাও রাজধানী এক্সপ্রেসে হত্যা রহস্যের কিনারা, কোথাও আবার কোনও মহিলার শাড়ির সোনালী পাড়ের রহস্য উদ্ধার। কোথাও বা কোটিপতি ব্যবসায়ীর একমাত্র ছেলেকে অপহরণের ক্রাইম কাহি্নী বা দীঘার সমুদ্রপাড়ের হত্যা চক্রান্ত ফাঁস বা মধুপুরে হীরে চোরের সন্ধান – কাহিনীগুলি এক-একটি শ্বাসরুদ্ধকর রহস্যের গাঁথামালা। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ বসু রচিত ‘গোয়েন্দা অশোক ঠাকুর সমগ্র’র তৃতীয় খণ্ড। এখানে স্থান পেয়েছে মোট ছ’টি উপন্যাস। প্রথম উপন্যাস ‘অন্দর মহল’-এ গোয়েন্দা অশোক ঠাকুরের কীর্তি পূর্বের দুই খণ্ডের কাহিনীগুলির মতোই এক কথায় অ-সাধারণ। এরপর আর পাঁচটি উপন্যাসে গোয়েন্দা অশোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর একজন কিশোর গোয়েন্দা গোগোল যার কীর্তি-কাহিনীও কম বিস্ময়কর নয়। পাঁচটি উপন্যাসে অশোক ও গোগোলের যুগ্মতায় রচিত হয়েছে এক একটি শ্বাসরুদ্ধকর রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী। পূরীর পটভূমিকায় দারুণ রহস্যময় পরিস্থিতির ভিতর সময়ের ব্যবধানে গড়ে উঠেছে দুটি কাহিনী –‘সোনালী পাড়ের রহস্য’ ও ভুল বাড়িতে ঢুকে’। এছাড়া দীঘার পটভূমিতে ‘গোগোল কোথায়’ এবং মধুপুরের পটভূমিতে ‘গোগোলের কেরামতি’। দিল্লি থেকে ফেরার পথে ‘রাজধানী এক্সপ্রেসে হত্যা রহস্য’-এর সমাধান কী নিদারুণ কৌশলে অশোক ও গোগোল মিলে সম্পন্ন করল তা কাহিনীগুলি এক নিশ্বাসে না পড়লে বিশ্বাসই করা যায় না। সমরেশ বসুর দুর্দান্ত শক্তিশালী কলমের আঁচড় প্রতিটি উপন্যাসের প্রতি পাতায় এমন বিশ্বস্ত ভঙ্গিতে ফুটে উঠেছে যে দু’জন গোয়েন্দার দু’রকম অভিজ্ঞতা বর্তমান গ্রন্থটিকে এক ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। অন্দর মহল সোনালী পাড়ের রহস্য রাজধানী এক্সপ্রেসে হত্যারহস্য গোগল কোথায় গোগোলের কেরামতি ভুল বাড়িতে ঢুকে
Samaresh Basu (Bengali: সমরেশ বসু) was born in December 22, 1924. He spent his early childhood in Bikrampur, Dhaka. He also wrote under the pen-name of Kalkut.
He would in later days recall the deep impressions that the Brata-kathas (fantastic folk-tales recited by women while performing certain religious rites) narrated by his mother left on him as a child. His adolescent years were spent in Naihati, a suburb of Kolkata, in West Bengal. His life was rich with varied experiences. At one point, he used to hawk eggs from a basket carried on his head; later, he worked for meager daily wages. From 1943 through 1949 he worked in an ordnance factory in Ichhapore. He was an active member of the trade union and the Communist Party for a period, and was jailed for during 1949-50 when the party was declared illegal. While in jail, he wrote Uttaranga,his first published novel. Soon after his release from the jail, he began to write professionally, refusing to join the factory even when offered his old job. When he was only 21, he wrote his first novel Nayanpurer Mati, later published in Parichay. it was never published as a book. Adab was his first short story published in Parichay in 1946. A prolific writer with more than 200 short stories and 100 novels, including those written under the aliases "Kalkut" and "Bhramar", Samaresh Basu is a major figure in Bangla fiction. His life experiences populated his writings with themes ranging from political activism to working class life to sexuality. Two of his novels had been briefly banned on charges of obscenity. The case against one of these, Prajapati (Bangla:প্রজাপতি), was settled in the Supreme Court of India which overturned, in 1985, the rulings of the two lower courts. Among other intellectuals, Buddhadeva Bose, himself once accused of similar charges for his রাত ভ'রে বৃষ্টি, came out strongly in support of Samaresh. To quote from Sumanta Banerjee's recent translation Selected Stories (Vol.1), Samaresh Basu "remains the most representative storyteller of Bengal's suburban life, as distinct from other well-known Bengali authors who had faithfully painted the life and problems of either Bengal's rural society or the urban middle class. Basu draws on his lived experience of Calcutta's `half-rural, half-urban,' industrial suburbs." While the pen-name "Kalkut" was adopted in 1952 for the immediate need to publish an overtly political piece, the real "Kalkut" can be said to have been born with the publication of Amritakumbher Sandhane, a hugely popular, semi-autobiographical narrative centered around the Kumbha-mela. The many subsequent books by Kalkut had depicted the lives of the common people from all over India and all walks of life (including those who live on the periphery of the "mainstream") with their varied cultures and religious practices in a unique style that was Kalkut's own. He also drew upon the recollections of the Puranas and Itihas; Shamba (Bangla:শাম্ব), an interesting modern interpretation of the Puranic tales, won the Sahitya Akademi Award in 1980. Samaresh Basu breathed his last on March 12, 1988.
৩য় ও শেষ সমগ্রের ১ম উপন্যাস ‘অন্দরমহল’। অবশ্য এ খন্ডের উপন্যাসগুলো কে বড় গল্প বলাই শ্রেয় হবে। বর্ধমানের পাটলি গ্রাম থেকে বজ্রনাথ রায় অশোকের কাছে এসেছিলেন তার ভাইপো নীতিশ রায়ের মর্মান্তিক হত্যার ব্যাপারে নিজের কলঙ্কমোচনের অনুরোধ নিয়ে। অনেকে ঘটনাটিকে রাজনৈতীক হত্যা কান্ড মানলেও পুলিশের হাতে তেমন প্রমান না থাকায় দোষ গিয়ে পড়ে বজ্রনাথের উপরেই। পরে ফটিক আর অশোক কি পারে রহস্য সমাধান করতে? আসলেই কি কলঙ্কমোচন, নাকি অশোককে ফাঁদে ফেলে অন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন বজ্রনাথ রায়?
এই হলো কাহিনী! সত্যি বলছি, আমার তেমন ভালো লাগেনি। মোটামুটি শুরুটা বেশ আশা দিচ্ছিল কিন্তু বাকিটা পড়ে পুরোই হতাশ। কাহিনীর বুনন যথেষ্ঠ দুর্বল ছিল। সময়টা পুরনো হলে কি হবে; বর্ধমানের পুলিশ কি এতোটাই বোকা ছিল! তদন্তের প্রাথমিক নিয়মগুলো প্রয়োগ করলে অপরাধীকে প্রথম দিনেই ধরা যেত!! আমি ১০০% শিওর, পাঠক কয়েক পৃষ্ঠা পড়েই পরের কাহিনী বুঝে ফেলবেন। আমার দৃষ্টিতে অশোককে নিয়ে সমরেশ বসুর দুর্বলতম রচনা অন্দরমহল। রেটিং- ১.৫/৫। ........................................................................................................ DC’র Flash আর Arrow’এর cross over মনে আছে? জমেছিল না খুব? তেমনি ‘সোনালী পাড়ের রহস্য’তে পুরীর সমুদ্র সৈকতে অশোক আর গোগোলের দেখা হয়ে যায়। ঐ সময় কেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছিল গল্পটি জানিনা তবে গোগোলকে নিয়ে পরে লেখক অনেক গল্পই লিখেছেন। শিশু থেকে কিশোর সবার মনেই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল গোগোলের গল্পগুলো। সোনালী পাড়ের রহস্যকে গোয়েন্দা গল্প না বলে মোটামুটি একটি অপরাধ কাহিনী বলাই ভালো। অনেকটা ভাগ্যের জোড়েই গোগোলের সহায়তায় অশোক ঠাকুর একটা হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারে। অপরাধ কাহিনীর আড়ালে এই গল্পটা আসলে গোগোলের, অশোকের সাথে ওর বন্ধুত্বের। রেটিং- ২/৫। ........................................................................................................ ৩য়টি উপন্যাসই। নামঃ রাজধানী এক্সপ্রেসে হত্যা রহস্য। প্রথম প্রকাশ ১৯৮১ সাল। দিল্লি থেকে ছুটি কাটিয়ে কোলকাতা ফেরার পথে ট্রেনে আবারো অশোকের সাথে দেখা হয় গোগোলের। ঘটনাচক্রে ওর সামনেই খুন হয় এক যাত্রী। কিডন্যাপ করা হয় গোগোলকে। অশোক বুঝতে পারে খুনিকে ধরতে হলে আগে খুঁজে বের করতে হবে গোগোলকে! শুরু হয় ফটিককে সংগে নিয়ে অশোকের গোগোল উদ্ধার অভিযান। গল্পটা লেখা হয়েছে গোগোলকে কেন্দ্র করে। তাই গল্পটা ছোটদেরই। তবে অ্যাকশন, এডভেঞ্চার, সাসপেন্স সবই পাবেন বইটিতে। মাঝে মাঝে আমার মতো যাদের ছোট হয়ে যেতে ইচ্ছে করে তাদের বেশ ভালো লাগবে বইটি। রেটিং- ৩.৫/৫। ........................................................................................................ ১২৩ পৃষ্ঠায় শুরু ৪র্থ উপন্যাস ‘গোগোল কোথায়।’ প্রকাশকাল ১৯৮২। দীঘার সমুদ্রতটে চোখে মুখে সন্ত্রস্ত ভাব নিয়ে এক লোককে একটি দোতলা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসতে দেখে সন্দেহ হয় গোগোলের। কারন খুঁজতে গিয়ে পাশে ছদ্মবেশী অশোককে আবিস্কার করে গোগোল। গুপ্তধনের সন্ধানে সন্দেহজনক বাড়িটিতে খুন হয় একজন, সাক্ষী যথারিতি আবারো গোগোল! রাতে কপালকুন্ডলার মন্দির থেকে ফেরার পথে অন্ধকারে হারিয়ে যায় গোগোল। অশোক বুঝতে পারে সাক্ষী গোপন করতে কিডন্যাপ করা হয়েছে ওকে। অশোকের পুর্বের মিশনের সাথে যুক্ত হয় গোগোলকে উদ্ধারের প্রয়াস! পরে অশোক কি পারে হারিয়ে যাওয়া গোগোলকে খুঁজে পেতে? আর গোগোল? গুপ্তধনের ম্যাপের সংকেত কি ও বেড় করতে পেরেছিল? রেটিং- ৩/৫। ........................................................................................................ ৫ম ছোট গল্প ‘গোগোলের কেরামতি’ তে অশোকের সাথে আবারো গোগোল বের হয় এডভেঞ্চারে। এবারের destination মধুপুর। খুঁজে বের করতে হবে তিন কোটি টাকা মুল্যের হীরা। ছোট গল্পতো ... বেশী আর না লিখি তবে, এখানে অশোককে ছাপিয়ে উঠেছে গোগোল। ছোট গল্প হিসেবে মন্দ না। রেটিং- ৩/৫। ........................................................................................................ ৬ষ্ঠ উপন্যাস ‘ভুল বাড়িতে ঢুকে’ ১ম প্রকাশীত হয় ১৯৮৬ সালে। ব্যবসায়ী অমৃত কেজিওয়ালের ছেলে বিনয় কেজিওয়ালের অন্তর্ধানের গল্প এটি। শেষ সমগ্রের শেষ উপন্যাসটিতেও পুরীর সমুদ্র সৈকতে ফটিক আর ছদ্মবেশী গোয়েন্দা অশোক ঠাকুরের সাথে দেখা হয় গোগোলের। হন্যে হয়ে খুঁজেও যখন বিনয়ের সন্ধান করতে ব্যর্থ হয় স্থানীয় পুলিশ ও অশোক তখন অনেকটা ভুল করে বাবার পরিচিত সরকারী গোয়েন্দা দপ্তরের বড়কর্তা দত্তদা জেঠুর বাড়ি মনে করে অন্য একটি বাড়িতে ঢুকে বিনয়কে বন্দী অবস্থায় আবিষ্কার করে গোগোল। কি আর করা ... আবারো কিডন্যাপ হয় গোগোল। বিনয় কেজিওয়ালের মামলায় যেখানে নাকানি চুবানি খাচ্ছিল অশোক সেখানে আদরের গোগোলের অপহরন চরম ভাবিয়ে তোলে ওকে। ঠিক করে যেভাবেই হোক খুঁজে বের করবে ছেলে দু’টো কে! শুরু হয় বুদ্ধির খেলা! পরে অশোক কি পারে চরম বিপদসংকুল পরিস্থিতীর মধ্যে গোগোল কে বাঁচাতে? আর গোগোলও কি পারে হাবা-গোবা বিনয়কে মুক্ত করে আনতে? রেটিং- ৩.৫/৫।
অন্দরমহল বাদ দিয়ে বাকি গল্পগুলো মূলত গোগোলেরই কীর্তিকলাপ। অশোক এসেছে নিতান্তই কাহিনীর প্রয়োজনে। যেহেতু গোগোলই প্রধান তাই অশোকের জায়গায় অন্য কেউ হলেও চলত। সমরেশ বসু এখানে তার তুরুপের টেক্কা ‘অশোক’ কে ব্যবহার করেছেন গোগোলকে প্রতিষ্ঠিত করতে।
যারা ছোটদের গল্প ভালোবাসেন তাদের ভালোই লাগবে বইটি।
অশোক ঠাকুরের খোলসে ঢাকা আসলে এটা গোগোলের অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র (১ম গল্পটা বাদে)। পড়তে যদিও খারাপ লাগলো না তেমন, কিন্তু গোগোল পড়ার সময়টা অনেক আগেই ফেলে এসেছি। তাই উপভোগের মাত্রাটা তেমন উপরে উঠল না। কি আর করা... ফেলে আসা সময়, বয়স আর মন, কোনটাই তো আর ফিরে আসবে না....